ভাবনা

জনগণ সবসময়ই রিসিভিং এন্ডে থাকে। ডান বাম নেই - সবাই নিজেদের ব্যর্থতা জনগণের কাঁধে চাপিয়ে দিব্যি হাঁসের মত সাঁতার কেটে বেড়ায় নিজেদের তৈরি রাজনৈতিক ডোবায়। পশ্চিম বঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি হল। ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। যারা এতে মর্মাহত তারা যতটা না তৃণমূলের পতনে তারচেয়ে বেশি বিজেপির উত্থানে। কিন্তু অন্যান্য যেসব অল্টারনেটিভ হতে পারত তা কিন্তু তৃণমূল নিজেই সমূলে উৎপাটন করেছে বা করার চেষ্টা করেছে। তৃণমূলের অপশাসনে কারণেই জনগণ তাদের ত্যাগ করেছে। যখন দুঃশাসন মানুষের গলায় ফাঁসের মত চেপে বসে সে তখন কে তাকে মুক্তি দিল সেটা নিয়ে ভাবে না, সে যে কারো বাড়িয়ে দেয়া হাত ধরে। পশ্চিম বঙ্গে সেই অর্থে কোন বিকল্প না থাকায় জনগণ বিজেপির শরণাপন্ন হয়েছে। তাই জনগণকে দোষারোপ করে লাভ নেই, কেন আমাদের দেশগুলো এমনকি সারা বিশ্বে ডানপন্থী শক্তির উত্থান হচ্ছে সেটা নিয়ে ভাবা দরকার। তবে এটা ঠিক তথাকথিত গণতান্ত্রিক শক্তি গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা করে না বলেই উগ্রপন্থীদের এই জয়জয়কার। যতদিন না আমরা নিজেদের সংশোধন করতে পারব ততদিন এমন চলতেই থাকবে। জনগণ তন্ত্র বোঝে না। সে চায় সুশাসন, কাজ ও জীবনের নিরাপত্তা। যদি কেউ সেটা নিশ্চিত করতে না পারে ভোটের মাধ্যমে সে তাকে পরিত্যাগ করে। এত কিছুর পরেও একটি দেশে জনগণ যে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে সেটাই বা কম কিসে! ২০২৪ সালে হাসিনার পতনের পর থেকে এই অঞ্চলকে অস্থির করে তোলার সাম্রাজ্যবাদী প্রচেষ্টা অজানা নয়। তাই এই ফলাফলে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উপস্থিতি থাকলে অবাক হব না। আর না থাকলেও তারা যে পরিস্থিতি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইবে তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

দুবনা, ০৫ মে ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

রিংকু