Posts

বাইশে জুন

Image
গতকাল ছিল ২২ জুন। ১৯৪১ সালের এই দিনে ভোর ৪ টায় হিটলারের জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়নের ব্রেস্তস্কায়া দুর্গ আক্রমণ করে। যদিও জার্মান বিমান বাহিনী সেভাস্তোপোল আক্রমণ করে ভোর ৩.৩০ মিনিটে, যুদ্ধের শুরু ধরা হয় ব্রেস্তস্কায়া দুর্গ আক্রমণের সময় থেকেই। এরপর দীর্ঘ ১৪১৮ দিন চলবে এই যুদ্ধ। ২৭ মিলিয়ন সোভিয়েত নাগরিক প্রাণ দেবে, দীর্ঘ ৯০০ দিন অবরুদ্ধ থাকবে লেনিনগ্রাদ, সোভিয়েত জনগণের বীরত্বের কাছে পরাজিত হবে জার্মানি যা আসলে সম্মিলিত ইউরোপ। ২২ জুন চিরতরে পরিচিত হবে শোকের দিন হিসেবে। এমন কোন সোভিয়েত পরিবার নেই যারা ঐ যুদ্ধে কোন নিকট জনকে হারায়নি। সোভিয়েত মানচিত্রে জন্ম নেবে ১২ টি বীর শহর - মস্কো, লেনিনগ্রাদ, ভোলগাগ্রাদ (স্তালিনগ্রাদ), কিয়েভ, সেভাস্তোপোল, ওদেসা, মিনস্ক, কের্চ, নভরাসিস্ক, তুলা, মুরমানস্ক, স্মলেনস্ক ও ব্রেস্তস্কায়া দুর্গ। মস্কোর ক্রেমলিনের দেয়ালে গড়ে উঠবে এসব শহরের স্মৃতিসৌধ। এমনকি আজ যখন রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধে লিপ্ত, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন কিয়েভ ও ওদেসা প্রতিরোধকারী বীর সেনাদের। বীর জাতি ইতিহাস স্মরণ করতে ভয় পায় না, ইতিহাস ভুলে যেতে চায় সে...

সাব নির্বাচন ২০২৬-২

Image
সাব নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যে অনেকেই কথা বলতে শুরু করেছে। তবে আপাতত সাধারণ কথাবার্তা। প্রার্থীরা ভোট চাইছে, কিন্তু নির্বাচিত হলে কে কী করবে মানে নির্বাচনী ইস্তেহার বলতে গেলে অনুপস্থিত। কেউ কেউ আবার এই আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছে যে ইলেকশন নয়, সিলেকশনের মধ্য দিয়েই হয়তো নতুন কমিটি নির্বাচিত হবে। ইলেকশন বা সিলেকশন এসব টেকনিক্যাল বিষয়, মূল কথা নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা। যদি সব প্রার্থীরা আগে থেকে বসে নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় আসতে পারে তো ক্ষতি কি? কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে যে এসব সমঝোতা অনেকেই মন থেকে মেনে নেয় না, অনুরোধের ঢেঁকি গিলে বড়দের কথায়। এসব ঘটনা তার ও তার ঘনিষ্ঠ জনের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে যা সংগঠনের জন্য মোটেই সুখকর নয়। তাছাড়া এসব ক্ষেত্রে সমঝোতা হয় প্রার্থীদের মধ্যে, অথচ এমন হতে পারে তার সমর্থকদের কেউ কেউ এই প্রার্থীকে সমর্থন করে না। তাই এমনকি যদি একজন মাত্র প্রার্থীও তালিকায় থাকে তাহলেও তাকে ভোটের মধ্য দিয়ে নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেই আসা উচিৎ। সেক্ষেত্রে তার পক্ষে ও বিপক্ষে অপশন (হ্যাঁ/না) থাকা দরকার এবং শুধুমাত্র পক্ষে বেশি ভোট পেলেই উক্ত প্রার্থী নির্বাচিত বলে ঘোষিত হবে। এতে করে প্র...

