Posts

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

Image
খেলাধুলা বিশেষ করে ম্যারাথন রেসে প্রায়ই দেখা যায় প্রতিযোগী ফিনিশ লাইন ক্রস করে মুখ থুবড়ে পড়ে যায়। লক্ষ্য অর্জন হয় কিন্তু তার মূল্য চুকাতে হয় প্রাণ বা স্বাস্থ্যের বিনিময়ে।  ভাষা আন্দোলন বা একাত্তর পূর্ববর্তী সমস্ত আন্দোলন বাদ দিলে আমাদের সমস্ত আন্দোলন ও গণ অভ্যুত্থানের পরিণতি অনেকটাই এরকম। স্বাধীনতা অর্জিত হলেও আমরা মানুষের আকাঙ্ক্ষার দেশ গড়তে পারিনি নেতৃত্বের কারণেই। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বিজয়ী হলেও গণতন্ত্র আসেনি রাজনৈতিক দলগুলোর নেত্রীদের কারণে। গণতন্ত্রের চেয়ে ক্ষমতাই বেশি লোভনীয় ও কাম্য হয়ে ওঠায় মানুষ আবারো গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত হয়। শাহবাগ আন্দোলনে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি হলেও ভোটের হিসাব নিকাশে স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে আঁতাত করে তৎকালীন সরকার। আপাত সফল শাহবাগ আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, এর এক্টিভিস্টদের জীবন হয় ঝুঁকিপূর্ণ। চব্বিশের আন্দোলনে এক স্বৈরাচারের পতন আরেক স্বৈরাচারের জন্ম দেয়। জনগণ শুধু স্বাধীনতার ইতিহাসকেই হারায় না, হারায় স্বাধীনতা।  বাংলাদেশ উত্তাল সাগরে কান্ডারি হীন বিশাল নৌকা যার জনগণ বৈঠা হাতে অনবরত লড়াই করে যাচ্ছে তাণ্ডবের বিরুদ্ধে কিন্...

বৈষম্য

Image
বাংলাদেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের কথা, বাকস্বাধীনতার কথা বলে কিন্তু যখনই কারোও বাকস্বাধীনতা তাদের স্বার্থে আঘাত করে তখন তারা স্বৈরাচারী হতেও এতটুকু পিছপা হয় না। এ যেন জঙ্গলের শাসন। আইনের অপব্যবহার করে হোক আর গায়ের জোরে হোক নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। তাদের গণতন্ত্র দলদাস, যা তাদের ও দলের জন্য লাভজনক সেটাই গণতন্ত্র। বাংলাদেশে মিথ্যা মামলায় অনেকেই আটক আছে, আরও বেশি মানুষ তাদের পদ পদবী হারিয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি আজ প্রশ্নবিদ্ধ। এমতাবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ও স্বনামধন্য লেখক কাবেরী গায়েন সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হাস্যকর অভিযোগ তুলে তাদের ভবিষ্যৎ যেভাবে অনিশ্চিত করে তোলা হচ্ছে, তা শুধু কয়েক জন সচেতন নাগরিকের নয়, দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিয়তার পথে ঠেলে দেবে। আমরা কবে প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের মত আচরণ করব? দুবনা, ০৪ আগস্ট ২০২৬

