Posts

সমান্তরাল

Image
ইউরোপ, আমেরিকার অনেক রাজনীতিবিদ রাশিয়া ভেঙে কয়েক টুকরো করার স্বপ্ন দেখে। এদের কাণ্ডকারখানা দেখে আমার চব্বিশের জুলাইয়ে বামপন্থীদের কথা মনে হয়। ঐ সময় বামপন্থী ছাড়া সবাই জানত হাসিনাকে অসাংবিধানিক ভাবে ক্ষমতাচ্যুত করলে ক্ষমতা দখল করবে জামায়াত। যদি ১৯৯১ সালে রাশিয়া ভাঙত তখন এর বিভিন্ন অঞ্চলে পশ্চিমা অনুগত শাসন কায়েমের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু নব্বইয়ের দশকে এই রাজনীতি নিজেদের এমনভাবে কম্প্রোমাইজ করেছে যে এখন তাদের অনুসারীদের এদেশে হ্যারিকেন দিয়ে খুঁজতে হয়। তাছাড়া সে সময় চীন ছিল দুর্বল। আজকের চীন, চীনের প্রতি এদেশের মানুষের মনোভাব থেকে বলা যায় যে এমনকি হাইপোথেটিক্যালি রাশিয়া যদি ভাঙেও তার বিশাল অংশ বিশেষ করে প্রাকৃতিক সম্পদে ধনবান সাইবেরিয়া যাবে চীনের দখলে। এতে করে পশ্চিমা বিশ্ব আরও শক্তিশালী শত্রু পাবে ঠিক যেমন বামপন্থীরা পেয়েছে জামাতকে। দুবনা, ৩০ জুলাই ২০২৬

কেন লিখি

Image
পেশাগত জীবনে পদার্থবিদ বলে কেন প্রশ্নটি আমার নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে। তবে লেখা যেহেতু পেশা নয় তাই কখনই সেভাবে ভাবা হয়নি কেন লিখি। এখন লিখতে বসে বিভিন্ন ঘটনা মনে আসছে। তাই ঠিক অজুহাত নয়, বরং নিজের জানার জন্যই লিখব কেন লিখি। কেন প্রশ্নটি আমার মনে গেঁথে গেছে স্কুল জীবনে। খুব সম্ভবত ধর্ম বইয়ে পড়েছিলাম এরকম কিছু কথা “আমি কে? কেন জন্ম? কিসে বা কল্যাণ? এইরূপ প্রশ্ন করি লভ তত্ত্ব জ্ঞান-” এরপর থেকেই জানার বা প্রশ্ন করার আগ্রহ বেড়েছে, তবে নিজেকে এখনও শেষ পর্যন্ত জানা হয়নি। কোন কিছু পেশা হলে সহজেই উত্তর দেয়া যায় যে এটা আমার জীবিকা। কিন্তু কোন কাজ যদি পেশা না হয়ে শখ বা হবি হয় তখন? ব্যক্তিগত জীবনে আমি শুধু সেটাই করি যা করতে আমার ভাল লাগে। আর যদি কখনও এমন কিছু করতে হয় যা আমার ঠিক পছন্দের নয় তাহলে তা উপভোগ করার চেষ্টা করি, চেষ্টা করি সেখান থেকেও কিছু শিখতে, কিছু জানতে। আর এটা শুধু লেখা নয়, জীবনের সব ক্ষেত্রেই। ২০০৯ সালে প্রথম এই ধরণের প্রশ্নের সম্মুখীন হই। তখন আমার ছবি প্রদর্শনী চলছিল দুবনায়। “আমাদের শিশুরা” নামে এই প্রদর্শনীতে আমার ছেলেমেয়েদের, ওদের বন্ধুদের আর আমাদের বন্ধুদের ছেলেমেয়েদের ছবি ছ...

