Posts

রবীন্দ্রনাথ

Image
এক মেয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিকে কালিমালিপ্ত করায় সেটা নিয়ে অনেক লেখালেখি হচ্ছে। বিভিন্ন ভাবে মেয়েটির নিন্দা করা হচ্ছে। যে উদ্দেশ্যে বা যে প্রেক্ষাপটেই করুক না কেন কাজটি নিন্দনীয়। অনেকে আবার ঐতিহাসিক দলিল হাজির করে যুক্তি দিয়ে মেয়েটিকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে সে ঠিক নয়। কিন্তু সমস্যা হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি তার ক্ষোভের কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে চলমান মিথ্যা প্রচার নয়। এর কারণ ঐ মেয়ে মানসিক ভাবে অসুস্থ। এই রোগের নাম সাম্প্রদায়িকতা, এক্ষেত্রে হিন্দু বিদ্বেষ। তবে বর্তমান বাংলাদেশে এই রোগ, বিশেষ করে রবি ঠাকুর বিদ্বেষ যেসব ল্যাবরেটরিতে উৎপাদিত হয় তাদের নাম বাংলাদেশী মুসলমান বুদ্ধিজীবী। তাই কথা বলতে হবে এইসব বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে, রুখতে হবে তাদের।  বুদ্ধিজীবীদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল তারা সত্যনিষ্ঠ বক্তব্য রাখে। যদি সে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে ও কেউ ইতিহাস ও যুক্তিতর্ক দিয়ে সেটা খন্ডন করে তাহলে মানসম্মান বোধ সম্পন্ন যেকোনো বুদ্ধিজীবী নিজের ভুল স্বীকার করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অনেকের মিথ্যাচার বারবার খন্ডিত হবার পরেও এসব স্বঘোষিত ব...

গুজবের মহামারী

Image
রাশিয়ার ইরকুতস্ক শহরে এক ল্যাবরেটরির এক কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুনিয়া তোলপাড়। মানে বহির্বিশ্ব। এর মধ্যে বেশ কয়েক জন বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজন ফোন করে জানতে চেয়েছে আমরা সব ঠিকঠাক আছি কিনা। আসলে মস্কো থেকে ইরকুতস্ক এত দূর যে ওখানে থেকে ভাইরাস মস্কো আসার আগেই বাংলাদেশ ভারত চলে যাবে যদি ভিসা না থাকায় বা ঘুষ না দেয়ায় কাস্টমসে ওদের আটকে না দেয়। যাহোক, মনে হয় এ নিয়ে দুই কলম লিখে বন্ধুদের আসল খবর জানানো দরকার।  ২০২৬ সালের ০২ অক্টোবর ইরকুতস্কের শেলেখভস্কি আঞ্চলিক হাসপাতালে দারিয়া নামে এক মেয়ে মারা যায়। সে ছিল রোগ জীবাণু নিয়ে গবেষণা করে এমন এক ল্যাবরেটরির কর্মী। ডাক্তারদের ভাষ্য মতে এর কারণ ছিল নিউমনিয়া। বুরিয়াতির প্রধান এটাকে ফুসফুসের প্লেগ (Yersinia pestis) বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন, কিন্তু ভোক্তা তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা এই তথ্য অস্বীকার করে জানায় যে পরীক্ষায় দারিয়ার পেশাগত কাজের সাথে জড়িত কোন বিপদজনক জীবানুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সামাজিক মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে দারিয়া অসাবধানতাবশত একটি টেস্ট টিউব ভেঙ্গে ফেলে যেখানে প্লেগের জীবানু ছিল। তবে সরকার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন সংস্থা এর গুজবের ...

উত্তর বিহীন

Image
প্রায় প্রতিদিনই ইউক্রেনে সেনা রিক্রুটের দৃশ্য দেখা যায়।‌ না, এটা রুশদের ভিডিও নয়, পশ্চিমা সাংবাদিক বা স্থানীয় ভুক্তভোগীদের করা। প্রায়ই দেখা যায় যাদের রিক্রুট করা হচ্ছে তাদের শারীরিক ও মানসিক দুরাবস্থার চিত্র। বোঝা যায় যদি যুদ্ধের ময়দানে গিয়ে পৌঁছেও তারা যাচ্ছে নিশ্চিত মৃত্যুর পরোয়ানা হাতে নিয়ে। এই যে একটা জাতিকে ঠান্ডা মাথায় সে দেশের সরকার ধ্বংস করছে এটা কি জেনোসাইড নয়? তথাকথিত যে সভ্য বিশ্ব ইউক্রেনের শেষ মানুষটি পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইছে তারাই কি ইউক্রেন জাতির জেনোসাইডের জন্য দায়ী নয়? আসলে সভ্য বিশ্ব এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, এমনকি নর্থ আমেরিকায় বিগত কয়েক শ'বছরে যে গণহত্যা চালিয়েছে তার দায়িত্ব কি স্বীকার করেছে? হয়তো এভাবেই আরও একটি জাতি একদিন পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যাবে। আর সেজন্য কেউই দায়ী হবে না, অন্ততপক্ষে আসল কালপ্রিটরা তো নয়ই। দুবনা, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

