Posts

Showing posts from 2026

প্রশ্ন

Image
২০২২ সালে, ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর দিকে যখন জাপারোঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মিসাইল আক্রমণ হয় তখন এ নিয়ে সারা বিশ্বে হৈচৈ পড়ে যায়। দেশ ও কোলকাতা থেকে একাধিক মিডিয়া এ ব্যাপারে আমাকে ফোন করে। তবে যেহেতু আমি রাশিয়াকে ঢালাওভাবে দায়ী করিনি ও বলেছি ঐ পরিস্থিতিতে হামলার পেছনে ইউক্রেনের হাত থাকাই স্বাভাবিক, তাই দ্রুত ওদের আগ্রহ কমতে শুরু করে।  এরপর বিভিন্ন সময়ে ইউক্রেন এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আক্রমণ করে। ইন্টারন্যাশনাল এটমিক এনার্জি এজেন্সি প্রধান রাফায়েল গ্রস্সি এর নিন্দা করেন পারত পক্ষে কারা হামলা করছে অর্থাৎ ইউক্রেনের নাম না করেই।  গত কয়েকদিন ইউক্রেন জাপারোঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র লক্ষ্য করে ড্রোন আক্রমণ চালিয়েছে। এমনকি মূল কেন্দ্রের কয়েক মিটার দূরে বোমা পড়েছে। যদিও এসব কেন্দ্র ধ্বংস করা যথেষ্ট কঠিন তবে ঘটনাপ্রবাহ সেদিকে যেতে পারে। আর বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস হলে তার প্রভাব যে সমস্ত ইউরোপে পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এসবই হচ্ছে ইউরোপের সরাসরি অংশগ্রহণে। এটা অনেকটা জল্লাদের হাতে ছুরি তুলে দেওয়ার মত।  বলার অপেক্ষা রাখে ...

অজুহাত

Image
শত্রু মিত্র মানুষ নিজেরাই সৃষ্টি করে। কেউ শত্রু বা মিত্র হয়ে জন্মায় না। যদি কেউ কারো বন্ধু হতে চায় বা কারো সাথে ভালো সম্পর্ক রাখতে চায় তাহলে নিজেদের মধ্যে কমন পয়েন্ট, কমন ইন্টারেস্ট খুঁজে, অমিলগুলো এড়িয়ে যায় বা না গেলেও ট্যাকটিক্যালি নিজের দ্বিমত প্রকাশ করে। পক্ষান্তরে কারো সাথে শত্রুতা করতে চাইলে তারা অমিল খুঁজে আর দ্বিমতগুলো যতদূর সম্ভব রুক্ষ ভাবে প্রকাশ করে। বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বের দিকে তাকালে দেখব নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে প্রচুর দ্বিমত থাকার পরেও একটি ব্যাপারে তারা ঐক্যমত পোষণ করে আর সেটা হল রুশ বিরোধিতা বা রুসোফোবিয়া বা রুশভীতি। আর তাই তারা সাক্ষ্য প্রমাণের ধার না ধেরে ন্যূনতম সুযোগেই রাশিয়াকে মারাত্মক সব অভিযোগে অভিযুক্ত করে। এতদিন পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, বাল্টিকের দেশগুলোর উপর যেসব ড্রোন ভূপাতিত হত সেসব ইউক্রেনের ড্রোন বলে স্বীকার করত। ওদেসা আক্রমণের সময় একটা ড্রোন সীমান্ত অতিক্রম করে রোমানিয়ায় পড়ে। কোন রকম তদন্ত ছাড়াই রোমানিয়া এজন্য রাশিয়াকে অভিযুক্ত করেছে এবং রুশ কনসালকে বহিষ্কার করেছে। রুশরা বলে ইচ্ছে থাকলে উপায় বের করা অসম্ভব কিছু নয়। ইউরোপ রাশিয়ার সা...

ভাবনা

Image
সরকার তো আমাদের দ্বারা আমাদের নিয়েই তৈরি। তাই তারা যে ভবিষ্যতের চেয়ে অতীত নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকবে তাতে অবাক হবার কিছু নেই। আমরাই তো বানরের তেল মাখা (ওখান থেকেই কি তেল মাখতে শিখি আমরা যা দিনের শেষে লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাধা হয়ে দেখা দেয়?) বাঁশে ওঠার অংক করে অথবা দুধ বিক্রেতারা দুধে জল মেশানোর লাভ ক্ষতির হিসাব করে স্কুল জীবন পাড় করে দেই। রাজা রাজরার অতীত সাফল্য বা ব্যর্থতার গল্পে ইতিহাস বই ভরিয়ে রাখি। আর এসব লিখেই গাদা গাদা নম্বর পেয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। জ্ঞান নয়, নম্বর আমাদের আরাধ্য। তাহলে সরকার অন্য কিছু করবে কেন? আগের সরকারের ব্যর্থতা মানুষ জানে আর জানে বলেই ভোট দিয়ে নতুন সরকার নির্বাচন করে। তারপরেও অভ্যাসবশত নতুন সরকার পুরানো সরকারের দোষগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করে। গানে, কবিতায়, গদ্যে, প্রবন্ধে সেই ব্যর্থতার কথা জনসম্মুখে তুলে ধরে। অতীত (সরকার) থেকে শিক্ষা নেয়া নয়, অতীত (সরকার)কে শিক্ষা দেয়াই যেন বর্তমান সরকারের একমাত্র কাজ। বিগত সরকারের বিচারের জন্যেই যেন নতুন সরকার নির্বাচিত। অবশ্যই পুরানো সরকারের কাজকর্মের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, করতে হবে প্রতিশোধ নেবার প্রবণতা থেকে...

হয়তোবা

Image
হয়তোবা কোন একদিন মানুষ এমন ট্যাবলেট আবিষ্কার করবে যে না খেয়েও অনেক দিন বেঁচে থাকা যাবে। কিন্তু যতদিন না এমন কিছু আবিষ্কার হচ্ছে ততদিন কৃষি পণ্যের উপর আমাদের নির্ভর করতেই হবে। এমতাবস্থায় একজন কৃষক, যার ঘরে নিজের উৎপন্ন শস্য আছে, তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা যার ঘরে আধুনিক প্রযুক্তি, অর্থ সবই আছে কিন্তু বাজারে কোন খাদ্য নেই যে কিনবে, তার চেয়ে অনেক বেশি। পৃথিবীতে লাখ লাখ প্রাণী বসবাস করে মানুষ বাদে যাদের কেউই কিছু উৎপাদন করে না, কিন্তু এরাও লাখ লাখ বছর ধরে বেঁচে আছে। কারণ প্রকৃতি থেকে তারা নিজেদের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে সক্ষম। বেঁচে থাকার জন্য মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকদিন আগে রাশিয়াকে কীভাবে পরাজিত করা যায় তার কয়েকটি রেসিপি দেখলাম। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার উপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ফলে সারা পৃথিবীর নাভিশ্বাস উঠেছিল, কিন্তু আমরা যারা রাশিয়ায় থাকি তারা ততটা অনুভব করিনি। যেসব মানুষ বিদেশি দামী খাবার, পোষাক পরিচ্ছদ, গাড়ি ইত্যাদিতে অভ্যস্ত তারা হয়তো অসুবিধায় পড়েছিল। কিন্তু কয়জন মানুষ প্যারিস থেকে লন্ড্রি করে বা সেখানকার রুটি দিয়ে ব্রেকফা...

দোষী

Image
দেশে একটা কথা আছে, ব্রাহ্মণের আগে হাঁটলেও দোষ, পিছে হাঁটলেও দোষ। আর পাশাপাশি হাঁটার তো প্রশ্নই আসে না। এর উল্টো কিছু আছে কিনা জানি না, তবে সোভিয়েত ইউনিয়নের সেই উল্টো অবস্থা।  পুঁজিবাদী বিশ্ব সবসময়ই যে সোভিয়েত ইউনিয়নকে অপছন্দ করত তাতে সন্দেহ নেই। তবে তারা সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে (কথাটা খুব সরলীকরণ হয়ে গেল, কারণ ভাঙার পেছনে বিভিন্ন শক্তির একটা ছিল পুঁজিবাদী বিশ্ব) যে পুঁজিবাদী রাশিয়া তৈরি করল তাকেও তারা পছন্দ করে না। কারণ তাদের দরকার সমকক্ষ কোন শক্তি নয়, দরকার অনুগত ভৃত্য যে বিনা বাধায় নিজের খনিজসম্পদ ব্যবহার করতে দেবে, সামরিক ঘাঁটি তৈরি করতে দেবে, আন্তর্জাতিক ফোরামে বিনা প্রশ্নে পক্ষে ভোট দেবে ইত্যাদি। যে সমস্ত দেশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত করেছিল তারাও এখন সোভিয়েত লিগেছি অস্বীকার করে, তাদের বাঁচানোর জন্য দোষারোপ করে। অনেকটা সেই সব সন্তানদের মত যারা তাদের জন্ম দেবার জন্য বাবা মা'কে দোষারোপ করে। আর আছে সেই সব মানুষ যারা সমাজতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে এজন্য বিভিন্ন ধরণের সহায়তা পেয়েছে। সেই সময় তারা সোভিয়েত ইউনিয়নের উপর অতিরিক্ত...

