Posts

ব্যর্থতা

Image
পত্রিকায় দেখলাম মাছ চুরির অভিযোগে তরায় এক জেলেকে পিটিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে তার লাশ বাজার কমিটির অফিসে ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিচার নিজের হাতে তুলে নেয়া দেশে নতুন নয়। আমাদের ছোটবেলায় মানে সত্তরের দশকেও দেখেছি চোর, পকেটমার, ডাকাত জনতার হাতে বেদম প্রহারের শিকার হয়েছে। তবে শেষপর্যন্ত তাদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হত। বর্তমানে যেভাবে মানুষ, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ, আক্রমণের শিকার হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যু বরণ করছে, তাতে দেশের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আর এই প্রশ্ন বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের পথে ঠেলে দিচ্ছে। রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল ও সমাজের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ব্যতীত এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোন পথ আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু সরকার যদি নিজে উদ্যোগী হয়ে এসব ঘটনা বিচারের আওতায় না আনে তবে একদিন গরীব সংখ্যালঘু জেলের মৃত্যু একটা রাষ্ট্রের মৃত্যু ঘন্টা বাজিয়ে দিতে পারে। মনে রাখতে হবে শুধু বাইরের শত্রুর আক্রমণেই কেউ মারা যায় না, অসুখ বা আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণেও অনেকে মারা যায়। আমাদের দেশ এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ জাতীয় অস...

কি করা?

Image
ন্যায় বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দেয়ার লক্ষ্য যাকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে তার উপর নির্যাতন করা নয়, তাকে ও অন্যান্যদের জানানো যে অপরাধ করলে ফল ভোগ করতে হবে। বিচার ব্যবস্থা শুধু পোস্ট ফ্যাক্ট মানে অপরাধ করার পর শাস্তি নয়, এটা প্রিভেন্টিভ মেজার মানে সাবধান করে দেয়া। তবে এটা যে শুধু অপরাধ বা অপরাধীর ক্ষেত্রে সত্য তা নয়, প্রায়ই এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয় ভিন্ন মতাবলম্বী বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আসাদুজ্জামান নূর, শাহরিয়ার কবির ও অন্যান্যরা সামাজিক ভাবে ক্ষতিকর না হয়েও জামিন বা খালাস পাচ্ছেন না কারণ এদের মাধ্যমে সরকার মুক্তমনা, সংস্কৃতিমনা, ভিন্ন ধারার রাজনৈতিক চিন্তাধারা পোষণকারী মানুষদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করছে। সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি নয়, ঘোলা করেই বর্তমান সরকার রুই কাতলা শিকার করতে চাইছে। তাহলে উপায়? এদের মুক্তির জন্য  আন্তর্জাতিক আন্দোলন গড়ে তোলা। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়েরাই যেখানে বাংলাদেশের নেপথ্য শোষক শাসক সেখানে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলা কঠিন। কিন্তু অন্য কোন উপায় তো আমাদের নেই। মস্কোর পথে, ১০ মে ২০২৬

কালো আর ধলা

Image
গতকাল অনলাইনে একজোড়া ছোবা বা সাবান মাখানোর স্পঞ্জ পেলাম। গুলিয়া অর্ডার দিতে বলেছিল। একটা প্যাকেটে দুটো ছোবা - একটি কালো, আরেকটি সাদা।  কার কোনটা? জিজ্ঞেস করলাম। আমি সাদাটা নেব। গুলিয়ার উত্তর। আমার ধারণা ছিল তুমি কালো রং বেশি পছন্দ কর। কে বলল?  মানে আমাকে পছন্দ করে বিয়ে বসলে তাই ভাবলাম। আমি সাদাটাই নেব।  নাও। তবে সাদা রং আমারও পছন্দ।  গুলিয়া রুশ জিনিস পছন্দ করে। মনে হয় একবার আমদানি করা কালো বর পছন্দ করে সারা জীবনের জন্য টের পেয়ে গেছে এরা কি চিজ।  তবে কালোটাও ভালো। ময়লা কম হয় বা হলেও সহজে ধরা পড়ে না। চোর কি এমনি এমনি রাতে চুরি করে! দুবনা, ০৯ মে ২০২৬

