Posts

যুদ্ধ কি শেষ হবে?

Image
আমি সাধারণত যুদ্ধ পছন্দ করি না। তবে উপসাগরীয় যুদ্ধ পছন্দনীয় হতে শুরু করেছে। কেন? আধুনিক যুদ্ধ আর কামান, ট্যাঙ্ক, যুদ্ধ বিমান, এমনকি রকেট দিয়ে হচ্ছে না, হচ্ছে সস্তা ড্রোন দিয়ে। একেই বলে পঁচা শামুকে পা কাটা।  এখন গরীব দেশও যুদ্ধে ধনী দেশকে টেক্কা দিচ্ছে। ইয়েমেন সৌদি আরবের সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলছে। প্রায় ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন সামরিক বাজেট হাজার ডলারের ড্রোনের সামনে অসহায়। বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ড্রোনের দাপটে পালিয়ে যাচ্ছে। যখন নিখুঁত অস্ত্র তৈরি করতে উন্নত বিশ্ব বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ও বছরের পর বছর ব্যয় করছে সেখানে ঘরোয়া পরিবেশে স্বল্প খরচে প্রতিদিন শতশত ড্রোন তৈরি হচ্ছে। এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ ইঞ্জিনিয়াররা ভূগর্ভস্থ ব্যাঙ্কারে ড্রোন তৈরি করছে, সেনাদের চাহিদা অনুযায়ী তা পরিবর্তন করছে। এমতাবস্থায় যুদ্ধটা এই প্রথমবারের মত অলাভজনক ব্যবসায় পরিনত হতে চলছে। এতদিন যুদ্ধের চালিকাশক্তি ছিল বিশাল অংকের লাভ আর শাসকদের ব্যর্থতা লুকানো। শাসকরা এর পরেও ব্যর্থ হবে। তবে লাভজনক না হলে যুদ্ধের স্পন্সর খুব বেশি দিন পাওয়া যাবে না। আর এটাই হতে পারে উপসাগরীয় যুদ্ধের মূল লাভ। মস্কোর পথে,...

হতাশা?

Image
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেককেই নতুন করে হতাশ করছে, বিশেষ করে যারা বিএনপির কাছে আওয়ামী লীগ বা তারচেয়েও বেশি মুক্তিযুদ্ধ পন্থী ভূমিকা আশা করেছিল। নির্বাচনে জামায়াত ও বিএনপির মধ্য থেকে যখন বেছে নেবার প্রশ্ন এসেছিল তখন বিএনপি ছিল বেশি গ্রহণযোগ্য। কিন্তু এর মানে এই নয় যে বিএনপি রাতারাতি বদলে যাবে বা আদৌ বদলে যাবে। এখন দেশের স্বার্থে ও নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশ পন্থী সবার উচিত হবে আওয়ামী লীগ সহ অন্যান্য দলকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা। অন্যথায় পরবর্তীতে বেছে নেবার জন্য এমনকি বিএনপিও থাকবে না। নেটে সংসদে রাজাকারদের উপর শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু এটা কি হঠাৎ করেই ঘটেছে? এর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে স্বাধীনতার পর থেকেই। পরে বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নাম ও বেশ ধারী রাজাকারদের সমাজে ও রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পেতে সাহায্য করেছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি কেউ বাদ যায়নি। এমনকি ২০২৪ সালে আন্দোলনের সময় ও পরবর্তী কালে সিপিবির মত দলগুলো (একাংশ তো বটেই) এই কাজ করে গেছে। তাই এখন কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন দিয়ে কী হবে? বর্তমানে আমাদের সামর্থ্য সীমিত, সুযোগ আরও কম...