শিক্ষা

Image
গৌরাঙ্গ সরকার নামে এক গণিতের শিক্ষক পুলিশের হেফাজতে ইসলাম ও মহানবীকে নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগে। বেশ কয়েক বছর আগে হৃদয় মন্ডলকে নিয়ে এই নাটক হয়েছিল। আমি একটি বিষয় কিছুতেই বুঝতে পারি না গণিত বা বিজ্ঞানের ক্লাসে কীভাবে ধর্মের আলোচনা আসে যদি না ছাত্রদের কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে এ ব্যাপারে উস্কানি দেয়। শিক্ষকদের নাম ধাম দেখে প্রথমেই যেটা মনে হয় তা হল একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করতে এসব ব্যবস্থা। এটা ঠিক সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানো অনেক সহজ। এজন্য এমনকি আইনের আওতায় আসতে হয় না। কিন্তু এটাই কি মূল কারণ নাকি মূল কারণ গভীরে। সাধারণ ভাবে আধুনিক শিক্ষা আর বিশেষ করে গণিত, বিজ্ঞান মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখায় আর এটাই বর্তমান বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের সাথে যায় না। তাই হিন্দু শিক্ষকদের নাজেহাল করা মূলত আধুনিক শিক্ষা প্রত্যাখ্যান করার প্রথম পদক্ষেপ। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক শিক্ষার সমান মর্যাদা দিয়ে সেই যাত্রা শুরু হয়েছিল। বাকি রইল মাদ্রাসা শিক্ষাকেই একমাত্র শিক্ষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। এজন্য গৌরাঙ্গ সরকার নাটক মঞ্চস্থ না করলেও হত। যদি খেয়াল করি দেখব দেশের মানুষের একটি সংগঠিত...

স্বগতোক্তি

Image
ইত্তেফাকের খবর দেশে তিনটি করে ভাষা শেখানো বাধ্যতামূলক। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই ব্যবস্থা আছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ায় সেটা বিদ্যমান। এখানে সাধারণত ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান, স্প্যানিশ, আরবি এসব জনপ্রিয়। ইদানিং যোগ হয়েছে চীনা ও কোরিয়ান। তবে আমাদের দেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে মনে হয় এটা যতটা না ভাষার প্রতি ভালোবাসা থেকে তারচেয়ে বেশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে। আমার ধারণা এটা বাংলাদেশকে ইসলামী রাষ্ট্র করার চুড়ান্ত ধাপ। উর্দু চালু করার প্রচেষ্টা। বাংলা, ইংরেজি আছে। তৃতীয়টা কী? ফর্মালি যেকোনো ভাষা হতে পারে। তবে স্কুলে ধর্ম ক্লাসে এমনিতেই আরবি পড়ানো হয়। শিক্ষক তো আছেই। এই পরিস্থিতি আরবিকে তৃতীয় ভাষা করতে আগ্রহী করবে। দেশের একদল মানুষ যারা এখনো পাকিস্তানের আদর্শিক ও রাজনৈতিক বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি তারা চাইবে উর্দু। উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার জিন্নাহর অভিপ্রায় থেকেই ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ। ওরা যেহেতু মুক্তিযুদ্ধকেই অস্বীকার করে তাহলে উর্দু হবে ওদের প্রথম পছন্দ। কোনভাবে একবার চালু করতে পারলে একদিন রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে সমস্যা হবে না। এখানে সুবিধা হল ভারতী...

ভাগ্য না বোকামি

Image
কিছুদিন আগেও সে ছিল ইউক্রেনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। হ্যাঁ, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের প্রধান হলেও আন্দ্রেই এরমাক ছিল সেই ব্যক্তি যে নেপথ্য থেকে দেশ চালাত। তবে দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পদ হারিয়েছে। এটা নতুন কিছু নয়। এখন মার্কিন প্রশাসন তাকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেই দুর্নীতি ধরা পড়েছে। খবরে প্রকাশ সে গণকের সাহায্য নিয়ে দেশ পরিচালনা করত। আসলে জেলেনস্কির অভিনয় জীবন থেকেই তারা একসাথে, একে অন্যের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এমনকি বাধ্য হয়ে এরমাককে সরালেও মুলত এরমাকই নেপথ্য থেকে প্রশাসন চালাত। এখন গ্রেফতার হয়ে হাজত বাস করছে। জামিন মেলেনি, কারণ জামিনের জন্য প্রায় চার মিলিয়ন ডলার যোগার করতে পারেনি। বন্ধুরাও বাড়িয়ে দেয়নি সাহায্যের হাত! সবাই কি বিশ্বাসঘাতক? না। এমনকি এরমাক - যে বিগত চার বছরে বিলিয়ন বিলয়ন ডলার এদিক সেদিক করেছে - সেও জামিনের টাকা দিতে পারছে না। কেন? কারণ তাদের একটি পয়সাও সাদা নয়। সব টাকা কালো। পশ্চিমা বিশ্ব থেকে যুদ্ধের জন্য পাওয়া টাকা বিভিন্ন ভাবে এদিক সেদিক পাচার করেছে। তাই না এরমাক নিজে, না জেলেনস্কি, না অন্যান্য বন্ধুরা কেউই এগিয়ে আসতে পারছে না। কারণ জামিনের জন্য এই বিরা...

দালাল

Image
অধিকাংশ সঠিক সামাজিক তত্ত্ব গ্লোবাল। তবে আঞ্চলিক ভাবে প্রয়োগের জন্য সেখানে আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে নিতে হয়। কিন্তু আঞ্চলিক তত্ত্ব যদি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হয়, তবে সেটাকে ভালো বা সঠিক তত্ত্ব বলা যায় না। উদাহরণস্বরূপ গ্যালিলিও ও লরেন্স ট্র্যান্সফর্মেশনের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। এক পরিচিত জন ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস শেয়ার করেছে যার মোদ্দা কথা হচ্ছে ভারত ততটা ক্ষতিকর না যতটা দালালরা। কথাটা আংশিক সত্য।‌ কেননা দালাল শুধু ভারতের হয় না, হয় পাকিস্তানের, আমেরিকার, চীনের, রাশিয়ার, ইউরোপের, তুরস্কের আরও অনেক অনেক দেশের। যখন কোন জনগোষ্ঠীর কাছে দেশের চেয়ে বিদেশের স্বার্থ বড় হয়ে ওঠে সেটা যেকোন দেশের জন্যই সমস্যা। সমস্যা আরও বড় যখন সরকার বা সরকারের একটি বড় অংশ বিদেশের স্বার্থ রক্ষা করে। সেই যে ১৭৫৭ সালে শুরু হয়েছে তার রেশ এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি অভাগা জাতি। দুবনা, ১৬ যে ২০২৬

ব্যর্থতা

Image
পত্রিকায় দেখলাম মাছ চুরির অভিযোগে তরায় এক জেলেকে পিটিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে তার লাশ বাজার কমিটির অফিসে ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিচার নিজের হাতে তুলে নেয়া দেশে নতুন নয়। আমাদের ছোটবেলায় মানে সত্তরের দশকেও দেখেছি চোর, পকেটমার, ডাকাত জনতার হাতে বেদম প্রহারের শিকার হয়েছে। তবে শেষপর্যন্ত তাদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হত। বর্তমানে যেভাবে মানুষ, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ, আক্রমণের শিকার হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যু বরণ করছে, তাতে দেশের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আর এই প্রশ্ন বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের পথে ঠেলে দিচ্ছে। রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল ও সমাজের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ব্যতীত এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোন পথ আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু সরকার যদি নিজে উদ্যোগী হয়ে এসব ঘটনা বিচারের আওতায় না আনে তবে একদিন গরীব সংখ্যালঘু জেলের মৃত্যু একটা রাষ্ট্রের মৃত্যু ঘন্টা বাজিয়ে দিতে পারে। মনে রাখতে হবে শুধু বাইরের শত্রুর আক্রমণেই কেউ মারা যায় না, অসুখ বা আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণেও অনেকে মারা যায়। আমাদের দেশ এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ জাতীয় অস...

কি করা?

Image
ন্যায় বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দেয়ার লক্ষ্য যাকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে তার উপর নির্যাতন করা নয়, তাকে ও অন্যান্যদের জানানো যে অপরাধ করলে ফল ভোগ করতে হবে। বিচার ব্যবস্থা শুধু পোস্ট ফ্যাক্ট মানে অপরাধ করার পর শাস্তি নয়, এটা প্রিভেন্টিভ মেজার মানে সাবধান করে দেয়া। তবে এটা যে শুধু অপরাধ বা অপরাধীর ক্ষেত্রে সত্য তা নয়, প্রায়ই এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয় ভিন্ন মতাবলম্বী বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আসাদুজ্জামান নূর, শাহরিয়ার কবির ও অন্যান্যরা সামাজিক ভাবে ক্ষতিকর না হয়েও জামিন বা খালাস পাচ্ছেন না কারণ এদের মাধ্যমে সরকার মুক্তমনা, সংস্কৃতিমনা, ভিন্ন ধারার রাজনৈতিক চিন্তাধারা পোষণকারী মানুষদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করছে। সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি নয়, ঘোলা করেই বর্তমান সরকার রুই কাতলা শিকার করতে চাইছে। তাহলে উপায়? এদের মুক্তির জন্য  আন্তর্জাতিক আন্দোলন গড়ে তোলা। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়েরাই যেখানে বাংলাদেশের নেপথ্য শোষক শাসক সেখানে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলা কঠিন। কিন্তু অন্য কোন উপায় তো আমাদের নেই। মস্কোর পথে, ১০ মে ২০২৬

কালো আর ধলা

Image
গতকাল অনলাইনে একজোড়া ছোবা বা সাবান মাখানোর স্পঞ্জ পেলাম। গুলিয়া অর্ডার দিতে বলেছিল। একটা প্যাকেটে দুটো ছোবা - একটি কালো, আরেকটি সাদা।  কার কোনটা? জিজ্ঞেস করলাম। আমি সাদাটা নেব। গুলিয়ার উত্তর। আমার ধারণা ছিল তুমি কালো রং বেশি পছন্দ কর। কে বলল?  মানে আমাকে পছন্দ করে বিয়ে বসলে তাই ভাবলাম। আমি সাদাটাই নেব।  নাও। তবে সাদা রং আমারও পছন্দ।  গুলিয়া রুশ জিনিস পছন্দ করে। মনে হয় একবার আমদানি করা কালো বর পছন্দ করে সারা জীবনের জন্য টের পেয়ে গেছে এরা কি চিজ।  তবে কালোটাও ভালো। ময়লা কম হয় বা হলেও সহজে ধরা পড়ে না। চোর কি এমনি এমনি রাতে চুরি করে! দুবনা, ০৯ মে ২০২৬

