Posts

কি ছিনুরে আর কি হনুরে

Image
স্কুলে আমাদের পণ্ডিত স্যার গল্পটি বলতেন। এক লোক জমির আল দিয়ে হাঁটার সময় শনের ঝোপে উস্টা খেয়ে পড়ে গেছে। উঠেই সবাইকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলল, "জোয়ান কালে লাথি মেরে কত শনের ঝোপ উড়িয়ে দিয়েছি!" তারপর চারিদিকে তাকিয়ে যখন দেখল আশেপাশে কেউ কোথাও নেই, বলল, "কি ছিনু আর কি হনুরে।" মানে কিই বা ছিলাম আর কিই বা হলাম।  নির্বাচনের আগে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে মুখে ফেনা তুলেছিল বিএনপি। আমরা এতে বিশ্বাস করে এই দলের জন্য ভোট চেয়েছিলাম। এখন শুনি ৭ মার্চের ভাষণ শোনায় মানুষের উপর আক্রমণ হয়েছে। গ্রেফতার নাকি হয়েছে কেউ কেউ। যারা বিবর্তন তত্ত্বে বিশ্বাস করে না তারা নিজেরা বদলাবে কিভাবে? যা ছিল তাই রয়ে গেল। ভেবেছিলাম এখন থেকে বাংলাদেশে দুই দুটি বড় দল থাকবে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে, মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে। কিন্তু ক্ষমতার লোভ আর সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভয় মনে হয় আমাদের রাজনীতির পিছু ছাড়ছে না। আর দেশ তাই বরাবরের মতই অনিশ্চিতয়ার মধ্য কাল কাটাবে তার আত্মপরিচয় নিয়ে। দুবনা, ২০ মার্চ ২০২৬

মাস্তান

Image
পাড়ার মাস্তান বা ক্লাসের সবচেয়ে বেয়াড়া ছেলের শক্তির উৎস অন্যদের ভয় আর তাদের বড় দুর্বলতা অন্যদের সাহস। তাই এমনকি সবচেয়ে নিরীহ যে মানুষ যে কখনোই মাস্তানের পথ মাড়ায় না সে তাকেও ভয় দেখাতে চায়, পাছে অন্য কেউ সেই নিরীহ মানুষের দেখাদেখি তাকে অবজ্ঞা করে। কিন্তু যদি নিরীহ লোকটি মার খাবে জেনেও ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেটা মাস্তানের মাস্তানির শেষের ঘন্টা বাজাতে পারে। অনেকের ধারণা ভেনেজুয়েলার সেনারা যদি গুলি করে দুটো হেলিকপ্টারও ভূপাতিত করত তাহলে আমেরিকা রিট্রিট করত। অন্তত ড্রোনের তাড়া খেয়ে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ আব্রাহাম লিংকন সরিয়ে নেয়া দেখে সেটাই মনে হয়।ভেনেজুয়েলার বিনা প্রতিরোধে আত্মসমর্পণ ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণে উৎসাহিত করেছে। এবং ইরান যে বিভিন্ন দেশে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করবে সেটা মনে হয় তাদের ধারণার বাইরে ছিল। আসলে পশ্চিমা বিশ্ব সবসময়ই বিদেশে নিজ নিজ মীর জাফর - মোস্তাক - ইউনুস খুঁজে তারপর আক্রমণ করেছে। ইরানে হয় সেরকম কাউকে পায়নি অথবা নেতৃত্ব ধ্বংস করলে মানুষ রাস্তায় নেমে এসে বাকি কাজ করে ফেলবে সেটা ভেবেছে। তবে যাই হোক হিসেবে যে ভুল ছিল সেটা বোঝা যায়। যদি ইরান আর কিছ...

