Posts

Showing posts from 2026

ঠুঁটো জগন্নাথ

Image
রংপুরে গণপতি চক্রবর্তী সপরিবারে নিহত হলেন। এটা কি সাম্প্রদায়িক হত্যা? মোটিভ যাই হোক গণপতি নাম যে এতে কোন ভূমিকা পালন করেনি সেটা বিশ্বাস করা কষ্টকর।  বাঘ মহিষ বা হরিণ বিদ্বেষী কিনা জানি না, তবে তার সামনে দুটো অপশন থাকলে সে হরিণকে বেছে নেবে। সে হরিণকে বেশি অপছন্দ করে বা হরিণের মাংস তার প্রিয় বলে নয়। হরিণকে শিকার করা বেশি নিরাপদ বলে।  বাংলাদেশেও হিন্দু হত্যা বেশি নিরাপদ। সরকার গায়ে মাখবে না, জনগণের খুব ছোট একটি অংশ এর প্রতিবাদ করবে আর সবচেয়ে বড় কথা হিন্দুরা নিজরাও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে না, বরং চেষ্টা করবে নিজের নিজের প্রাণ রক্ষায় দেশ ছেড়ে চলে যেতে।  ভোট, নিজের নিজের ধর্মীয় অবস্থান এসব বিবেচনায় নিয়ে সরকার হয়তো ভাবে তারা উইন উইন সিটুয়েশনে রয়েছে, কিন্তু এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি এতটাই ধূলিসাৎ হয় যে সে রাষ্ট্রের সরকার হওয়া লজ্জাকর হয়ে দাঁড়ায়। সরকার যদি নিজেকে লজ্জাকর অবস্থায় ফেলতে না চায়, সরকার যদি বিশ্বাস করে সে সত্যি সত্যি রাষ্ট্রের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে, তবে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করা ও খুনিদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব সরকারকেই ন...

মানুষখেকো

Image
রাশিয়ায় ভালুকের উৎপাত সবসময়ই ছিল। ভালুক নিয়ে এদের রূপকথার অভাব নেই। তবে ইদানিং ভালুকের উৎপাত নতুন করে শুরু হয়েছে। এমনকি মস্কো বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় ভালুকের দর্শন মিলেছে। ওদের মূল খাবার পাইন বাদাম। ওটা খুব খাদ্যমান সম্পন্ন ও খুব দামী। আর যেখানেই আর্থিক লাভের সম্ভাবনা সেখানেই মানুষের সাথে জীবজন্তুর সংঘাত। বন্যা ও অগ্নি দাহের কারণে বনে খাদ্যের আকাল। ভালুকেরা তাই গ্রাম আর শহরে আসছে জীবিকার সন্ধানে। মানুষের মুরগিটা বা খরগোশটা নিয়ে চলে যাচ্ছে ট্যাক্স হিসেবে। এক কথায় জোর যার মুল্লুক তার।  এখন গ্রীষ্ম কাল। প্রচুর লোকজন হাইকিং এ যায় এসময়, বনের আশেপাশে তাবু খাটিয়ে রাত কাটায়। এটা সস্তা ও রোমান্টিক। কয়েক দিন আগে আলতাই এলাকায় এক ভালুক এরকম এক তাবু থেকে এক মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। তার বন্ধু ও সঙ্গীরা অনেক চেষ্টা করেও মেয়েটিকে রক্ষা করতে পারেনি। পরে তার উচ্ছিষ্ট পাওয়া গেছে বনের ভেতর। রাশিয়ায় বন্য জীবজন্তু শিকারের ব্যপারে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আছে। ফলে ভালুকের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। তবে এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ কিছু লাইসেন্স দিতে শুরু করেছে। আর যে ভালুকটি মানুষ হত্যা করেছে সেটা ধর...

রিপু

Image
  মানুষ প্রতিনিয়ত কাম-ক্রোধ-লোভ-মোহ-মদ-মাৎসর্য  দ্বারা আক্রান্ত। কোনটি সব চেয়ে বেশি ভয়ংকর? এরকম প্রশ্ন প্রায়ই শোনা যায়।  আমার মনে হয় প্রশ্নটি যথাযথ নয়।‌ কারণ যে দোষগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার কোনটাই  অপ্রয়োজনীয় নয়, সব দরকারি, তবে সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবহারে। কাম না থাকলে কি ভালোবাসা এই রকম থাকত? ধর্ষকের কাম আর প্রেমিক প্রেমিকার কাম এক নয়। ক্রোধ শুধু বিপদ ডেকে আনে না, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে সাহস যোগায়। লোভ তো শুধু অন্যায় ভাবে অন্যেরটা দখল করা নয়, কোন কিছু অর্জন করতে মানুষকে কর্মঠ করে তোলে। আসলে অসময়ে ব্যবহার বিপদ ডেকে আনে, সময়ে আনন্দ ও সাফল্য। এসবই মানব চরিত্রের সহজাত উপাদান। সঠিক ও সুচিন্তিত ব্যবহারে এসবই মানব সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার চালিকা শক্তি।  উল্টো উদাহরণ কম নেই। যেমন ক্ষমা মহৎ গুণ। কিন্তু যাকে শাস্তি দেওয়া ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য তাকে ক্ষমা করলে শুধু নিজেকে নয়, জাতিকে পস্তাতে হয়। এমন উদাহরণ ইতিহাসে ভুঁড়ি ভুঁড়ি। আসলে যা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি তা ভালো বা মন্দ হয় অপব্যবহারে।  দুবনা, ২২ আগস্ট ২০২৬

বিদ্যুৎ

Image
ফেসবুকে দেখলাম বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য বর্তমান সরকার স্বৈরাচারকে দায়ী করছে। শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশে দুর্নীতি, মৌলবাদ, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা এসব আগাছার বাম্পার ফলন যে হয়েছিল তাতে সন্দেহ নেই, তবে সেই সাথে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন কম হয়নি। সেই আমলের অনেকেই টাকা পয়সা বিদেশে পাচার করলেও বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অন্যান্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার তো দেশেই রয়ে গেছে। আর সেসব অকেজো হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। নিজেদের ব্যর্থতার দোষ অন্যের কাঁধে চাপিয়ে কিছু সময় পার করে দেয়া যায় কিন্তু তাতে সমস্যার সমাধান হয় না। আর সরকার যদি দীর্ঘদিন এসব সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয় তখন সেটা আর স্বৈরাচারের ঘাড়ে চাপানো যাবে না। প্রতিটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে আগের সরকারের ব্যর্থতার কাঁধে ভর করে সেই সব ব্যর্থতা দূর করে জনগণকে সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে রাখতে। কিন্তু জনজীবনের সাধারণ দাবি মেটাতে ব্যর্থ হয়ে সেই দোষ পূর্ববর্তী সরকারের কাঁধে চাপানোই যদি সরকারের একমাত্র যোগ্যতা হয় তাহলে সেই সরকার নিয়ে জনগণের কি লাভ হবে? ব্যর্থতা ঢাকতে স্বৈরাচারী কাঁধ না খুঁজে যোগ্য লোক খুঁজলে আর নিজের কাঁধে দায়িত্ব নেবার স...

চেতনা

Image
গতকাল মস্কো এসেছিলাম বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত শোক দিবসে অংশগ্রহণ করতে। গত বছরও এসেছিলাম। আগে আসা হত না, কারণ আওয়ামী লীগ, ছাত্র লীগ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের বন্ধুদের অনেকেই আমার বক্তব্য ঠিকঠাক হজম করতে পারত না। তবে চব্বিশের পর থেকে পরিস্থিতি বদলে গেছে। প্রতিক্রিয়া হলেও সেটা তাৎক্ষণিক নয়। তাই মন খুলে নিজের কথা বলা যায়।  আমার কথা বলার সুযোগ হয় আওয়ামী লীগের মস্কো শাখার সভাপতি ও আয়োজক বঙ্গবন্ধু পরিষদ রাশিয়া শাখার সভাপতির আগে, তাই ইতিমধ্যে অনেকের বক্তব্য শোনার সুযোগ হয়। ফলে আমার বক্তব্য সেসব কথার প্রেক্ষিতেই বলি।  খেয়াল করলাম আমরা সবাই একটা কাঁধ খুঁজি নিজের ব্যর্থতার বোঝা চাপিয়ে দেবার জন্য। ঈশ্বরের পর সেই গুরু দায়িত্ব পালন করে আমেরিকা। দেশের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী ভার্সনে তা বিএনপি, জামায়াত ও অন্যরা। আমরা ভুলে যাই যে কোন বিরোধী দলের কাজ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা। তারা সে কাজে সফল হয় সরকারের ব্যর্থতাকে ব্যবহার করেই। এই ব্যর্থতা শুধু চব্বিশের নয়, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিবেশ বিষাক্ত করে, মৌলবাদীদের তোষণ করে আওয়ামী লীগ নিজেই নিজেকে এই অবস্থায় নামিয়ে এনেছে। ...