ভাবনা

Image
জনগণ সবসময়ই রিসিভিং এন্ডে থাকে। ডান বাম নেই - সবাই নিজেদের ব্যর্থতা জনগণের কাঁধে চাপিয়ে দিব্যি হাঁসের মত সাঁতার কেটে বেড়ায় নিজেদের তৈরি রাজনৈতিক ডোবায়। পশ্চিম বঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি হল। ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। যারা এতে মর্মাহত তারা যতটা না তৃণমূলের পতনে তারচেয়ে বেশি বিজেপির উত্থানে। কিন্তু অন্যান্য যেসব অল্টারনেটিভ হতে পারত তা কিন্তু তৃণমূল নিজেই সমূলে উৎপাটন করেছে বা করার চেষ্টা করেছে। তৃণমূলের অপশাসনে কারণেই জনগণ তাদের ত্যাগ করেছে। যখন দুঃশাসন মানুষের গলায় ফাঁসের মত চেপে বসে সে তখন কে তাকে মুক্তি দিল সেটা নিয়ে ভাবে না, সে যে কারো বাড়িয়ে দেয়া হাত ধরে। পশ্চিম বঙ্গে সেই অর্থে কোন বিকল্প না থাকায় জনগণ বিজেপির শরণাপন্ন হয়েছে। তাই জনগণকে দোষারোপ করে লাভ নেই, কেন আমাদের দেশগুলো এমনকি সারা বিশ্বে ডানপন্থী শক্তির উত্থান হচ্ছে সেটা নিয়ে ভাবা দরকার। তবে এটা ঠিক তথাকথিত গণতান্ত্রিক শক্তি গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা করে না বলেই উগ্রপন্থীদের এই জয়জয়কার। যতদিন না আমরা নিজেদের সংশোধন করতে পারব ততদিন এমন চলতেই থাকবে। জনগণ তন্ত্র বোঝে না। সে চায় সুশাসন, কাজ ও জীবনের নিরাপ...

ধারাবাহিকতা?

Image
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে ইদানিং বাজার সরগরম। বিএনপির এক নেতা শুনলাম বলেছেন শেখ হাসিনা ১৭ বছরে যা পারেননি তারেক রহমান মাত্র দুই মাসে সেটা করেছেন। আরেকজন বলেছেন বেগম জিয়ার স্বপ্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তারেক রহমানের হাতে বাস্তব রূপ পেয়েছে। শেখ হাসিনাকে যেমন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চাটুকারিতার বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সেই খেলায় মেতে উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীরাও। ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিএনপির ধারাবাহিকতা ঈর্ষণীয়। ক্ষমতায় বসার দুই মাসের মাথায় রূপপুর এক ইউনিটের কাজ শুরু হওয়ায় আগের এক যুগের বেশি সময়ের কাজকে অস্বীকার করা আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই যুগের বিরামহীন রাজনৈতিক লড়াইকে একটি মাত্র স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে প্রতিস্থাপন করা - এই দুই ঘটনার মধ্যে খুব বেশী পার্থক্য নেই। পঁচাত্তরের পর যেমন শেখ মুজিবকে দেশ থেকে রাজনৈতিক ভাবে নির্বাসন দেয়া হয়েছিল ঠিক একই ভাবে আজ বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে শেখ হাসিনাকে নির্বাসন দেবার চেষ্টা চলছে। হীনম্মন্যতা আর যা-ই করুক কাউকে মহান করে না। অন্যের অবদান অস্বীকার করে মানুষের চোখে ধুলো দেয়া যায়, ...

মস্কোয় বাংলা নববর্ষ

Image
দীর্ঘ ছয় বছর বিরতির পর গতকাল (২৬ এপ্রিল ২০২৬) আমরা বাংলা নববর্ষ উদযাপন করলাম মস্কোর মাটিতে। যদিও বাংলাদেশ দূতাবাস বা প্যাট্রিস লুমুম্বার ছাত্র সংগঠন নববর্ষ পালন করেছে তারপরও আমাদের অনুষ্ঠান মস্কোর বাঙালি কমিউনিটির জন্য ভিন্ন গুরুত্ব বহন করে। ২০১০ সালে বাংলাদেশ প্রবাসী পরিষদ রাশিয়া গঠনের পর থেকে এই সংগঠনের ব্যানারে নববর্ষ পালন করত মস্কোর বাঙালি সমাজ। তবে করোনা মহামারী ও সংগঠকদের বেশিরভাগ রাশিয়া থেকে চলে যাওয়ার কারণে এর কাজকর্ম প্রায় বন্ধ হবার পথে। তাই বছরের শুরুতে নবাগত ছাত্রদের সাংগঠনিক তৎপরতা দেখে নববর্ষ পালনের পরিকল্পনা করতে শুরু করি। কোন অনুষ্ঠান মানেই একদল ছেলেমেয়ে যারা আত্মনিবেদিত হয়ে বিভিন্ন কাজকর্ম করবে। এটা যেমন পর্যাপ্ত সময় দেয়া তেমনি কায়িকশ্রম। এরপরে দরকার কোন কালচারাল সেন্টারের যেখানে পর্যাপ্ত সীট থাকবে ও যাতায়াত সুবিধা থাকবে। আর দরকার ডোনেশন। কারণ আজকালকার কোন অনুষ্ঠান মানেই হল বা কমিউনিটি সেন্টারের ভাড়া বাদেই কম করে হলেও দেড় দুই লাখ রুবলের মামলা।  বাঙালির নববর্ষের অনুষ্ঠান মানেই সারা দিনের ব্যাপার। অন্ততঃ এর আগে আমরা সেমাই করতাম। সকাল থেকে সাজানো। স্টল দেয...

দোষ

Image
আমরা নিজেদের অনেক দোষ ঠিক দোষ মনে করি না, অভ্যাস বলে চালিয়ে দেই, এমনকি নিজেরা যদি একই কারণে অন্যদের সমালোচনা করিও। আমিও ব্যতিক্রম নই। মানুষ মাত্রই ভুল করে। আর যখন ভুল করি তখন নিজেকে মানুষ বলে দাবি করার একটা অজুহাত পাই।  গতকাল সাফল্য নামে রান্না নিয়ে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। তাতে বেশ কিছু রুশ শব্দ ছিল। যুৎসই বাংলা শব্দ না পেয়ে ওভাবেই রেখে দিই। তবে ওটা যে খাবারের স্বাদ নষ্ট করতে পারে সেটা মনে হয়নি। সব্যসাচী দা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। আসলে যেটা আমাদের কাছে বোধগম্য সেটা অন্যেরা বুঝতে পারবে তা আমরা ধরেই নেই। তাই এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন খুব একটা মনে করি না। কিন্তু আজকে সব্যসাচী দার মন্তব্য দেখে মনে হল ধারণাটা কত ভুল। কারণ দু একটা অচেনা শব্দ দুধে একফোঁটা লেবুর রসের মত সমস্ত ব্যাপারটাকে মাটি করে দিতে পারে। এমনকি ঐ সব শব্দের অর্থ না জেনে যদি পড়াও যায় মনে খুঁত খুঁত ভাব থেকেই যাবে। আমি নিজেও অনেকের অনেক লেখায় অজানা আরবি শব্দ দেখে বিরক্ত বোধ করি সঠিক ভাবে বাক্যের অর্থ বুঝতে পারি না বলে। অথচ নিজে অবলীলায় রুশ শব্দ ব্যবহার করি লেখায়। হ্যাঁ, আত্মসমালোচনা করা সহজ কাজ নয়। ...

ভাবনা

Image
দেশে থাকতে রাজনীতির খবর রাখতাম, তবে এখন ইন্টারনেটের কল্যাণে ক্ষমতাসীনদের বোকামির খবর যত পাই আগে তত পেতাম না।  আওয়ামী লীগের আমলেও অনেক মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীর কথা শুনে মনে হয়েছে এরা বোবা হলে দেশের উপকার হত। আরো মনে হয়েছে "মুখ খুললেই মূর্খতা উপচে পরে" জাতীয় প্রতিযোগিতায় এরচেয়ে যোগ্য লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু এসব বিষয়ে স্বর্ণ গর্ভা বাংলাদেশ। কী ইউনূস শাহীর সময়, কী বর্তমান মন্ত্রিসভায় - কিছু কিছু মন্ত্রীরা যেন নিজেদের খেলো করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। অনেকটা "যেমন পার তেমন সাজ"র মত, যে যত উদ্ভট পোশাক পরবে তার জেতার সম্ভাবনা তত বেশি, তেমনি যে যত উদ্ভট ও অবান্তর কথাবার্তা বলবে সে-ই যেন সবচেয়ে যোগ্য নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। এরা ভুলে যায় যে এরা গবেষক নয় যে নতুন কোন তত্ত্ব আবিষ্কার করবে, এরা নির্বাহক যাদের কাজ দেশে দেশে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে যে সব সফল মডেল গড়ে উঠেছে নিজের দেশের বিশেষত্বের দিকে নজর দিয়ে তার সফল প্রয়োগ ঘটিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া। কিন্তু আমাদের বেশিরভাগ মন্ত্রী ও প...