৭ মার্চ

Image
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে অন্যতম গৌরবময় দিন। বিচারের জন্য পন্টি পিলটের সামনে হাজির করলে যীশু খ্রিস্ট বলেন ঈশ্বরকে ঈশ্বরের প্রাপ্যটুকু দাও, সিজারকে সিজারের প্রাপ্যটুকু। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হল আমরা যার প্রাপ্য তাকে না দিয়ে সব নিজেদের কুক্ষিগত করার চেষ্টা করি। গেটিসবার্গ বক্তব্য আব্রাহাম লিংকনের হলেও সেটা গণতন্ত্রের আধুনিক মেনিফেস্ট হিসেবেই দেখা হয়। পাছে লিংকনের প্রশংসা করা হয় এই ভয়ে কেউ এই বক্তব্য অস্বীকার করে না। এপ্রিল থিসিস লেনিনের লেখা হলেও সেটা বিপ্লবের মেনিফেস্ট, যেমন কমিউনিস্ট মেনিফেস্ট শুধু মার্ক্স ও এঙ্গেলসের নয় সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের। একই ভাবে ৭ মার্চের ভাষণ এটা শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত একার নয়, স্বাধীনতাকামী সমস্ত বাঙালি জাতির। এসব বক্তব্য তাই কারো একার নয়, পরিবেশ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজ এ সবের এক সম্মিলিত মিথস্ক্রিয়ার ফল। আজ খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কাল খুব দেরি হয়ে যাবে। হ্যাঁ, এসব মেনিফেস্ট, এসব বক্তব্য শুধু নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট মানুষের মুখেই উচ্চারিত হয়। এটা এক অবজেক্টিভ রিয়ালিটি, ঐতিহাসিক ঘটনা যা...

ইতিহাস

Image
হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পর যে ভয় সৃষ্টি হয়েছিল সেটা অনেক আগেই কর্পূরের মত উবে গেছে। যদিও এরপর থেকে বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্র ও এই অস্ত্রধারী দেশের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলছে তবে এ অস্ত্র আর প্রয়োগ করা হয়নি।  এরপর বিশ্ব প্রবেশ করে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির যুগে। তবে চেরনোবিল ক্যাটাস্ট্রফির পরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পর্কেও ভীতির সঞ্চার হয়। ফুকুশিমা ক্যাটাস্ট্রফি সেটাকে নতুন শক্তি যোগায়।  তবে মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে কখনোই আগ্রহী ছিল না। তাই ইরানের বুসেরে রাশিয়া সহযোগিতায় নির্মিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা করতে ইসরাইল ও আমেরিকা দ্বিধা করছে না। রসএটম এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে সেখানে আক্রমন সমস্ত অঞ্চলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সমস্যা হল - আমেরিকা সাত সাগর আর তের নদীর পাড়ে। তাই রেডিয়েশনের হিসাব করার ধৈর্য্য তার কোথায়? দুবনা, ০৩ মার্চ ২০২৬

মৃত্যু

Image
একজন প্রশ্ন করল  আয়াতুল্লাহর মৃত্যুতে কেমন অনুভূতি হচ্ছে? কি বলব? বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষের কর্মকাণ্ডের আমি বিরোধিতা করি। তাদের যথাযথ শাস্তি চাই। কিন্তু ক্রসফায়ারে তাদের মৃত্যু কামনা করি না। এটা তাদের প্রতি সহানুভূতির কারণে নয়, শাসন ব্যবস্থার অধঃপতনের কারণে। আয়াতুল্লাহর মৃত্যু তাই আয়াতুল্লাহর মৃত্যু নয়, এটা সভ্যতার মৃত্যু, বিশ্বাসের মৃত্যু। কারণ আলোচনা চালিয়ে হঠাৎ আক্রমণ এটা বিশ্বাসঘাতকতা। আসলে ইসরাইল ও আমেরিকা যা করছে সেটা আন্তর্জাতিক মব শাসন। মব শাসনের মূল কী? বিচারহীনতা। অর্থাৎ যারা যা খুশি তাই করে তারা জানে তাদের কিছু হবে না। আমেরিকা ইসরাইল সেভাবেই চলছে। লক্ষ্য নাকি যেকোনো উপায়কে ন্যায্যতা দেয়। এটা স্তালিনের নামে চালানো হয়। তবে এই নিয়মে চললে অনিয়মটাই নিয়ম হয়ে যায়। কারণ এমনকি জঙ্গলের পশুরাও কোন না কোন নিয়ম মেনে চলে। আমরা মানুষেরা যদি তা না পারি তাহলে সেটা মানুষ নামের কলঙ্ক। মস্কো, ০২ মার্চ ২০২৬