মহীরুহ

Image
শুধু বাংলাদেশ বা উপমহাদেশই নয়, সমগ্র বিশ্বই বর্তমানে এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। এর নাম অতীত অস্বীকার করা, অতীত মুছে ফেলা। যদিও হাজারো চেষ্টা করেও অতীত মুছে ফেলা যায় না, আমাদের বর্তমানই অতীতের সাক্ষ্য হয়ে অতীতকে জীবন্ত করে তোলে, তারপরেও অতীতকে ভুলিয়ে দেয়ার বৃথা চেষ্টায় আমরা শুধু সময় নষ্টই করি না, এক ছিন্নমূল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলি। পরগাছা যেমন গাছ শুষে গাছের সাথে একদিন নিজেও শুকিয়ে যায়, ছিন্নমূল প্রজন্ম তেমনি দেশকে শোষণ করে একদিন দেশ হারিয়ে ফেলে। একজন মানুষ চাইলেই যেমন তার শৈশব, যৌবন, সাফল্য, ব্যর্থতা কোন কিছুই বাদ দিয়ে বর্তমানে পৌঁছুতে পারে না, একটি দেশ ও জাতিও ঠিক তাই।  পঁচাত্তরের পর শেখ মুজিবের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। পেরেছে কি? অথবা বিগত সরকারের আমলে জিয়ার নাম? এরকম হাজার হাজার মানুষের নাম, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে, পরবর্তী পর্যায়ে দেশ গড়তে বা ভাঙতে অবদান রেখেছে, তা সে শেখ মুজিবুর রহমান হোক, জিয়াউর রহমান হোক, খন্দকার মোস্তাক, ডঃ ইউনুস বা যেই হোক - কেউ চাক আর না চাক, এই ভূমির ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে থাকবে। মীর মদন, মীর মোহন বা মীর জাফর - এদের...

সোনায় সোহাগা

Image
ফেসবুকে এক বিজ্ঞানীর সাক্ষাৎকার শুনলাম। মাদ্রাসা ছাত্র এই বিজ্ঞানী বলতে গেলে প্রায় বিনা খরচে বিদ্যুৎ খনি আবিষ্কার করছে যার উৎস মাধ্যাকর্ষণ শক্তি। যদিও তার অনেক ভাবনা প্রথাগত পদার্থবিজ্ঞানের সাথে যায় না, তার পরেও এতে কিছু পজিটিভ দিক আছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী সে কোরআন থেকে এই তত্ত্ব আবিষ্কার করেছে। শুধু তাই নয় পদার্থবিজ্ঞানের এরকম শত শত তত্ত্ব সেখানে আছে। যদি তাই হয় তাহলে বলতেই হবে ধর্ম প্রচারক ও ধর্ম ব্যবসায়ীরা যারা কথায় কথায় কোরআনের উদ্ধৃতি দেয় তারা সঠিক মনোযোগ দিয়ে তা পড়ে না। আর যেহেতু বিজ্ঞান মানেই প্রশ্ন করা তাহলে কোরআন নিয়ে নতুন করে গবেষণার সুযোগ আছে। এটা নিঃসন্দেহে পজিটিভ দিক। দ্বিতীয় যে বিষয়টি আমার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে তা হল ২০১১ সালের একটি ঘটনা। সেবার আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান ও গণিত গবেষণা কেন্দ্রে প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলামের আমন্ত্রণে কসমোলজির উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করি। পরে আমরা যখন লাঞ্চ করছিলাম স্যারের এক ছাত্রী বেশ জোরের সাথেই বলল, "স্যার, ডঃ সাহা যা বললেন সবই তো কোরআনে লেখা আছে।" বাংলাদেশের একটি নামকরা ইনস্টিটিউটে একজন বিশ্বখ্যাত গবেষ...

নদী

Image
হেরাক্লিটাস খ্রিষ্টপূর্ব ৬-৫ শতাব্দীতে বলেছেন এক নদীতে দুইবার প্রবেশ করা সম্ভব নয়। এখন অবশ্য বিজ্ঞান প্রযুক্তির যুগ। ইউরোপের রাজনীতিবিদরা হেরাক্লিটাসকে মিথ্যা প্রমাণ করতে বদ্ধপরিকর। ইউরোপ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। পোল্যান্ড, জার্মানি - উভয়েই ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তোলার।  মনে পড়ল সোভিয়েত ইউনিয়নের কথা। আমেরিকা যুদ্ধ করেনি সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে, অন্ততঃ সম্মুখ সমরে নামেনি। কিন্তু অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নামিয়ে সোভিয়েত অর্থনীতির লাল বাতি জ্বালিয়ে দিয়েছিল। কোন গুলি খরচ না করেই আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্ব সেই ঠান্ডা লড়াইয়ে জিতে গেছিল বা সোভিয়েত ইউনিয়নকে বাধ্য করেছিল যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করতে। আজ ইউরোপ নিজেদের উদ্যোগেই অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে। অর্থনীতি যখন নড়বড়ে তখন সামরিক খাতে এই ব্যাপক ব্যয় শেষ পর্যন্ত ইউরোপকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পরিণতি গ্রহণে বাধ্য না করে। ইউরোপ অনেক দিন ধরেই বিভিন্ন প্রশ্নে সোভিয়েত ইউনিয়নকে অনুসরণ করছিল। জনগণের মঙ্গলের চেয়েও অন্ধ ভাবে আদর্শ অনুসরণ করা, বিরোধী মতকে দাবিয়ে রাখা ( ভুল শোনেননি, রোমানিয়া, মালদোভা ও অন্য...

জনগণ

Image
ইউরোপের প্রায় প্রতিটি দেশে অর্থনৈতিক মন্দা। তার অন্যতম প্রধান কারণ হল বিগত প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে ইউরোপের অর্থনীতির লোকোমোটিভ ছিল জার্মানি যার উন্নয়নের মূলে ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ার সস্তা তেল, গ্যাস। ইউরো প্রবর্তনের পর তা যখন ডলারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় আমেরিকা চেষ্টা করেছে জার্মানিকে রাশিয়ার পাইপ লাইন থেকে সরিয়ে নিতে। সেটাই ইউক্রেন যুদ্ধের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ। এরপর থেকে শুরু হয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা। এমনকি ফিনল্যান্ড ন্যাটোয় যোগ দিয়ে রাশিয়া সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। এখন বাল্টিকের দেশগুলো, ফিনল্যান্ড, জার্মানি সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাড়ছে বেকারত্ব, বাড়ছে রুশ বিরোধী মনোভাব। পাকিস্তান, বাংলাদেশ যেমন ভারত বিরোধী রাজনীতি দিয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে, ইউরোপ আজ সে পথেই হাঁটছে। আগে আমরা আমাদের দেশের সরকারের জনবিরোধী নীতির জন্য ইউরোপের কাছে অভিযোগ করতাম, আজ ইউরোপ যখন আমাদের অনুসরণ করছে তখন কপালের দোষ দেয়া ছাড়া আর কিইবা করতে পারে জনগণ। এই যে হামে শত শত শিশু মারা যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে তারপরেও সরকারের নীর...

ন্যায়ের জন্য লড়াই

Image
ছাত্রলীগ সন্দেহে ১৫ বছরের এক ছেলেকে শহীদ মিনারে ফাঁসিতে ঝোলানোর ছবি ও খবর দেখলাম। জানি না ছেলেটি ছাত্রলীগ করত কি না আর করলেই বা কি? কারোও আদর্শগত অবস্থান তাকে হত্যার কারণ হতে পারে না। মনে পড়ল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের কথা। সেখানে সব শহীদ ছাত্র ছিল না। কিন্তু সেই প্রশ্ন কেউ তোলেনি। সারা দেশ সেই হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে।  অথবা চব্বিশের জুলাই আগস্টে কেউ বিক্ষোভ মিছিলে মৃতদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করেনি। সেই মৃত্যুর প্রতিবাদ করেছে। যার ফল সরকারের পতন।  আশ্চর্যের বিষয় হল শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে যখন মৃত্যুর মিছিল শুরু হল, বিভিন্ন অজুহাতে যখন ভিন্ন মতাবলম্বী মানুষকে হত্যা করা শুরু হল মৃত্যুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এই জনগণই সব হজম করতে শুরু করল।  অনেক দিন পরে এই সেদিন বিউটি পালের ঘটনায় বাংলাদেশের মানুষ এক হয়েছিল। এটা প্রমাণ করে যে এক হলে যেকোনো বাঁধা আমরা অতিক্রম করতে পারি। ইতিহাস বারবার সেই স্বাক্ষ্য দিয়েছে। তবে সেটা হতে হবে প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত। বেছে বেছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায় না, সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় প্রতিবাদ কর...

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

Image
খেলাধুলা বিশেষ করে ম্যারাথন রেসে প্রায়ই দেখা যায় প্রতিযোগী ফিনিশ লাইন ক্রস করে মুখ থুবড়ে পড়ে যায়। লক্ষ্য অর্জন হয় কিন্তু তার মূল্য চুকাতে হয় প্রাণ বা স্বাস্থ্যের বিনিময়ে।  ভাষা আন্দোলন বা একাত্তর পূর্ববর্তী সমস্ত আন্দোলন বাদ দিলে আমাদের সমস্ত আন্দোলন ও গণ অভ্যুত্থানের পরিণতি অনেকটাই এরকম। স্বাধীনতা অর্জিত হলেও আমরা মানুষের আকাঙ্ক্ষার দেশ গড়তে পারিনি নেতৃত্বের কারণেই। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বিজয়ী হলেও গণতন্ত্র আসেনি রাজনৈতিক দলগুলোর নেত্রীদের কারণে। গণতন্ত্রের চেয়ে ক্ষমতাই বেশি লোভনীয় ও কাম্য হয়ে ওঠায় মানুষ আবারো গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত হয়। শাহবাগ আন্দোলনে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি হলেও ভোটের হিসাব নিকাশে স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে আঁতাত করে তৎকালীন সরকার। আপাত সফল শাহবাগ আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, এর এক্টিভিস্টদের জীবন হয় ঝুঁকিপূর্ণ। চব্বিশের আন্দোলনে এক স্বৈরাচারের পতন আরেক স্বৈরাচারের জন্ম দেয়। জনগণ শুধু স্বাধীনতার ইতিহাসকেই হারায় না, হারায় স্বাধীনতা।  বাংলাদেশ উত্তাল সাগরে কান্ডারি হীন বিশাল নৌকা যার জনগণ বৈঠা হাতে অনবরত লড়াই করে যাচ্ছে তাণ্ডবের বিরুদ্ধে কিন্...