সাব নির্বাচন ২০২৬

Image
১৯৮৩ সালে যখন সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়তে আসি তখন হোস্টেল থেকে শুরু করে প্রায় সব জায়গায় কতগুলো ছবি থাকত। মার্ক্স, এঙ্গেলস, লেনিন (আমি রুশ বন্ধুদের ঠাট্টা করে বলতাম ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর)। এর বাইরে থাকত সিপিএসইউ এর পলিট ব্যুরোর ছবি। ঐ ছবিতে প্রায় সবাই ছিলেন বয়সের ভারে নুয়ে পড়া। আমার মনে হত বয়সই তাদের প্রধান যোগ্যতা। পরে অবশ্য দেখেছি শুধু সোভিয়েত পলিট ব্যুরো নয় আমেরিকার সিনেট ও কংগ্রেসেও এরকম বয়স্ক লোকের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। বয়স শুধু বয়স নয়, এক ঝাঁপি অভিজ্ঞতা। সোভিয়েত এলুমনি এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ বা সাবের নির্বাচন ঘোষিত হয়েছে। অনেকেই সংগঠনের কার্যকরী কমিটিতে কাজ করার জন্য তাদের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছে। এদের অনেকেই বিগত দিনগুলোয় বিভিন্ন কমিটিতে বিভিন্ন কাজে কর্মরত ছিল। এদের যোগ্যতার তালিকা দেখে আমার সেই পলিট ব্যুরোর ছবি মনে পড়ে গেল।  যেকোনো সংগঠনকে চলমান রাখার জন্য অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলা দরকার। দলবদ্ধ খেলায় যেমন অভিজ্ঞদের সাথে নতুন খেলোয়াড় যোগ করে এখানেও মনে হয় একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক নতুন মুখ আনা দরকার। এরা কারা? যারা বিগত সময়ে কমিটিতে ন...

ন্যায় নাকি ভোটের হিসাব?

Image
কয়েক বছর আগে ফ্লয়েড লয়েডের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আমেরিকা কেঁপে উঠেছিল। এর পেছনে রাজনীতি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব অন্যতম প্রধান হলেও মূল কারণ ছিল দীর্ঘ দিনের জমে থাকা ক্ষোভ আর এই ক্ষোভের পেছনে ছিল যুগ যুগ ধরে আফ্রো আমেরিকানদের প্রতি শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবিচার। অন্যদিকে বর্তমানে ইউরোপে দানা বাঁধছে বিপরীত মুখী আন্দোলন যখন স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ মানুষ প্রতিবাদ করছে মূলতঃ রঙিন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে। সমাজের কোন সম্প্রদায় কখন বঞ্চিত ও নির্যাতিত হবে সেটা যতটা না সংখ্যার উপরে নির্ভর করে তারচেয়ে বেশি নির্ভর করে শাসক শ্রেণী বা শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ও মিডিয়া কোন পক্ষ অবলম্বন করছে তার উপর। আগে শাসকশ্রেণী শুধু নিজের গোষ্ঠীর পক্ষ অবলম্বন করত যার উদাহরণ আমরা দেখেছি ভারত সহ বিভিন্ন উপনিবেশে, আমেরিকায়। বর্তমানে মানবিক কারণের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের জন্যও শাসক শ্রেণী বা শক্তিশালী রাজনৈতিক দল বা অনুগত মিডিয়া অনেক সময় সংখ্যালঘু ও অভিবাসীদের পক্ষ নেয়।  যতক্ষণ পর্যন্ত এই পক্ষ নেয়ার পেছনে ন্যায় প্রতিষ্ঠার চেয়ে দলীয় স্বার্থ, ভোটের হিসাব নিকাশ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হব...

প্রশ্ন

Image
২০২২ সালে, ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর দিকে যখন জাপারোঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মিসাইল আক্রমণ হয় তখন এ নিয়ে সারা বিশ্বে হৈচৈ পড়ে যায়। দেশ ও কোলকাতা থেকে একাধিক মিডিয়া এ ব্যাপারে আমাকে ফোন করে। তবে যেহেতু আমি রাশিয়াকে ঢালাওভাবে দায়ী করিনি ও বলেছি ঐ পরিস্থিতিতে হামলার পেছনে ইউক্রেনের হাত থাকাই স্বাভাবিক, তাই দ্রুত ওদের আগ্রহ কমতে শুরু করে।  এরপর বিভিন্ন সময়ে ইউক্রেন এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আক্রমণ করে। ইন্টারন্যাশনাল এটমিক এনার্জি এজেন্সি প্রধান রাফায়েল গ্রস্সি এর নিন্দা করেন পারত পক্ষে কারা হামলা করছে অর্থাৎ ইউক্রেনের নাম না করেই।  গত কয়েকদিন ইউক্রেন জাপারোঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র লক্ষ্য করে ড্রোন আক্রমণ চালিয়েছে। এমনকি মূল কেন্দ্রের কয়েক মিটার দূরে বোমা পড়েছে। যদিও এসব কেন্দ্র ধ্বংস করা যথেষ্ট কঠিন তবে ঘটনাপ্রবাহ সেদিকে যেতে পারে। আর বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস হলে তার প্রভাব যে সমস্ত ইউরোপে পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এসবই হচ্ছে ইউরোপের সরাসরি অংশগ্রহণে। এটা অনেকটা জল্লাদের হাতে ছুরি তুলে দেওয়ার মত।  বলার অপেক্ষা রাখে ...