ঠিক বেঠিক

Image
পরস্পর নির্ভরশীল এই বিশ্বে কারো ভালো বা মন্দ না করে কিছুই করা যায় না। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশ্বায়নের পর প্রতিটি মানুষের প্রতিটি কাজ কারো না কারো জন্য লাভজনক বা ক্ষতিকর হয়। আর যদি এসব লোক সামাজিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে তো কথাই নেই। এটা মেনেই আমাদের চলতে হবে, এটা মেনেই নিজের কাজ করতে হবে, নিজের কথা বলতে হবে। বড়লোক মালিক আরও বড়লোক হবে এই যুক্তিতে শ্রমিক যদি মালিকের জন্য কাজ করতে না চায় মালিকের আগে সেই মারা যাবে।  তসলিমা নাসরিন কোলকাতায় এসেছেন। বিজেপি সরকার এখন ক্ষমতায় বিধায় অনেকেই বলছে তিনি মৌলবাদ এন্ডোর্স করছেন। হয়তো বিজেপি এ ঘটনাকে তার নিজের রাজনৈতিক কাজে লাগাবে। কিন্তু এত বছর নির্বাসনে থেকে দেশে না হলেও নিজস্ব ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে আসতে পারা - একজন মানুষের জীবনে এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে তিনি যদি নির্বাসিত হন। তাছাড়া নিজের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন কৃতজ্ঞতা স্বীকার বা আমন্ত্রণ গ্রহণ মানে আনুগত্য নয়। আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রথিতযশা লোকজন কোন সরকারের আমলেই তাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে গিয়ে দ্বিমত প্রকাশ করার সাহস বা সুযোগ কোনটা...

শিক্ষা

Image
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হল অন্যের সুখে, অন্যের আনন্দে জ্বলে পুড়ে ছারখার হওয়া মানে পরশ্রীকাতরতা, অনেক ক্ষেত্রে তা পরস্ত্রীকাতরতার রূপ নেয়। এটা আজ সংক্রামক ব্যাধি। নিজের বা নিজেদের বাইরে কেউ সফল হোক, সুখে থাকুক এটা আমরা সহ্য করতে পারি না। এই যে আমরা অন্যের ভালো দেখতে পারি না তাতে কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা হবে? ক্ষমতা থাকলে আমরা যে কোন দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নতি রহিত করতাম। আর তা যদি হত তাহলে কোথায় থাকত আজকের সমস্ত সুযোগ সুবিধা? এই সুযোগ কিন্তু সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে তারাই যারা অনবরত উন্নয়নের বিরুদ্ধে কথা বলে। এই যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন এর পেছনে কি রয়েছে? না, শুধু পুঁজিপতিদের অর্থ নয়, এর পেছনে প্রধানত আছে বিজ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা, রয়েছে মুক্তচিন্তা, রয়েছে প্রচলিত বিশ্বাসে অবিশ্বাস। তা যদি না থাকত এখনও আমরা মধ্য যুগেই বা প্রস্তর যুগেই পড়ে থাকতাম। আধুনিক শিক্ষার মূল কথা চিন্তার স্বাধীনতা। এখানেই আমাদের আপত্তি। শুনেছি বেশি করে বিল ওঠানোর জন্য অনেক সময় রোগিদের অকারণে, এমনকি মৃত্যুর পথেও আইসিইউতে রাখা হয়। মনে হয় দেশেও মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে অশিক্ষা ...

সমান্তরাল

Image
ইউরোপ, আমেরিকার অনেক রাজনীতিবিদ রাশিয়া ভেঙে কয়েক টুকরো করার স্বপ্ন দেখে। এদের কাণ্ডকারখানা দেখে আমার চব্বিশের জুলাইয়ে বামপন্থীদের কথা মনে হয়। ঐ সময় বামপন্থী ছাড়া সবাই জানত হাসিনাকে অসাংবিধানিক ভাবে ক্ষমতাচ্যুত করলে ক্ষমতা দখল করবে জামায়াত। যদি ১৯৯১ সালে রাশিয়া ভাঙত তখন এর বিভিন্ন অঞ্চলে পশ্চিমা অনুগত শাসন কায়েমের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু নব্বইয়ের দশকে এই রাজনীতি নিজেদের এমনভাবে কম্প্রোমাইজ করেছে যে এখন তাদের অনুসারীদের এদেশে হ্যারিকেন দিয়ে খুঁজতে হয়। তাছাড়া সে সময় চীন ছিল দুর্বল। আজকের চীন, চীনের প্রতি এদেশের মানুষের মনোভাব থেকে বলা যায় যে এমনকি হাইপোথেটিক্যালি রাশিয়া যদি ভাঙেও তার বিশাল অংশ বিশেষ করে প্রাকৃতিক সম্পদে ধনবান সাইবেরিয়া যাবে চীনের দখলে। এতে করে পশ্চিমা বিশ্ব আরও শক্তিশালী শত্রু পাবে ঠিক যেমন বামপন্থীরা পেয়েছে জামাতকে। দুবনা, ৩০ জুলাই ২০২৬

