Posts

সোভিয়েত ইউনিয়ন

Image
আজ ৭ নভেম্বর, মহান অক্টোবর বিপ্লব দিবস। এক সময় এই দিনটি ছিল সারা বিশ্বের মেহনতি মানুষের জন্য আলোকবর্তিকা স্বরূপ। শোষিত মানুষ সোভিয়েত ইউনিয়ন ও অক্টোবর বিপ্লবের দিকে তাকিয়ে আশায় বুক বাঁধত। এখন এসবই অনেকটা রূপকথার গল্পের মত। সোভিয়েত ইউনিয়ন শুধু মেহনতি মানুষ বা তৃতীয় বিশ্বের গরীব দেশগুলোর জন্য নয়, ধনী পুঁজিবাদী বিশ্বের জন্যেও ছিল অনুপ্রেরণা স্বরূপ। সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে প্রতিযোগিতায় জিততেই চন্দ্র অভিযান, এ জন্যেই নিজ নিজ দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বিশেষ মনোযোগ। যারা সোভিয়েত জীবনের সাথে পরিচিত তাদের বেশিরভাগই স্বীকার করে অনেক না থাকার মধ্যেও তখন অনেক কিছু ছিল। তখনকার না থাকা জিনিস আজ পয়সা দিয়ে কেনা যায় কিন্তু তখন যা ছিল আজ তা পয়সা দিয়েও কেনা যায় না। সেই মানসিক শান্তি, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সেই নিশ্চয়তা আজ আর কেউই দিতে পারে না। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল পশ্চিমা বিশ্ব আজকাল সোভিয়েত ইউনিয়নের খারাপ দিকগুলো লুফে নিচ্ছে। আপাত দৃষ্টিতে গণতন্ত্র হলেও সব নির্ধারিত হচ্ছে খুব অল্প সংখ্যক অলিগার্খ দ্বারা। সোভিয়েত ইউনিয়নে ছিল পার্টির নিয়ন্ত্রণ, পশ্চিমা বিশ্বে ডিপ স্টেট আ...

পথচলা

Image
জয় বাংলা স্লোগানকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদ ও শ্রেণী সংগ্রামের প্রশ্নে আলোচনা চলছে বিভিন্ন ফোরামে। বর্তমান পরিস্থিতিকে আমরা একটি জনাকীর্ণ রাস্তার সাথে তুলনা করতে পারি। সবাই নিজ নিজ লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছি কিন্তু অনেকের সাথেই রাস্তা ভাগাভাগি করতে হচ্ছে। নিজের বাড়িতে বা এক দলীয় ব্যবস্থায় অন্যদের জন্য রাস্তা বন্ধ করা যায় কিন্তু পাবলিক প্লেসে বা বহুদলীয় ব্যবস্থায় সেটা সম্ভব নয়। তবে চাইলে কেউ কারো সাথে কথা না বলে একা চলতে পারে আবার কেউ পথচলা একটু বৈচিত্র্যময় করার জন্য কাউকে চলার সাথী করতে পারে। সমাজতন্ত্র অনেক দূর। তার আগে দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনতে হবে। আর এজন্যেই জাতীয়তাবাদী শক্তির সাথে হাতে হাত রেখে চলার প্রশ্ন। তাছাড়া সমাজতন্ত্র তো আমরা শুধু নিজেদের জন্য চাই না, চাই দেশের সব মানুষের জন্য। তাহলেও তো তাদের সাথে নিয়েই চলতে হবে। না হলে আমরাও হব উড়ে এসে জুড়ে বসা কেউ। দুবনা, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

