Posts

ভোট

Image
রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন হচ্ছে। শুক্রবার বার কামচাতকা সময় সকাল ০৮.০০ টায় শুরু, আজ কালিনিনগ্রাদ সময় সন্ধ্যা ২০.০০ শেষ। পার্লামেন্টের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় নির্বাচন হচ্ছে। রাশিয়ায় বছরে দুইবার এরকম নির্বাচন হয় - মার্চের তৃতীয় শুক্রবার থেকে রবিবার আর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় শুক্রবার থেকে রবিবার। ভোট দেয়া যায় কেন্দ্রে গিয়ে অথবা অনলাইনে। ভোট দিয়েছি গতকাল, অনলাইনে। দুটো, একটি দলকে আরেকটি প্রার্থীকে। প্রার্থীদের আগে বিজয়ের জন্য ৫০%+১ ভোট লাগত, এখন যে বেশি ভোট পায় তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। আসলে ৫০%+১ ভোট অনেক প্রতিনিধিত্ব মূলক। তবে এক্ষেত্রে প্রায়ই দ্বিতীয় ট্যুরের আয়োজন করতে হয়। সেটা ব্যয়বহুল। তারচেয়েও বড় কথা দ্বিতীয় ট্যুরে ভোটারদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক ভাবে কম। আজ মস্কো সময় রাত ২২.০০ থেকে ফলাফল প্রকাশ শুরু হবে। মস্কোর পথে, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সমস্যা

Image
প্রতিটি সিস্টেম অনেকগুলো পার্টস নিয়ে গঠিত। সিস্টেম যত জটিল তার পার্টসের সংখ্যা তত বেশি। মানুষের বা প্রাণীর যেযন হাত, পা, হার্ট, কিডনি, লিভার - দেশের তেমনি জনগণ, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, বিচার বিভাগ ইত্যাদি। শরীরের কোন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হলে মানুষ যেমন পঙ্গু হয়ে পড়ে দেশও তাই। বাংলাদেশের সমস্যা তার রাজনৈতিক দলে আর রাজনীতির সাথে ধর্মের অবৈধ সহবাসে। এক এক জন মানুষ মারা যায়, দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা গায়েব হয়ে যায় - আমরা দুই তিন চার দিন এর বিরুদ্ধে ফেসবুকে লিখে, দুই চারটি বিবৃতি দিয়ে দায় শেষ করি। কিন্তু এসবের উৎস সেই রাজনৈতিক দল, ধর্ম ব্যবসায়ী, মাদ্রাসা শিক্ষা এসবের ব্যাপারে স্পিকটি নট। এভাবে আর যাই হোক, সমস্যার সমাধান হয় না, হবে না। দুবনা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধ না শান্তি?

Image
সত্যিকারের জনবান্ধব ও সরকার চায় জনগণকে চিন্তা মুক্ত রাখতে, তাদের কর্ম সংস্থান ও মানসিক শান্তি নিশ্চিত করতে। শুনলাম বৃটিশ সরকার নাকি দেশের মানুষকে টিনজাত খাবার কিনে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। যুদ্ধের জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত হতে বলেছে। ফিনল্যান্ড সহ ইউরোপের অন্যান্য দেশে পারমানবিক আঘাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা বাঙ্কার তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু এরা কি জানে এমন যুদ্ধ হলে বাঙ্কার সাময়িক ভাবে রক্ষা করলেও পরবর্তী জীবন হবে মৃত্যুর চেয়েও দুঃসহ? হিরোশিমা, নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা, ভিয়েতনামে নাপাম বোমা বৃষ্টি ও সম্প্রতি যুগোস্লাভিয়ায় বোমায় অল্প পরিশোধিত ইউরেনিয়াম ব্যবহার কি তাদের কিছুই শেখায় না? যেখানে যুদ্ধ এড়ানোর জন্য কথা বলা দরকার, শান্তি চুক্তি করা দরকার, সেখানে ইউরোপ শুধু উত্তেজনা বৃদ্ধি করেই চলছে। স্যুটেড বুটেড ও ভার্সিটির ডিগ্রি থাকলেই আর উন্নত দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলেই যে মানুষ আধুনিক ও বাস্তববাদী হয় না, বর্তমান পশ্চিমা এস্টাবলিশমেন্ট তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দুবনা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রশ্ন