বৈষম্য

Image
বাংলাদেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের কথা, বাকস্বাধীনতার কথা বলে কিন্তু যখনই কারোও বাকস্বাধীনতা তাদের স্বার্থে আঘাত করে তখন তারা স্বৈরাচারী হতেও এতটুকু পিছপা হয় না। এ যেন জঙ্গলের শাসন। আইনের অপব্যবহার করে হোক আর গায়ের জোরে হোক নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। তাদের গণতন্ত্র দলদাস, যা তাদের ও দলের জন্য লাভজনক সেটাই গণতন্ত্র। বাংলাদেশে মিথ্যা মামলায় অনেকেই আটক আছে, আরও বেশি মানুষ তাদের পদ পদবী হারিয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি আজ প্রশ্নবিদ্ধ। এমতাবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ও স্বনামধন্য লেখক কাবেরী গায়েন সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হাস্যকর অভিযোগ তুলে তাদের ভবিষ্যৎ যেভাবে অনিশ্চিত করে তোলা হচ্ছে, তা শুধু কয়েক জন সচেতন নাগরিকের নয়, দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিয়তার পথে ঠেলে দেবে। আমরা কবে প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের মত আচরণ করব? দুবনা, ০৪ আগস্ট ২০২৬

ঠিক বেঠিক

Image
পরস্পর নির্ভরশীল এই বিশ্বে কারো ভালো বা মন্দ না করে কিছুই করা যায় না। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশ্বায়নের পর প্রতিটি মানুষের প্রতিটি কাজ কারো না কারো জন্য লাভজনক বা ক্ষতিকর হয়। আর যদি এসব লোক সামাজিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে তো কথাই নেই। এটা মেনেই আমাদের চলতে হবে, এটা মেনেই নিজের কাজ করতে হবে, নিজের কথা বলতে হবে। বড়লোক মালিক আরও বড়লোক হবে এই যুক্তিতে শ্রমিক যদি মালিকের জন্য কাজ করতে না চায় মালিকের আগে সেই মারা যাবে।  তসলিমা নাসরিন কোলকাতায় এসেছেন। বিজেপি সরকার এখন ক্ষমতায় বিধায় অনেকেই বলছে তিনি মৌলবাদ এন্ডোর্স করছেন। হয়তো বিজেপি এ ঘটনাকে তার নিজের রাজনৈতিক কাজে লাগাবে। কিন্তু এত বছর নির্বাসনে থেকে দেশে না হলেও নিজস্ব ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে আসতে পারা - একজন মানুষের জীবনে এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে তিনি যদি নির্বাসিত হন। তাছাড়া নিজের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন কৃতজ্ঞতা স্বীকার বা আমন্ত্রণ গ্রহণ মানে আনুগত্য নয়। আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রথিতযশা লোকজন কোন সরকারের আমলেই তাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে গিয়ে দ্বিমত প্রকাশ করার সাহস বা সুযোগ কোনটা...

শিক্ষা

Image
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হল অন্যের সুখে, অন্যের আনন্দে জ্বলে পুড়ে ছারখার হওয়া মানে পরশ্রীকাতরতা, অনেক ক্ষেত্রে তা পরস্ত্রীকাতরতার রূপ নেয়। এটা আজ সংক্রামক ব্যাধি। নিজের বা নিজেদের বাইরে কেউ সফল হোক, সুখে থাকুক এটা আমরা সহ্য করতে পারি না। এই যে আমরা অন্যের ভালো দেখতে পারি না তাতে কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা হবে? ক্ষমতা থাকলে আমরা যে কোন দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নতি রহিত করতাম। আর তা যদি হত তাহলে কোথায় থাকত আজকের সমস্ত সুযোগ সুবিধা? এই সুযোগ কিন্তু সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে তারাই যারা অনবরত উন্নয়নের বিরুদ্ধে কথা বলে। এই যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন এর পেছনে কি রয়েছে? না, শুধু পুঁজিপতিদের অর্থ নয়, এর পেছনে প্রধানত আছে বিজ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা, রয়েছে মুক্তচিন্তা, রয়েছে প্রচলিত বিশ্বাসে অবিশ্বাস। তা যদি না থাকত এখনও আমরা মধ্য যুগেই বা প্রস্তর যুগেই পড়ে থাকতাম। আধুনিক শিক্ষার মূল কথা চিন্তার স্বাধীনতা। এখানেই আমাদের আপত্তি। শুনেছি বেশি করে বিল ওঠানোর জন্য অনেক সময় রোগিদের অকারণে, এমনকি মৃত্যুর পথেও আইসিইউতে রাখা হয়। মনে হয় দেশেও মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে অশিক্ষা ...

সমান্তরাল

Image
ইউরোপ, আমেরিকার অনেক রাজনীতিবিদ রাশিয়া ভেঙে কয়েক টুকরো করার স্বপ্ন দেখে। এদের কাণ্ডকারখানা দেখে আমার চব্বিশের জুলাইয়ে বামপন্থীদের কথা মনে হয়। ঐ সময় বামপন্থী ছাড়া সবাই জানত হাসিনাকে অসাংবিধানিক ভাবে ক্ষমতাচ্যুত করলে ক্ষমতা দখল করবে জামায়াত। যদি ১৯৯১ সালে রাশিয়া ভাঙত তখন এর বিভিন্ন অঞ্চলে পশ্চিমা অনুগত শাসন কায়েমের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু নব্বইয়ের দশকে এই রাজনীতি নিজেদের এমনভাবে কম্প্রোমাইজ করেছে যে এখন তাদের অনুসারীদের এদেশে হ্যারিকেন দিয়ে খুঁজতে হয়। তাছাড়া সে সময় চীন ছিল দুর্বল। আজকের চীন, চীনের প্রতি এদেশের মানুষের মনোভাব থেকে বলা যায় যে এমনকি হাইপোথেটিক্যালি রাশিয়া যদি ভাঙেও তার বিশাল অংশ বিশেষ করে প্রাকৃতিক সম্পদে ধনবান সাইবেরিয়া যাবে চীনের দখলে। এতে করে পশ্চিমা বিশ্ব আরও শক্তিশালী শত্রু পাবে ঠিক যেমন বামপন্থীরা পেয়েছে জামাতকে। দুবনা, ৩০ জুলাই ২০২৬

কেন লিখি

Image
পেশাগত জীবনে পদার্থবিদ বলে কেন প্রশ্নটি আমার নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে। তবে লেখা যেহেতু পেশা নয় তাই কখনই সেভাবে ভাবা হয়নি কেন লিখি। এখন লিখতে বসে বিভিন্ন ঘটনা মনে আসছে। তাই ঠিক অজুহাত নয়, বরং নিজের জানার জন্যই লিখব কেন লিখি। কেন প্রশ্নটি আমার মনে গেঁথে গেছে স্কুল জীবনে। খুব সম্ভবত ধর্ম বইয়ে পড়েছিলাম এরকম কিছু কথা “আমি কে? কেন জন্ম? কিসে বা কল্যাণ? এইরূপ প্রশ্ন করি লভ তত্ত্ব জ্ঞান-” এরপর থেকেই জানার বা প্রশ্ন করার আগ্রহ বেড়েছে, তবে নিজেকে এখনও শেষ পর্যন্ত জানা হয়নি। কোন কিছু পেশা হলে সহজেই উত্তর দেয়া যায় যে এটা আমার জীবিকা। কিন্তু কোন কাজ যদি পেশা না হয়ে শখ বা হবি হয় তখন? ব্যক্তিগত জীবনে আমি শুধু সেটাই করি যা করতে আমার ভাল লাগে। আর যদি কখনও এমন কিছু করতে হয় যা আমার ঠিক পছন্দের নয় তাহলে তা উপভোগ করার চেষ্টা করি, চেষ্টা করি সেখান থেকেও কিছু শিখতে, কিছু জানতে। আর এটা শুধু লেখা নয়, জীবনের সব ক্ষেত্রেই। ২০০৯ সালে প্রথম এই ধরণের প্রশ্নের সম্মুখীন হই। তখন আমার ছবি প্রদর্শনী চলছিল দুবনায়। “আমাদের শিশুরা” নামে এই প্রদর্শনীতে আমার ছেলেমেয়েদের, ওদের বন্ধুদের আর আমাদের বন্ধুদের ছেলেমেয়েদের ছবি ছ...

এপ্রিল থিসিস

Image
অনেক আগে, যখন ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম এবং সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে সমাজ বদলের একমাত্র উপায় হিসেবে মনে করতাম তখন এপ্রিল থিসিস নিয়ে নিজেদের মধ্যে অনেক কথাবার্তা হত। সেখানে মূল বাণী ছিল সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া। "আজ খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কাল অনেক দেরী হয়ে যাবে" লেনিনের সেই অমর বাণী ছিল এপ্রিল থিসিসের মূল উপাত্ত।  চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যখন ডঃ ইউনুসের মবের রাজত্বে একাত্তরের অর্জনগুলো একে একে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল তখন আমার মত অনেকেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বাম জোটের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিল। কিন্তু দেশের সেই দুর্যোগেও আওয়ামী স্বৈরাচারের সাথে হাত মিলিয়ে লড়াই করার কথা বামপন্থীরা আমলে নেয়নি বরং যারা এটা বলেছে তাদের স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে ট্যাগ করেছে। এখন ফেসবুকে বামপন্থী নেতাদের স্বাধীনতার পক্ষের সমস্ত শক্তির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান দেখে এপ্রিল থিসিসের কথা মনে পড়ে গেল। রুশরা বলে দুর্যোগ একা আসে না। মনে হয় ভুলও একা আসে না। ভুল আসে দল বেঁধে। তাই মানুষ একের পর এক ভুল করে যায়।  প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ...