আবারও শুভ নববর্ষ

Image
জীবন সংক্ষিপ্ত। জীবনে সব কিছু যে আমার মনমতো হবে এমন কোন কথা নেই। তাই চেষ্টা করি ভালো মন্দ যা কিছু আসে চলার পথে সেটাকে যতদূর সম্ভব উপভোগ করার বিশেষ করে সেটা বদলানোর সামর্থ্য যদি না থাকে। সন্দেহ নেই যে বাংলাদেশে এরশাদের আমলে যে বাংলা পঞ্জিকা চালু করা হয়েছে সেটা বাঙালি ও বাংলার সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ করে না। বরং ভারত ও বাংলাদেশের বাঙালিদের মধ্যে তো বটেই এমনকি বাংলাদেশের হিন্দু ও ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যেও দূরত্ব সৃষ্টি করে। সত্যি বলতে কি পয়লা বৈশাখ, পঁচিশে বৈশাখ, এগারোই জৈষ্ঠ্য, বাইশে শ্রাবণের বাইরে জাতির জীবনে এই পঞ্জিকার কোন ব্যবহারিক গুরুত্ব নেই। তবে পূজা পার্বণ, বিয়ে ইত্যাদি সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য হিন্দু সম্প্রদায় বাংলা পঞ্জিকা অনুসরণ করে। তবে সেটা বাংলাদেশের পঞ্জিকা নয়, অনেক আগে থেকে চলে আসা পশ্চিমবঙ্গের পঞ্জিকা। এর মানে নতুন পঞ্জিকা ঐক্যের জন্য নয়, বিভেদের জন্য। এটা অনেকটা বৃটিশ রাজের শাসন থেকে মুক্তি লাভের পর আমেরিকার ইংরেজি ভাষায় পরিবর্তন আনার মত। তবে আমেরিকার ক্ষেত্রে সেটা প্র্যাগমাটিক হলেও আমাদের ক্ষেত্রে হয়নি। অনেক বন্ধুদের দেখি আজ মস্কোর ঈদ করে রাতের ফ্লাইটে দে...

চুক্তি

Image
মার্কিন স্টেট সেক্রেটারি মোর্কো রুবিওর ২০১৫ সালে সিনেটে দেয়া বক্তব্য পড়লাম। উনি সেখানে প্রেসিডেন্ট ওবামাকে সতর্ক করেছেন ইরানের সাথে চুক্তির ব্যাপারে। বলেছেন চুক্তির মাধ্যমে ইরান যে অতিরিক্ত অর্থ পাবে তা দিয়ে নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করবে, এক সময় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে। যেহেতু ইরানে গনতন্ত্র নেই ও ধর্মীয় নেতা সমস্ত ক্ষমতার উৎস তাই যেকোনো সময় সেই অস্ত্র ব্যবহার করে বিশ্বকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। শুধু ইরান কেন নতুন করে কোন দেশের হাতে এই মারণাস্ত্র আসুক আমি তার বিপক্ষে। তবে রুবিওর বক্তব্য শুনে ও বর্তমান পরিস্থিতি দেখে কিছু প্রশ্ন মনে আসছে।  এখন এটা স্পষ্ট যে ইরান তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে। কিন্তু সেটা করেছে ট্রাম্প ওবামার চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পরে। তার মানে রুবিও যে কারণে চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছিলেন সেটা কাজে আসেনি। যদিও যদি কিন্তু দিয়ে ইতিহাস বিচার করা ঠিক নয় তারপরেও বলা যায় ইরানের সাথে সেই চুক্তি বাতিল না করলে ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিতে পারত। তারচেয়েও বড় কথা চুক্তি করে যদি চুক্তির শর্ত মানা না হয় ও চুক্তিকে আক্রমণের ঢাল হিসেবে ব্য...

প্রশ্ন

Image
হাঙ্গেরির নির্বাচনে ভিক্টর অরবান পরাজিত হলেন। দীর্ঘ দিন কোন শাসক ক্ষমতায় থাকলে এক দিকে যেমন এক ধরণের অভ্যস্ততা তৈরি হয় অন্যদিকে পরিবর্তনের ইচ্ছেও জাগে। যদিও রুশ ইউক্রেন যুদ্ধে অরবানের বিভিন্ন কার্যক্রম আপাত দৃষ্টিতে রাশিয়ার পক্ষে গেছে এর অর্থ এই নয় যে তার প্রস্থান রাশিয়ার জন্য ক্ষতিকর হবে। অরবান রাশিয়ার পক্ষে নন, তিনি হাঙ্গেরির জাতীয় স্বার্থে কাজ করেছেন। সেটা কখনো কখনো রাশিয়ার পক্ষে গেছে। রাজনীতিতে এটা হয়। অরবানের প্রস্থান মানে ইউরোপ ইউক্রেনকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আরও মুক্ত হস্তে সাহায্য করতে পারবে। যুদ্ধের বেগ বাড়বে, যুদ্ধ তাড়াতাড়ি শেষ হবার সম্ভাবনা তৈরি হবে। অন্ততঃ রাশিয়ার মানুষ এটা চাইছে। হাঙ্গেরির প্রতি রাশিয়ার এখন আর আগের মত যত্নশীল থাকার প্রয়োজন না থাকায় সে তেল গ্যাস পুরোটাই অন্য দিকে ডাইভার্ট করতে পারবে। আর এই পরিবর্তনের ফলে ইউরোপের কোন দেশ যদি সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে রাশিয়ার হাত খুলে যাবে। তাই এটা বরং শাপে বর হতে পারে।  অনেককেই দেখলাম অরবানের পরাজয়কে স্বাগত জানাচ্ছে। এর মূল কারণ তাঁর জাতীয়তাবাদী মনোভাব আর ইমিগ্রান্টদের প্রতি বিরূপ মনোভাব। ইউরোপে বর্তমানে...

যুদ্ধ অবিরাম

Image
পাকিস্তানে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ বিরতির আলোচনা কোন রকম সাফল্যের মুখ না দেখেই শেষ হয়েছে। ইসরাইল এখানে নেই বলে অনেকেই এটাকে ইসরাইলের পরাজয় বা কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলে প্রচার করার চেষ্টা করেছিল। আমার কখনোই তেমনটা মনে হয় নাই। উল্টো সব অবস্থাতেই ইসরাইলকে বিজয়ী বলে মনে হয়েছে। কেন? ১) যেহেতু ইসরাইল আলোচনায় অংশগ্রহণ করছে না তাই আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্ত মানার দায় তার নেই। আর এই সূত্র ধরেই তারা এখন লেবানন আক্রমণ করছে, পরে প্রয়োজনে ইরান আক্রমণ করবে।  ২) ইসরাইল যদি আলোচনায় অংশ নিত তাহলে ইরানকে ইসরাইলের অস্তিত্ব স্বীকার করে নিতে হত। সেটাও হত ইসরাইলের কূটনৈতিক জয়।  বর্তমান পরিস্থিতিতে এখানে একটা মাত্র পরাজিত দল আর সেটা আমেরিকা। আমেরিকার ঘাঁটি যে অভেদ্য ও অলঙ্ঘনীয় দুর্গ নয় এটা আজ প্রমাণিত। তারা শুধু নিজেদের ঘাঁটি রক্ষা করতে পারেনি তা নয়, তাদের ছত্রছায়ায় থাকা দেশগুলোকে রক্ষা করতে পারেনি এবং নিজেদের বিভিন্ন কোম্পানিকে রক্ষা করতে পারেনি ইরানের হাত থেকে। মশা, মাছি, মৌমাছি এসবের হাত থেকে যেমন মানুষ বা অন্যান্য প্রাণী সহজে রক্ষা পায় না তেমনি কম দামী ও ঘরোয়া পরিবেশে নির্মাণ যোগ্...

অসম্ভব?

Image
সোভিয়েত ইউনিয়নে সবারই কোন না কোন ঠিকানা ছিল, কেউ রাস্তায় থাকতে পারত না, চাইলেও না। কেউ চাইলেই বেকার থাকতে পারত না, ভালো লাগুক বা নাই লাগুক প্রাপ্ত বয়স্ক সবাইকে আয় করতে হত, নিজের খাবার জোগাড় করতে হত। কারো স্বেচ্ছায় মৃত্যু বরণ করার অধিকার ছিল না যদিও বিনা অপরাধে অনেককেই মৃত্যুদন্ড দেয়া হত। চাইলেই কেউ সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে পারত না। অর্থাৎ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা এসব মৌলিক অধিকারের গ্যারান্টির পাশাপাশি বাকস্বাধীনতা, (প্রকাশ্যে) ভিন্ন মত পোষণ ইত্যাদির অধিকার ছিল না। অন্যদিকে আমেরিকা তথা পুঁজিবাদী বিশ্বে বাকস্বাধীনতা, ভিন্ন মত পোষণের অধিকার আছে কিন্তু খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এসব মৌলিক অধিকার গ্যারান্টেড নয়। সোভিয়েত ইউনিয়নে অনেকেই নিজেদের ইচ্ছামত কাজ করতে বা মত প্রকাশ করতে না পারায় নিজেদের স্বাভাবিক ভাবেই বঞ্চিত মনে করত। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যখন সেই সুযোগ এল আর আগের অনেক গ্যারান্টেড সুযোগ সুবিধা নাই হলে গেল তখন প্রশ্ন জাগল কোনটা ভালো - নিশ্চিত মৌলিক অধিকার নাকি কথা বলার অধিকার? সমস্যা হল খালি পেটে যতই মিটিং মিছিল করুক তাতে পেট ভরবে...

