Posts

ন্যায় নাকি ভোটের হিসাব?

Image
কয়েক বছর আগে ফ্লয়েড লয়েডের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আমেরিকা কেঁপে উঠেছিল। এর পেছনে রাজনীতি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব অন্যতম প্রধান হলেও মূল কারণ ছিল দীর্ঘ দিনের জমে থাকা ক্ষোভ আর এই ক্ষোভের পেছনে ছিল যুগ যুগ ধরে আফ্রো আমেরিকানদের প্রতি শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবিচার। অন্যদিকে বর্তমানে ইউরোপে দানা বাঁধছে বিপরীত মুখী আন্দোলন যখন স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ মানুষ প্রতিবাদ করছে মূলতঃ রঙিন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে। সমাজের কোন সম্প্রদায় কখন বঞ্চিত ও নির্যাতিত হবে সেটা যতটা না সংখ্যার উপরে নির্ভর করে তারচেয়ে বেশি নির্ভর করে শাসক শ্রেণী বা শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ও মিডিয়া কোন পক্ষ অবলম্বন করছে তার উপর। আগে শাসকশ্রেণী শুধু নিজের গোষ্ঠীর পক্ষ অবলম্বন করত যার উদাহরণ আমরা দেখেছি ভারত সহ বিভিন্ন উপনিবেশে, আমেরিকায়। বর্তমানে মানবিক কারণের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের জন্যও শাসক শ্রেণী বা শক্তিশালী রাজনৈতিক দল বা অনুগত মিডিয়া অনেক সময় সংখ্যালঘু ও অভিবাসীদের পক্ষ নেয়।  যতক্ষণ পর্যন্ত এই পক্ষ নেয়ার পেছনে ন্যায় প্রতিষ্ঠার চেয়ে দলীয় স্বার্থ, ভোটের হিসাব নিকাশ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হব...

প্রশ্ন

Image
২০২২ সালে, ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর দিকে যখন জাপারোঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মিসাইল আক্রমণ হয় তখন এ নিয়ে সারা বিশ্বে হৈচৈ পড়ে যায়। দেশ ও কোলকাতা থেকে একাধিক মিডিয়া এ ব্যাপারে আমাকে ফোন করে। তবে যেহেতু আমি রাশিয়াকে ঢালাওভাবে দায়ী করিনি ও বলেছি ঐ পরিস্থিতিতে হামলার পেছনে ইউক্রেনের হাত থাকাই স্বাভাবিক, তাই দ্রুত ওদের আগ্রহ কমতে শুরু করে।  এরপর বিভিন্ন সময়ে ইউক্রেন এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আক্রমণ করে। ইন্টারন্যাশনাল এটমিক এনার্জি এজেন্সি প্রধান রাফায়েল গ্রস্সি এর নিন্দা করেন পারত পক্ষে কারা হামলা করছে অর্থাৎ ইউক্রেনের নাম না করেই।  গত কয়েকদিন ইউক্রেন জাপারোঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র লক্ষ্য করে ড্রোন আক্রমণ চালিয়েছে। এমনকি মূল কেন্দ্রের কয়েক মিটার দূরে বোমা পড়েছে। যদিও এসব কেন্দ্র ধ্বংস করা যথেষ্ট কঠিন তবে ঘটনাপ্রবাহ সেদিকে যেতে পারে। আর বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস হলে তার প্রভাব যে সমস্ত ইউরোপে পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এসবই হচ্ছে ইউরোপের সরাসরি অংশগ্রহণে। এটা অনেকটা জল্লাদের হাতে ছুরি তুলে দেওয়ার মত।  বলার অপেক্ষা রাখে ...