মূষিক

Image
ছোটবেলায় এরকম একটি গল্প পড়েছিলাম। এক মুনির আশ্রমে এক মূষিক মানে ইঁদুর বাস করত। একদিন সে মুনিকে বলল যে বিড়ালকে তার বড্ড ভয়। মুনি তাকে বিড়াল বানিয়ে দিলে জীবনটা নির্ভয় হয়। কি আর করা। মুনি তাকে বিড়াল বানিয়ে দিলেন। এরপর একদিন সে কুকুরের ভয়ে ঘুমুতে পারে না জানালে মুনি ওকে কুকুরের রূপ দিলেন। কিন্তু নেকড়ের উৎপাতে কুকুরের নাভিশ্বাস উঠলে মুনি তাকে নেকড়ে বানিয়ে দিলেন। এরপর বাঘের ভয় থেকে রেহাই পেতে নেকড়ে বাঘ হল। কিন্তু সিংহের হাত থেকে বাঘকে বাঁচাবে কে? তাই মুনি তাকে সিংহের রূপ দিলেন। সিংহ রূপী ইঁদুর ভাবল সে সবচেয়ে শক্তিশালী। মুনি ছাড়া আর কেউ জানে না তার অতীত কাহিনী। তাই সে মুনিকে হত্যা করতে উদ্যত হল। মুনিও মন্ত্রবলে সিংহকে আবার ইঁদুরে পরিণত করলেন। জেলেনস্কি হল সেই মূষিক যাকে পশ্চিমা বিশ্ব সিংহ বানিয়েছে। তবে মুনির মত অলৌকিক শক্তি বা ইচ্ছে তাদের নেই, ফলে জেলেনস্কি সিংহের মত তর্জন গর্জন করে পশ্চিমা বিশ্বের নেতাদের বাধ্য করছে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সাহায্য করতে। যুদ্ধ এখন তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার একমাত্র উপায়। নিরূপায় কিন্তু অন্তহীন চাহি...

ইগো

Image
ইউরোপ জ্বলছে। জ্বলছে দাবানলে আর নিজেদের অন্ধ রুশ বিরোধিতার আগুনে। গ্রীষ্মে দাবানল অনেকটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। তবে তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে এর প্রকোপ। যেহেতু রাশিয়াকে সবসময়ই বন্যা আর অগ্নিকাণ্ড মোকাবেলা করতে হয় তাই এখানে এসবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী ও করিৎকর্মা। আগে বিভিন্ন সময় রাশিয়ার অগ্নিনির্বাপক বাহিনী ইউরোপকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত। এমনকি ইউরোপের অনেক দেশের পার্কেই রাশিয়ান অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টার আছে। ফ্রান্স ইতিমধ্যে দুই লাখের বেশি লোক স্থানান্তরিত করেছে, স্পেনেও সংখ্যাটি কাছাকাছি। এক সপ্তাহের উপর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। পুড়ছে গ্রাম, পুড়ছে শহর। রুশ হেলিকপ্টারগুলো পড়ে আছে। কিন্তু নিজেদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে তা ব্যবহার করতে পারছে না।  দেশে কাউকে পথে বসাতে চাইলে বলে তোমার ঘরে মামলা পড়ুক। ইউরোপ মামলা নয়, আমলা দ্বারা আক্রান্ত। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আমলারা, যারা কোন দেশের মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়, নিজেদের ইউটোপিয়ান আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য একটা সভ্যতাকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। হায়রে আভিজাত্যের বরাই! দুবনা, ২৭ জুল...

দেয়াল

Image
যেকোনো ইমারতে বিভিন্ন দেয়াল থাকে। কতগুলো ভারবাহী দেয়াল যার উপর সমস্ত দালান দাঁড়িয়ে থাকে। এগুলোয় হাত দেয়া নিষেধ। ঘরের প্ল্যানিং এ কোন পরিবর্তন আনতে হলে এদের অস্তিত্ব অপরিবর্তিত রেখেই করতে হবে। দেশের ক্ষেত্রে এসব দেয়াল হল সংবিধানের মূলনীতি যা রাষ্ট্রের চরিত্র প্রকাশ করে, স্বাধীন বিচার বিভাগ যা সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থা যা জনগণের মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করে। রাজনৈতিক দলগুলো এক্ষেত্রে দরোজা, জানালা বা সেই সব দেয়াল যা প্রয়োজনে সরানো যায়। যে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এসব মেনে চলে, রাষ্ট্রের ভারবহনকারী দেয়ালগুলো অক্ষত রাখে সেখানে সাধারণত অসাংবিধানিক পথে সরকার পরিবর্তন হয় না। এমনকি সরকার অসময়ে আস্থা হারালে নির্বাচনের মাধ্যমেই নতুন সরকার আসে। জনগণ নিজেদের হাতে ক্ষমতা তুলে নেয় না। কিন্তু যখন রাজনৈতিক দলগুলো অসাংবিধানিক পথে সরকার পরিবর্তনের পথে যায় তখন তারা নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মারে। উপমহাদেশে এসব হরহামেশাই দেখা যায়। ব্যবহারের প্রকারভেদে দেয়াল শুধু শত্রুর হাত থেকে রক্ষাই করে না, দেয়াল মুক্তচিন্তার পথেও বাঁধা হয়ে দাঁড়া...

ডিলেমা

Image
বৃটেন ও জার্মানি ঘোষণা করল যে ২০৩৫ সালের মধ্যে তারা নিজস্ব ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে যা দিয়ে মস্কো তো বটেই এমনকি উড়াল এলাকার শহরগুলোতে লন্ডন ও বার্লিন থেকে সরাসরি আঘাত হানা যাবে। এই সংবাদের প্রেক্ষিতে রাশিয়ার উত্তর কী হতে পারে? তাদের নির্বিঘ্নে মিসাইল ডেভেলপ করতে দেয়া ও আঘাত না করা পর্যন্ত হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা? নাকি আমেরিকা ও ইসরাইলের মত প্রিভেন্টিভ আঘাত হানা বা সতর্ক করে দেয়া যে যেহেতু রাশিয়াকে আক্রমণ করার জন্যই মিসাইল তৈরি হচ্ছে তাই রাশিয়া প্রয়োজনে এসব দেশের উপর সমস্ত শক্তি ব্যবহার করে আঘাত হানতে দ্বিধা করবে না? এসব কথা বৃটেন ও জার্মানি বলছে রাশিয়াকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার পক্ষে জনমত তৈরি করার জন্য। রাশিয়ার হুঁশিয়ারি একদিকে যেমন সেই আগুনে ঘি ঢালতে পারে অন্যদিকে এসব দেশের জনগণের মধ্যে যুদ্ধ বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে। সেদিক থেকে এই ঘোষণা খুব বেশি ক্ষতিকর হবে বলে মনে হয় না। যতক্ষণ পর্যন্ত না মানুষের নিজের ঘরে যুদ্ধ ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে এসব খুব একটা গুরুত্ব দেয় না। দুবনা, ২১ জুলাই ২০২৬

বারবিকিউ

Image
এবছর প্রথম বারের মত পিকনিকে গেলাম। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে যে সাংস্কৃতিক টিম গড়ে উঠেছিল ওদের নিয়ে বসার তাগিদ গ্রীষ্মের শুরু থেকেই ছিল। তবে ছাত্রদের পরীক্ষা জনিত ব্যস্ততায় এতদিন সম্ভব হয়নি। বলতে গেলে মাত্র তিন দিনের নোটিশে এই আয়োজন। তাই অনেকেই আসতে পারেনি। আসলে ছুটির সময়, যখন অনেকেই বাইরে থাকে বা নিজের নিজের কাজে ব্যস্ত থাকে তখন একই দিনে সবাইকে জড়ো করা প্রায় অসম্ভব। তাই আগস্টে আবার বসার আশা রেখে আজকের এই বসা।  বসেছিলাম বারিসভস্কি প্রুদে। মস্কোর ভেতরে হওয়ায় মেট্রো, বাস মানে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাওয়া যায়। এমনিতে ফ্রি, তবে বারবিকিউ করতে হলে বসার জায়গা, চুল্লি এসব ভাড়া করতে হয়। খুব সস্তায় বলা যায়।  আয়োজন ছিল চমৎকার। এজন্য উপস্থিত সবাইকে বিশেষ আয়োজক রাজীব, দীপ, রাজশ্রী, প্রান্ত সহ সবাইকে ধন্যবাদ। ওদের কাজের আগ্রহ, উদ্দীপনা দেখে মনে হয় মস্কোয় এখনও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা সম্ভব।  দুবনা ফিরতে হচ্ছে বলে শেষ পর্যন্ত থাকা হয়নি। তবে যেটুকু ছিলাম সেটুকু প্রচন্ড উপভোগ করেছি। দুবনার পথে, ১৯ জুলাই ২০২৬ ...