বয়ান

Image
আমাদের এলাকায় একটা কথা আছে, "সব মাছে গু খায়, নাম হয় ঘাইরা মাছের।" আমরা প্রায়ই শুনি মুক্তিযুদ্ধের আওয়ামী বয়ানের কথা। সবাই এ নিয়ে কথা বলে। কিন্তু আওয়ামী লীগ কি শুধু একাই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করে? বিএনপি কি স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে কথা বলে না? সেটাও তো মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা। অথবা বাম দলগুলো মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান নিয়ে যা বলে সেটাও তো মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগানোর জন্যই। এমনকি জামায়াত পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের মত করে ব্যাখ্যা করে জনমত নিজেদের পক্ষে আনতে চায়। আমরা তো সারা জীবনই নিজেদের অতীত বিক্রি করে খাই বা অন্তত খাবার চেষ্টা করি। এই যে চাকরির জন্য সার্টিফিকেট পেশ করা, নতুন কাজে জয়েন করতে গেলে পুরানো কাজে সাফল্যের কথা লিখে সিভি দাখিল করা - এ সবই তো অতীত বিক্রি করা। কারণ আমাদের ভবিষ্যৎ অজানা, তাই অতীত দেখিয়েই আমরা সূর্যের নীচে নিজেদের জায়গা করে নিতে চাই। ইন্টার্ভিউতে সেই টিকে যে নিজেকে বেশি যোগ্য প্রমাণ করতে পারে। আর সে যে সব সময় ক্লাসের সেরা ছাত্র হবে তার কোন মানে নেই। পণ্য উৎপাদন করলেই হবে না, সেটাকে মুনাফা সহ বিক্রি করতে হবে - তবেই তো মিশন সফল। পৃথিবীর সমস্ত...

পরম্পরা

Image
আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের একটি ভুল ধারণা আছে, তা হল দেশকে ইউরোপ, আমেরিকা বা সিঙ্গাপুর বানাতে পাঁচ বছরও লাগবে না। সোভিয়েত আমলে দেশের বামপন্থী নেতা কর্মীরা যখন সেদেশ ভ্রমণ করতেন ও সবকিছুর উচ্ছসিত প্রশংসা করতেন তখনও তাদের ভুলটা চোখে পড়ত, তবে তা কয়েক বছর এ দেশে থাকার পরে। সোভিয়েত ইউনিয়নে অনেক ভালো ভালো জিনিস ছিল, তবে খারাপ দিকও কম ছিল না। কিন্তু তাদের যেহেতু বেছে বেছে ভালো জায়গাগুলো দেখানো হত তাই এক ধরণের আংশিক ধারণা গড়ে ওঠা অস্বাভাবিক ছিল না। হয়তো কেউ কেউ সেটা বুঝত, কিন্তু রাজনীতির স্বার্থে শুধু ভালো দিকটাই বলত। তবে ইউরোপ আমেরিকায় তো সোভিয়েত ইউনিয়নের মত স্বাধীন ভাবে ঘুরে ফিরে দেখায় বাধানিষেধ নেই তাই রাজনৈতিক নেতা বা অনেক ক্ষেত্রে বুদ্ধিজীবীদের মুখে এসব শুনে অবাক হই। কারণ ইউরোপ, আমেরিকা, সিঙ্গাপুর এসব দেশ শুধু অর্থনৈতিক চাকচিক্য, রাস্তাঘাট, শিল্প প্রযুক্তি নয়, এটা এক বিশেষ রাজনৈতিক পরিবেশ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানুষে মানুষে সম্পর্ক, ইতিহাস ইত্যাদির এক বিশাল সমন্বয়। বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা দেখে মনে হয় অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত বিষয়ে ইউরোপ আমেরিকার মত হলেও মানবিক দিক থেকে সেখানে...

কি ছিনুরে আর কি হনুরে

Image
স্কুলে আমাদের পণ্ডিত স্যার গল্পটি বলতেন। এক লোক জমির আল দিয়ে হাঁটার সময় শনের ঝোপে উস্টা খেয়ে পড়ে গেছে। উঠেই সবাইকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলল, "জোয়ান কালে লাথি মেরে কত শনের ঝোপ উড়িয়ে দিয়েছি!" তারপর চারিদিকে তাকিয়ে যখন দেখল আশেপাশে কেউ কোথাও নেই, বলল, "কি ছিনু আর কি হনুরে।" মানে কিই বা ছিলাম আর কিই বা হলাম।  নির্বাচনের আগে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে মুখে ফেনা তুলেছিল বিএনপি। আমরা এতে বিশ্বাস করে এই দলের জন্য ভোট চেয়েছিলাম। এখন শুনি ৭ মার্চের ভাষণ শোনায় মানুষের উপর আক্রমণ হয়েছে। গ্রেফতার নাকি হয়েছে কেউ কেউ। যারা বিবর্তন তত্ত্বে বিশ্বাস করে না তারা নিজেরা বদলাবে কিভাবে? যা ছিল তাই রয়ে গেল। ভেবেছিলাম এখন থেকে বাংলাদেশে দুই দুটি বড় দল থাকবে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে, মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে। কিন্তু ক্ষমতার লোভ আর সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভয় মনে হয় আমাদের রাজনীতির পিছু ছাড়ছে না। আর দেশ তাই বরাবরের মতই অনিশ্চিতয়ার মধ্য কাল কাটাবে তার আত্মপরিচয় নিয়ে। দুবনা, ২০ মার্চ ২০২৬