অজুহাত

Image
শত্রু মিত্র মানুষ নিজেরাই সৃষ্টি করে। কেউ শত্রু বা মিত্র হয়ে জন্মায় না। যদি কেউ কারো বন্ধু হতে চায় বা কারো সাথে ভালো সম্পর্ক রাখতে চায় তাহলে নিজেদের মধ্যে কমন পয়েন্ট, কমন ইন্টারেস্ট খুঁজে, অমিলগুলো এড়িয়ে যায় বা না গেলেও ট্যাকটিক্যালি নিজের দ্বিমত প্রকাশ করে। পক্ষান্তরে কারো সাথে শত্রুতা করতে চাইলে তারা অমিল খুঁজে আর দ্বিমতগুলো যতদূর সম্ভব রুক্ষ ভাবে প্রকাশ করে। বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বের দিকে তাকালে দেখব নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে প্রচুর দ্বিমত থাকার পরেও একটি ব্যাপারে তারা ঐক্যমত পোষণ করে আর সেটা হল রুশ বিরোধিতা বা রুসোফোবিয়া বা রুশভীতি। আর তাই তারা সাক্ষ্য প্রমাণের ধার না ধেরে ন্যূনতম সুযোগেই রাশিয়াকে মারাত্মক সব অভিযোগে অভিযুক্ত করে। এতদিন পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, বাল্টিকের দেশগুলোর উপর যেসব ড্রোন ভূপাতিত হত সেসব ইউক্রেনের ড্রোন বলে স্বীকার করত। ওদেসা আক্রমণের সময় একটা ড্রোন সীমান্ত অতিক্রম করে রোমানিয়ায় পড়ে। কোন রকম তদন্ত ছাড়াই রোমানিয়া এজন্য রাশিয়াকে অভিযুক্ত করেছে এবং রুশ কনসালকে বহিষ্কার করেছে। রুশরা বলে ইচ্ছে থাকলে উপায় বের করা অসম্ভব কিছু নয়। ইউরোপ রাশিয়ার সা...

ভাবনা

Image
সরকার তো আমাদের দ্বারা আমাদের নিয়েই তৈরি। তাই তারা যে ভবিষ্যতের চেয়ে অতীত নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকবে তাতে অবাক হবার কিছু নেই। আমরাই তো বানরের তেল মাখা (ওখান থেকেই কি তেল মাখতে শিখি আমরা যা দিনের শেষে লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাধা হয়ে দেখা দেয়?) বাঁশে ওঠার অংক করে অথবা দুধ বিক্রেতারা দুধে জল মেশানোর লাভ ক্ষতির হিসাব করে স্কুল জীবন পাড় করে দেই। রাজা রাজরার অতীত সাফল্য বা ব্যর্থতার গল্পে ইতিহাস বই ভরিয়ে রাখি। আর এসব লিখেই গাদা গাদা নম্বর পেয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। জ্ঞান নয়, নম্বর আমাদের আরাধ্য। তাহলে সরকার অন্য কিছু করবে কেন? আগের সরকারের ব্যর্থতা মানুষ জানে আর জানে বলেই ভোট দিয়ে নতুন সরকার নির্বাচন করে। তারপরেও অভ্যাসবশত নতুন সরকার পুরানো সরকারের দোষগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করে। গানে, কবিতায়, গদ্যে, প্রবন্ধে সেই ব্যর্থতার কথা জনসম্মুখে তুলে ধরে। অতীত (সরকার) থেকে শিক্ষা নেয়া নয়, অতীত (সরকার)কে শিক্ষা দেয়াই যেন বর্তমান সরকারের একমাত্র কাজ। বিগত সরকারের বিচারের জন্যেই যেন নতুন সরকার নির্বাচিত। অবশ্যই পুরানো সরকারের কাজকর্মের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, করতে হবে প্রতিশোধ নেবার প্রবণতা থেকে...

হয়তোবা

Image
হয়তোবা কোন একদিন মানুষ এমন ট্যাবলেট আবিষ্কার করবে যে না খেয়েও অনেক দিন বেঁচে থাকা যাবে। কিন্তু যতদিন না এমন কিছু আবিষ্কার হচ্ছে ততদিন কৃষি পণ্যের উপর আমাদের নির্ভর করতেই হবে। এমতাবস্থায় একজন কৃষক, যার ঘরে নিজের উৎপন্ন শস্য আছে, তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা যার ঘরে আধুনিক প্রযুক্তি, অর্থ সবই আছে কিন্তু বাজারে কোন খাদ্য নেই যে কিনবে, তার চেয়ে অনেক বেশি। পৃথিবীতে লাখ লাখ প্রাণী বসবাস করে মানুষ বাদে যাদের কেউই কিছু উৎপাদন করে না, কিন্তু এরাও লাখ লাখ বছর ধরে বেঁচে আছে। কারণ প্রকৃতি থেকে তারা নিজেদের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে সক্ষম। বেঁচে থাকার জন্য মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকদিন আগে রাশিয়াকে কীভাবে পরাজিত করা যায় তার কয়েকটি রেসিপি দেখলাম। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার উপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ফলে সারা পৃথিবীর নাভিশ্বাস উঠেছিল, কিন্তু আমরা যারা রাশিয়ায় থাকি তারা ততটা অনুভব করিনি। যেসব মানুষ বিদেশি দামী খাবার, পোষাক পরিচ্ছদ, গাড়ি ইত্যাদিতে অভ্যস্ত তারা হয়তো অসুবিধায় পড়েছিল। কিন্তু কয়জন মানুষ প্যারিস থেকে লন্ড্রি করে বা সেখানকার রুটি দিয়ে ব্রেকফা...