সাব

Image
সত্তরের দশকের শেষ ও আশির দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে লেখাপড়া শেষ করে দেশে ফেরার পর ভিপুস্কনিকরা চাকরি ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হয়।‌এসব সমস্যার অন্যতম প্রধান ছিল ডিগ্রির মান ও স্বীকৃতি। অন্যান্য অনেক কিছুর পাশাপাশি এই সমস্যা সমাধানের প্রয়াসে প্রায় ৪৫ বছর আগে সাব তার যাত্রা শুরু করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন আজ কেবলই স্মৃতি। তবে সোভিয়েত ও রুশ গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি মনোভাব এখনও প্রায় আগের মতই আছে। ফলে সাবের গুরুত্ব আগের চেয়ে বরং বেড়েছে। বলাই বাহুল্য বাংলাদেশ যে রাজনৈতিক পথে চলছে তাতে সোভিয়েত ও রুশ ভিপুস্কনিকদের সমস্যা বাড়বে বই কমবে না। এমতাবস্থায় নতুন কমিটি ডিগ্রির সমমান নিশ্চিত করতে, রাশিয়া ফেরৎ নবীন বিশেষজ্ঞদের দেশীয় পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে, ভিপুস্কনিকদের রুশ ভিসা পেতে সহযোগিতার করতে উদ্যোগী হবে সেটাই আশা করি। আর এসব করার জন্য সাবকে একটি আধুনিক, গতিশীল সংগঠনে পরিণত হতে হবে যা হবে ভিপুস্কনিকদের ট্রেড ইউনিয়ন। সাব যে শুধু পিকনিক বা পিঠে পার্টি নয়, বরং ভিপুস্কনিকদের অধিকার আদায়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে নতুন কমিটি কাজের মাধ্...

কেন ভোট দেবেন?

Image
প্রার্থীরা নিজেরা ও তাদের সমর্থকরা প্রার্থীদের এমন এক নিষ্কলুষ চরিত্র উপস্থাপন করছে যে সমস্ত দায়িত্ব ঠিকমত পালন করার পরেও তাদের কাজে খুঁত ধরতে সবাই মুখিয়ে থাকবে। আমরা বাঙালিরা সবসময়ই পরশ্রীকাতর আবার একই সাথে নিজ নিজ নেতাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। দেশে তো স্বৈরাচারী শাসক, স্বৈরাচারী নেতা গাছ থেকে পড়ে না, আমরাই রোপণ করি। তবে যদি ধরে নেই যে আমাদের প্রার্থীরা আদতেই ভুলত্রুটি মুক্ত, তাহলে এখনই সুবর্ণ সুযোগ এদের নিষ্কলুষ চরিত্রে কিছুটা হলেও ব্যর্থতার কালিমা লেপে দেবার। তাই সবার কাছে উদাত্ত আহ্বান আসুন ডঃ মোস্তফা আবিদ খান, স্থপতি তানিয়া আতিক, ডাঃ খায়রুন্নেসা আমিন লিপি, ডঃ গণেশ চন্দ্র রায়, ডাঃ হামিদা মাইদার, ডাঃ সাকী খন্দকার, ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রাজ্জাককে ভোট দিয়ে তাদের সাধারণ মানুষের কাতারে আসতে সাহায্য করি, মানে তাদের অতিমানবীয় চরিত্রে ভুলের ছোঁয়া দিয়ে মানবিক হতে অবদান রাখি।  এক নদীতে যেমন দুইবার নামা যায় না তেমনি ওয়াঞ্চ টেস্টেড কান্ট বি অলোয়েজ ট্রাস্টেড। তবে সেই শ্যাম্পেন খায় যে রিস্ক নেয়। তাই --- ভোট দিন। প্রার্থীদের সিভিকে মানবিক হতে সাহায্য করুন। দুবনা, ১৬ জুলাই ২০২৬ ...

সবার জন্য ভোট

Image
সাবের নির্বাচন হচ্ছে। সাব যে আমাদের পেশাগত জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা নয়। তবে সাব সোভিয়েত ও রুশ (সিআইএস বলছি না, কারণ সোভিয়েত ইউনিয়নে আমাদের শিক্ষার ভাষা ছিল রুশ, এখন অন্যান্য দেশ নিজ নিজ ভাষায় লেখাপড়া শেখায়। তাই ইউক্রেন বাদ দিলেও, এমনকি কাজাখস্তান বা আজারবাইজানের ভিপুস্কনিকদের সাথে আজকের রাশিয়ার ভিপুস্কনিকদের কমন ল্যাঙ্গুয়েজ বের করা অসম্ভব না হলেও খুব কঠিন। তাই সাব একসময় রুশ ভিপুস্কনিক সর্বস্ব হবে এটাই স্বাভাবিক) গ্র্যাজুয়েটদের একত্রীকরণের একমাত্র না হলেও অন্যতম প্রধান সংগঠন যা সঠিক নীতি ও কৌশল অবলম্বন করলে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভোটে যেই জিতুক না কেন তারা আমাদের প্রতিনিধিত্ব করবে। তাই তাদের সাফল্য বা ব্যর্থতার দায় আমাদের সবার। আর সেজন্যই আমি চেষ্টা করি এসব নির্বাচনে নিজের মতামত প্রকাশ করতে, ভোট দিতে। আর তাই দাবি করি অনলাইন ভোটের ব্যবস্থার, লোকজনকে বলি ভোট দিতে। এবারও কয়েক জনকে ফোন করলাম। ঢাকার বাইরে অনেকেই যাচ্ছে না। সময়ের অভাব আর ব্যয়বহুল। তাই মনে হয় বেশিসংখ্যক মানুষকে ভোট প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে অনলাইন ভোটের বিকল্প নেই তা সে দেশেই বা...

ভোটের কানা গলি

Image
রুশরা বলে аппетит приходит во время еды. খাওয়ার সাথে সাথে ক্ষুধা বাড়ে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি তত আকর্ষণীয় ও লোভনীয় হয়। এ যেন ভোট নয়, প্রতিশ্রুতি বিক্রির নিলাম। আবার কখনও মনে হয় সেই ছাত্রদের কথা যারা সারা বছর ঘুমিয়ে কাটায় আর পরীক্ষার আগের রাতে সারারাত জেগে পড়ে। এটা অবশ্য প্রার্থী ও ভোটার দুই দলের জন্যই সত্য। ফলে নির্বাচন সবসময়ই রথের মেলা - ক্রেতা আর বিক্রেতার আনন্দ মেলা। অনেক প্রার্থী মনে করে যেন নির্বাচিত না হলে কাজ দেখানোর উপায় নেই। রাশিয়ায় আজকাল অনেক কোম্পানি কাউকে চাকরিতে নেবার আগে সপ্তাহ দুয়েক বিনা বেতনে টেস্ট পেরিওড হিসেবে কাজ করায়। যারা টেকে তাদের চাকরি হয় নাহলে পত্রপাঠ বিদায়। নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এরকম কিছু করতে পারলে মন্দ হয় না। কেমন? যেমন লটারি করে প্রার্থীদের দুই সপ্তাহের জন্য অস্থায়ী সভাপতি করে দেখা নিজ নিজ নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে কে কতটুকু সফল হয়েছে। তাহলে ভোটাররা শুধু কথা শুনে নয়, কাজ দেখে প্রার্থীর যোগ্যতা বিচার করতে পারে। এক্সপেরিমেন্ট করতে সমস্যা কোথায়? তাই বিয়ের পিঁড়িতে বসে যেমন মনে হাজারটা প্রশ্ন জাগে সুখের সংসার নিয়ে,...

বিপদ

Image
ভাড়াটে খুনি দিয়ে শত্রুকে হত্যা করা যায়। কিন্তু খুনি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তাহলে একসময় নিজেরও বিপদে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। পশ্চিমা বিশ্বের মদত পেয়ে ইউক্রেন শুধু রাশিয়ায়ই বিভিন্ন নাশকতামূলক ও সন্ত্রাসী কাজকর্ম চালায়নি নর্ড স্ট্রীমে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে আর সর্বশেষ মোনাকোয় ইউক্রেনের অলিগার্খ এরমালায়েভের প্রাণ নাশের চেষ্টা করেছে। এর সাথে যে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত এ ব্যাপারে শুরু থেকেই কোন সন্দেহ ছিল না। প্রশ্ন হচ্ছে জেলেনস্কি এর পেছনে আছে কিনা? কারণ এরমালায়েভ জেলেনস্কির প্রতিপক্ষ জালুঝনির স্পন্সর। যে মহিলা এরমালায়াভের বাসার ওখানে বিস্ফোরক রাখে সেই বেরেজোভস্কায়া এতগুলো সীমান্ত পেরিয়ে অনায়াসে ইউক্রেনে ফিরে আসে। পরে ইউক্রেনের গুপ্ত বাহিনীর হাতে নিহত হয়। মোনাকো সেই দেশ যেখানে বিভিন্ন দেশের সম্পদশালী লোকজন নিরাপত্তার জন্য বসবাস করে। ইউরোপ যখন ইউক্রেনকে নিজেদের মত গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ভাবে স্বচ্ছল ও মানবিক করতে পারছে না তখন ইউক্রেন ইউরোপকে নিজের মত আইনহীন, অরাজকতা পূর্ণ করে তুলবে এতে আর অবাক হবার কি আছে। সাম্য বলে কথা। প্লিওসের পথে, ১১ জুলাই ২০২৬

প্রশ্ন

Image
ডঃ এ বি এম আবদুল্লাহর নিয়োগ বাতিল নিয়ে ফেসবুক গরম। ফেসবুকের বিভিন্ন জনের স্ট্যাটাস থেকে জানলাম উনি একজন সত্যিকারের ডাক্তার যার কাছে রুগিকে সেবা দেয়া জীবনের লক্ষ্য। ঠিক সেই লক্ষ্য যেটা দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের এক বিরাট অংশ ঘোষণা করে জীবনের লক্ষ্য রচনা লিখতে গিয়ে।  মানুষ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়, তবে যতক্ষণ পর্যন্ত সে বেঁচে থাকে কম হোক আর বেশি হোক তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি থাকে। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের ইমিউনিটি মনে হয় সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তির চেয়েও কম, প্রায় শূন্যের কোঠায়। কেননা সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রায় সমস্ত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। অথচ আইন-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা ব্যবস্থা ও অন্যান্য আমলাতান্ত্রিক বিষয় রাষ্ট্রের ইমিউন সিস্টেম। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে এসব ব্যবস্থা বদলে যাওয়া, আগের সরকারের আমলের নিয়োগ (বেআইনি প্রক্রিয়ায় নয়) বাতিল আসলে এসব প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করে।  যতদূর বুঝি ডঃ আবদুল্লাহ অধ্যাপক হিসেবে শুধু বেতন তুলেন নাই, তিনি এর বিনিময়ে নিজের সময় ও শ্রম দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠান যদি তাঁর কাছে বেতন ফে...