রাজনীতির ভবিষ্যৎ

Image
ভারতীয় উপমহাদেশে রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। যদিও প্রথম দিকে এটা ছিল মূলতঃ বিলাতে শিক্ষিতদের ক্লাব পরবর্তীতে মহাত্মা গান্ধীর চেষ্টায় তা গণসংগঠনের রূপ পায়। এরপর মুসলিম লীগ থেকে শুরু করে একে একে অনেক দল জন্ম নেয়। বাংলাদেশে মনে হয় দলের সংখ্যা শতাধিক। আমার ধারণা সাধারণ মানুষ তো বটেই সক্রিয় ভাবে রাজনীতির সাথে জড়িত কোন লোকও সব দলের নাম বলতে পারবে না।  বুদ্ধি হবার পর থেকে যে দলগুলোর নামের সাথে পরিচিত ছিলাম তা হল আওয়ামী লীগ, মুসলিম লীগ, ন্যাপ। স্বাধীনতার পরে তো বটেই, এমনকি পাকিস্তান আমলেই মুসলিম লীগ তার জনসমর্থন হারিয়েছিল। স্বাধীনতার পরে জাসদ, সিপিবি, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি এসব নাম কমবেশি মুখে মুখে উচ্চারিত হত। কিন্তু যখনই জনসমর্থনের প্রশ্ন আসে তখন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে কোন নাম শোনা যায় না। এমনকি জাতীয় পার্টিরও খুব একটা না। ফলে সংসদে যেতে হলে সবাইকে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সাথে আঁতাত করেই যেতে হয়। ইতিপূর্বে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে প্রতিপক্ষের নাম রাজনৈতিক ক্যানভাস থেকে মুছে ফেলতে। সফল হয়নি। এখনও হ...

ভুল

Image
গতকাল একজন প্রশ্ন করল আমার স্ত্রী তাতার কিনা। কারণ ওর নাম তাতারদের নামের মত। আমার মনে প্রশ্ন জাগল - আচ্ছা, আমাদের দেশের ৯০% মানুষের নাম আরবিতে। তারা তো কেউ আরব নয়। যদিও স্বীকার করতেই হয় এদের একটি বড় অংশ আরব হলে অনেক বেশি খুশি হত।  মঙ্গল শোভাযাত্রা নাকি নাম পরিবর্তন করছে। কেউ বলছে আনন্দ শোভাযাত্রা, কেউ বৈশাখী শোভাযাত্রা। যদি আবার সেই বাংলা নামই রাখা হয় তবে মঙ্গল কী দোষ করেছিল? আসলে দেশে হর হামেশাই এমন সব ঘটনা (অঘটন) ঘটে যা স্বাভাবিক যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব। যদি ৫৫ বছর পরে এসে পাকিস্তানি আমলে ফিরে যাবার জন্য এত ব্যাকুলতা - তাহলে ত্রিশ লক্ষ প্রাণ আর তিন লাখ মা বোনের ইজ্জত হারানোর কি প্রয়োজন ছিল? আর এখন ফিরে গেলে বাঙালি যে পাকিস্তানিদের চোখে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে পরিগণিত হবে সেটা কি ভেবে দেখেছে কেউ? আজ যদি বাংলা ভাষায় উৎসবের নাম রাখলে আত্মসম্মানে লাগে তাহলে ভাষা আন্দোলনের কি দরকার ছিল? যেভাবে অনেকেই মুসলিম ভারতের কথা বলে তাতে মনে প্রশ্ন জাগে সেই ভারতেই যদি ফিরে যেতে হয় তাহলে দেশ ভাগের কি দরকার ছিল?  যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই  যাহা পাই তাহা চাই না। দুবনা, ০৭ এপ্রি...

অরুন্ধুতী রায়

Image
ফেসবুকে অরুন্ধতী রায়ের ইরানের পাশে দাঁড়ানোর স্ট্যাটাস নিয়ে বাজার গরম। বরাবরের মতই এখানেও সবাই পুরো স্ট্যাটাস না দিয়ে আংশিক ভাবে তা প্রকাশ করছে ও সেটার উপর পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর অবস্থানের সাথে একমত না হলেও স্বীকার করতেই হবে যে তিনি বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থার একজন একনিষ্ঠ সমালোচক। এর মানে এই নয় যে তিনি ইসলামী শাসনের পক্ষে। আমরা যাদের কাছ থেকে কিছু আশা করি তাদের অপকর্মের সমালোচনা করি। এটাই নিয়ম। আমরা খারাপ লোকের কাছ থেকে ভালো ব্যবহার আশা করি না। কিন্তু ভালো লোক খারাপ ব্যবহার করলে ব্যথিত হই। রায় খোমেনির কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করেন না। কিন্তু ট্রাম্প, নিতানিয়াহু সহ অনেকেই যখন আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান সেটা তিনি মেনে নিতে পারেন না। অন্যেরা যেখানে হাওয়া দেখে পাল তোলে তিনি সেখানে হাওয়ার তোয়াক্কা না করে নিজের লক্ষ্যে চলেন। এটা পছন্দ না হলেও প্রশংসার যোগ্য। অবাক লাগে যখন অনেকে এমনকি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অরুন্ধতী রায়ের জন্ম ১৯৬১ সালে। ১৯৭১ সালে তার বয়স ছিল মাত্র দশ। তখন তিনি কিছু বললেও সেটা কেউ মনে রাখত না বা গুরুত্ব দিত ন...

উদ্বৃত্ত মূল্য

Image
অনেক দিন পরে সেদিন এক গ্রুপে উদ্বৃত্ত মূল্যের কথা শুনলাম। আমাদের ছাত্র জীবনে এ কথাগুলো নিয়মিত শুনতাম বিশেষ করে পার্টির গ্রুপ মিটিং ও পাঠচক্রে। বাংলাদেশের বা তৃতীয় বিশ্বের বাস্তবতায় এটা এখনও ঠিক। তবে নতুন যুগে আমাদের পুরানো ধাঁচে চিন্তা করলে চলবে না। কারণ এখনকার টাইকুনদের একটি বিরাট অংশ খুব নাজুক অবস্থা থেকেই শুরু করেছিল। অন্তত সেই গল্পই আমরা শুনি বিল গেইটস, স্টীভ জব, মার্ক জুকেরবারগ সহ অন্যান্যদের সম্পর্কে, বিশেষ করে আইটি সেক্টর থেকে যারা বিশাল অর্থের মালিক হয়েছেন তারা শুরু করেছিলেন আমাদের মতই সাধারণ জীবন থেকে। তাই শুধু মাত্র উদ্বৃত্ত মুল্য, যার মুলে রয়েছে শ্রমিকের সেই শ্রম যার জন্য সে সঠিক বেতন পায়নি, আধুনিক বিশাল পুঁজির একমাত্র উৎস নয়। অন্য দিকে উৎপাদনই কিন্তু সাইকেলের শেষ কথা নয়, কারণ সময় মত সঠিক দামে বিক্রি করতে না পারলে সব শ্রমই পণ্ডশ্রম হবে। এই বিক্রির জন্যই এত এত বিজ্ঞাপন, হাজার কোটি টাকা খরচ, লবি - কত কিছু। তাই পুঁজিপতির কাজ শুধু টাকা বা পুঁজির মধ্যে শেষ হয়ে যায় না, পূর্ণ সাইকেল চালানোর জন্য হাজারটা কায়িক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ করতে হয়, এমনকি অনেক সময় আইনের চোখে ধূলা দিতে হয় যা ধ...

বাদের বিবাদ

Image
পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র, মোল্লাতন্ত্র, ব্রাহ্মণ্যবাদ এসব ব্যবস্থা পরস্পরের বৈরী, একে অন্যের সাথে সমঝোতা করে বেশি দিন এক সাথে ঘর করতে পারে না, তাই এদের মধ্যে জীবন মরণ যুদ্ধ অনিবার্য। যদিও পুঁজিবাদ, মোল্লাতন্ত্র, ব্রাহ্মণ্যবাদ - এদের অর্থনৈতিক ভিত্তি শোষণ তবে তাদের এলিট শ্রেণী ভিন্ন, ভিন্ন জীবন দর্শন। পুঁজিবাদে অর্থই ঈশ্বর, অর্থই শোষণের লক্ষ্যবস্তু। মোল্লাতন্ত্রে ও ব্রাহ্মণ্যবাদে ঈশ্বর অর্থের মত অর্থবহ নন, তিনি অদৃশ্য এবং ধর্ম ব্যবসায়ীদের কাছে শোষণের হাতিয়ার। এখানেও স্বর্গ বা বেহেশতের ফাইভস্টার হোটেলে সীট বুকিংয়ের আশ্বাস দিয়ে মোল্লা আর পুরুতরা জাগতিক সুখ পেতে ব্যস্ত। সমাজতন্ত্র ভিন্ন অর্থনৈতিক সম্পর্ক সৃষ্টি করা হলেও জন্ম নেয় নতুন এলিট, নতুন শোষক শ্রেণী। গণতন্ত্র সবাইকে একোমোডেট করতে পারে, তবে এদের পারস্পরিক এন্টাগোনাস্টিক চরিত্র সেটা করতে দেয় না। আর যেহেতু সব সমাজেই বিভিন্ন চিন্তার মানুষ বিদ্যমান তাই সংঘাত অনিবার্য। উপায়? সমঝোতা করা, পরস্পরকে ছাড় দেয়া। প্রাণী জগতে এটা দেখা যায় না। একদল অন্যদলকে ভিটেছাড়া করে। মানুষ তো সেই বন্যতাকেই ধারণ করে। আর দলের আকার ও শক্তি তার মধ্যে পাশবিক ...

