Posts

জনগণ

Image
ইউরোপের প্রায় প্রতিটি দেশে অর্থনৈতিক মন্দা। তার অন্যতম প্রধান কারণ হল বিগত প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে ইউরোপের অর্থনীতির লোকোমোটিভ ছিল জার্মানি যার উন্নয়নের মূলে ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ার সস্তা তেল, গ্যাস। ইউরো প্রবর্তনের পর তা যখন ডলারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় আমেরিকা চেষ্টা করেছে জার্মানিকে রাশিয়ার পাইপ লাইন থেকে সরিয়ে নিতে। সেটাই ইউক্রেন যুদ্ধের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ। এরপর থেকে শুরু হয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা। এমনকি ফিনল্যান্ড ন্যাটোয় যোগ দিয়ে রাশিয়া সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। এখন বাল্টিকের দেশগুলো, ফিনল্যান্ড, জার্মানি সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাড়ছে বেকারত্ব, বাড়ছে রুশ বিরোধী মনোভাব। পাকিস্তান, বাংলাদেশ যেমন ভারত বিরোধী রাজনীতি দিয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে, ইউরোপ আজ সে পথেই হাঁটছে। আগে আমরা আমাদের দেশের সরকারের জনবিরোধী নীতির জন্য ইউরোপের কাছে অভিযোগ করতাম, আজ ইউরোপ যখন আমাদের অনুসরণ করছে তখন কপালের দোষ দেয়া ছাড়া আর কিইবা করতে পারে জনগণ। এই যে হামে শত শত শিশু মারা যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে তারপরেও সরকারের নীর...

ন্যায়ের জন্য লড়াই

Image
ছাত্রলীগ সন্দেহে ১৫ বছরের এক ছেলেকে শহীদ মিনারে ফাঁসিতে ঝোলানোর ছবি ও খবর দেখলাম। জানি না ছেলেটি ছাত্রলীগ করত কি না আর করলেই বা কি? কারোও আদর্শগত অবস্থান তাকে হত্যার কারণ হতে পারে না। মনে পড়ল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের কথা। সেখানে সব শহীদ ছাত্র ছিল না। কিন্তু সেই প্রশ্ন কেউ তোলেনি। সারা দেশ সেই হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে।  অথবা চব্বিশের জুলাই আগস্টে কেউ বিক্ষোভ মিছিলে মৃতদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করেনি। সেই মৃত্যুর প্রতিবাদ করেছে। যার ফল সরকারের পতন।  আশ্চর্যের বিষয় হল শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে যখন মৃত্যুর মিছিল শুরু হল, বিভিন্ন অজুহাতে যখন ভিন্ন মতাবলম্বী মানুষকে হত্যা করা শুরু হল মৃত্যুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এই জনগণই সব হজম করতে শুরু করল।  অনেক দিন পরে এই সেদিন বিউটি পালের ঘটনায় বাংলাদেশের মানুষ এক হয়েছিল। এটা প্রমাণ করে যে এক হলে যেকোনো বাঁধা আমরা অতিক্রম করতে পারি। ইতিহাস বারবার সেই স্বাক্ষ্য দিয়েছে। তবে সেটা হতে হবে প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত। বেছে বেছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায় না, সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় প্রতিবাদ কর...

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

Image
খেলাধুলা বিশেষ করে ম্যারাথন রেসে প্রায়ই দেখা যায় প্রতিযোগী ফিনিশ লাইন ক্রস করে মুখ থুবড়ে পড়ে যায়। লক্ষ্য অর্জন হয় কিন্তু তার মূল্য চুকাতে হয় প্রাণ বা স্বাস্থ্যের বিনিময়ে।  ভাষা আন্দোলন বা একাত্তর পূর্ববর্তী সমস্ত আন্দোলন বাদ দিলে আমাদের সমস্ত আন্দোলন ও গণ অভ্যুত্থানের পরিণতি অনেকটাই এরকম। স্বাধীনতা অর্জিত হলেও আমরা মানুষের আকাঙ্ক্ষার দেশ গড়তে পারিনি নেতৃত্বের কারণেই। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বিজয়ী হলেও গণতন্ত্র আসেনি রাজনৈতিক দলগুলোর নেত্রীদের কারণে। গণতন্ত্রের চেয়ে ক্ষমতাই বেশি লোভনীয় ও কাম্য হয়ে ওঠায় মানুষ আবারো গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত হয়। শাহবাগ আন্দোলনে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি হলেও ভোটের হিসাব নিকাশে স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে আঁতাত করে তৎকালীন সরকার। আপাত সফল শাহবাগ আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, এর এক্টিভিস্টদের জীবন হয় ঝুঁকিপূর্ণ। চব্বিশের আন্দোলনে এক স্বৈরাচারের পতন আরেক স্বৈরাচারের জন্ম দেয়। জনগণ শুধু স্বাধীনতার ইতিহাসকেই হারায় না, হারায় স্বাধীনতা।  বাংলাদেশ উত্তাল সাগরে কান্ডারি হীন বিশাল নৌকা যার জনগণ বৈঠা হাতে অনবরত লড়াই করে যাচ্ছে তাণ্ডবের বিরুদ্ধে কিন্...