প্রশ্ন

Image
  জয় বাংলা স্লোগান কেন্দ্র করে উদ্ভূত বিতর্কে শ্রেণী সংগ্রামের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের লড়াইয়ে মূল স্লোগান ছিল  "দুনিয়ার সর্বহারা এক হও"। ১৮৪৮ সালের কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহারে প্রলেটারিয়েট বা সর্বহারা শব্দটিই ছিল। বাংলাদেশে এই স্লোগান পরিবর্তিত রূপ পায় "দুনিয়ার মজদুর এক হও"। মজদুর সর্বহারা নয় শ্রমিক। বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট পার্টি সর্বহারা বা শ্রমিকদের এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে যখন শ্রেণী সংগ্রামের ডাক দেয় তখন স্বাভাবিক ভাবেই যে প্রশ্নটি মনে আসে তা হল আপনারা কোন শ্রেণীর? কয়েক দশক আগেও সিপিবির নেতৃত্বের একটি বড় অংশ পরিবারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজেরা সর্বহারা হতেন। কমরেড তাজুল ইসলাম শ্রমিকের পেশা গ্রহণ করেছিলেন। এখন কি সেটা ঘটে? অধিকাংশ নেতাই তো এখন মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত। এমনকি কেউ কেউ উচ্চবিত্ত। এমতাবস্থায় আপনাদের শ্রেণী সংগ্রামে আপনি কোন শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করেন সেই প্রশ্নও অনেকের মনেই জাগে। কারণ কোন কাজ যদি নিজের সততা দিয়ে শুরু না হয় সেখানে সাফল্য অর্জন করা কঠিন। মস্কোর পথে, ০১ নভেম্বর ২০২৬

প্যারাডক্স

Image
শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বেই বামেরা দলত্যাগী সহযোদ্ধাদের গণশত্রু হিসেবে গণ্য করে। আমাদের দেশের প্যারাডক্স হল এমনকি মির্জা ফখরুল বা এরকম অনেকেই যারা একসময় ছাত্র ইউনিয়ন করতেন তাদের নিয়ে অনেক বামেরা গর্ব করলেও নূহ-উল আলম লেনিন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, এমনকি মতিয়া চৌধুরীকে এদের অনেকেই ঘৃণার চোখে দেখে। বাংলাদেশের সিপিবি, ছাত্র ইউনিয়ন, কৃষক সমিতি ও অন্যান্য গণসংগঠন জনপ্রিয় করার পেছনে এদের যথেষ্ট অবদান থাকার পরেও বামদের কাছে এরা ব্রাত্য। এর কারণ হয়তো যারা সরাসরি দক্ষিণপন্থী রাজনীতিতে যোগ দেয় তাদের এরা প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে না, কিন্তু কেউ বাম বা মধ্যপন্থী রাজনীতিতে যোগ দিল তাদের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে।‌ আমরা অতি সহজে পুরানো সহযোদ্ধাদের ভুলে যাই বলেই সহজেই নিজেদের অতীত ভুলে যাই। ‌একসাথে না চললেই কেউ অপাঙ্ক্তেয় হয় না, তাদের অতীত অবদান নাই হয়ে যায় না। যারা বিভিন্ন কারণে দল ত্যাগ করেছেন তারা আর যাই হোক দলের সাথে প্রতারণা করে নাই। সহজ ভাষায় বললে একসাথে চলতে না পেরে বিবাহ বিচ্ছেদের পথ বেছে নিয়েছে। বরং যারা পার্টির ভেতরে থেকে আদর্শের সাথে প্রতারণা করেন তারা পার্টির জন্য, আদর্শের জন...

রবীন্দ্রনাথ

Image
এক মেয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিকে কালিমালিপ্ত করায় সেটা নিয়ে অনেক লেখালেখি হচ্ছে। বিভিন্ন ভাবে মেয়েটির নিন্দা করা হচ্ছে। যে উদ্দেশ্যে বা যে প্রেক্ষাপটেই করুক না কেন কাজটি নিন্দনীয়। অনেকে আবার ঐতিহাসিক দলিল হাজির করে যুক্তি দিয়ে মেয়েটিকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে সে ঠিক নয়। কিন্তু সমস্যা হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি তার ক্ষোভের কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে চলমান মিথ্যা প্রচার নয়। এর কারণ ঐ মেয়ে মানসিক ভাবে অসুস্থ। এই রোগের নাম সাম্প্রদায়িকতা, এক্ষেত্রে হিন্দু বিদ্বেষ। তবে বর্তমান বাংলাদেশে এই রোগ, বিশেষ করে রবি ঠাকুর বিদ্বেষ যেসব ল্যাবরেটরিতে উৎপাদিত হয় তাদের নাম বাংলাদেশী মুসলমান বুদ্ধিজীবী। তাই কথা বলতে হবে এইসব বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে, রুখতে হবে তাদের।  বুদ্ধিজীবীদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল তারা সত্যনিষ্ঠ বক্তব্য রাখে। যদি সে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে ও কেউ ইতিহাস ও যুক্তিতর্ক দিয়ে সেটা খন্ডন করে তাহলে মানসম্মান বোধ সম্পন্ন যেকোনো বুদ্ধিজীবী নিজের ভুল স্বীকার করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অনেকের মিথ্যাচার বারবার খন্ডিত হবার পরেও এসব স্বঘোষিত ব...