জনতার রায়

Image
নিজের ব্যর্থতা অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে মানুষকে কিছু দিন ধোঁকা দেয়া যায়। কিন্তু সব ব্যর্থতার জন্য অন্যের দিকে আঙুল তুললে প্রশ্ন জাগে তুমি তাহলে কি জন্য ক্ষমতায় বসে আছ হে বাছাধন? এটা আমাকে ছোটবেলায় শোনা কামলার গল্প মনে করিয়ে দেয়। এক গৃহস্থের বাড়িতে অনেকেই কাজ করে। এদের একজন কানা। একদিন সেই গৃহস্থ জমিতে গিয়ে দেখেন চারিদিকে অরাজকতা। - এটা কে করেছে? - কানা। - এটা? - এটাও কানা। এভাবে যেখানেই দেখায় সেটাই কানার দোষ। শেষ পর্যন্ত গৃহস্থ বললেন, সবই যদি কানা করে তোমাদের রেখেছি কি করতে? ইউরোপের সব ব্যর্থতার জন্য প্রতিটি দেশের সরকার দায়ী করে পুতিনকে। এখন মনে হয় ইউরোপের জনগণ প্রশ্ন করতে শুরু করেছে মস্কোয় বসে পুতিন যদি তাদের দেশের কলকব্জা নাড়াতে পারেন তাহলে এই সব রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীদের এত টাকা দিয়ে পুষে কি লাভ? হয়তো সেজন্যেই দেশে দেশে বিরোধীরা জনসমর্থন লাভ করছে। মস্কো, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

ভোট

Image
রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন হচ্ছে। শুক্রবার বার কামচাতকা সময় সকাল ০৮.০০ টায় শুরু, আজ কালিনিনগ্রাদ সময় সন্ধ্যা ২০.০০ শেষ। পার্লামেন্টের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় নির্বাচন হচ্ছে। রাশিয়ায় বছরে দুইবার এরকম নির্বাচন হয় - মার্চের তৃতীয় শুক্রবার থেকে রবিবার আর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় শুক্রবার থেকে রবিবার। ভোট দেয়া যায় কেন্দ্রে গিয়ে অথবা অনলাইনে। ভোট দিয়েছি গতকাল, অনলাইনে। দুটো, একটি দলকে আরেকটি প্রার্থীকে। প্রার্থীদের আগে বিজয়ের জন্য ৫০%+১ ভোট লাগত, এখন যে বেশি ভোট পায় তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। আসলে ৫০%+১ ভোট অনেক প্রতিনিধিত্ব মূলক। তবে এক্ষেত্রে প্রায়ই দ্বিতীয় ট্যুরের আয়োজন করতে হয়। সেটা ব্যয়বহুল। তারচেয়েও বড় কথা দ্বিতীয় ট্যুরে ভোটারদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক ভাবে কম। আজ মস্কো সময় রাত ২২.০০ থেকে ফলাফল প্রকাশ শুরু হবে। মস্কোর পথে, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সমস্যা

Image
প্রতিটি সিস্টেম অনেকগুলো পার্টস নিয়ে গঠিত। সিস্টেম যত জটিল তার পার্টসের সংখ্যা তত বেশি। মানুষের বা প্রাণীর যেযন হাত, পা, হার্ট, কিডনি, লিভার - দেশের তেমনি জনগণ, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, বিচার বিভাগ ইত্যাদি। শরীরের কোন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হলে মানুষ যেমন পঙ্গু হয়ে পড়ে দেশও তাই। বাংলাদেশের সমস্যা তার রাজনৈতিক দলে আর রাজনীতির সাথে ধর্মের অবৈধ সহবাসে। এক এক জন মানুষ মারা যায়, দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা গায়েব হয়ে যায় - আমরা দুই তিন চার দিন এর বিরুদ্ধে ফেসবুকে লিখে, দুই চারটি বিবৃতি দিয়ে দায় শেষ করি। কিন্তু এসবের উৎস সেই রাজনৈতিক দল, ধর্ম ব্যবসায়ী, মাদ্রাসা শিক্ষা এসবের ব্যাপারে স্পিকটি নট। এভাবে আর যাই হোক, সমস্যার সমাধান হয় না, হবে না। দুবনা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধ না শান্তি?

Image
সত্যিকারের জনবান্ধব ও সরকার চায় জনগণকে চিন্তা মুক্ত রাখতে, তাদের কর্ম সংস্থান ও মানসিক শান্তি নিশ্চিত করতে। শুনলাম বৃটিশ সরকার নাকি দেশের মানুষকে টিনজাত খাবার কিনে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। যুদ্ধের জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত হতে বলেছে। ফিনল্যান্ড সহ ইউরোপের অন্যান্য দেশে পারমানবিক আঘাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা বাঙ্কার তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু এরা কি জানে এমন যুদ্ধ হলে বাঙ্কার সাময়িক ভাবে রক্ষা করলেও পরবর্তী জীবন হবে মৃত্যুর চেয়েও দুঃসহ? হিরোশিমা, নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা, ভিয়েতনামে নাপাম বোমা বৃষ্টি ও সম্প্রতি যুগোস্লাভিয়ায় বোমায় অল্প পরিশোধিত ইউরেনিয়াম ব্যবহার কি তাদের কিছুই শেখায় না? যেখানে যুদ্ধ এড়ানোর জন্য কথা বলা দরকার, শান্তি চুক্তি করা দরকার, সেখানে ইউরোপ শুধু উত্তেজনা বৃদ্ধি করেই চলছে। স্যুটেড বুটেড ও ভার্সিটির ডিগ্রি থাকলেই আর উন্নত দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলেই যে মানুষ আধুনিক ও বাস্তববাদী হয় না, বর্তমান পশ্চিমা এস্টাবলিশমেন্ট তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দুবনা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