মাস্তান

Image
পাড়ার মাস্তান বা ক্লাসের সবচেয়ে বেয়াড়া ছেলের শক্তির উৎস অন্যদের ভয় আর তাদের বড় দুর্বলতা অন্যদের সাহস। তাই এমনকি সবচেয়ে নিরীহ যে মানুষ যে কখনোই মাস্তানের পথ মাড়ায় না সে তাকেও ভয় দেখাতে চায়, পাছে অন্য কেউ সেই নিরীহ মানুষের দেখাদেখি তাকে অবজ্ঞা করে। কিন্তু যদি নিরীহ লোকটি মার খাবে জেনেও ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেটা মাস্তানের মাস্তানির শেষের ঘন্টা বাজাতে পারে। অনেকের ধারণা ভেনেজুয়েলার সেনারা যদি গুলি করে দুটো হেলিকপ্টারও ভূপাতিত করত তাহলে আমেরিকা রিট্রিট করত। অন্তত ড্রোনের তাড়া খেয়ে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ আব্রাহাম লিংকন সরিয়ে নেয়া দেখে সেটাই মনে হয়।ভেনেজুয়েলার বিনা প্রতিরোধে আত্মসমর্পণ ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণে উৎসাহিত করেছে। এবং ইরান যে বিভিন্ন দেশে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করবে সেটা মনে হয় তাদের ধারণার বাইরে ছিল। আসলে পশ্চিমা বিশ্ব সবসময়ই বিদেশে নিজ নিজ মীর জাফর - মোস্তাক - ইউনুস খুঁজে তারপর আক্রমণ করেছে। ইরানে হয় সেরকম কাউকে পায়নি অথবা নেতৃত্ব ধ্বংস করলে মানুষ রাস্তায় নেমে এসে বাকি কাজ করে ফেলবে সেটা ভেবেছে। তবে যাই হোক হিসেবে যে ভুল ছিল সেটা বোঝা যায়। যদি ইরান আর কিছ...

৭ মার্চ

Image
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে অন্যতম গৌরবময় দিন। বিচারের জন্য পন্টি পিলটের সামনে হাজির করলে যীশু খ্রিস্ট বলেন ঈশ্বরকে ঈশ্বরের প্রাপ্যটুকু দাও, সিজারকে সিজারের প্রাপ্যটুকু। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হল আমরা যার প্রাপ্য তাকে না দিয়ে সব নিজেদের কুক্ষিগত করার চেষ্টা করি। গেটিসবার্গ বক্তব্য আব্রাহাম লিংকনের হলেও সেটা গণতন্ত্রের আধুনিক মেনিফেস্ট হিসেবেই দেখা হয়। পাছে লিংকনের প্রশংসা করা হয় এই ভয়ে কেউ এই বক্তব্য অস্বীকার করে না। এপ্রিল থিসিস লেনিনের লেখা হলেও সেটা বিপ্লবের মেনিফেস্ট, যেমন কমিউনিস্ট মেনিফেস্ট শুধু মার্ক্স ও এঙ্গেলসের নয় সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের। একই ভাবে ৭ মার্চের ভাষণ এটা শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত একার নয়, স্বাধীনতাকামী সমস্ত বাঙালি জাতির। এসব বক্তব্য তাই কারো একার নয়, পরিবেশ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজ এ সবের এক সম্মিলিত মিথস্ক্রিয়ার ফল। আজ খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কাল খুব দেরি হয়ে যাবে। হ্যাঁ, এসব মেনিফেস্ট, এসব বক্তব্য শুধু নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট মানুষের মুখেই উচ্চারিত হয়। এটা এক অবজেক্টিভ রিয়ালিটি, ঐতিহাসিক ঘটনা যা...