দোষী

Image
দেশে একটা কথা আছে, ব্রাহ্মণের আগে হাঁটলেও দোষ, পিছে হাঁটলেও দোষ। আর পাশাপাশি হাঁটার তো প্রশ্নই আসে না। এর উল্টো কিছু আছে কিনা জানি না, তবে সোভিয়েত ইউনিয়নের সেই উল্টো অবস্থা।  পুঁজিবাদী বিশ্ব সবসময়ই যে সোভিয়েত ইউনিয়নকে অপছন্দ করত তাতে সন্দেহ নেই। তবে তারা সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে (কথাটা খুব সরলীকরণ হয়ে গেল, কারণ ভাঙার পেছনে বিভিন্ন শক্তির একটা ছিল পুঁজিবাদী বিশ্ব) যে পুঁজিবাদী রাশিয়া তৈরি করল তাকেও তারা পছন্দ করে না। কারণ তাদের দরকার সমকক্ষ কোন শক্তি নয়, দরকার অনুগত ভৃত্য যে বিনা বাধায় নিজের খনিজসম্পদ ব্যবহার করতে দেবে, সামরিক ঘাঁটি তৈরি করতে দেবে, আন্তর্জাতিক ফোরামে বিনা প্রশ্নে পক্ষে ভোট দেবে ইত্যাদি। যে সমস্ত দেশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত করেছিল তারাও এখন সোভিয়েত লিগেছি অস্বীকার করে, তাদের বাঁচানোর জন্য দোষারোপ করে। অনেকটা সেই সব সন্তানদের মত যারা তাদের জন্ম দেবার জন্য বাবা মা'কে দোষারোপ করে। আর আছে সেই সব মানুষ যারা সমাজতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে এজন্য বিভিন্ন ধরণের সহায়তা পেয়েছে। সেই সময় তারা সোভিয়েত ইউনিয়নের উপর অতিরিক্ত...

শিক্ষা

Image
গৌরাঙ্গ সরকার নামে এক গণিতের শিক্ষক পুলিশের হেফাজতে ইসলাম ও মহানবীকে নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগে। বেশ কয়েক বছর আগে হৃদয় মন্ডলকে নিয়ে এই নাটক হয়েছিল। আমি একটি বিষয় কিছুতেই বুঝতে পারি না গণিত বা বিজ্ঞানের ক্লাসে কীভাবে ধর্মের আলোচনা আসে যদি না ছাত্রদের কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে এ ব্যাপারে উস্কানি দেয়। শিক্ষকদের নাম ধাম দেখে প্রথমেই যেটা মনে হয় তা হল একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করতে এসব ব্যবস্থা। এটা ঠিক সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানো অনেক সহজ। এজন্য এমনকি আইনের আওতায় আসতে হয় না। কিন্তু এটাই কি মূল কারণ নাকি মূল কারণ গভীরে। সাধারণ ভাবে আধুনিক শিক্ষা আর বিশেষ করে গণিত, বিজ্ঞান মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখায় আর এটাই বর্তমান বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের সাথে যায় না। তাই হিন্দু শিক্ষকদের নাজেহাল করা মূলত আধুনিক শিক্ষা প্রত্যাখ্যান করার প্রথম পদক্ষেপ। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক শিক্ষার সমান মর্যাদা দিয়ে সেই যাত্রা শুরু হয়েছিল। বাকি রইল মাদ্রাসা শিক্ষাকেই একমাত্র শিক্ষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। এজন্য গৌরাঙ্গ সরকার নাটক মঞ্চস্থ না করলেও হত। যদি খেয়াল করি দেখব দেশের মানুষের একটি সংগঠিত...