স্বগতোক্তি

ইত্তেফাকের খবর দেশে তিনটি করে ভাষা শেখানো বাধ্যতামূলক। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই ব্যবস্থা আছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ায় সেটা বিদ্যমান। এখানে সাধারণত ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান, স্প্যানিশ, আরবি এসব জনপ্রিয়। ইদানিং যোগ হয়েছে চীনা ও কোরিয়ান। তবে আমাদের দেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে মনে হয় এটা যতটা না ভাষার প্রতি ভালোবাসা থেকে তারচেয়ে বেশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে।

আমার ধারণা এটা বাংলাদেশকে ইসলামী রাষ্ট্র করার চুড়ান্ত ধাপ। উর্দু চালু করার প্রচেষ্টা। বাংলা, ইংরেজি আছে। তৃতীয়টা কী? ফর্মালি যেকোনো ভাষা হতে পারে। তবে স্কুলে ধর্ম ক্লাসে এমনিতেই আরবি পড়ানো হয়। শিক্ষক তো আছেই। এই পরিস্থিতি আরবিকে তৃতীয় ভাষা করতে আগ্রহী করবে। দেশের একদল মানুষ যারা এখনো পাকিস্তানের আদর্শিক ও রাজনৈতিক বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি তারা চাইবে উর্দু। উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার জিন্নাহর অভিপ্রায় থেকেই ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ। ওরা যেহেতু মুক্তিযুদ্ধকেই অস্বীকার করে তাহলে উর্দু হবে ওদের প্রথম পছন্দ। কোনভাবে একবার চালু করতে পারলে একদিন রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে সমস্যা হবে না। এখানে সুবিধা হল ভারতীয় চ্যানেলের কল্যাণে অনেকেই হিন্দি জানে, উর্দু থেকে হিন্দির মূল পার্থক্য লেখায়, আরবি জানা থাকায় সেটাও সমস্যা হবে না। তাই এই তৃতীয় ভাষা শুধু একটি ভাষা নয়, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপরেখা।
সমস্যাটা হল আজকাল দানব আসে দেবতার ছদ্মবেশে।

মস্কো, ১৮ মে ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

রিংকু