ভাবনা

Image
জনগণ সবসময়ই রিসিভিং এন্ডে থাকে। ডান বাম নেই - সবাই নিজেদের ব্যর্থতা জনগণের কাঁধে চাপিয়ে দিব্যি হাঁসের মত সাঁতার কেটে বেড়ায় নিজেদের তৈরি রাজনৈতিক ডোবায়। পশ্চিম বঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি হল। ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। যারা এতে মর্মাহত তারা যতটা না তৃণমূলের পতনে তারচেয়ে বেশি বিজেপির উত্থানে। কিন্তু অন্যান্য যেসব অল্টারনেটিভ হতে পারত তা কিন্তু তৃণমূল নিজেই সমূলে উৎপাটন করেছে বা করার চেষ্টা করেছে। তৃণমূলের অপশাসনে কারণেই জনগণ তাদের ত্যাগ করেছে। যখন দুঃশাসন মানুষের গলায় ফাঁসের মত চেপে বসে সে তখন কে তাকে মুক্তি দিল সেটা নিয়ে ভাবে না, সে যে কারো বাড়িয়ে দেয়া হাত ধরে। পশ্চিম বঙ্গে সেই অর্থে কোন বিকল্প না থাকায় জনগণ বিজেপির শরণাপন্ন হয়েছে। তাই জনগণকে দোষারোপ করে লাভ নেই, কেন আমাদের দেশগুলো এমনকি সারা বিশ্বে ডানপন্থী শক্তির উত্থান হচ্ছে সেটা নিয়ে ভাবা দরকার। তবে এটা ঠিক তথাকথিত গণতান্ত্রিক শক্তি গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা করে না বলেই উগ্রপন্থীদের এই জয়জয়কার। যতদিন না আমরা নিজেদের সংশোধন করতে পারব ততদিন এমন চলতেই থাকবে। জনগণ তন্ত্র বোঝে না। সে চায় সুশাসন, কাজ ও জীবনের নিরাপ...

ধারাবাহিকতা?

Image
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে ইদানিং বাজার সরগরম। বিএনপির এক নেতা শুনলাম বলেছেন শেখ হাসিনা ১৭ বছরে যা পারেননি তারেক রহমান মাত্র দুই মাসে সেটা করেছেন। আরেকজন বলেছেন বেগম জিয়ার স্বপ্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তারেক রহমানের হাতে বাস্তব রূপ পেয়েছে। শেখ হাসিনাকে যেমন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চাটুকারিতার বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সেই খেলায় মেতে উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীরাও। ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিএনপির ধারাবাহিকতা ঈর্ষণীয়। ক্ষমতায় বসার দুই মাসের মাথায় রূপপুর এক ইউনিটের কাজ শুরু হওয়ায় আগের এক যুগের বেশি সময়ের কাজকে অস্বীকার করা আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই যুগের বিরামহীন রাজনৈতিক লড়াইকে একটি মাত্র স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে প্রতিস্থাপন করা - এই দুই ঘটনার মধ্যে খুব বেশী পার্থক্য নেই। পঁচাত্তরের পর যেমন শেখ মুজিবকে দেশ থেকে রাজনৈতিক ভাবে নির্বাসন দেয়া হয়েছিল ঠিক একই ভাবে আজ বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে শেখ হাসিনাকে নির্বাসন দেবার চেষ্টা চলছে। হীনম্মন্যতা আর যা-ই করুক কাউকে মহান করে না। অন্যের অবদান অস্বীকার করে মানুষের চোখে ধুলো দেয়া যায়, ...