কাউয়া

Image
কারো কোন কাজ যদি তার সংগঠনের আদর্শিক শত্রুর হাত শক্তিশালী করে বা শত্রুর স্বার্থ হাসিল করে তাহলে বুঝতে হবে যে হয় সে গন্ডমূর্খ না হয় অতি চালাক যে ছদ্মবেশে শত্রু শিবিরে অবস্থান করে আসল মিত্রদের সাহায্য করছে। ওকার ভাষায় অনেক কাউয়া ঢুকেছে। বাংলাদেশের বাম রাজনীতিতে এরকম অনেকেরই দেখা মেলে যাদের কোন মতেই মূর্খ বলা যায় না। তাহলে কি তারা সার্জিসদের মত গুপ্ত শিবির যারা প্রগতির বোরকা পরে প্রতিক্রিয়ার চাষ করে যাচ্ছে? যদি তাই হয় তবে সার্জিসদের মত সাহস করে আত্মপ্রকাশ করছে না কেন? নাকি এখনো নিজেদের চুড়ান্ত বিজয় সম্পর্কে নিশ্চিত নয়, তাই ঘাপটি মেরে বসে আছে ভবিষ্যতে বিনাশিতামূলক ঘটনা ঘটাতে ও ভেতর থেকে বাম আন্দোলনের বারোটা বাজাতে? ভুলে গেলে চলবে না যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এসব ছদ্মবেশী প্রগতিশীলদের রাজনৈতিক শত্রু আর আসল বামেরা এদের আদর্শিক শত্রু। বামদের ধ্বংস করা তাদের কাছে ছোয়াব। গাছ ধ্বংস করার আগেই পরগাছা উপড়ে ফেলতে হয়। সময় এসেছে এদের হাত থেকে বাম রাজনীতিকে মুক্ত করার। ভাঙনের ভয়ে কোন রকমে জোড়াতালি দিয়ে চললে ভবিষ্যতে ভাঙন আরো মারাত্মক রূপ নেবে। আর এখন নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে ব্যবস্থা নিলে ব...

প্রশ্ন

Image
ফেসবুকে কাফরানি নামে এক আমেরিকান সার্জনের স্ট্যাটাস দেখলাম। লেবানন বংশোদ্ভুত এই সার্জন অভিযোগ করেছেন যে বৈরুতে ইসরাইল আমেরিকার সহায়তায় ধ্বংস যজ্ঞ চালিয়ে তার নিজের বাড়িও মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। পারতপক্ষে তিনি ট্যাক্সের টাকা দিয়ে নিজের বাড়ি নিজে ধ্বংস করেছেন।  এই স্ট্যাটাস দেখে আমার মনে হল উন্নত বিশ্বে বিশেষ করে আমেরিকায় বসবাসকারী তৃতীয় বিশ্বের লাখ লাখ মানুষের কথা যারা এই সব দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার জন্য অমানুষিক পরিশ্রম করছে। অন্যদিকে এসব দেশ গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে রঙিন বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের জন্মভূমিকে ধ্বংস করে প্রতিদান দিচ্ছে। এ এক অদ্ভুত চক্র। মানুষ উন্নত জীবনের জন্য বিদেশে যায়, সেসব দেশের অর্থনীতি সচল রাখে, কষ্টোপার্জিত টাকা দিয়ে দেশে আত্মীয় স্বজনদের সাহায্য করে অথচ নতুন দেশের সরকার ফেলে যাওয়া দেশ ধ্বংস করে বিভিন্ন অজুহাতে। তাদের এই বাস্তবতার সাথে সন্ধি করেই টিকে থাকতে হয়। দিনের শেষে সবাই সবকিছু মেনে নেয় আর কি মানছে সেটার উপর ভিত্তি করে কেউ গণতন্ত্রী, কেউ সমাজতন্ত্রী, কেউ মৌলবাদী, কেউ প্রগতিশীল ...... অদ্ভুত!!! দুবনা, ২৮ মার্চ ২০২৬

জন্মদিনে শুভেচ্ছা

Image
সেন্ট এক্সুপেরি তার ছোট রাজপুত্রের মুখ দিয়ে বলিয়েছিলেন "যাদের তুমি বশ মানিয়েছে, তাদের কাছে তুমি দায়বদ্ধ।" অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ে ও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোকের ইন্টারভিউ শুনে বুঝেছি বঙ্গবন্ধু তাঁর ঘনিষ্ঠ শত্রুদের বিষয়ে খুব ভালোভাবেই অবগত ছিলেন এবং তারপরেও এক অন্ধবিশ্বাস পোষন করতেন যে আর যাই করুক এরা তাকে হত্যা করবে না। এক দূরদর্শী নেতার এমন অদূরদর্শিতা সত্যি অবাক করার মত। সুসময়ে জন্মদিন উপলক্ষে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেবার মানুষের অভাব হয় না কিন্তু দুঃসময়ে মনে রাখার, চেতনা সমুন্নত রাখার মানুষের বড়ই অভাব। যুদ্ধক্ষেত্রে যে সৈনিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার আগ পর্যন্ত পতাকা সমুন্নত রাখে সেই আসল বীর, সত্যিকারের দেশপ্রেমিক।  ১৯৬৯ ও ১৯৭১ সালে কারারূদ্ধ বঙ্গবন্ধু জাতিকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন স্বাধীনতার লড়াইয়ে। আজকের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও তিনি সেই বন্ধন হতে পারেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশ পন্থী মানুষের কাছে।  শুভ জন্মদিন! আপনি ভালো নেই। এখন আমাদের দায়িত্ব আপনাকে ভালো রাখার। দুবনা, ১৭ মার্চ ২০২৬

যুদ্ধ কি শেষ হবে?

Image
আমি সাধারণত যুদ্ধ পছন্দ করি না। তবে উপসাগরীয় যুদ্ধ পছন্দনীয় হতে শুরু করেছে। কেন? আধুনিক যুদ্ধ আর কামান, ট্যাঙ্ক, যুদ্ধ বিমান, এমনকি রকেট দিয়ে হচ্ছে না, হচ্ছে সস্তা ড্রোন দিয়ে। একেই বলে পঁচা শামুকে পা কাটা।  এখন গরীব দেশও যুদ্ধে ধনী দেশকে টেক্কা দিচ্ছে। ইয়েমেন সৌদি আরবের সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলছে। প্রায় ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন সামরিক বাজেট হাজার ডলারের ড্রোনের সামনে অসহায়। বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ড্রোনের দাপটে পালিয়ে যাচ্ছে। যখন নিখুঁত অস্ত্র তৈরি করতে উন্নত বিশ্ব বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ও বছরের পর বছর ব্যয় করছে সেখানে ঘরোয়া পরিবেশে স্বল্প খরচে প্রতিদিন শতশত ড্রোন তৈরি হচ্ছে। এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ ইঞ্জিনিয়াররা ভূগর্ভস্থ ব্যাঙ্কারে ড্রোন তৈরি করছে, সেনাদের চাহিদা অনুযায়ী তা পরিবর্তন করছে। এমতাবস্থায় যুদ্ধটা এই প্রথমবারের মত অলাভজনক ব্যবসায় পরিনত হতে চলছে। এতদিন যুদ্ধের চালিকাশক্তি ছিল বিশাল অংকের লাভ আর শাসকদের ব্যর্থতা লুকানো। শাসকরা এর পরেও ব্যর্থ হবে। তবে লাভজনক না হলে যুদ্ধের স্পন্সর খুব বেশি দিন পাওয়া যাবে না। আর এটাই হতে পারে উপসাগরীয় যুদ্ধের মূল লাভ। মস্কোর পথে,...

হতাশা?

Image
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেককেই নতুন করে হতাশ করছে, বিশেষ করে যারা বিএনপির কাছে আওয়ামী লীগ বা তারচেয়েও বেশি মুক্তিযুদ্ধ পন্থী ভূমিকা আশা করেছিল। নির্বাচনে জামায়াত ও বিএনপির মধ্য থেকে যখন বেছে নেবার প্রশ্ন এসেছিল তখন বিএনপি ছিল বেশি গ্রহণযোগ্য। কিন্তু এর মানে এই নয় যে বিএনপি রাতারাতি বদলে যাবে বা আদৌ বদলে যাবে। এখন দেশের স্বার্থে ও নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশ পন্থী সবার উচিত হবে আওয়ামী লীগ সহ অন্যান্য দলকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা। অন্যথায় পরবর্তীতে বেছে নেবার জন্য এমনকি বিএনপিও থাকবে না। নেটে সংসদে রাজাকারদের উপর শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু এটা কি হঠাৎ করেই ঘটেছে? এর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে স্বাধীনতার পর থেকেই। পরে বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নাম ও বেশ ধারী রাজাকারদের সমাজে ও রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পেতে সাহায্য করেছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি কেউ বাদ যায়নি। এমনকি ২০২৪ সালে আন্দোলনের সময় ও পরবর্তী কালে সিপিবির মত দলগুলো (একাংশ তো বটেই) এই কাজ করে গেছে। তাই এখন কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন দিয়ে কী হবে? বর্তমানে আমাদের সামর্থ্য সীমিত, সুযোগ আরও কম...

বয়ান

Image
আমাদের এলাকায় একটা কথা আছে, "সব মাছে গু খায়, নাম হয় ঘাইরা মাছের।" আমরা প্রায়ই শুনি মুক্তিযুদ্ধের আওয়ামী বয়ানের কথা। সবাই এ নিয়ে কথা বলে। কিন্তু আওয়ামী লীগ কি শুধু একাই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করে? বিএনপি কি স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে কথা বলে না? সেটাও তো মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা। অথবা বাম দলগুলো মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান নিয়ে যা বলে সেটাও তো মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগানোর জন্যই। এমনকি জামায়াত পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের মত করে ব্যাখ্যা করে জনমত নিজেদের পক্ষে আনতে চায়। আমরা তো সারা জীবনই নিজেদের অতীত বিক্রি করে খাই বা অন্তত খাবার চেষ্টা করি। এই যে চাকরির জন্য সার্টিফিকেট পেশ করা, নতুন কাজে জয়েন করতে গেলে পুরানো কাজে সাফল্যের কথা লিখে সিভি দাখিল করা - এ সবই তো অতীত বিক্রি করা। কারণ আমাদের ভবিষ্যৎ অজানা, তাই অতীত দেখিয়েই আমরা সূর্যের নীচে নিজেদের জায়গা করে নিতে চাই। ইন্টার্ভিউতে সেই টিকে যে নিজেকে বেশি যোগ্য প্রমাণ করতে পারে। আর সে যে সব সময় ক্লাসের সেরা ছাত্র হবে তার কোন মানে নেই। পণ্য উৎপাদন করলেই হবে না, সেটাকে মুনাফা সহ বিক্রি করতে হবে - তবেই তো মিশন সফল। পৃথিবীর সমস্ত...