গুজবের মহামারী

Image
রাশিয়ার ইরকুতস্ক শহরে এক ল্যাবরেটরির এক কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুনিয়া তোলপাড়। মানে বহির্বিশ্ব। এর মধ্যে বেশ কয়েক জন বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজন ফোন করে জানতে চেয়েছে আমরা সব ঠিকঠাক আছি কিনা। আসলে মস্কো থেকে ইরকুতস্ক এত দূর যে ওখানে থেকে ভাইরাস মস্কো আসার আগেই বাংলাদেশ ভারত চলে যাবে যদি ভিসা না থাকায় বা ঘুষ না দেয়ায় কাস্টমসে ওদের আটকে না দেয়। যাহোক, মনে হয় এ নিয়ে দুই কলম লিখে বন্ধুদের আসল খবর জানানো দরকার।  ২০২৬ সালের ০২ অক্টোবর ইরকুতস্কের শেলেখভস্কি আঞ্চলিক হাসপাতালে দারিয়া নামে এক মেয়ে মারা যায়। সে ছিল রোগ জীবাণু নিয়ে গবেষণা করে এমন এক ল্যাবরেটরির কর্মী। ডাক্তারদের ভাষ্য মতে এর কারণ ছিল নিউমনিয়া। বুরিয়াতির প্রধান এটাকে ফুসফুসের প্লেগ (Yersinia pestis) বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন, কিন্তু ভোক্তা তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা এই তথ্য অস্বীকার করে জানায় যে পরীক্ষায় দারিয়ার পেশাগত কাজের সাথে জড়িত কোন বিপদজনক জীবানুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সামাজিক মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে দারিয়া অসাবধানতাবশত একটি টেস্ট টিউব ভেঙ্গে ফেলে যেখানে প্লেগের জীবানু ছিল। তবে সরকার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন সংস্থা এর গুজবের ...

উত্তর বিহীন

Image
প্রায় প্রতিদিনই ইউক্রেনে সেনা রিক্রুটের দৃশ্য দেখা যায়।‌ না, এটা রুশদের ভিডিও নয়, পশ্চিমা সাংবাদিক বা স্থানীয় ভুক্তভোগীদের করা। প্রায়ই দেখা যায় যাদের রিক্রুট করা হচ্ছে তাদের শারীরিক ও মানসিক দুরাবস্থার চিত্র। বোঝা যায় যদি যুদ্ধের ময়দানে গিয়ে পৌঁছেও তারা যাচ্ছে নিশ্চিত মৃত্যুর পরোয়ানা হাতে নিয়ে। এই যে একটা জাতিকে ঠান্ডা মাথায় সে দেশের সরকার ধ্বংস করছে এটা কি জেনোসাইড নয়? তথাকথিত যে সভ্য বিশ্ব ইউক্রেনের শেষ মানুষটি পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইছে তারাই কি ইউক্রেন জাতির জেনোসাইডের জন্য দায়ী নয়? আসলে সভ্য বিশ্ব এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, এমনকি নর্থ আমেরিকায় বিগত কয়েক শ'বছরে যে গণহত্যা চালিয়েছে তার দায়িত্ব কি স্বীকার করেছে? হয়তো এভাবেই আরও একটি জাতি একদিন পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যাবে। আর সেজন্য কেউই দায়ী হবে না, অন্ততপক্ষে আসল কালপ্রিটরা তো নয়ই। দুবনা, ০৬ অক্টোবর ২০২৬