Posts

১১ সেপ্টেম্বর

Image
১১ সেপ্টেম্বর ২০০১। তখন সামাজিক মাধ্যম ছিল না বললেই চলে। ইন্টারনেট ব্যবহার করতাম মূলত গবেষণার কাজে আর চিঠিপত্র লিখতে। এর বাইরে মাঝে মধ্যে অনলাইনে ক্রিকেটের খবর পড়তাম ক্রিকইনফো থেকে, বিবিসি, সিএনএন, হিন্দু এসব সাইটে দেশ বিদেশের খবর পড়তাম।  আমি অফিস থেকে বেরুতাম ছয়টার পরে। মনিকাকে স্কুল থেকে নিয়ে বাসায় ফিরতাম একসাথে। সেদিন এরকম বসে বসে কাজ করার ফাঁকে হঠাৎ হিন্দুতে দেখলাম ইউ ইয়র্ক আক্রমণের খবর। ব্যবস্ততার কারণে তেমন মনোযোগ দেইনি। বলতে গেলে আসলে বুঝতেই পারিনি কি হচ্ছে। শুধু সেই বিখ্যাত ছবি আর দুই চার লাইন কমেন্টারি। আসলে এরকম আক্রমণ যে হতে পারে সেটা ছিল কল্পনার বাইরে। তাই গুরুত্ব দেইনি।  সে সময় ভ্লাদিমির মিখাইলোভিচ দুবোভিক থাকতেন মনিকার স্কুলের পাশেই। কি মনে করে ওনার বাসা হয়ে যাওয়া ঠিক করলাম। ঢুকতেই উনি বলে উঠলেন তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল মনে হয়। টিভি পর্দায় দেখা যাচ্ছিল নিউ ইয়র্কে জ্বলন্ত টুইন টাওয়ার। হঠাৎ যেন আমার স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি লোপ পেল। একটাই চিন্তা এখন কিভাবে মনিকাকে নিয়ে বাসায় ফিরব। বাসা মোটামুটি এক কিলমিটার দূরে। ওখানে গুলিয়া, আন্তন আর ক্রিস্তিনা।   ...

স্মৃতি

Image
ঘুম ভাঙতেই নজরুল ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ শুনলাম। প্রফেসর নজরুল ইসলাম। বুয়েটের শিক্ষক। প্যাট্রিস লুমুম্বা গণ মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট‌। ফিজম্যাথ ফ্যাকাল্টি মানে আমার ফ্যাকাল্টির। আমি যখন মস্কো আসি উনি দীপাদি সহ মসফিল্মে থাকতেন। আমাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা হত। আমাদের শেষ দেখা আমার রুমে, ২ নং ব্লকের ৫১০ নম্বর রুমে। কি একটা উপলক্ষ্যে আমার রুমে একটা আড্ডার আয়োজন হয়েছিল। আমার ডিফেন্স কি? ঠিক মনে নেই। নজরুল ভাই এসেছিলেন দেশ থেকে। মাঝখানে বাইরে গেলেন অরুণ দা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অরুণ দেবের সাথে দেখা করতে। উনিও তখন মস্কো ছিলেন। পরিচয় ছিল না। কথা ছিল অরুণ দাকে নিয়ে আসবেন। পরে ২০১১ সালে অরুণ দার সাথে মস্কোয় দেখা হয়। কিন্তু নজরুল ভাইয়ের সাথে আর দেখা হয়নি। ২০১১, ২০১৪ ও ২০১৬ সালে সাবের পিকনিকে গেছি, দীপা দির সাথে দেখা হয়েছে। কিন্তু নজরুল ভাইয়ের সাথে দেখা হয়নি। কিছু লোকের সাথে হয়তো তেমন ইন্টাব়্যাকশন হয় না, তারপরেও তারা স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে জেগে থাকেন। আমার জন্য নজরুল ভাই তেমন একজন মানুষ। কেন? নিজেও জানি না।‌ আজ তিনি শুধু স্মৃতি হয়ে গেলেন। দুবনা, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ...