ইঁদুর

Image
ছোটবেলায় সোভিয়েত শিশু সাহিত্যে শালগম (রেপা আসলে শালগম নয়, ঐ জাতীয় একটি সব্জি) তোলার গল্প পড়েছিলাম। পরে বড় হয়ে বাচ্চাদের অনেক বার শুনিয়েছি।  গতকাল এক বন্ধু ফোন করল। বরাবরের মতই কথা হল বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে। ও বামদের অবস্থা সম্পর্কে আমার মতামত জানতে চাইল। তখন অন্যভাবে সেই উত্তর দিলাম। তবে আজ সকালে হঠাৎ শালগমের গল্প মনে পড়ে গেল।  সেই গল্পটি এমন। জমিতে এক বিশাল শালগম হয়েছে। দাদু অনেক চেষ্টা করেও সেটা তুলতে পারলেন না। দাদী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও কোন লাভ হল না। এরপর একে একে নাতনি, কুকুর, বিড়াল এই টানাহেঁচড়ায় যোগ দিয়ে সবাই মিলে শালগম টানতে শুরু করল। কিন্তু শালগম তো নড়েও না, চড়েও না। শেষে এল ইঁদুরছানা। ইঁদুরের টানে শালগমের সিংহাসন কেঁপে উঠল। উঠে এল সে মাটি ভেদ করে। ইঁদুরের শক্তি নগন্য হলেও এখানে সেটাই ছিল নির্ণায়ক। চব্বিশ ও এর পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দল ও অন্যদের ভূমিকা কম-বেশি এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। চব্বিশ পূর্ববর্তী পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী ছিল শালগম। দাদু আওয়ামী লীগ জল ঢেলে ও সার দিয়ে একে বড় করেছে। এতে সেনাবাহিনী যেমন উপকৃত হয়েছে, আওয়ামী লীগ তেমনি নিজ...

বাইশে জুন

Image
গতকাল ছিল ২২ জুন। ১৯৪১ সালের এই দিনে ভোর ৪ টায় হিটলারের জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়নের ব্রেস্তস্কায়া দুর্গ আক্রমণ করে। যদিও জার্মান বিমান বাহিনী সেভাস্তোপোল আক্রমণ করে ভোর ৩.৩০ মিনিটে, যুদ্ধের শুরু ধরা হয় ব্রেস্তস্কায়া দুর্গ আক্রমণের সময় থেকেই। এরপর দীর্ঘ ১৪১৮ দিন চলবে এই যুদ্ধ। ২৭ মিলিয়ন সোভিয়েত নাগরিক প্রাণ দেবে, দীর্ঘ ৯০০ দিন অবরুদ্ধ থাকবে লেনিনগ্রাদ, সোভিয়েত জনগণের বীরত্বের কাছে পরাজিত হবে জার্মানি যা আসলে সম্মিলিত ইউরোপ। ২২ জুন চিরতরে পরিচিত হবে শোকের দিন হিসেবে। এমন কোন সোভিয়েত পরিবার নেই যারা ঐ যুদ্ধে কোন নিকট জনকে হারায়নি। সোভিয়েত মানচিত্রে জন্ম নেবে ১২ টি বীর শহর - মস্কো, লেনিনগ্রাদ, ভোলগাগ্রাদ (স্তালিনগ্রাদ), কিয়েভ, সেভাস্তোপোল, ওদেসা, মিনস্ক, কের্চ, নভরাসিস্ক, তুলা, মুরমানস্ক, স্মলেনস্ক ও ব্রেস্তস্কায়া দুর্গ। মস্কোর ক্রেমলিনের দেয়ালে গড়ে উঠবে এসব শহরের স্মৃতিসৌধ। এমনকি আজ যখন রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধে লিপ্ত, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন কিয়েভ ও ওদেসা প্রতিরোধকারী বীর সেনাদের। বীর জাতি ইতিহাস স্মরণ করতে ভয় পায় না, ইতিহাস ভুলে যেতে চায় সে...

সাব নির্বাচন ২০২৬-২

Image
সাব নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যে অনেকেই কথা বলতে শুরু করেছে। তবে আপাতত সাধারণ কথাবার্তা। প্রার্থীরা ভোট চাইছে, কিন্তু নির্বাচিত হলে কে কী করবে মানে নির্বাচনী ইস্তেহার বলতে গেলে অনুপস্থিত। কেউ কেউ আবার এই আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছে যে ইলেকশন নয়, সিলেকশনের মধ্য দিয়েই হয়তো নতুন কমিটি নির্বাচিত হবে। ইলেকশন বা সিলেকশন এসব টেকনিক্যাল বিষয়, মূল কথা নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা। যদি সব প্রার্থীরা আগে থেকে বসে নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় আসতে পারে তো ক্ষতি কি? কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে যে এসব সমঝোতা অনেকেই মন থেকে মেনে নেয় না, অনুরোধের ঢেঁকি গিলে বড়দের কথায়। এসব ঘটনা তার ও তার ঘনিষ্ঠ জনের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে যা সংগঠনের জন্য মোটেই সুখকর নয়। তাছাড়া এসব ক্ষেত্রে সমঝোতা হয় প্রার্থীদের মধ্যে, অথচ এমন হতে পারে তার সমর্থকদের কেউ কেউ এই প্রার্থীকে সমর্থন করে না। তাই এমনকি যদি একজন মাত্র প্রার্থীও তালিকায় থাকে তাহলেও তাকে ভোটের মধ্য দিয়ে নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেই আসা উচিৎ। সেক্ষেত্রে তার পক্ষে ও বিপক্ষে অপশন (হ্যাঁ/না) থাকা দরকার এবং শুধুমাত্র পক্ষে বেশি ভোট পেলেই উক্ত প্রার্থী নির্বাচিত বলে ঘোষিত হবে। এতে করে প্র...

সাব নির্বাচন ২০২৬

Image
১৯৮৩ সালে যখন সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়তে আসি তখন হোস্টেল থেকে শুরু করে প্রায় সব জায়গায় কতগুলো ছবি থাকত। মার্ক্স, এঙ্গেলস, লেনিন (আমি রুশ বন্ধুদের ঠাট্টা করে বলতাম ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর)। এর বাইরে থাকত সিপিএসইউ এর পলিট ব্যুরোর ছবি। ঐ ছবিতে প্রায় সবাই ছিলেন বয়সের ভারে নুয়ে পড়া। আমার মনে হত বয়সই তাদের প্রধান যোগ্যতা। পরে অবশ্য দেখেছি শুধু সোভিয়েত পলিট ব্যুরো নয় আমেরিকার সিনেট ও কংগ্রেসেও এরকম বয়স্ক লোকের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। বয়স শুধু বয়স নয়, এক ঝাঁপি অভিজ্ঞতা। সোভিয়েত এলুমনি এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ বা সাবের নির্বাচন ঘোষিত হয়েছে। অনেকেই সংগঠনের কার্যকরী কমিটিতে কাজ করার জন্য তাদের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছে। এদের অনেকেই বিগত দিনগুলোয় বিভিন্ন কমিটিতে বিভিন্ন কাজে কর্মরত ছিল। এদের যোগ্যতার তালিকা দেখে আমার সেই পলিট ব্যুরোর ছবি মনে পড়ে গেল।  যেকোনো সংগঠনকে চলমান রাখার জন্য অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলা দরকার। দলবদ্ধ খেলায় যেমন অভিজ্ঞদের সাথে নতুন খেলোয়াড় যোগ করে এখানেও মনে হয় একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক নতুন মুখ আনা দরকার। এরা কারা? যারা বিগত সময়ে কমিটিতে ন...

ন্যায় নাকি ভোটের হিসাব?

Image
কয়েক বছর আগে ফ্লয়েড লয়েডের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আমেরিকা কেঁপে উঠেছিল। এর পেছনে রাজনীতি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব অন্যতম প্রধান হলেও মূল কারণ ছিল দীর্ঘ দিনের জমে থাকা ক্ষোভ আর এই ক্ষোভের পেছনে ছিল যুগ যুগ ধরে আফ্রো আমেরিকানদের প্রতি শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবিচার। অন্যদিকে বর্তমানে ইউরোপে দানা বাঁধছে বিপরীত মুখী আন্দোলন যখন স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ মানুষ প্রতিবাদ করছে মূলতঃ রঙিন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে। সমাজের কোন সম্প্রদায় কখন বঞ্চিত ও নির্যাতিত হবে সেটা যতটা না সংখ্যার উপরে নির্ভর করে তারচেয়ে বেশি নির্ভর করে শাসক শ্রেণী বা শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ও মিডিয়া কোন পক্ষ অবলম্বন করছে তার উপর। আগে শাসকশ্রেণী শুধু নিজের গোষ্ঠীর পক্ষ অবলম্বন করত যার উদাহরণ আমরা দেখেছি ভারত সহ বিভিন্ন উপনিবেশে, আমেরিকায়। বর্তমানে মানবিক কারণের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের জন্যও শাসক শ্রেণী বা শক্তিশালী রাজনৈতিক দল বা অনুগত মিডিয়া অনেক সময় সংখ্যালঘু ও অভিবাসীদের পক্ষ নেয়।  যতক্ষণ পর্যন্ত এই পক্ষ নেয়ার পেছনে ন্যায় প্রতিষ্ঠার চেয়ে দলীয় স্বার্থ, ভোটের হিসাব নিকাশ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হব...