অজুহাত

Image
শত্রু মিত্র মানুষ নিজেরাই সৃষ্টি করে। কেউ শত্রু বা মিত্র হয়ে জন্মায় না। যদি কেউ কারো বন্ধু হতে চায় বা কারো সাথে ভালো সম্পর্ক রাখতে চায় তাহলে নিজেদের মধ্যে কমন পয়েন্ট, কমন ইন্টারেস্ট খুঁজে, অমিলগুলো এড়িয়ে যায় বা না গেলেও ট্যাকটিক্যালি নিজের দ্বিমত প্রকাশ করে। পক্ষান্তরে কারো সাথে শত্রুতা করতে চাইলে তারা অমিল খুঁজে আর দ্বিমতগুলো যতদূর সম্ভব রুক্ষ ভাবে প্রকাশ করে। বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বের দিকে তাকালে দেখব নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে প্রচুর দ্বিমত থাকার পরেও একটি ব্যাপারে তারা ঐক্যমত পোষণ করে আর সেটা হল রুশ বিরোধিতা বা রুসোফোবিয়া বা রুশভীতি। আর তাই তারা সাক্ষ্য প্রমাণের ধার না ধেরে ন্যূনতম সুযোগেই রাশিয়াকে মারাত্মক সব অভিযোগে অভিযুক্ত করে। এতদিন পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, বাল্টিকের দেশগুলোর উপর যেসব ড্রোন ভূপাতিত হত সেসব ইউক্রেনের ড্রোন বলে স্বীকার করত। ওদেসা আক্রমণের সময় একটা ড্রোন সীমান্ত অতিক্রম করে রোমানিয়ায় পড়ে। কোন রকম তদন্ত ছাড়াই রোমানিয়া এজন্য রাশিয়াকে অভিযুক্ত করেছে এবং রুশ কনসালকে বহিষ্কার করেছে। রুশরা বলে ইচ্ছে থাকলে উপায় বের করা অসম্ভব কিছু নয়। ইউরোপ রাশিয়ার সা...

ভাবনা

Image
সরকার তো আমাদের দ্বারা আমাদের নিয়েই তৈরি। তাই তারা যে ভবিষ্যতের চেয়ে অতীত নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকবে তাতে অবাক হবার কিছু নেই। আমরাই তো বানরের তেল মাখা (ওখান থেকেই কি তেল মাখতে শিখি আমরা যা দিনের শেষে লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাধা হয়ে দেখা দেয়?) বাঁশে ওঠার অংক করে অথবা দুধ বিক্রেতারা দুধে জল মেশানোর লাভ ক্ষতির হিসাব করে স্কুল জীবন পাড় করে দেই। রাজা রাজরার অতীত সাফল্য বা ব্যর্থতার গল্পে ইতিহাস বই ভরিয়ে রাখি। আর এসব লিখেই গাদা গাদা নম্বর পেয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। জ্ঞান নয়, নম্বর আমাদের আরাধ্য। তাহলে সরকার অন্য কিছু করবে কেন? আগের সরকারের ব্যর্থতা মানুষ জানে আর জানে বলেই ভোট দিয়ে নতুন সরকার নির্বাচন করে। তারপরেও অভ্যাসবশত নতুন সরকার পুরানো সরকারের দোষগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করে। গানে, কবিতায়, গদ্যে, প্রবন্ধে সেই ব্যর্থতার কথা জনসম্মুখে তুলে ধরে। অতীত (সরকার) থেকে শিক্ষা নেয়া নয়, অতীত (সরকার)কে শিক্ষা দেয়াই যেন বর্তমান সরকারের একমাত্র কাজ। বিগত সরকারের বিচারের জন্যেই যেন নতুন সরকার নির্বাচিত। অবশ্যই পুরানো সরকারের কাজকর্মের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, করতে হবে প্রতিশোধ নেবার প্রবণতা থেকে...