সুখ

Image
আজকাল আমার আনন্দের সীমা নাই। থাকিবেই বা কেন? আনন্দ বিঘ্নিত হয় তখনই যখন মানুষকে চিন্তা ভাবনা করিতে হয়। আমার এখন কোন চিন্তা নাই, কোন ভাবনা নাই। নিজের আর চিন্তা ভাবনা করিবার প্রয়োজন নাই। মাঝে মাঝে মনে হয় অযথাই মাথাটাকে কাঁধের উপরে বসাইয়া রাখিয়াছি আর সে ঠ্যাং দুলাইয়া দুলাইয়া চুরুট ফুঁকিয়া বায়ুদূষণ করিতেছে। জীবন এত সহজ হইয়া গিয়াছে যে চিন্তা ভাবনা এখন শৌখিন বিষয়ে পর্যবসিত হইয়াছে। বিশ্বাস হইতেছে না? তাহা হইলে খুলিয়া বলা যাক। ধরেন, বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়াইয়া আছি, বাস নিজে আমার হাত ধরিয়া তুলিয়া লইয়া যায়, সীট ফাঁকা থাকিলে বসাইয়া পর্যন্ত দেয়। দোকানে গেলে আলুটা পটলটা, এমনকি মাছ মাংস পর্যন্ত লাফাইয়া লাফাইয়া আমার ব্যাগে ঢুকিয়া পড়ে। ব্যাংকের ম্যানেজাররা টাকার বস্তা লইয়া পিছনে পিছনে ঘুর ঘুর করে। আমিও ভাবি বাঁচিয়া থাকিব তো আর কয়েকটা দিন। তাহা হইলে কি হইবে কৃচ্ছতা সাধন করিয়া। আজকাল মাঝে মাঝে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াইতে যাইতে ইচ্ছা করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলিয়াছেন বোয়িং বিমান কিনিবার জন্য। ওনার গ্যারেজে নাকি এইসব বিমানের শেষ নাই। বলিয়াছেন টাকা পয়সার চিন্তা করিতে হইবে না। ওন...

লড়াই

Image
আমরা ভুলে যাই যে কোন দল এমনকি সেন্ট পার্সেন্ট ভোট পেয়ে নির্বাচিত হলেও দেশ বনে যায় না। কিন্তু প্রায় সব সরকারি দল, বিশেষ করে সরকারি দলের অদূরদর্শী নেতা ও অন্ধ বিশ্বাসী কর্মীরা ধরেই নেয় যে তারাই দেশ আর তাদের সমালোচনা মানেই দেশদ্রোহিতা। এভাবেই আমরা নিজেদের প্রয়োজনে খুশি মত সংজ্ঞা বদলাই। এভাবে চললে পৃথিবীর সব শাসকই কারো না কারো কাছে হবে স্বৈরাচারী বা গণতন্ত্রের মানস পুত্র, মানস কন্যা, পিতা, মাতা, এমনকি স্বামী/ স্ত্রী। এই পথ সামনে নেয় না, এটা পথের শেষ যার কোন ওপার নেই। বিরোধী মত শুধু শত্রু নয়, প্রতিপক্ষ এবং ক্ষেত্রবিশেষে আরও একটা বিকল্প, সমস্যা সমাধানের ইঙ্গিত। তাই ভিন্ন মতকে হত্যার আগে যাচাই করে দেখা দরকার যা হতে পারে বিকল্প, এমনকি উৎকৃষ্ট সমাধান। কিন্তু রাজনীতি যেখানে ক্ষমতা দখলের লড়াই সেখানে তাদের কাছ থেকে মহানুভবতা আশা করার সুযোগ কোথায়?  লড়াই লড়াই লড়াই চাই  লড়াই করে মরতে চাই।। দুবনা, ৩০ আগস্ট ২০২৬

প্রশ্ন

Image
পাকিস্তান আমলে এই অঞ্চলের প্রগতিশীল আন্দোলন বেঁচে ছিল মূলত সংখ্যালঘুদের হাতে। আত্মগোপনের তাগিদে নাম ও খাদ্যাভ্যাস বদলালেও তাদের চরিত্র বদলায় নাই, মনে প্রাণে তারা ছিল অবিভক্ত ভারতের নাগরিক, কয়েক হাজার বছরের স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। এখনও বাংলাদেশের বাম রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে আনুপাতিক হারে এই সংখ্যালঘুরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। অন্তত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শিল্পীদের নামের তালিকা দেখলে সেই ধারণাই হয়। তাই চব্বিশের পর এদের উপর আক্রমণ বাম নেতারা যখন আওয়ামী লীগের উপর আক্রোশ জনিত কারণে বলে রায় দেয় তখন মনে বিভিন্ন প্রশ্ন জাগে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জয় বাংলা শ্লোগান এসবের সাথে হিন্দুদেরও আওয়ামী লীগের জিম্মায় রেখে তারা বলতে চায় আওয়ামী লীগ এসব কুক্ষিগত করেছে তাই এদের উপর আক্রমণ, এদের অবমাননার সব দায় আওয়ামী লীগের। এই যে রংপুরে এত বড় হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটে গেল এ নিয়ে তাদের কোন বক্তব্য বিবৃতি চোখে পড়ল না। নাকি এই চারটি (আসলে এমন শত শত হাজার হাজার) প্রাণের দাম এক ফেলানীর চেয়ে কম। না, ফেলানী প্রতি আমারও সহানুভূতির কমতি নেই। সমস্যা হল ফেলানী নিজেও পরিস্থিতি ও রাজনীতি...