প্রশ্ন

Image
২০২২ সালে, ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর দিকে যখন জাপারোঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মিসাইল আক্রমণ হয় তখন এ নিয়ে সারা বিশ্বে হৈচৈ পড়ে যায়। দেশ ও কোলকাতা থেকে একাধিক মিডিয়া এ ব্যাপারে আমাকে ফোন করে। তবে যেহেতু আমি রাশিয়াকে ঢালাওভাবে দায়ী করিনি ও বলেছি ঐ পরিস্থিতিতে হামলার পেছনে ইউক্রেনের হাত থাকাই স্বাভাবিক, তাই দ্রুত ওদের আগ্রহ কমতে শুরু করে।  এরপর বিভিন্ন সময়ে ইউক্রেন এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আক্রমণ করে। ইন্টারন্যাশনাল এটমিক এনার্জি এজেন্সি প্রধান রাফায়েল গ্রস্সি এর নিন্দা করেন পারত পক্ষে কারা হামলা করছে অর্থাৎ ইউক্রেনের নাম না করেই।  গত কয়েকদিন ইউক্রেন জাপারোঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র লক্ষ্য করে ড্রোন আক্রমণ চালিয়েছে। এমনকি মূল কেন্দ্রের কয়েক মিটার দূরে বোমা পড়েছে। যদিও এসব কেন্দ্র ধ্বংস করা যথেষ্ট কঠিন তবে ঘটনাপ্রবাহ সেদিকে যেতে পারে। আর বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস হলে তার প্রভাব যে সমস্ত ইউরোপে পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এসবই হচ্ছে ইউরোপের সরাসরি অংশগ্রহণে। এটা অনেকটা জল্লাদের হাতে ছুরি তুলে দেওয়ার মত।  বলার অপেক্ষা রাখে ...

অজুহাত

Image
শত্রু মিত্র মানুষ নিজেরাই সৃষ্টি করে। কেউ শত্রু বা মিত্র হয়ে জন্মায় না। যদি কেউ কারো বন্ধু হতে চায় বা কারো সাথে ভালো সম্পর্ক রাখতে চায় তাহলে নিজেদের মধ্যে কমন পয়েন্ট, কমন ইন্টারেস্ট খুঁজে, অমিলগুলো এড়িয়ে যায় বা না গেলেও ট্যাকটিক্যালি নিজের দ্বিমত প্রকাশ করে। পক্ষান্তরে কারো সাথে শত্রুতা করতে চাইলে তারা অমিল খুঁজে আর দ্বিমতগুলো যতদূর সম্ভব রুক্ষ ভাবে প্রকাশ করে। বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বের দিকে তাকালে দেখব নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে প্রচুর দ্বিমত থাকার পরেও একটি ব্যাপারে তারা ঐক্যমত পোষণ করে আর সেটা হল রুশ বিরোধিতা বা রুসোফোবিয়া বা রুশভীতি। আর তাই তারা সাক্ষ্য প্রমাণের ধার না ধেরে ন্যূনতম সুযোগেই রাশিয়াকে মারাত্মক সব অভিযোগে অভিযুক্ত করে। এতদিন পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, বাল্টিকের দেশগুলোর উপর যেসব ড্রোন ভূপাতিত হত সেসব ইউক্রেনের ড্রোন বলে স্বীকার করত। ওদেসা আক্রমণের সময় একটা ড্রোন সীমান্ত অতিক্রম করে রোমানিয়ায় পড়ে। কোন রকম তদন্ত ছাড়াই রোমানিয়া এজন্য রাশিয়াকে অভিযুক্ত করেছে এবং রুশ কনসালকে বহিষ্কার করেছে। রুশরা বলে ইচ্ছে থাকলে উপায় বের করা অসম্ভব কিছু নয়। ইউরোপ রাশিয়ার সা...

ভাবনা

Image
সরকার তো আমাদের দ্বারা আমাদের নিয়েই তৈরি। তাই তারা যে ভবিষ্যতের চেয়ে অতীত নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকবে তাতে অবাক হবার কিছু নেই। আমরাই তো বানরের তেল মাখা (ওখান থেকেই কি তেল মাখতে শিখি আমরা যা দিনের শেষে লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাধা হয়ে দেখা দেয়?) বাঁশে ওঠার অংক করে অথবা দুধ বিক্রেতারা দুধে জল মেশানোর লাভ ক্ষতির হিসাব করে স্কুল জীবন পাড় করে দেই। রাজা রাজরার অতীত সাফল্য বা ব্যর্থতার গল্পে ইতিহাস বই ভরিয়ে রাখি। আর এসব লিখেই গাদা গাদা নম্বর পেয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। জ্ঞান নয়, নম্বর আমাদের আরাধ্য। তাহলে সরকার অন্য কিছু করবে কেন? আগের সরকারের ব্যর্থতা মানুষ জানে আর জানে বলেই ভোট দিয়ে নতুন সরকার নির্বাচন করে। তারপরেও অভ্যাসবশত নতুন সরকার পুরানো সরকারের দোষগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করে। গানে, কবিতায়, গদ্যে, প্রবন্ধে সেই ব্যর্থতার কথা জনসম্মুখে তুলে ধরে। অতীত (সরকার) থেকে শিক্ষা নেয়া নয়, অতীত (সরকার)কে শিক্ষা দেয়াই যেন বর্তমান সরকারের একমাত্র কাজ। বিগত সরকারের বিচারের জন্যেই যেন নতুন সরকার নির্বাচিত। অবশ্যই পুরানো সরকারের কাজকর্মের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, করতে হবে প্রতিশোধ নেবার প্রবণতা থেকে...

হয়তোবা

Image
হয়তোবা কোন একদিন মানুষ এমন ট্যাবলেট আবিষ্কার করবে যে না খেয়েও অনেক দিন বেঁচে থাকা যাবে। কিন্তু যতদিন না এমন কিছু আবিষ্কার হচ্ছে ততদিন কৃষি পণ্যের উপর আমাদের নির্ভর করতেই হবে। এমতাবস্থায় একজন কৃষক, যার ঘরে নিজের উৎপন্ন শস্য আছে, তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা যার ঘরে আধুনিক প্রযুক্তি, অর্থ সবই আছে কিন্তু বাজারে কোন খাদ্য নেই যে কিনবে, তার চেয়ে অনেক বেশি। পৃথিবীতে লাখ লাখ প্রাণী বসবাস করে মানুষ বাদে যাদের কেউই কিছু উৎপাদন করে না, কিন্তু এরাও লাখ লাখ বছর ধরে বেঁচে আছে। কারণ প্রকৃতি থেকে তারা নিজেদের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে সক্ষম। বেঁচে থাকার জন্য মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকদিন আগে রাশিয়াকে কীভাবে পরাজিত করা যায় তার কয়েকটি রেসিপি দেখলাম। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার উপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ফলে সারা পৃথিবীর নাভিশ্বাস উঠেছিল, কিন্তু আমরা যারা রাশিয়ায় থাকি তারা ততটা অনুভব করিনি। যেসব মানুষ বিদেশি দামী খাবার, পোষাক পরিচ্ছদ, গাড়ি ইত্যাদিতে অভ্যস্ত তারা হয়তো অসুবিধায় পড়েছিল। কিন্তু কয়জন মানুষ প্যারিস থেকে লন্ড্রি করে বা সেখানকার রুটি দিয়ে ব্রেকফা...

দোষী

Image
দেশে একটা কথা আছে, ব্রাহ্মণের আগে হাঁটলেও দোষ, পিছে হাঁটলেও দোষ। আর পাশাপাশি হাঁটার তো প্রশ্নই আসে না। এর উল্টো কিছু আছে কিনা জানি না, তবে সোভিয়েত ইউনিয়নের সেই উল্টো অবস্থা।  পুঁজিবাদী বিশ্ব সবসময়ই যে সোভিয়েত ইউনিয়নকে অপছন্দ করত তাতে সন্দেহ নেই। তবে তারা সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে (কথাটা খুব সরলীকরণ হয়ে গেল, কারণ ভাঙার পেছনে বিভিন্ন শক্তির একটা ছিল পুঁজিবাদী বিশ্ব) যে পুঁজিবাদী রাশিয়া তৈরি করল তাকেও তারা পছন্দ করে না। কারণ তাদের দরকার সমকক্ষ কোন শক্তি নয়, দরকার অনুগত ভৃত্য যে বিনা বাধায় নিজের খনিজসম্পদ ব্যবহার করতে দেবে, সামরিক ঘাঁটি তৈরি করতে দেবে, আন্তর্জাতিক ফোরামে বিনা প্রশ্নে পক্ষে ভোট দেবে ইত্যাদি। যে সমস্ত দেশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত করেছিল তারাও এখন সোভিয়েত লিগেছি অস্বীকার করে, তাদের বাঁচানোর জন্য দোষারোপ করে। অনেকটা সেই সব সন্তানদের মত যারা তাদের জন্ম দেবার জন্য বাবা মা'কে দোষারোপ করে। আর আছে সেই সব মানুষ যারা সমাজতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে এজন্য বিভিন্ন ধরণের সহায়তা পেয়েছে। সেই সময় তারা সোভিয়েত ইউনিয়নের উপর অতিরিক্ত...

