দোষী
দেশে একটা কথা আছে, ব্রাহ্মণের আগে হাঁটলেও দোষ, পিছে হাঁটলেও দোষ। আর পাশাপাশি হাঁটার তো প্রশ্নই আসে না। এর উল্টো কিছু আছে কিনা জানি না, তবে সোভিয়েত ইউনিয়নের সেই উল্টো অবস্থা।
পুঁজিবাদী বিশ্ব সবসময়ই যে সোভিয়েত ইউনিয়নকে অপছন্দ করত তাতে সন্দেহ নেই। তবে তারা সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে (কথাটা খুব সরলীকরণ হয়ে গেল, কারণ ভাঙার পেছনে বিভিন্ন শক্তির একটা ছিল পুঁজিবাদী বিশ্ব) যে পুঁজিবাদী রাশিয়া তৈরি করল তাকেও তারা পছন্দ করে না। কারণ তাদের দরকার সমকক্ষ কোন শক্তি নয়, দরকার অনুগত ভৃত্য যে বিনা বাধায় নিজের খনিজসম্পদ ব্যবহার করতে দেবে, সামরিক ঘাঁটি তৈরি করতে দেবে, আন্তর্জাতিক ফোরামে বিনা প্রশ্নে পক্ষে ভোট দেবে ইত্যাদি। যে সমস্ত দেশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত করেছিল তারাও এখন সোভিয়েত লিগেছি অস্বীকার করে, তাদের বাঁচানোর জন্য দোষারোপ করে। অনেকটা সেই সব সন্তানদের মত যারা তাদের জন্ম দেবার জন্য বাবা মা'কে দোষারোপ করে। আর আছে সেই সব মানুষ যারা সমাজতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে এজন্য বিভিন্ন ধরণের সহায়তা পেয়েছে। সেই সময় তারা সোভিয়েত ইউনিয়নের উপর অতিরিক্ত নির্ভর করেছে আর এখন রাশিয়াকে গালিগালাজ করে মূলতঃ পশ্চিমা বয়ানকে মার্ক্সের বাণী হিসেবে নিয়ে। তারা রাশিয়ার পুঁজিবাদী রূপটাই দেখে, কিন্তু একটু গভীর ভাবে ভেবে দেখে না যে এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকার পিছিয়ে পড়া দেশগুলোকে নিজেদের স্বল্প সামর্থ্য সত্ত্বেও এখনও একমাত্র রাশিয়াই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। এখনও একমাত্র রাশিয়াই পশ্চিমা পুঁজিবাদী বিশ্বের বিরুদ্ধে একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। হয়তো আগের মত নিঃস্বার্থ ভাবে নয়, তবে পশ্চিমা বিশ্বের তুলনায় অনেক কম মূল্যে তারা আমাদের সব দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাহায্য করে যাচ্ছে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে নিজ নিজ দেশ গড়ার দায়িত্ব আমাদের নিজেদের, অন্যেরা এতে সাহায্য করতে বা বাধা দিতে পারে। পৃথিবীকে উদ্ধার করার দায়িত্ব সবার, রাশিয়ার একার নয়। যতদিন আমরা পশ্চিমা বয়ানকে একমাত্র সত্য বলে মনে করব ততদিন আমাদের মুক্তির সংগ্রাম হবে সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ। নিজেদের স্বার্থে, নিজেদের ভাবনাকে যৌক্তিক ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে না পারলে শত্রু মিত্র চেনা যায় না। আর এটাই বারবার মানব মুক্তির সংগ্রামকে বিপথে চালিত করে।
মস্কো, ২৫ মে ২০২৬
Comments
Post a Comment