৭ মার্চ
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে অন্যতম গৌরবময় দিন। বিচারের জন্য পন্টি পিলটের সামনে হাজির করলে যীশু খ্রিস্ট বলেন ঈশ্বরকে ঈশ্বরের প্রাপ্যটুকু দাও, সিজারকে সিজারের প্রাপ্যটুকু। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হল আমরা যার প্রাপ্য তাকে না দিয়ে সব নিজেদের কুক্ষিগত করার চেষ্টা করি। গেটিসবার্গ বক্তব্য আব্রাহাম লিংকনের হলেও সেটা গণতন্ত্রের আধুনিক মেনিফেস্ট হিসেবেই দেখা হয়। পাছে লিংকনের প্রশংসা করা হয় এই ভয়ে কেউ এই বক্তব্য অস্বীকার করে না। এপ্রিল থিসিস লেনিনের লেখা হলেও সেটা বিপ্লবের মেনিফেস্ট, যেমন কমিউনিস্ট মেনিফেস্ট শুধু মার্ক্স ও এঙ্গেলসের নয় সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের। একই ভাবে ৭ মার্চের ভাষণ এটা শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত একার নয়, স্বাধীনতাকামী সমস্ত বাঙালি জাতির। এসব বক্তব্য তাই কারো একার নয়, পরিবেশ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজ এ সবের এক সম্মিলিত মিথস্ক্রিয়ার ফল। আজ খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কাল খুব দেরি হয়ে যাবে। হ্যাঁ, এসব মেনিফেস্ট, এসব বক্তব্য শুধু নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট মানুষের মুখেই উচ্চারিত হয়। এটা এক অবজেক্টিভ রিয়ালিটি, ঐতিহাসিক ঘটনা যা দীর্ঘ দিনের জন্য ইতিহাসের গতি নির্ধারণ করে। তাই শেখ মুজিব তথা আওয়ামী লীগকে স্পেস দেয়া হয় এসব না ভেবে বাংলাদেশ ও বাঙালির ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা তথা দলিল হিসেবেই ৭ মার্চের ভাষণ বিবেচনা করা বাংলাদেশের যেকোনো দেশপ্রেমিক মানুষের উচিত। যেকোন দেশপ্রেমিক সরকারের উচিত এই দিন ও ৭ মার্চের ভাষণ যথাযথ মর্যাদার সাথে সরকারি ভাবে স্মরণ করা। সাধারণ দেশপ্রেমিক মানুষ সরকারের স্বীকৃতির অপেক্ষা না করে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই দিনটি স্মরণ করে, মনে মনে আওড়ায়
এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম
জয় বাংলা!!!
দুবনা, ০৭ মার্চ ২০২৬
Comments
Post a Comment