ভাগ্য না বোকামি
কিছুদিন আগেও সে ছিল ইউক্রেনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। হ্যাঁ, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের প্রধান হলেও আন্দ্রেই এরমাক ছিল সেই ব্যক্তি যে নেপথ্য থেকে দেশ চালাত। তবে দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পদ হারিয়েছে। এটা নতুন কিছু নয়। এখন মার্কিন প্রশাসন তাকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেই দুর্নীতি ধরা পড়েছে। খবরে প্রকাশ সে গণকের সাহায্য নিয়ে দেশ পরিচালনা করত। আসলে জেলেনস্কির অভিনয় জীবন থেকেই তারা একসাথে, একে অন্যের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এমনকি বাধ্য হয়ে এরমাককে সরালেও মুলত এরমাকই নেপথ্য থেকে প্রশাসন চালাত। এখন গ্রেফতার হয়ে হাজত বাস করছে। জামিন মেলেনি, কারণ জামিনের জন্য প্রায় চার মিলিয়ন ডলার যোগার করতে পারেনি। বন্ধুরাও বাড়িয়ে দেয়নি সাহায্যের হাত! সবাই কি বিশ্বাসঘাতক? না। এমনকি এরমাক - যে বিগত চার বছরে বিলিয়ন বিলয়ন ডলার এদিক সেদিক করেছে - সেও জামিনের টাকা দিতে পারছে না। কেন? কারণ তাদের একটি পয়সাও সাদা নয়। সব টাকা কালো। পশ্চিমা বিশ্ব থেকে যুদ্ধের জন্য পাওয়া টাকা বিভিন্ন ভাবে এদিক সেদিক পাচার করেছে। তাই না এরমাক নিজে, না জেলেনস্কি, না অন্যান্য বন্ধুরা কেউই এগিয়ে আসতে পারছে না। কারণ জামিনের জন্য এই বিরাট অংকের টাকা জমা দিতে গেলেই প্রশ্ন আসবে তার উৎস নিয়ে। এখনি যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে যখন জেলেনস্কি ক্ষমতায় থাকবে না, যখন পশ্চিমা বিশ্বের কাছে তার, তাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে - এত এত সম্পদ থাকার পরেও তাদের কপর্দকহীন জীবন যাপন করতে হবে না তো? আর যদি তাই হয় তাহলে কী লাভ জেলেনস্কির যুদ্ধ চালিয়ে আয়ের উৎস সচল রাখার আর হাজার হাজার স্বদেশীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবার? নাকি দেশবাসীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে অর্থ উপার্জন করা তার নেশা?
মস্কোর পথে, ১৭ মে ২০২৬
Comments
Post a Comment