Image
সাংবাদিক পূলক চ্যাটার্জিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এটা কি আত্মহত্যা নাকি হত্যা? এই প্রশ্ন অনেকের মনে। সরাসরি হত্যা করলেই শুধু কাউকে খুনের অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়, কিন্তু কাউকে যদি নিজের প্রাণনাশ করতে বাধ্য করা হয় সেটা কি হত্যা নয়? সাম্প্রতিক কালে অনেকেই এভাবে আত্মহত্যা করছে যাদের জীবনের সাথে হিসাবনিকাশ চুকানোর কোন কথা ছিল না। তাই প্রশ্ন জাগে পুলিশের এই প্রাথমিক ভাষ্য কতটুকু সত্য? এটা সত্যিকার খুনীদের আড়াল করার প্রচেষ্টা নয়তো? আর কাকতালীয় ভাবে, যারা এভাবে বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছে, তাদের একটা বড় অংশ একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ যাদের অস্তিত্ব অনেক দিন ধরেই হুমকির সম্মুখীন। হ্যাঁ, এরা বাঙালি হিন্দু যারা বাংলা সংস্কৃতির আরবায়নের পথে বিরাট বাধা। সমস্যা হল এজন্য তাদের কিছুই করতে হয় না। শুধু নিজের ইতিহাস, ঐতিহ্য অনুসরণ করে বেঁচে থাকলেই বাধাটা আপনাআপনি তৈরি হয়ে যায়। এরা আজ ক্রম ক্ষয়িষ্ণু। অন্ততঃ পরিসংখ্যান ও নিরপেক্ষ গবেষণা সেটাই বলে।  এই বিষয়ে আমার মনে বেশ কিছু প্রশ্নের অবতারণা হয়েছে। তার একটা নিয়ে এখন লিখছি। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতির কলকাঠি নড়ে মূলতঃ ওয়াশিংটন আর...

১১ সেপ্টেম্বর

Image
১১ সেপ্টেম্বর ২০০১। তখন সামাজিক মাধ্যম ছিল না বললেই চলে। ইন্টারনেট ব্যবহার করতাম মূলত গবেষণার কাজে আর চিঠিপত্র লিখতে। এর বাইরে মাঝে মধ্যে অনলাইনে ক্রিকেটের খবর পড়তাম ক্রিকইনফো থেকে, বিবিসি, সিএনএন, হিন্দু এসব সাইটে দেশ বিদেশের খবর পড়তাম।  আমি অফিস থেকে বেরুতাম ছয়টার পরে। মনিকাকে স্কুল থেকে নিয়ে বাসায় ফিরতাম একসাথে। সেদিন এরকম বসে বসে কাজ করার ফাঁকে হঠাৎ হিন্দুতে দেখলাম ইউ ইয়র্ক আক্রমণের খবর। ব্যবস্ততার কারণে তেমন মনোযোগ দেইনি। বলতে গেলে আসলে বুঝতেই পারিনি কি হচ্ছে। শুধু সেই বিখ্যাত ছবি আর দুই চার লাইন কমেন্টারি। আসলে এরকম আক্রমণ যে হতে পারে সেটা ছিল কল্পনার বাইরে। তাই গুরুত্ব দেইনি।  সে সময় ভ্লাদিমির মিখাইলোভিচ দুবোভিক থাকতেন মনিকার স্কুলের পাশেই। কি মনে করে ওনার বাসা হয়ে যাওয়া ঠিক করলাম। ঢুকতেই উনি বলে উঠলেন তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল মনে হয়। টিভি পর্দায় দেখা যাচ্ছিল নিউ ইয়র্কে জ্বলন্ত টুইন টাওয়ার। হঠাৎ যেন আমার স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি লোপ পেল। একটাই চিন্তা এখন কিভাবে মনিকাকে নিয়ে বাসায় ফিরব। বাসা মোটামুটি এক কিলমিটার দূরে। ওখানে গুলিয়া, আন্তন আর ক্রিস্তিনা।   ...

