শিক্ষা

গৌরাঙ্গ সরকার নামে এক গণিতের শিক্ষক পুলিশের হেফাজতে ইসলাম ও মহানবীকে নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগে। বেশ কয়েক বছর আগে হৃদয় মন্ডলকে নিয়ে এই নাটক হয়েছিল। আমি একটি বিষয় কিছুতেই বুঝতে পারি না গণিত বা বিজ্ঞানের ক্লাসে কীভাবে ধর্মের আলোচনা আসে যদি না ছাত্রদের কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে এ ব্যাপারে উস্কানি দেয়। শিক্ষকদের নাম ধাম দেখে প্রথমেই যেটা মনে হয় তা হল একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করতে এসব ব্যবস্থা। এটা ঠিক সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানো অনেক সহজ। এজন্য এমনকি আইনের আওতায় আসতে হয় না। কিন্তু এটাই কি মূল কারণ নাকি মূল কারণ গভীরে। সাধারণ ভাবে আধুনিক শিক্ষা আর বিশেষ করে গণিত, বিজ্ঞান মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখায় আর এটাই বর্তমান বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের সাথে যায় না। তাই হিন্দু শিক্ষকদের নাজেহাল করা মূলত আধুনিক শিক্ষা প্রত্যাখ্যান করার প্রথম পদক্ষেপ। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক শিক্ষার সমান মর্যাদা দিয়ে সেই যাত্রা শুরু হয়েছিল। বাকি রইল মাদ্রাসা শিক্ষাকেই একমাত্র শিক্ষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। এজন্য গৌরাঙ্গ সরকার নাটক মঞ্চস্থ না করলেও হত। যদি খেয়াল করি দেখব দেশের মানুষের একটি সংগঠিত অংশ বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে। গান বাজনা, নাটক, যাত্রা, মেলা এসব বিলুপ্ত প্রায়। এখন থেকে সচেতন না হলে আধুনিক শিক্ষা এই পথেই যাবে। তাই গৌরাঙ্গ সরকারের বিষয়টি শুধু ধর্মীয় কোণ থেকে না দেখে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কি হতে যাচ্ছে সেদিকে থেকে দেখা দরকার আর এজন্যেই ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে যারা আধুনিক শিক্ষার পক্ষে তাদের উচিৎ গৌরাঙ্গ সরকারের পাশে দাঁড়ানো। কারণ এর মধ্য দিয়ে আপনি গৌরাঙ্গ সরকার নয়, আপনার সন্তানদের আলোকিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করছেন। 

মস্কো, ২০ মে ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

রিংকু