Posts

প্রশ্ন

Image
আয়াতুল্লাহ খোমিনি নিহত। ইরান ইসরাইলের এই দাবির সত্যতা স্বীকার করেছে। যতদূর জানি এটা একটি পদের নাম। নতুন আমিরের মত নতুন আয়াতুল্লাহ নির্বাচিত হবে। অর্ধশতাব্দী দীর্ঘ ইসলামী শাসনে কয়েক প্রজন্ম ইসলামী শাসনের সমর্থক সৃষ্টি হয়েছে ইরানে। বিরোধীরা এখনও দুর্বল। তাই এমনকি নতুন ব্যবস্থা যদি চালু হয়ও তার কলকাঠি ঘুরাবে এইসব মানুষ। ফলে শাসনব্যবস্থা নামে বদলালেও কার্যত আগের মতই থাকবে, অন্তত সমাজের গভীরে। দেশ বদলানোর জন্য যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন দরকার পুঁজিবাদী বিশ্ব সেটা কখনোই করবে না। তারা কাজ করে নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে, ভিন দেশের জনস্বার্থে না। আমার কেন যেন মনে হয় সারা বিশ্ব আমেরিকার আভ্যন্তরীণ রাজনীতির কাছে জিম্মি। আগে মনে হত আমেরিকা মানেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। এখন দেখি দুই বছরের ইলেক্টোরাল সাইকেল - প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেস নির্বাচন। এখানে সুবিধা লাভের জন্য শান্তি আর অশান্তি (যুদ্ধ) পালা করে আসে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। আর এই নির্বাচনের জিম্মি হয় ভেনেজুয়েলা, ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া সহ তাবৎ দুনিয়ার মানুষ। নব্বইয়ের দশকে রাশিয়া যখন অলিগার্কদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে ছিল তখন রাশ...

অমানুষমানুষ

Image
আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরান আক্রমণ করল। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী ইসলামী শাসন থেকে ইরানের জনগণকে মুক্ত করতে। এটা ঠিক যে ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থা কোন মতেই সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু তাই বলে বিনা প্ররোচনায় একটি স্বার্বভৌম দেশ আক্রমণ করা কি পৃথিবীকে আরও বেশি অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে না? ইসরাইল ঘোষণা করেছে যে ইরান তার অস্তিত্বের জন্য হুমকি বিধায় সে ইরান আক্রমণ করেছে। আমেরিকা বলেছে তার লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন। তার মানে যদি কোন দেশের সরকার তাদের পছন্দ না হয় এবং সে দেশ যদি যথেষ্ট শক্তিশালী না হয় তবে তাকে আক্রমণ করা বেআইনি নয়? এসব বিভিন্ন শক্তিশালী দেশের সামনে প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেয় শক্তি প্রয়োগ করে সমস্যা সমাধানের জন্য। তাই ইরানের ইসলামী শাসন অপছন্দ করলেও এই ধরণের আক্রমণ সমর্থন করা মানে জঙ্গলের শাসনকে এনডোর্স করা তা সে যতই ভালো হোক না কেন। দুটো খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে কম খারাপ বেছে নিতে হয়। হয়তোবা ইরানের শাসনব্যবস্থা অধিক খারাপ, কিন্তু যুদ্ধ কি অন্য পথের চেয়ে ভালো? আর দিনের শেষে মারা যাবে তো নিরীহ সাধারণ মানুষ। দুবনা, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কার যুদ্ধ?

