Posts

বয়ান

Image
আমাদের এলাকায় একটা কথা আছে, "সব মাছে গু খায়, নাম হয় ঘাইরা মাছের।" আমরা প্রায়ই শুনি মুক্তিযুদ্ধের আওয়ামী বয়ানের কথা। সবাই এ নিয়ে কথা বলে। কিন্তু আওয়ামী লীগ কি শুধু একাই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করে? বিএনপি কি স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে কথা বলে না? সেটাও তো মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা। অথবা বাম দলগুলো মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান নিয়ে যা বলে সেটাও তো মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগানোর জন্যই। এমনকি জামায়াত পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের মত করে ব্যাখ্যা করে জনমত নিজেদের পক্ষে আনতে চায়। আমরা তো সারা জীবনই নিজেদের অতীত বিক্রি করে খাই বা অন্তত খাবার চেষ্টা করি। এই যে চাকরির জন্য সার্টিফিকেট পেশ করা, নতুন কাজে জয়েন করতে গেলে পুরানো কাজে সাফল্যের কথা লিখে সিভি দাখিল করা - এ সবই তো অতীত বিক্রি করা। কারণ আমাদের ভবিষ্যৎ অজানা, তাই অতীত দেখিয়েই আমরা সূর্যের নীচে নিজেদের জায়গা করে নিতে চাই। ইন্টার্ভিউতে সেই টিকে যে নিজেকে বেশি যোগ্য প্রমাণ করতে পারে। আর সে যে সব সময় ক্লাসের সেরা ছাত্র হবে তার কোন মানে নেই। পণ্য উৎপাদন করলেই হবে না, সেটাকে মুনাফা সহ বিক্রি করতে হবে - তবেই তো মিশন সফল। পৃথিবীর সমস্ত...

পরম্পরা

Image
আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের একটি ভুল ধারণা আছে, তা হল দেশকে ইউরোপ, আমেরিকা বা সিঙ্গাপুর বানাতে পাঁচ বছরও লাগবে না। সোভিয়েত আমলে দেশের বামপন্থী নেতা কর্মীরা যখন সেদেশ ভ্রমণ করতেন ও সবকিছুর উচ্ছসিত প্রশংসা করতেন তখনও তাদের ভুলটা চোখে পড়ত, তবে তা কয়েক বছর এ দেশে থাকার পরে। সোভিয়েত ইউনিয়নে অনেক ভালো ভালো জিনিস ছিল, তবে খারাপ দিকও কম ছিল না। কিন্তু তাদের যেহেতু বেছে বেছে ভালো জায়গাগুলো দেখানো হত তাই এক ধরণের আংশিক ধারণা গড়ে ওঠা অস্বাভাবিক ছিল না। হয়তো কেউ কেউ সেটা বুঝত, কিন্তু রাজনীতির স্বার্থে শুধু ভালো দিকটাই বলত। তবে ইউরোপ আমেরিকায় তো সোভিয়েত ইউনিয়নের মত স্বাধীন ভাবে ঘুরে ফিরে দেখায় বাধানিষেধ নেই তাই রাজনৈতিক নেতা বা অনেক ক্ষেত্রে বুদ্ধিজীবীদের মুখে এসব শুনে অবাক হই। কারণ ইউরোপ, আমেরিকা, সিঙ্গাপুর এসব দেশ শুধু অর্থনৈতিক চাকচিক্য, রাস্তাঘাট, শিল্প প্রযুক্তি নয়, এটা এক বিশেষ রাজনৈতিক পরিবেশ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানুষে মানুষে সম্পর্ক, ইতিহাস ইত্যাদির এক বিশাল সমন্বয়। বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা দেখে মনে হয় অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত বিষয়ে ইউরোপ আমেরিকার মত হলেও মানবিক দিক থেকে সেখানে...