পরম্পরা

Image
আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের একটি ভুল ধারণা আছে, তা হল দেশকে ইউরোপ, আমেরিকা বা সিঙ্গাপুর বানাতে পাঁচ বছরও লাগবে না। সোভিয়েত আমলে দেশের বামপন্থী নেতা কর্মীরা যখন সেদেশ ভ্রমণ করতেন ও সবকিছুর উচ্ছসিত প্রশংসা করতেন তখনও তাদের ভুলটা চোখে পড়ত, তবে তা কয়েক বছর এ দেশে থাকার পরে। সোভিয়েত ইউনিয়নে অনেক ভালো ভালো জিনিস ছিল, তবে খারাপ দিকও কম ছিল না। কিন্তু তাদের যেহেতু বেছে বেছে ভালো জায়গাগুলো দেখানো হত তাই এক ধরণের আংশিক ধারণা গড়ে ওঠা অস্বাভাবিক ছিল না। হয়তো কেউ কেউ সেটা বুঝত, কিন্তু রাজনীতির স্বার্থে শুধু ভালো দিকটাই বলত। তবে ইউরোপ আমেরিকায় তো সোভিয়েত ইউনিয়নের মত স্বাধীন ভাবে ঘুরে ফিরে দেখায় বাধানিষেধ নেই তাই রাজনৈতিক নেতা বা অনেক ক্ষেত্রে বুদ্ধিজীবীদের মুখে এসব শুনে অবাক হই। কারণ ইউরোপ, আমেরিকা, সিঙ্গাপুর এসব দেশ শুধু অর্থনৈতিক চাকচিক্য, রাস্তাঘাট, শিল্প প্রযুক্তি নয়, এটা এক বিশেষ রাজনৈতিক পরিবেশ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানুষে মানুষে সম্পর্ক, ইতিহাস ইত্যাদির এক বিশাল সমন্বয়। বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা দেখে মনে হয় অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত বিষয়ে ইউরোপ আমেরিকার মত হলেও মানবিক দিক থেকে সেখানে...

কি ছিনুরে আর কি হনুরে

Image
স্কুলে আমাদের পণ্ডিত স্যার গল্পটি বলতেন। এক লোক জমির আল দিয়ে হাঁটার সময় শনের ঝোপে উস্টা খেয়ে পড়ে গেছে। উঠেই সবাইকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলল, "জোয়ান কালে লাথি মেরে কত শনের ঝোপ উড়িয়ে দিয়েছি!" তারপর চারিদিকে তাকিয়ে যখন দেখল আশেপাশে কেউ কোথাও নেই, বলল, "কি ছিনু আর কি হনুরে।" মানে কিই বা ছিলাম আর কিই বা হলাম।  নির্বাচনের আগে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে মুখে ফেনা তুলেছিল বিএনপি। আমরা এতে বিশ্বাস করে এই দলের জন্য ভোট চেয়েছিলাম। এখন শুনি ৭ মার্চের ভাষণ শোনায় মানুষের উপর আক্রমণ হয়েছে। গ্রেফতার নাকি হয়েছে কেউ কেউ। যারা বিবর্তন তত্ত্বে বিশ্বাস করে না তারা নিজেরা বদলাবে কিভাবে? যা ছিল তাই রয়ে গেল। ভেবেছিলাম এখন থেকে বাংলাদেশে দুই দুটি বড় দল থাকবে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে, মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে। কিন্তু ক্ষমতার লোভ আর সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভয় মনে হয় আমাদের রাজনীতির পিছু ছাড়ছে না। আর দেশ তাই বরাবরের মতই অনিশ্চিতয়ার মধ্য কাল কাটাবে তার আত্মপরিচয় নিয়ে। দুবনা, ২০ মার্চ ২০২৬

মাস্তান

Image
পাড়ার মাস্তান বা ক্লাসের সবচেয়ে বেয়াড়া ছেলের শক্তির উৎস অন্যদের ভয় আর তাদের বড় দুর্বলতা অন্যদের সাহস। তাই এমনকি সবচেয়ে নিরীহ যে মানুষ যে কখনোই মাস্তানের পথ মাড়ায় না সে তাকেও ভয় দেখাতে চায়, পাছে অন্য কেউ সেই নিরীহ মানুষের দেখাদেখি তাকে অবজ্ঞা করে। কিন্তু যদি নিরীহ লোকটি মার খাবে জেনেও ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেটা মাস্তানের মাস্তানির শেষের ঘন্টা বাজাতে পারে। অনেকের ধারণা ভেনেজুয়েলার সেনারা যদি গুলি করে দুটো হেলিকপ্টারও ভূপাতিত করত তাহলে আমেরিকা রিট্রিট করত। অন্তত ড্রোনের তাড়া খেয়ে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ আব্রাহাম লিংকন সরিয়ে নেয়া দেখে সেটাই মনে হয়।ভেনেজুয়েলার বিনা প্রতিরোধে আত্মসমর্পণ ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণে উৎসাহিত করেছে। এবং ইরান যে বিভিন্ন দেশে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করবে সেটা মনে হয় তাদের ধারণার বাইরে ছিল। আসলে পশ্চিমা বিশ্ব সবসময়ই বিদেশে নিজ নিজ মীর জাফর - মোস্তাক - ইউনুস খুঁজে তারপর আক্রমণ করেছে। ইরানে হয় সেরকম কাউকে পায়নি অথবা নেতৃত্ব ধ্বংস করলে মানুষ রাস্তায় নেমে এসে বাকি কাজ করে ফেলবে সেটা ভেবেছে। তবে যাই হোক হিসেবে যে ভুল ছিল সেটা বোঝা যায়। যদি ইরান আর কিছ...

৭ মার্চ

Image
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে অন্যতম গৌরবময় দিন। বিচারের জন্য পন্টি পিলটের সামনে হাজির করলে যীশু খ্রিস্ট বলেন ঈশ্বরকে ঈশ্বরের প্রাপ্যটুকু দাও, সিজারকে সিজারের প্রাপ্যটুকু। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হল আমরা যার প্রাপ্য তাকে না দিয়ে সব নিজেদের কুক্ষিগত করার চেষ্টা করি। গেটিসবার্গ বক্তব্য আব্রাহাম লিংকনের হলেও সেটা গণতন্ত্রের আধুনিক মেনিফেস্ট হিসেবেই দেখা হয়। পাছে লিংকনের প্রশংসা করা হয় এই ভয়ে কেউ এই বক্তব্য অস্বীকার করে না। এপ্রিল থিসিস লেনিনের লেখা হলেও সেটা বিপ্লবের মেনিফেস্ট, যেমন কমিউনিস্ট মেনিফেস্ট শুধু মার্ক্স ও এঙ্গেলসের নয় সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের। একই ভাবে ৭ মার্চের ভাষণ এটা শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত একার নয়, স্বাধীনতাকামী সমস্ত বাঙালি জাতির। এসব বক্তব্য তাই কারো একার নয়, পরিবেশ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজ এ সবের এক সম্মিলিত মিথস্ক্রিয়ার ফল। আজ খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কাল খুব দেরি হয়ে যাবে। হ্যাঁ, এসব মেনিফেস্ট, এসব বক্তব্য শুধু নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট মানুষের মুখেই উচ্চারিত হয়। এটা এক অবজেক্টিভ রিয়ালিটি, ঐতিহাসিক ঘটনা যা...

ইতিহাস

Image
হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পর যে ভয় সৃষ্টি হয়েছিল সেটা অনেক আগেই কর্পূরের মত উবে গেছে। যদিও এরপর থেকে বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্র ও এই অস্ত্রধারী দেশের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলছে তবে এ অস্ত্র আর প্রয়োগ করা হয়নি।  এরপর বিশ্ব প্রবেশ করে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির যুগে। তবে চেরনোবিল ক্যাটাস্ট্রফির পরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পর্কেও ভীতির সঞ্চার হয়। ফুকুশিমা ক্যাটাস্ট্রফি সেটাকে নতুন শক্তি যোগায়।  তবে মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে কখনোই আগ্রহী ছিল না। তাই ইরানের বুসেরে রাশিয়া সহযোগিতায় নির্মিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা করতে ইসরাইল ও আমেরিকা দ্বিধা করছে না। রসএটম এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে সেখানে আক্রমন সমস্ত অঞ্চলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সমস্যা হল - আমেরিকা সাত সাগর আর তের নদীর পাড়ে। তাই রেডিয়েশনের হিসাব করার ধৈর্য্য তার কোথায়? দুবনা, ০৩ মার্চ ২০২৬