Image
পাকিস্তান আফগানিস্তান আক্রমণ করেছে। যাকে বলে ফুল স্কেল ওয়ার। দুই দেশই যে যেভাবে পারছে অন্যকে আক্রমণ করছে। জানা গেছে আফগানিস্তান পাকিস্তানের পারমাণবিক কেন্দ্রে আক্রমণ চালিয়েছে। এতে শতাধিক আহত ও নিহত। এক কথায় দুই ভ্রাতৃপ্রতিম (?) দেশ কিছুতেই নিজেদের মধ্যে সমঝতা করতে পারছে না যদিও এর আগে কাটার আর তুরস্কের মধ্যস্থতায় সাময়িক ভাবে উত্তেজনা করেছিল। বাংলাদেশে দুই পক্ষেরই সমর্থক আছে। জামায়াত শিবির সহ জনগনের একটি অংশের পাক প্রেম গোপন কিছু নয়। আবার বাংলা হবে আফগান আমরা হব তালিবান স্লোগান দেবার লোকজনও খুব কম নয়। অনেকেই আবার যাকে বলে ট্যু ইন ওয়ান। এবার এরা কি করবে? এটা থেকে অন্তত বোঝা উচিত এসব দেশ আর যাই হোক জনগণ বা ধর্মের নামে সব করলেও জনগণ বা ধর্মের জন্য কিছু করে না, করে নিজেদের ও বিদেশী প্রভুদের স্বার্থে। পাকিস্তানের সেনা শাসনের প্রতি আমেরিকা ও চীনের সমর্থন বরাবরই ছিল। ইদানিং ভারত ও ইসরাইল আফগানিস্তানের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেছে। কার যুদ্ধ কে করছে সেটাই এখন দেখার বিষয়। দুবনা, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভয়কে করব জয়

Image
রুশ গোয়েন্দা সংস্থা ঘোষণা করেছে যে ফ্রান্স ও ব্রিটেন ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্র হস্তান্তর করার পরিকল্পনা করছে। সেটা এমনভাবে করা হবে যেন মনে হয় ইউক্রেন নিজ শক্তিতেই এই বোমা তৈরি করেছে। ফ্রান্সের সাবমেরিনের ব্যালেস্টিক মিসাইল এম৫১.১ এর ওয়ারহেড টিএন৭৫ হাতে পেলে কিয়েভ শান্তি চুক্তিতে শক্ত অবস্থান নিতে পারবে। এই অস্ত্র হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত কয়েকটি বোমার সমান শক্তিশালী। রাশিয়া বলেছে এটা হবে পারমানবিক অস্ত্র সম্প্রসারণ না করার আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন। মস্কো এক্ষেত্রে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হবে।  যুদ্ধ মানেই কারোও জয় কারোও পরাজয়। এটা অনেকটা খেলার মত। যদি পরাজয় মেনে নেবার মানসিক শক্তি না থাকে তাহলে যুদ্ধ নামা উচিত নয়। কারণ সেক্ষেত্রে একটি মাত্র পথ খোলা থাকে। ধ্বংস হওয়া।  ইউরোপ সেই পথেই হাঁটছে। বিশ্ব রাজনীতিতে দেউলিয়া হয়ে এখন সে সর্বহারা - শিকল ছাড়া হারোনোর কিছু নেই, জয় করার জন্য আছে পারমাণবিক শীতের ভয়। দুবনা, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রতিভা

Image
মেধা, নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি এসব কারণে যদিও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জাগত তবুও যখন ডঃ ইউনুসকে প্রধান উপদেষ্টা করা হয় তখন আমার মনে হয়েছিল ডাঃ জাফর উল্লাহ সবচেয়ে যোগ্য মানুষ হতে পারতেন এই পদের জন্য। কারণ এসব পদের জন্য সবচেয়ে বড় ক্রাইটেরিয়া হল দেশপ্রেম। ডাঃ জাফর উল্লাহর দেশপ্রেম ছিল সন্দেহাতীত। ডঃ ইউনুস বিভিন্ন সময় সন্দেহ করার সুযোগ দিয়েছেন।  দীর্ঘ আঠারো মাসের শাসন শেষে ডঃ ইউনুস বিদায় নিয়েছেন। তাঁর শাসনামল নিয়ে অনেক লেখা হবে। নিজ নিজ উপলব্ধি থেকে বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে তাঁর সময়ের আর সেই সাথে তাঁর মূল্যায়ন করবে।  সাধারণ মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা ছিল দীর্ঘ সময় ভয়ের যে সংস্কৃতি বিরাজমান ছিল তিনি দেশকে তা থেকে মুক্ত করবেন। তা হয়নি। তিনি মবের মাধ্যমে ভয়ের সংস্কৃতি আরও গভীর করেছেন।  কথা ছিল স্বজনপ্রীতির অবসান ঘটবে। তিনি নিজেকে তো করমুক্ত করেছেনই নিজের আত্মীয়-স্বজনদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছেন।  মানুষ ভেবেছিল আওয়ামী লীগের হাত থেকে উদ্ধার করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি মুছে ফেলার জন্য সব রকমের চেষ্টা করে...