ঠুঁটো জগন্নাথ

Image
রংপুরে গণপতি চক্রবর্তী সপরিবারে নিহত হলেন। এটা কি সাম্প্রদায়িক হত্যা? মোটিভ যাই হোক গণপতি নাম যে এতে কোন ভূমিকা পালন করেনি সেটা বিশ্বাস করা কষ্টকর।  বাঘ মহিষ বা হরিণ বিদ্বেষী কিনা জানি না, তবে তার সামনে দুটো অপশন থাকলে সে হরিণকে বেছে নেবে। সে হরিণকে বেশি অপছন্দ করে বা হরিণের মাংস তার প্রিয় বলে নয়। হরিণকে শিকার করা বেশি নিরাপদ বলে।  বাংলাদেশেও হিন্দু হত্যা বেশি নিরাপদ। সরকার গায়ে মাখবে না, জনগণের খুব ছোট একটি অংশ এর প্রতিবাদ করবে আর সবচেয়ে বড় কথা হিন্দুরা নিজরাও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে না, বরং চেষ্টা করবে নিজের নিজের প্রাণ রক্ষায় দেশ ছেড়ে চলে যেতে।  ভোট, নিজের নিজের ধর্মীয় অবস্থান এসব বিবেচনায় নিয়ে সরকার হয়তো ভাবে তারা উইন উইন সিটুয়েশনে রয়েছে, কিন্তু এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি এতটাই ধূলিসাৎ হয় যে সে রাষ্ট্রের সরকার হওয়া লজ্জাকর হয়ে দাঁড়ায়। সরকার যদি নিজেকে লজ্জাকর অবস্থায় ফেলতে না চায়, সরকার যদি বিশ্বাস করে সে সত্যি সত্যি রাষ্ট্রের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে, তবে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করা ও খুনিদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব সরকারকেই ন...

মানুষখেকো

Image
রাশিয়ায় ভালুকের উৎপাত সবসময়ই ছিল। ভালুক নিয়ে এদের রূপকথার অভাব নেই। তবে ইদানিং ভালুকের উৎপাত নতুন করে শুরু হয়েছে। এমনকি মস্কো বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় ভালুকের দর্শন মিলেছে। ওদের মূল খাবার পাইন বাদাম। ওটা খুব খাদ্যমান সম্পন্ন ও খুব দামী। আর যেখানেই আর্থিক লাভের সম্ভাবনা সেখানেই মানুষের সাথে জীবজন্তুর সংঘাত। বন্যা ও অগ্নি দাহের কারণে বনে খাদ্যের আকাল। ভালুকেরা তাই গ্রাম আর শহরে আসছে জীবিকার সন্ধানে। মানুষের মুরগিটা বা খরগোশটা নিয়ে চলে যাচ্ছে ট্যাক্স হিসেবে। এক কথায় জোর যার মুল্লুক তার।  এখন গ্রীষ্ম কাল। প্রচুর লোকজন হাইকিং এ যায় এসময়, বনের আশেপাশে তাবু খাটিয়ে রাত কাটায়। এটা সস্তা ও রোমান্টিক। কয়েক দিন আগে আলতাই এলাকায় এক ভালুক এরকম এক তাবু থেকে এক মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। তার বন্ধু ও সঙ্গীরা অনেক চেষ্টা করেও মেয়েটিকে রক্ষা করতে পারেনি। পরে তার উচ্ছিষ্ট পাওয়া গেছে বনের ভেতর। রাশিয়ায় বন্য জীবজন্তু শিকারের ব্যপারে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আছে। ফলে ভালুকের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। তবে এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ কিছু লাইসেন্স দিতে শুরু করেছে। আর যে ভালুকটি মানুষ হত্যা করেছে সেটা ধর...