মস্কোয় বাংলা নববর্ষ

Image
দীর্ঘ ছয় বছর বিরতির পর গতকাল (২৬ এপ্রিল ২০২৬) আমরা বাংলা নববর্ষ উদযাপন করলাম মস্কোর মাটিতে। যদিও বাংলাদেশ দূতাবাস বা প্যাট্রিস লুমুম্বার ছাত্র সংগঠন নববর্ষ পালন করেছে তারপরও আমাদের অনুষ্ঠান মস্কোর বাঙালি কমিউনিটির জন্য ভিন্ন গুরুত্ব বহন করে। ২০১০ সালে বাংলাদেশ প্রবাসী পরিষদ রাশিয়া গঠনের পর থেকে এই সংগঠনের ব্যানারে নববর্ষ পালন করত মস্কোর বাঙালি সমাজ। তবে করোনা মহামারী ও সংগঠকদের বেশিরভাগ রাশিয়া থেকে চলে যাওয়ার কারণে এর কাজকর্ম প্রায় বন্ধ হবার পথে। তাই বছরের শুরুতে নবাগত ছাত্রদের সাংগঠনিক তৎপরতা দেখে নববর্ষ পালনের পরিকল্পনা করতে শুরু করি। কোন অনুষ্ঠান মানেই একদল ছেলেমেয়ে যারা আত্মনিবেদিত হয়ে বিভিন্ন কাজকর্ম করবে। এটা যেমন পর্যাপ্ত সময় দেয়া তেমনি কায়িকশ্রম। এরপরে দরকার কোন কালচারাল সেন্টারের যেখানে পর্যাপ্ত সীট থাকবে ও যাতায়াত সুবিধা থাকবে। আর দরকার ডোনেশন। কারণ আজকালকার কোন অনুষ্ঠান মানেই হল বা কমিউনিটি সেন্টারের ভাড়া বাদেই কম করে হলেও দেড় দুই লাখ রুবলের মামলা।  বাঙালির নববর্ষের অনুষ্ঠান মানেই সারা দিনের ব্যাপার। অন্ততঃ এর আগে আমরা সেমাই করতাম। সকাল থেকে সাজানো। স্টল দেয...

দোষ

Image
আমরা নিজেদের অনেক দোষ ঠিক দোষ মনে করি না, অভ্যাস বলে চালিয়ে দেই, এমনকি নিজেরা যদি একই কারণে অন্যদের সমালোচনা করিও। আমিও ব্যতিক্রম নই। মানুষ মাত্রই ভুল করে। আর যখন ভুল করি তখন নিজেকে মানুষ বলে দাবি করার একটা অজুহাত পাই।  গতকাল সাফল্য নামে রান্না নিয়ে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। তাতে বেশ কিছু রুশ শব্দ ছিল। যুৎসই বাংলা শব্দ না পেয়ে ওভাবেই রেখে দিই। তবে ওটা যে খাবারের স্বাদ নষ্ট করতে পারে সেটা মনে হয়নি। সব্যসাচী দা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। আসলে যেটা আমাদের কাছে বোধগম্য সেটা অন্যেরা বুঝতে পারবে তা আমরা ধরেই নেই। তাই এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন খুব একটা মনে করি না। কিন্তু আজকে সব্যসাচী দার মন্তব্য দেখে মনে হল ধারণাটা কত ভুল। কারণ দু একটা অচেনা শব্দ দুধে একফোঁটা লেবুর রসের মত সমস্ত ব্যাপারটাকে মাটি করে দিতে পারে। এমনকি ঐ সব শব্দের অর্থ না জেনে যদি পড়াও যায় মনে খুঁত খুঁত ভাব থেকেই যাবে। আমি নিজেও অনেকের অনেক লেখায় অজানা আরবি শব্দ দেখে বিরক্ত বোধ করি সঠিক ভাবে বাক্যের অর্থ বুঝতে পারি না বলে। অথচ নিজে অবলীলায় রুশ শব্দ ব্যবহার করি লেখায়। হ্যাঁ, আত্মসমালোচনা করা সহজ কাজ নয়। ...