কি ছিনুরে আর কি হনুরে

Image
স্কুলে আমাদের পণ্ডিত স্যার গল্পটি বলতেন। এক লোক জমির আল দিয়ে হাঁটার সময় শনের ঝোপে উস্টা খেয়ে পড়ে গেছে। উঠেই সবাইকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলল, "জোয়ান কালে লাথি মেরে কত শনের ঝোপ উড়িয়ে দিয়েছি!" তারপর চারিদিকে তাকিয়ে যখন দেখল আশেপাশে কেউ কোথাও নেই, বলল, "কি ছিনু আর কি হনুরে।" মানে কিই বা ছিলাম আর কিই বা হলাম।  নির্বাচনের আগে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে মুখে ফেনা তুলেছিল বিএনপি। আমরা এতে বিশ্বাস করে এই দলের জন্য ভোট চেয়েছিলাম। এখন শুনি ৭ মার্চের ভাষণ শোনায় মানুষের উপর আক্রমণ হয়েছে। গ্রেফতার নাকি হয়েছে কেউ কেউ। যারা বিবর্তন তত্ত্বে বিশ্বাস করে না তারা নিজেরা বদলাবে কিভাবে? যা ছিল তাই রয়ে গেল। ভেবেছিলাম এখন থেকে বাংলাদেশে দুই দুটি বড় দল থাকবে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে, মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে। কিন্তু ক্ষমতার লোভ আর সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভয় মনে হয় আমাদের রাজনীতির পিছু ছাড়ছে না। আর দেশ তাই বরাবরের মতই অনিশ্চিতয়ার মধ্য কাল কাটাবে তার আত্মপরিচয় নিয়ে। দুবনা, ২০ মার্চ ২০২৬

মাস্তান

Image
পাড়ার মাস্তান বা ক্লাসের সবচেয়ে বেয়াড়া ছেলের শক্তির উৎস অন্যদের ভয় আর তাদের বড় দুর্বলতা অন্যদের সাহস। তাই এমনকি সবচেয়ে নিরীহ যে মানুষ যে কখনোই মাস্তানের পথ মাড়ায় না সে তাকেও ভয় দেখাতে চায়, পাছে অন্য কেউ সেই নিরীহ মানুষের দেখাদেখি তাকে অবজ্ঞা করে। কিন্তু যদি নিরীহ লোকটি মার খাবে জেনেও ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেটা মাস্তানের মাস্তানির শেষের ঘন্টা বাজাতে পারে। অনেকের ধারণা ভেনেজুয়েলার সেনারা যদি গুলি করে দুটো হেলিকপ্টারও ভূপাতিত করত তাহলে আমেরিকা রিট্রিট করত। অন্তত ড্রোনের তাড়া খেয়ে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ আব্রাহাম লিংকন সরিয়ে নেয়া দেখে সেটাই মনে হয়।ভেনেজুয়েলার বিনা প্রতিরোধে আত্মসমর্পণ ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণে উৎসাহিত করেছে। এবং ইরান যে বিভিন্ন দেশে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করবে সেটা মনে হয় তাদের ধারণার বাইরে ছিল। আসলে পশ্চিমা বিশ্ব সবসময়ই বিদেশে নিজ নিজ মীর জাফর - মোস্তাক - ইউনুস খুঁজে তারপর আক্রমণ করেছে। ইরানে হয় সেরকম কাউকে পায়নি অথবা নেতৃত্ব ধ্বংস করলে মানুষ রাস্তায় নেমে এসে বাকি কাজ করে ফেলবে সেটা ভেবেছে। তবে যাই হোক হিসেবে যে ভুল ছিল সেটা বোঝা যায়। যদি ইরান আর কিছ...