মৃত্যু

Image
একজন প্রশ্ন করল  আয়াতুল্লাহর মৃত্যুতে কেমন অনুভূতি হচ্ছে? কি বলব? বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষের কর্মকাণ্ডের আমি বিরোধিতা করি। তাদের যথাযথ শাস্তি চাই। কিন্তু ক্রসফায়ারে তাদের মৃত্যু কামনা করি না। এটা তাদের প্রতি সহানুভূতির কারণে নয়, শাসন ব্যবস্থার অধঃপতনের কারণে। আয়াতুল্লাহর মৃত্যু তাই আয়াতুল্লাহর মৃত্যু নয়, এটা সভ্যতার মৃত্যু, বিশ্বাসের মৃত্যু। কারণ আলোচনা চালিয়ে হঠাৎ আক্রমণ এটা বিশ্বাসঘাতকতা। আসলে ইসরাইল ও আমেরিকা যা করছে সেটা আন্তর্জাতিক মব শাসন। মব শাসনের মূল কী? বিচারহীনতা। অর্থাৎ যারা যা খুশি তাই করে তারা জানে তাদের কিছু হবে না। আমেরিকা ইসরাইল সেভাবেই চলছে। লক্ষ্য নাকি যেকোনো উপায়কে ন্যায্যতা দেয়। এটা স্তালিনের নামে চালানো হয়। তবে এই নিয়মে চললে অনিয়মটাই নিয়ম হয়ে যায়। কারণ এমনকি জঙ্গলের পশুরাও কোন না কোন নিয়ম মেনে চলে। আমরা মানুষেরা যদি তা না পারি তাহলে সেটা মানুষ নামের কলঙ্ক। মস্কো, ০২ মার্চ ২০২৬

প্রশ্ন

Image
আয়াতুল্লাহ খোমিনি নিহত। ইরান ইসরাইলের এই দাবির সত্যতা স্বীকার করেছে। যতদূর জানি এটা একটি পদের নাম। নতুন আমিরের মত নতুন আয়াতুল্লাহ নির্বাচিত হবে। অর্ধশতাব্দী দীর্ঘ ইসলামী শাসনে কয়েক প্রজন্ম ইসলামী শাসনের সমর্থক সৃষ্টি হয়েছে ইরানে। বিরোধীরা এখনও দুর্বল। তাই এমনকি নতুন ব্যবস্থা যদি চালু হয়ও তার কলকাঠি ঘুরাবে এইসব মানুষ। ফলে শাসনব্যবস্থা নামে বদলালেও কার্যত আগের মতই থাকবে, অন্তত সমাজের গভীরে। দেশ বদলানোর জন্য যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন দরকার পুঁজিবাদী বিশ্ব সেটা কখনোই করবে না। তারা কাজ করে নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে, ভিন দেশের জনস্বার্থে না। আমার কেন যেন মনে হয় সারা বিশ্ব আমেরিকার আভ্যন্তরীণ রাজনীতির কাছে জিম্মি। আগে মনে হত আমেরিকা মানেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। এখন দেখি দুই বছরের ইলেক্টোরাল সাইকেল - প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেস নির্বাচন। এখানে সুবিধা লাভের জন্য শান্তি আর অশান্তি (যুদ্ধ) পালা করে আসে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। আর এই নির্বাচনের জিম্মি হয় ভেনেজুয়েলা, ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া সহ তাবৎ দুনিয়ার মানুষ। নব্বইয়ের দশকে রাশিয়া যখন অলিগার্কদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে ছিল তখন রাশ...

অমানুষমানুষ

Image
আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরান আক্রমণ করল। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী ইসলামী শাসন থেকে ইরানের জনগণকে মুক্ত করতে। এটা ঠিক যে ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থা কোন মতেই সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু তাই বলে বিনা প্ররোচনায় একটি স্বার্বভৌম দেশ আক্রমণ করা কি পৃথিবীকে আরও বেশি অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে না? ইসরাইল ঘোষণা করেছে যে ইরান তার অস্তিত্বের জন্য হুমকি বিধায় সে ইরান আক্রমণ করেছে। আমেরিকা বলেছে তার লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন। তার মানে যদি কোন দেশের সরকার তাদের পছন্দ না হয় এবং সে দেশ যদি যথেষ্ট শক্তিশালী না হয় তবে তাকে আক্রমণ করা বেআইনি নয়? এসব বিভিন্ন শক্তিশালী দেশের সামনে প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেয় শক্তি প্রয়োগ করে সমস্যা সমাধানের জন্য। তাই ইরানের ইসলামী শাসন অপছন্দ করলেও এই ধরণের আক্রমণ সমর্থন করা মানে জঙ্গলের শাসনকে এনডোর্স করা তা সে যতই ভালো হোক না কেন। দুটো খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে কম খারাপ বেছে নিতে হয়। হয়তোবা ইরানের শাসনব্যবস্থা অধিক খারাপ, কিন্তু যুদ্ধ কি অন্য পথের চেয়ে ভালো? আর দিনের শেষে মারা যাবে তো নিরীহ সাধারণ মানুষ। দুবনা, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কার যুদ্ধ?

Image
পাকিস্তান আফগানিস্তান আক্রমণ করেছে। যাকে বলে ফুল স্কেল ওয়ার। দুই দেশই যে যেভাবে পারছে অন্যকে আক্রমণ করছে। জানা গেছে আফগানিস্তান পাকিস্তানের পারমাণবিক কেন্দ্রে আক্রমণ চালিয়েছে। এতে শতাধিক আহত ও নিহত। এক কথায় দুই ভ্রাতৃপ্রতিম (?) দেশ কিছুতেই নিজেদের মধ্যে সমঝতা করতে পারছে না যদিও এর আগে কাটার আর তুরস্কের মধ্যস্থতায় সাময়িক ভাবে উত্তেজনা করেছিল। বাংলাদেশে দুই পক্ষেরই সমর্থক আছে। জামায়াত শিবির সহ জনগনের একটি অংশের পাক প্রেম গোপন কিছু নয়। আবার বাংলা হবে আফগান আমরা হব তালিবান স্লোগান দেবার লোকজনও খুব কম নয়। অনেকেই আবার যাকে বলে ট্যু ইন ওয়ান। এবার এরা কি করবে? এটা থেকে অন্তত বোঝা উচিত এসব দেশ আর যাই হোক জনগণ বা ধর্মের নামে সব করলেও জনগণ বা ধর্মের জন্য কিছু করে না, করে নিজেদের ও বিদেশী প্রভুদের স্বার্থে। পাকিস্তানের সেনা শাসনের প্রতি আমেরিকা ও চীনের সমর্থন বরাবরই ছিল। ইদানিং ভারত ও ইসরাইল আফগানিস্তানের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেছে। কার যুদ্ধ কে করছে সেটাই এখন দেখার বিষয়। দুবনা, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভয়কে করব জয়

Image
রুশ গোয়েন্দা সংস্থা ঘোষণা করেছে যে ফ্রান্স ও ব্রিটেন ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্র হস্তান্তর করার পরিকল্পনা করছে। সেটা এমনভাবে করা হবে যেন মনে হয় ইউক্রেন নিজ শক্তিতেই এই বোমা তৈরি করেছে। ফ্রান্সের সাবমেরিনের ব্যালেস্টিক মিসাইল এম৫১.১ এর ওয়ারহেড টিএন৭৫ হাতে পেলে কিয়েভ শান্তি চুক্তিতে শক্ত অবস্থান নিতে পারবে। এই অস্ত্র হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত কয়েকটি বোমার সমান শক্তিশালী। রাশিয়া বলেছে এটা হবে পারমানবিক অস্ত্র সম্প্রসারণ না করার আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন। মস্কো এক্ষেত্রে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হবে।  যুদ্ধ মানেই কারোও জয় কারোও পরাজয়। এটা অনেকটা খেলার মত। যদি পরাজয় মেনে নেবার মানসিক শক্তি না থাকে তাহলে যুদ্ধ নামা উচিত নয়। কারণ সেক্ষেত্রে একটি মাত্র পথ খোলা থাকে। ধ্বংস হওয়া।  ইউরোপ সেই পথেই হাঁটছে। বিশ্ব রাজনীতিতে দেউলিয়া হয়ে এখন সে সর্বহারা - শিকল ছাড়া হারোনোর কিছু নেই, জয় করার জন্য আছে পারমাণবিক শীতের ভয়। দুবনা, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রতিভা

Image
মেধা, নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি এসব কারণে যদিও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জাগত তবুও যখন ডঃ ইউনুসকে প্রধান উপদেষ্টা করা হয় তখন আমার মনে হয়েছিল ডাঃ জাফর উল্লাহ সবচেয়ে যোগ্য মানুষ হতে পারতেন এই পদের জন্য। কারণ এসব পদের জন্য সবচেয়ে বড় ক্রাইটেরিয়া হল দেশপ্রেম। ডাঃ জাফর উল্লাহর দেশপ্রেম ছিল সন্দেহাতীত। ডঃ ইউনুস বিভিন্ন সময় সন্দেহ করার সুযোগ দিয়েছেন।  দীর্ঘ আঠারো মাসের শাসন শেষে ডঃ ইউনুস বিদায় নিয়েছেন। তাঁর শাসনামল নিয়ে অনেক লেখা হবে। নিজ নিজ উপলব্ধি থেকে বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে তাঁর সময়ের আর সেই সাথে তাঁর মূল্যায়ন করবে।  সাধারণ মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা ছিল দীর্ঘ সময় ভয়ের যে সংস্কৃতি বিরাজমান ছিল তিনি দেশকে তা থেকে মুক্ত করবেন। তা হয়নি। তিনি মবের মাধ্যমে ভয়ের সংস্কৃতি আরও গভীর করেছেন।  কথা ছিল স্বজনপ্রীতির অবসান ঘটবে। তিনি নিজেকে তো করমুক্ত করেছেনই নিজের আত্মীয়-স্বজনদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছেন।  মানুষ ভেবেছিল আওয়ামী লীগের হাত থেকে উদ্ধার করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি মুছে ফেলার জন্য সব রকমের চেষ্টা করে...