স্মৃতি

Image
ঘুম ভাঙতেই নজরুল ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ শুনলাম। প্রফেসর নজরুল ইসলাম। বুয়েটের শিক্ষক। প্যাট্রিস লুমুম্বা গণ মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট‌। ফিজম্যাথ ফ্যাকাল্টি মানে আমার ফ্যাকাল্টির। আমি যখন মস্কো আসি উনি দীপাদি সহ মসফিল্মে থাকতেন। আমাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা হত। আমাদের শেষ দেখা আমার রুমে, ২ নং ব্লকের ৫১০ নম্বর রুমে। কি একটা উপলক্ষ্যে আমার রুমে একটা আড্ডার আয়োজন হয়েছিল। আমার ডিফেন্স কি? ঠিক মনে নেই। নজরুল ভাই এসেছিলেন দেশ থেকে। মাঝখানে বাইরে গেলেন অরুণ দা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অরুণ দেবের সাথে দেখা করতে। উনিও তখন মস্কো ছিলেন। পরিচয় ছিল না। কথা ছিল অরুণ দাকে নিয়ে আসবেন। পরে ২০১১ সালে অরুণ দার সাথে মস্কোয় দেখা হয়। কিন্তু নজরুল ভাইয়ের সাথে আর দেখা হয়নি। ২০১১, ২০১৪ ও ২০১৬ সালে সাবের পিকনিকে গেছি, দীপা দির সাথে দেখা হয়েছে। কিন্তু নজরুল ভাইয়ের সাথে দেখা হয়নি। কিছু লোকের সাথে হয়তো তেমন ইন্টাব়্যাকশন হয় না, তারপরেও তারা স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে জেগে থাকেন। আমার জন্য নজরুল ভাই তেমন একজন মানুষ। কেন? নিজেও জানি না।‌ আজ তিনি শুধু স্মৃতি হয়ে গেলেন। দুবনা, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ...

সুখ

Image
আজকাল আমার আনন্দের সীমা নাই। থাকিবেই বা কেন? আনন্দ বিঘ্নিত হয় তখনই যখন মানুষকে চিন্তা ভাবনা করিতে হয়। আমার এখন কোন চিন্তা নাই, কোন ভাবনা নাই। নিজের আর চিন্তা ভাবনা করিবার প্রয়োজন নাই। মাঝে মাঝে মনে হয় অযথাই মাথাটাকে কাঁধের উপরে বসাইয়া রাখিয়াছি আর সে ঠ্যাং দুলাইয়া দুলাইয়া চুরুট ফুঁকিয়া বায়ুদূষণ করিতেছে। জীবন এত সহজ হইয়া গিয়াছে যে চিন্তা ভাবনা এখন শৌখিন বিষয়ে পর্যবসিত হইয়াছে। বিশ্বাস হইতেছে না? তাহা হইলে খুলিয়া বলা যাক। ধরেন, বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়াইয়া আছি, বাস নিজে আমার হাত ধরিয়া তুলিয়া লইয়া যায়, সীট ফাঁকা থাকিলে বসাইয়া পর্যন্ত দেয়। দোকানে গেলে আলুটা পটলটা, এমনকি মাছ মাংস পর্যন্ত লাফাইয়া লাফাইয়া আমার ব্যাগে ঢুকিয়া পড়ে। ব্যাংকের ম্যানেজাররা টাকার বস্তা লইয়া পিছনে পিছনে ঘুর ঘুর করে। আমিও ভাবি বাঁচিয়া থাকিব তো আর কয়েকটা দিন। তাহা হইলে কি হইবে কৃচ্ছতা সাধন করিয়া। আজকাল মাঝে মাঝে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াইতে যাইতে ইচ্ছা করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলিয়াছেন বোয়িং বিমান কিনিবার জন্য। ওনার গ্যারেজে নাকি এইসব বিমানের শেষ নাই। বলিয়াছেন টাকা পয়সার চিন্তা করিতে হইবে না। ওন...