এপ্রিল থিসিস

Image
অনেক আগে, যখন ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম এবং সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে সমাজ বদলের একমাত্র উপায় হিসেবে মনে করতাম তখন এপ্রিল থিসিস নিয়ে নিজেদের মধ্যে অনেক কথাবার্তা হত। সেখানে মূল বাণী ছিল সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া। "আজ খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কাল অনেক দেরী হয়ে যাবে" লেনিনের সেই অমর বাণী ছিল এপ্রিল থিসিসের মূল উপাত্ত।  চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যখন ডঃ ইউনুসের মবের রাজত্বে একাত্তরের অর্জনগুলো একে একে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল তখন আমার মত অনেকেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বাম জোটের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিল। কিন্তু দেশের সেই দুর্যোগেও আওয়ামী স্বৈরাচারের সাথে হাত মিলিয়ে লড়াই করার কথা বামপন্থীরা আমলে নেয়নি বরং যারা এটা বলেছে তাদের স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে ট্যাগ করেছে। এখন ফেসবুকে বামপন্থী নেতাদের স্বাধীনতার পক্ষের সমস্ত শক্তির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান দেখে এপ্রিল থিসিসের কথা মনে পড়ে গেল। রুশরা বলে দুর্যোগ একা আসে না। মনে হয় ভুলও একা আসে না। ভুল আসে দল বেঁধে। তাই মানুষ একের পর এক ভুল করে যায়।  প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ...

মূষিক

Image
ছোটবেলায় এরকম একটি গল্প পড়েছিলাম। এক মুনির আশ্রমে এক মূষিক মানে ইঁদুর বাস করত। একদিন সে মুনিকে বলল যে বিড়ালকে তার বড্ড ভয়। মুনি তাকে বিড়াল বানিয়ে দিলে জীবনটা নির্ভয় হয়। কি আর করা। মুনি তাকে বিড়াল বানিয়ে দিলেন। এরপর একদিন সে কুকুরের ভয়ে ঘুমুতে পারে না জানালে মুনি ওকে কুকুরের রূপ দিলেন। কিন্তু নেকড়ের উৎপাতে কুকুরের নাভিশ্বাস উঠলে মুনি তাকে নেকড়ে বানিয়ে দিলেন। এরপর বাঘের ভয় থেকে রেহাই পেতে নেকড়ে বাঘ হল। কিন্তু সিংহের হাত থেকে বাঘকে বাঁচাবে কে? তাই মুনি তাকে সিংহের রূপ দিলেন। সিংহ রূপী ইঁদুর ভাবল সে সবচেয়ে শক্তিশালী। মুনি ছাড়া আর কেউ জানে না তার অতীত কাহিনী। তাই সে মুনিকে হত্যা করতে উদ্যত হল। মুনিও মন্ত্রবলে সিংহকে আবার ইঁদুরে পরিণত করলেন। জেলেনস্কি হল সেই মূষিক যাকে পশ্চিমা বিশ্ব সিংহ বানিয়েছে। তবে মুনির মত অলৌকিক শক্তি বা ইচ্ছে তাদের নেই, ফলে জেলেনস্কি সিংহের মত তর্জন গর্জন করে পশ্চিমা বিশ্বের নেতাদের বাধ্য করছে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সাহায্য করতে। যুদ্ধ এখন তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার একমাত্র উপায়। নিরূপায় কিন্তু অন্তহীন চাহি...

ইগো

Image
ইউরোপ জ্বলছে। জ্বলছে দাবানলে আর নিজেদের অন্ধ রুশ বিরোধিতার আগুনে। গ্রীষ্মে দাবানল অনেকটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। তবে তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে এর প্রকোপ। যেহেতু রাশিয়াকে সবসময়ই বন্যা আর অগ্নিকাণ্ড মোকাবেলা করতে হয় তাই এখানে এসবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী ও করিৎকর্মা। আগে বিভিন্ন সময় রাশিয়ার অগ্নিনির্বাপক বাহিনী ইউরোপকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত। এমনকি ইউরোপের অনেক দেশের পার্কেই রাশিয়ান অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টার আছে। ফ্রান্স ইতিমধ্যে দুই লাখের বেশি লোক স্থানান্তরিত করেছে, স্পেনেও সংখ্যাটি কাছাকাছি। এক সপ্তাহের উপর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। পুড়ছে গ্রাম, পুড়ছে শহর। রুশ হেলিকপ্টারগুলো পড়ে আছে। কিন্তু নিজেদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে তা ব্যবহার করতে পারছে না।  দেশে কাউকে পথে বসাতে চাইলে বলে তোমার ঘরে মামলা পড়ুক। ইউরোপ মামলা নয়, আমলা দ্বারা আক্রান্ত। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আমলারা, যারা কোন দেশের মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়, নিজেদের ইউটোপিয়ান আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য একটা সভ্যতাকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। হায়রে আভিজাত্যের বরাই! দুবনা, ২৭ জুল...