৭ মার্চ

Image
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে অন্যতম গৌরবময় দিন। বিচারের জন্য পন্টি পিলটের সামনে হাজির করলে যীশু খ্রিস্ট বলেন ঈশ্বরকে ঈশ্বরের প্রাপ্যটুকু দাও, সিজারকে সিজারের প্রাপ্যটুকু। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হল আমরা যার প্রাপ্য তাকে না দিয়ে সব নিজেদের কুক্ষিগত করার চেষ্টা করি। গেটিসবার্গ বক্তব্য আব্রাহাম লিংকনের হলেও সেটা গণতন্ত্রের আধুনিক মেনিফেস্ট হিসেবেই দেখা হয়। পাছে লিংকনের প্রশংসা করা হয় এই ভয়ে কেউ এই বক্তব্য অস্বীকার করে না। এপ্রিল থিসিস লেনিনের লেখা হলেও সেটা বিপ্লবের মেনিফেস্ট, যেমন কমিউনিস্ট মেনিফেস্ট শুধু মার্ক্স ও এঙ্গেলসের নয় সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের। একই ভাবে ৭ মার্চের ভাষণ এটা শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত একার নয়, স্বাধীনতাকামী সমস্ত বাঙালি জাতির। এসব বক্তব্য তাই কারো একার নয়, পরিবেশ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজ এ সবের এক সম্মিলিত মিথস্ক্রিয়ার ফল। আজ খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কাল খুব দেরি হয়ে যাবে। হ্যাঁ, এসব মেনিফেস্ট, এসব বক্তব্য শুধু নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট মানুষের মুখেই উচ্চারিত হয়। এটা এক অবজেক্টিভ রিয়ালিটি, ঐতিহাসিক ঘটনা যা...

ইতিহাস

Image
হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পর যে ভয় সৃষ্টি হয়েছিল সেটা অনেক আগেই কর্পূরের মত উবে গেছে। যদিও এরপর থেকে বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্র ও এই অস্ত্রধারী দেশের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলছে তবে এ অস্ত্র আর প্রয়োগ করা হয়নি।  এরপর বিশ্ব প্রবেশ করে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির যুগে। তবে চেরনোবিল ক্যাটাস্ট্রফির পরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পর্কেও ভীতির সঞ্চার হয়। ফুকুশিমা ক্যাটাস্ট্রফি সেটাকে নতুন শক্তি যোগায়।  তবে মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে কখনোই আগ্রহী ছিল না। তাই ইরানের বুসেরে রাশিয়া সহযোগিতায় নির্মিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা করতে ইসরাইল ও আমেরিকা দ্বিধা করছে না। রসএটম এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে সেখানে আক্রমন সমস্ত অঞ্চলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সমস্যা হল - আমেরিকা সাত সাগর আর তের নদীর পাড়ে। তাই রেডিয়েশনের হিসাব করার ধৈর্য্য তার কোথায়? দুবনা, ০৩ মার্চ ২০২৬

মৃত্যু

Image
একজন প্রশ্ন করল  আয়াতুল্লাহর মৃত্যুতে কেমন অনুভূতি হচ্ছে? কি বলব? বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষের কর্মকাণ্ডের আমি বিরোধিতা করি। তাদের যথাযথ শাস্তি চাই। কিন্তু ক্রসফায়ারে তাদের মৃত্যু কামনা করি না। এটা তাদের প্রতি সহানুভূতির কারণে নয়, শাসন ব্যবস্থার অধঃপতনের কারণে। আয়াতুল্লাহর মৃত্যু তাই আয়াতুল্লাহর মৃত্যু নয়, এটা সভ্যতার মৃত্যু, বিশ্বাসের মৃত্যু। কারণ আলোচনা চালিয়ে হঠাৎ আক্রমণ এটা বিশ্বাসঘাতকতা। আসলে ইসরাইল ও আমেরিকা যা করছে সেটা আন্তর্জাতিক মব শাসন। মব শাসনের মূল কী? বিচারহীনতা। অর্থাৎ যারা যা খুশি তাই করে তারা জানে তাদের কিছু হবে না। আমেরিকা ইসরাইল সেভাবেই চলছে। লক্ষ্য নাকি যেকোনো উপায়কে ন্যায্যতা দেয়। এটা স্তালিনের নামে চালানো হয়। তবে এই নিয়মে চললে অনিয়মটাই নিয়ম হয়ে যায়। কারণ এমনকি জঙ্গলের পশুরাও কোন না কোন নিয়ম মেনে চলে। আমরা মানুষেরা যদি তা না পারি তাহলে সেটা মানুষ নামের কলঙ্ক। মস্কো, ০২ মার্চ ২০২৬