বৈষম্য

Image
বাংলাদেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের কথা, বাকস্বাধীনতার কথা বলে কিন্তু যখনই কারোও বাকস্বাধীনতা তাদের স্বার্থে আঘাত করে তখন তারা স্বৈরাচারী হতেও এতটুকু পিছপা হয় না। এ যেন জঙ্গলের শাসন। আইনের অপব্যবহার করে হোক আর গায়ের জোরে হোক নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। তাদের গণতন্ত্র দলদাস, যা তাদের ও দলের জন্য লাভজনক সেটাই গণতন্ত্র। বাংলাদেশে মিথ্যা মামলায় অনেকেই আটক আছে, আরও বেশি মানুষ তাদের পদ পদবী হারিয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি আজ প্রশ্নবিদ্ধ। এমতাবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ও স্বনামধন্য লেখক কাবেরী গায়েন সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হাস্যকর অভিযোগ তুলে তাদের ভবিষ্যৎ যেভাবে অনিশ্চিত করে তোলা হচ্ছে, তা শুধু কয়েক জন সচেতন নাগরিকের নয়, দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিয়তার পথে ঠেলে দেবে। আমরা কবে প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের মত আচরণ করব? দুবনা, ০৪ আগস্ট ২০২৬

ঠিক বেঠিক

Image
পরস্পর নির্ভরশীল এই বিশ্বে কারো ভালো বা মন্দ না করে কিছুই করা যায় না। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশ্বায়নের পর প্রতিটি মানুষের প্রতিটি কাজ কারো না কারো জন্য লাভজনক বা ক্ষতিকর হয়। আর যদি এসব লোক সামাজিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে তো কথাই নেই। এটা মেনেই আমাদের চলতে হবে, এটা মেনেই নিজের কাজ করতে হবে, নিজের কথা বলতে হবে। বড়লোক মালিক আরও বড়লোক হবে এই যুক্তিতে শ্রমিক যদি মালিকের জন্য কাজ করতে না চায় মালিকের আগে সেই মারা যাবে।  তসলিমা নাসরিন কোলকাতায় এসেছেন। বিজেপি সরকার এখন ক্ষমতায় বিধায় অনেকেই বলছে তিনি মৌলবাদ এন্ডোর্স করছেন। হয়তো বিজেপি এ ঘটনাকে তার নিজের রাজনৈতিক কাজে লাগাবে। কিন্তু এত বছর নির্বাসনে থেকে দেশে না হলেও নিজস্ব ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে আসতে পারা - একজন মানুষের জীবনে এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে তিনি যদি নির্বাসিত হন। তাছাড়া নিজের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন কৃতজ্ঞতা স্বীকার বা আমন্ত্রণ গ্রহণ মানে আনুগত্য নয়। আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রথিতযশা লোকজন কোন সরকারের আমলেই তাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে গিয়ে দ্বিমত প্রকাশ করার সাহস বা সুযোগ কোনটা...

শিক্ষা

Image
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হল অন্যের সুখে, অন্যের আনন্দে জ্বলে পুড়ে ছারখার হওয়া মানে পরশ্রীকাতরতা, অনেক ক্ষেত্রে তা পরস্ত্রীকাতরতার রূপ নেয়। এটা আজ সংক্রামক ব্যাধি। নিজের বা নিজেদের বাইরে কেউ সফল হোক, সুখে থাকুক এটা আমরা সহ্য করতে পারি না। এই যে আমরা অন্যের ভালো দেখতে পারি না তাতে কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা হবে? ক্ষমতা থাকলে আমরা যে কোন দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নতি রহিত করতাম। আর তা যদি হত তাহলে কোথায় থাকত আজকের সমস্ত সুযোগ সুবিধা? এই সুযোগ কিন্তু সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে তারাই যারা অনবরত উন্নয়নের বিরুদ্ধে কথা বলে। এই যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন এর পেছনে কি রয়েছে? না, শুধু পুঁজিপতিদের অর্থ নয়, এর পেছনে প্রধানত আছে বিজ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা, রয়েছে মুক্তচিন্তা, রয়েছে প্রচলিত বিশ্বাসে অবিশ্বাস। তা যদি না থাকত এখনও আমরা মধ্য যুগেই বা প্রস্তর যুগেই পড়ে থাকতাম। আধুনিক শিক্ষার মূল কথা চিন্তার স্বাধীনতা। এখানেই আমাদের আপত্তি। শুনেছি বেশি করে বিল ওঠানোর জন্য অনেক সময় রোগিদের অকারণে, এমনকি মৃত্যুর পথেও আইসিইউতে রাখা হয়। মনে হয় দেশেও মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে অশিক্ষা ...

সমান্তরাল

Image
ইউরোপ, আমেরিকার অনেক রাজনীতিবিদ রাশিয়া ভেঙে কয়েক টুকরো করার স্বপ্ন দেখে। এদের কাণ্ডকারখানা দেখে আমার চব্বিশের জুলাইয়ে বামপন্থীদের কথা মনে হয়। ঐ সময় বামপন্থী ছাড়া সবাই জানত হাসিনাকে অসাংবিধানিক ভাবে ক্ষমতাচ্যুত করলে ক্ষমতা দখল করবে জামায়াত। যদি ১৯৯১ সালে রাশিয়া ভাঙত তখন এর বিভিন্ন অঞ্চলে পশ্চিমা অনুগত শাসন কায়েমের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু নব্বইয়ের দশকে এই রাজনীতি নিজেদের এমনভাবে কম্প্রোমাইজ করেছে যে এখন তাদের অনুসারীদের এদেশে হ্যারিকেন দিয়ে খুঁজতে হয়। তাছাড়া সে সময় চীন ছিল দুর্বল। আজকের চীন, চীনের প্রতি এদেশের মানুষের মনোভাব থেকে বলা যায় যে এমনকি হাইপোথেটিক্যালি রাশিয়া যদি ভাঙেও তার বিশাল অংশ বিশেষ করে প্রাকৃতিক সম্পদে ধনবান সাইবেরিয়া যাবে চীনের দখলে। এতে করে পশ্চিমা বিশ্ব আরও শক্তিশালী শত্রু পাবে ঠিক যেমন বামপন্থীরা পেয়েছে জামাতকে। দুবনা, ৩০ জুলাই ২০২৬