শিক্ষা

Image
গৌরাঙ্গ সরকার নামে এক গণিতের শিক্ষক পুলিশের হেফাজতে ইসলাম ও মহানবীকে নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগে। বেশ কয়েক বছর আগে হৃদয় মন্ডলকে নিয়ে এই নাটক হয়েছিল। আমি একটি বিষয় কিছুতেই বুঝতে পারি না গণিত বা বিজ্ঞানের ক্লাসে কীভাবে ধর্মের আলোচনা আসে যদি না ছাত্রদের কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে এ ব্যাপারে উস্কানি দেয়। শিক্ষকদের নাম ধাম দেখে প্রথমেই যেটা মনে হয় তা হল একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করতে এসব ব্যবস্থা। এটা ঠিক সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানো অনেক সহজ। এজন্য এমনকি আইনের আওতায় আসতে হয় না। কিন্তু এটাই কি মূল কারণ নাকি মূল কারণ গভীরে। সাধারণ ভাবে আধুনিক শিক্ষা আর বিশেষ করে গণিত, বিজ্ঞান মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখায় আর এটাই বর্তমান বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের সাথে যায় না। তাই হিন্দু শিক্ষকদের নাজেহাল করা মূলত আধুনিক শিক্ষা প্রত্যাখ্যান করার প্রথম পদক্ষেপ। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক শিক্ষার সমান মর্যাদা দিয়ে সেই যাত্রা শুরু হয়েছিল। বাকি রইল মাদ্রাসা শিক্ষাকেই একমাত্র শিক্ষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। এজন্য গৌরাঙ্গ সরকার নাটক মঞ্চস্থ না করলেও হত। যদি খেয়াল করি দেখব দেশের মানুষের একটি সংগঠিত...

স্বগতোক্তি

Image
ইত্তেফাকের খবর দেশে তিনটি করে ভাষা শেখানো বাধ্যতামূলক। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই ব্যবস্থা আছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ায় সেটা বিদ্যমান। এখানে সাধারণত ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান, স্প্যানিশ, আরবি এসব জনপ্রিয়। ইদানিং যোগ হয়েছে চীনা ও কোরিয়ান। তবে আমাদের দেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে মনে হয় এটা যতটা না ভাষার প্রতি ভালোবাসা থেকে তারচেয়ে বেশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে। আমার ধারণা এটা বাংলাদেশকে ইসলামী রাষ্ট্র করার চুড়ান্ত ধাপ। উর্দু চালু করার প্রচেষ্টা। বাংলা, ইংরেজি আছে। তৃতীয়টা কী? ফর্মালি যেকোনো ভাষা হতে পারে। তবে স্কুলে ধর্ম ক্লাসে এমনিতেই আরবি পড়ানো হয়। শিক্ষক তো আছেই। এই পরিস্থিতি আরবিকে তৃতীয় ভাষা করতে আগ্রহী করবে। দেশের একদল মানুষ যারা এখনো পাকিস্তানের আদর্শিক ও রাজনৈতিক বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি তারা চাইবে উর্দু। উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার জিন্নাহর অভিপ্রায় থেকেই ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ। ওরা যেহেতু মুক্তিযুদ্ধকেই অস্বীকার করে তাহলে উর্দু হবে ওদের প্রথম পছন্দ। কোনভাবে একবার চালু করতে পারলে একদিন রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে সমস্যা হবে না। এখানে সুবিধা হল ভারতী...

ভাগ্য না বোকামি

Image
কিছুদিন আগেও সে ছিল ইউক্রেনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। হ্যাঁ, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের প্রধান হলেও আন্দ্রেই এরমাক ছিল সেই ব্যক্তি যে নেপথ্য থেকে দেশ চালাত। তবে দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পদ হারিয়েছে। এটা নতুন কিছু নয়। এখন মার্কিন প্রশাসন তাকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেই দুর্নীতি ধরা পড়েছে। খবরে প্রকাশ সে গণকের সাহায্য নিয়ে দেশ পরিচালনা করত। আসলে জেলেনস্কির অভিনয় জীবন থেকেই তারা একসাথে, একে অন্যের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এমনকি বাধ্য হয়ে এরমাককে সরালেও মুলত এরমাকই নেপথ্য থেকে প্রশাসন চালাত। এখন গ্রেফতার হয়ে হাজত বাস করছে। জামিন মেলেনি, কারণ জামিনের জন্য প্রায় চার মিলিয়ন ডলার যোগার করতে পারেনি। বন্ধুরাও বাড়িয়ে দেয়নি সাহায্যের হাত! সবাই কি বিশ্বাসঘাতক? না। এমনকি এরমাক - যে বিগত চার বছরে বিলিয়ন বিলয়ন ডলার এদিক সেদিক করেছে - সেও জামিনের টাকা দিতে পারছে না। কেন? কারণ তাদের একটি পয়সাও সাদা নয়। সব টাকা কালো। পশ্চিমা বিশ্ব থেকে যুদ্ধের জন্য পাওয়া টাকা বিভিন্ন ভাবে এদিক সেদিক পাচার করেছে। তাই না এরমাক নিজে, না জেলেনস্কি, না অন্যান্য বন্ধুরা কেউই এগিয়ে আসতে পারছে না। কারণ জামিনের জন্য এই বিরা...

দালাল

Image
অধিকাংশ সঠিক সামাজিক তত্ত্ব গ্লোবাল। তবে আঞ্চলিক ভাবে প্রয়োগের জন্য সেখানে আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে নিতে হয়। কিন্তু আঞ্চলিক তত্ত্ব যদি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হয়, তবে সেটাকে ভালো বা সঠিক তত্ত্ব বলা যায় না। উদাহরণস্বরূপ গ্যালিলিও ও লরেন্স ট্র্যান্সফর্মেশনের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। এক পরিচিত জন ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস শেয়ার করেছে যার মোদ্দা কথা হচ্ছে ভারত ততটা ক্ষতিকর না যতটা দালালরা। কথাটা আংশিক সত্য।‌ কেননা দালাল শুধু ভারতের হয় না, হয় পাকিস্তানের, আমেরিকার, চীনের, রাশিয়ার, ইউরোপের, তুরস্কের আরও অনেক অনেক দেশের। যখন কোন জনগোষ্ঠীর কাছে দেশের চেয়ে বিদেশের স্বার্থ বড় হয়ে ওঠে সেটা যেকোন দেশের জন্যই সমস্যা। সমস্যা আরও বড় যখন সরকার বা সরকারের একটি বড় অংশ বিদেশের স্বার্থ রক্ষা করে। সেই যে ১৭৫৭ সালে শুরু হয়েছে তার রেশ এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি অভাগা জাতি। দুবনা, ১৬ যে ২০২৬

ব্যর্থতা

Image
পত্রিকায় দেখলাম মাছ চুরির অভিযোগে তরায় এক জেলেকে পিটিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে তার লাশ বাজার কমিটির অফিসে ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিচার নিজের হাতে তুলে নেয়া দেশে নতুন নয়। আমাদের ছোটবেলায় মানে সত্তরের দশকেও দেখেছি চোর, পকেটমার, ডাকাত জনতার হাতে বেদম প্রহারের শিকার হয়েছে। তবে শেষপর্যন্ত তাদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হত। বর্তমানে যেভাবে মানুষ, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ, আক্রমণের শিকার হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যু বরণ করছে, তাতে দেশের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আর এই প্রশ্ন বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের পথে ঠেলে দিচ্ছে। রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল ও সমাজের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ব্যতীত এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোন পথ আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু সরকার যদি নিজে উদ্যোগী হয়ে এসব ঘটনা বিচারের আওতায় না আনে তবে একদিন গরীব সংখ্যালঘু জেলের মৃত্যু একটা রাষ্ট্রের মৃত্যু ঘন্টা বাজিয়ে দিতে পারে। মনে রাখতে হবে শুধু বাইরের শত্রুর আক্রমণেই কেউ মারা যায় না, অসুখ বা আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণেও অনেকে মারা যায়। আমাদের দেশ এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ জাতীয় অস...

কি করা?

Image
ন্যায় বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দেয়ার লক্ষ্য যাকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে তার উপর নির্যাতন করা নয়, তাকে ও অন্যান্যদের জানানো যে অপরাধ করলে ফল ভোগ করতে হবে। বিচার ব্যবস্থা শুধু পোস্ট ফ্যাক্ট মানে অপরাধ করার পর শাস্তি নয়, এটা প্রিভেন্টিভ মেজার মানে সাবধান করে দেয়া। তবে এটা যে শুধু অপরাধ বা অপরাধীর ক্ষেত্রে সত্য তা নয়, প্রায়ই এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয় ভিন্ন মতাবলম্বী বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আসাদুজ্জামান নূর, শাহরিয়ার কবির ও অন্যান্যরা সামাজিক ভাবে ক্ষতিকর না হয়েও জামিন বা খালাস পাচ্ছেন না কারণ এদের মাধ্যমে সরকার মুক্তমনা, সংস্কৃতিমনা, ভিন্ন ধারার রাজনৈতিক চিন্তাধারা পোষণকারী মানুষদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করছে। সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি নয়, ঘোলা করেই বর্তমান সরকার রুই কাতলা শিকার করতে চাইছে। তাহলে উপায়? এদের মুক্তির জন্য  আন্তর্জাতিক আন্দোলন গড়ে তোলা। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়েরাই যেখানে বাংলাদেশের নেপথ্য শোষক শাসক সেখানে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলা কঠিন। কিন্তু অন্য কোন উপায় তো আমাদের নেই। মস্কোর পথে, ১০ মে ২০২৬