গ্রহণ বর্জন

Image
আন্তন চেখভের একটা বিখ্যাত উক্তি – “দেয়ালে যদি রিভলবার ঝোলানো থাকে তাহলে আজ হোক কাল হোক একদিন না একদিন সেটা থেকে গুলী বেরুবেই।” ইউরোপে আজ অস্ত্রের ঝনঝনানি। জার্মানি থেকে শুরু করে সবাই তাদের মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিকে চাঙ্গা করতে চাইছে। এ জন্য দরকার শত্রু। বাস্তব হোক আর কাল্পনিক হোক – শত্রু দরকার। রাশিয়া উত্তম ভাবে সে ভূমিকা পালন করতে পারে। এটা অনেকটা পাশের বাড়ির নাদুসনুদুস ষাঁড়ের মত। সে এমনকি যারপরনাই শান্ত ও বন্ধুবৎসল হলেও মানুষ তাকে ভয় পাবেই। যুক্তি একটাই। ষাঁড়। বলা তো যায় না কী আছে ওর মনে। হঠাৎ যদি গুঁতা দিয়েই বসে। ফলে আশেপাশে কোন বড় দেশ থাকলেই ছোট ছোট দেশগুলো ভয়ে থাকে আর ভয় থেকে যুদ্ধংদেহী মনোভাব আর সেই সাথে অস্ত্র ভাণ্ডার বোঝাই করা। এতে অন্যান্য খাত শুকিয়ে যায়। সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ে। আর সবচেয়ে বড় কথা অস্ত্র ব্যাপারটা যাকে বলে গরীবের ঘোড়া রোগ। কারণ অস্ত্র ফেলে রাখলে চলে না, এর যত্ন নিতে হয়। অস্ত্রের নির্দিষ্ট আয়ু আছে। সময় মত ব্যবহার না করলে বিদ্রোহ করতে পারে, মানে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। অন্য দিকে পুরানো অস্ত্র শান্তিপূর্ণ উপায়ে ধ্বংস খুবই ব্যয় সাপেক্ষ। এটা অনেকটা কারখা...

খেলা

Image
ছোটবেলায় আমরা প্রায়ই শম্ভু নামে এক পাগলাটে ছেলেকে ক্ষ্যাপাতাম এই বলে যে ও এটা করতে পারবে না। আর নিজেকে প্রমাণ করতে ও সেটা করার চেষ্টা করে সবার হাসির খোড়াক হত। এমনকি ও জিতে গেলেও কেউ তার গুরুত্ব দিত না। ওকে নিয়ে মজা করাই ছিল আসল উদ্দেশ্য।  আজকাল বিভিন্ন অনলাইন গ্রূপে এ ধরণের ঘটনা ঘটে। মূলত টিন এজারদের বিভিন্ন রকম প্রায় অসম্ভব কাজ করতে বলে। যেমন ট্রেনের ছাদে চড়ে ভ্রমণ, প্রচুর পরিমাণে খাবার খাওয়া আর এসবের ভিডিও করে প্রচার করা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর ফলাফল হয় ফাটাল।  ইউরোপ আবার জেলেনস্কিকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করছে। না, জিততে পারবে না। তাদের জন্য জয় মানে রাশিয়ার অস্ত্র ভান্ডার কমানো। তাদের যুক্তি ইউক্রেনের পরে রাশিয়া তাদের উপর আক্রমণ করবে। তারা কি এটা বিশ্বাস করে? না। বলে কেন? জনগণকে ধোঁকা দিতে। কারণ তারা যদি বিশ্বাস করত রাশিয়া তাদের আক্রমণ করবে তাহলে এটাও বিশ্বাস করত যে রাশিয়া সেক্ষেত্রে পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না। আর তাহলে নিজেরাই উদ্যোগী হতে যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ শেষ করতে। ওরা রাশিয়ার ভয় দেখালেও রাশিয়াকে ভয় পায় না, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে নামত...