প্রশ্ন

Image
আয়াতুল্লাহ খোমিনি নিহত। ইরান ইসরাইলের এই দাবির সত্যতা স্বীকার করেছে। যতদূর জানি এটা একটি পদের নাম। নতুন আমিরের মত নতুন আয়াতুল্লাহ নির্বাচিত হবে। অর্ধশতাব্দী দীর্ঘ ইসলামী শাসনে কয়েক প্রজন্ম ইসলামী শাসনের সমর্থক সৃষ্টি হয়েছে ইরানে। বিরোধীরা এখনও দুর্বল। তাই এমনকি নতুন ব্যবস্থা যদি চালু হয়ও তার কলকাঠি ঘুরাবে এইসব মানুষ। ফলে শাসনব্যবস্থা নামে বদলালেও কার্যত আগের মতই থাকবে, অন্তত সমাজের গভীরে। দেশ বদলানোর জন্য যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন দরকার পুঁজিবাদী বিশ্ব সেটা কখনোই করবে না। তারা কাজ করে নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে, ভিন দেশের জনস্বার্থে না। আমার কেন যেন মনে হয় সারা বিশ্ব আমেরিকার আভ্যন্তরীণ রাজনীতির কাছে জিম্মি। আগে মনে হত আমেরিকা মানেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। এখন দেখি দুই বছরের ইলেক্টোরাল সাইকেল - প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেস নির্বাচন। এখানে সুবিধা লাভের জন্য শান্তি আর অশান্তি (যুদ্ধ) পালা করে আসে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। আর এই নির্বাচনের জিম্মি হয় ভেনেজুয়েলা, ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া সহ তাবৎ দুনিয়ার মানুষ। নব্বইয়ের দশকে রাশিয়া যখন অলিগার্কদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে ছিল তখন রাশ...

অমানুষমানুষ

Image
আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরান আক্রমণ করল। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী ইসলামী শাসন থেকে ইরানের জনগণকে মুক্ত করতে। এটা ঠিক যে ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থা কোন মতেই সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু তাই বলে বিনা প্ররোচনায় একটি স্বার্বভৌম দেশ আক্রমণ করা কি পৃথিবীকে আরও বেশি অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে না? ইসরাইল ঘোষণা করেছে যে ইরান তার অস্তিত্বের জন্য হুমকি বিধায় সে ইরান আক্রমণ করেছে। আমেরিকা বলেছে তার লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন। তার মানে যদি কোন দেশের সরকার তাদের পছন্দ না হয় এবং সে দেশ যদি যথেষ্ট শক্তিশালী না হয় তবে তাকে আক্রমণ করা বেআইনি নয়? এসব বিভিন্ন শক্তিশালী দেশের সামনে প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেয় শক্তি প্রয়োগ করে সমস্যা সমাধানের জন্য। তাই ইরানের ইসলামী শাসন অপছন্দ করলেও এই ধরণের আক্রমণ সমর্থন করা মানে জঙ্গলের শাসনকে এনডোর্স করা তা সে যতই ভালো হোক না কেন। দুটো খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে কম খারাপ বেছে নিতে হয়। হয়তোবা ইরানের শাসনব্যবস্থা অধিক খারাপ, কিন্তু যুদ্ধ কি অন্য পথের চেয়ে ভালো? আর দিনের শেষে মারা যাবে তো নিরীহ সাধারণ মানুষ। দুবনা, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