দেয়াল

Image
যেকোনো ইমারতে বিভিন্ন দেয়াল থাকে। কতগুলো ভারবাহী দেয়াল যার উপর সমস্ত দালান দাঁড়িয়ে থাকে। এগুলোয় হাত দেয়া নিষেধ। ঘরের প্ল্যানিং এ কোন পরিবর্তন আনতে হলে এদের অস্তিত্ব অপরিবর্তিত রেখেই করতে হবে। দেশের ক্ষেত্রে এসব দেয়াল হল সংবিধানের মূলনীতি যা রাষ্ট্রের চরিত্র প্রকাশ করে, স্বাধীন বিচার বিভাগ যা সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থা যা জনগণের মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করে। রাজনৈতিক দলগুলো এক্ষেত্রে দরোজা, জানালা বা সেই সব দেয়াল যা প্রয়োজনে সরানো যায়। যে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এসব মেনে চলে, রাষ্ট্রের ভারবহনকারী দেয়ালগুলো অক্ষত রাখে সেখানে সাধারণত অসাংবিধানিক পথে সরকার পরিবর্তন হয় না। এমনকি সরকার অসময়ে আস্থা হারালে নির্বাচনের মাধ্যমেই নতুন সরকার আসে। জনগণ নিজেদের হাতে ক্ষমতা তুলে নেয় না। কিন্তু যখন রাজনৈতিক দলগুলো অসাংবিধানিক পথে সরকার পরিবর্তনের পথে যায় তখন তারা নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মারে। উপমহাদেশে এসব হরহামেশাই দেখা যায়। ব্যবহারের প্রকারভেদে দেয়াল শুধু শত্রুর হাত থেকে রক্ষাই করে না, দেয়াল মুক্তচিন্তার পথেও বাঁধা হয়ে দাঁড়া...

ডিলেমা

Image
বৃটেন ও জার্মানি ঘোষণা করল যে ২০৩৫ সালের মধ্যে তারা নিজস্ব ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে যা দিয়ে মস্কো তো বটেই এমনকি উড়াল এলাকার শহরগুলোতে লন্ডন ও বার্লিন থেকে সরাসরি আঘাত হানা যাবে। এই সংবাদের প্রেক্ষিতে রাশিয়ার উত্তর কী হতে পারে? তাদের নির্বিঘ্নে মিসাইল ডেভেলপ করতে দেয়া ও আঘাত না করা পর্যন্ত হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা? নাকি আমেরিকা ও ইসরাইলের মত প্রিভেন্টিভ আঘাত হানা বা সতর্ক করে দেয়া যে যেহেতু রাশিয়াকে আক্রমণ করার জন্যই মিসাইল তৈরি হচ্ছে তাই রাশিয়া প্রয়োজনে এসব দেশের উপর সমস্ত শক্তি ব্যবহার করে আঘাত হানতে দ্বিধা করবে না? এসব কথা বৃটেন ও জার্মানি বলছে রাশিয়াকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার পক্ষে জনমত তৈরি করার জন্য। রাশিয়ার হুঁশিয়ারি একদিকে যেমন সেই আগুনে ঘি ঢালতে পারে অন্যদিকে এসব দেশের জনগণের মধ্যে যুদ্ধ বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে। সেদিক থেকে এই ঘোষণা খুব বেশি ক্ষতিকর হবে বলে মনে হয় না। যতক্ষণ পর্যন্ত না মানুষের নিজের ঘরে যুদ্ধ ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে এসব খুব একটা গুরুত্ব দেয় না। দুবনা, ২১ জুলাই ২০২৬