কেন লিখি

Image
পেশাগত জীবনে পদার্থবিদ বলে কেন প্রশ্নটি আমার নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে। তবে লেখা যেহেতু পেশা নয় তাই কখনই সেভাবে ভাবা হয়নি কেন লিখি। এখন লিখতে বসে বিভিন্ন ঘটনা মনে আসছে। তাই ঠিক অজুহাত নয়, বরং নিজের জানার জন্যই লিখব কেন লিখি। কেন প্রশ্নটি আমার মনে গেঁথে গেছে স্কুল জীবনে। খুব সম্ভবত ধর্ম বইয়ে পড়েছিলাম এরকম কিছু কথা “আমি কে? কেন জন্ম? কিসে বা কল্যাণ? এইরূপ প্রশ্ন করি লভ তত্ত্ব জ্ঞান-” এরপর থেকেই জানার বা প্রশ্ন করার আগ্রহ বেড়েছে, তবে নিজেকে এখনও শেষ পর্যন্ত জানা হয়নি। কোন কিছু পেশা হলে সহজেই উত্তর দেয়া যায় যে এটা আমার জীবিকা। কিন্তু কোন কাজ যদি পেশা না হয়ে শখ বা হবি হয় তখন? ব্যক্তিগত জীবনে আমি শুধু সেটাই করি যা করতে আমার ভাল লাগে। আর যদি কখনও এমন কিছু করতে হয় যা আমার ঠিক পছন্দের নয় তাহলে তা উপভোগ করার চেষ্টা করি, চেষ্টা করি সেখান থেকেও কিছু শিখতে, কিছু জানতে। আর এটা শুধু লেখা নয়, জীবনের সব ক্ষেত্রেই। ২০০৯ সালে প্রথম এই ধরণের প্রশ্নের সম্মুখীন হই। তখন আমার ছবি প্রদর্শনী চলছিল দুবনায়। “আমাদের শিশুরা” নামে এই প্রদর্শনীতে আমার ছেলেমেয়েদের, ওদের বন্ধুদের আর আমাদের বন্ধুদের ছেলেমেয়েদের ছবি ছ...

এপ্রিল থিসিস

Image
অনেক আগে, যখন ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম এবং সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে সমাজ বদলের একমাত্র উপায় হিসেবে মনে করতাম তখন এপ্রিল থিসিস নিয়ে নিজেদের মধ্যে অনেক কথাবার্তা হত। সেখানে মূল বাণী ছিল সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া। "আজ খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কাল অনেক দেরী হয়ে যাবে" লেনিনের সেই অমর বাণী ছিল এপ্রিল থিসিসের মূল উপাত্ত।  চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যখন ডঃ ইউনুসের মবের রাজত্বে একাত্তরের অর্জনগুলো একে একে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল তখন আমার মত অনেকেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বাম জোটের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিল। কিন্তু দেশের সেই দুর্যোগেও আওয়ামী স্বৈরাচারের সাথে হাত মিলিয়ে লড়াই করার কথা বামপন্থীরা আমলে নেয়নি বরং যারা এটা বলেছে তাদের স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে ট্যাগ করেছে। এখন ফেসবুকে বামপন্থী নেতাদের স্বাধীনতার পক্ষের সমস্ত শক্তির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান দেখে এপ্রিল থিসিসের কথা মনে পড়ে গেল। রুশরা বলে দুর্যোগ একা আসে না। মনে হয় ভুলও একা আসে না। ভুল আসে দল বেঁধে। তাই মানুষ একের পর এক ভুল করে যায়।  প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ...