হয়তোবা

হয়তোবা কোন একদিন মানুষ এমন ট্যাবলেট আবিষ্কার করবে যে না খেয়েও অনেক দিন বেঁচে থাকা যাবে। কিন্তু যতদিন না এমন কিছু আবিষ্কার হচ্ছে ততদিন কৃষি পণ্যের উপর আমাদের নির্ভর করতেই হবে। এমতাবস্থায় একজন কৃষক, যার ঘরে নিজের উৎপন্ন শস্য আছে, তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা যার ঘরে আধুনিক প্রযুক্তি, অর্থ সবই আছে কিন্তু বাজারে কোন খাদ্য নেই যে কিনবে, তার চেয়ে অনেক বেশি। পৃথিবীতে লাখ লাখ প্রাণী বসবাস করে মানুষ বাদে যাদের কেউই কিছু উৎপাদন করে না, কিন্তু এরাও লাখ লাখ বছর ধরে বেঁচে আছে। কারণ প্রকৃতি থেকে তারা নিজেদের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে সক্ষম। বেঁচে থাকার জন্য মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কয়েকদিন আগে রাশিয়াকে কীভাবে পরাজিত করা যায় তার কয়েকটি রেসিপি দেখলাম। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার উপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ফলে সারা পৃথিবীর নাভিশ্বাস উঠেছিল, কিন্তু আমরা যারা রাশিয়ায় থাকি তারা ততটা অনুভব করিনি। যেসব মানুষ বিদেশি দামী খাবার, পোষাক পরিচ্ছদ, গাড়ি ইত্যাদিতে অভ্যস্ত তারা হয়তো অসুবিধায় পড়েছিল। কিন্তু কয়জন মানুষ প্যারিস থেকে লন্ড্রি করে বা সেখানকার রুটি দিয়ে ব্রেকফাস্ট করে? বরং এসব নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়া আজ খাদ্য সহ অনেক কিছুতেই স্বয়ংসম্পূর্ণ।‌ বছরের পর বছর অবরূদ্ধ থাকলেও এরা ঠিকই টিকে থাকবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লেনিনগ্রাদ ৯০০ দিন অবরুদ্ধ ছিল তবুও হার মানেনি। হার না মানা, মাটি খেয়ে হলেও পিতৃভূমিকে রক্ষা করা - এটা এদেশের মানুষের রক্তে, এটা জাতীয় বৈশিষ্ট্য। এর আগে বারবার চেষ্টা করেও কেউ পারেনি এদের বশ্যতা মানাতে। আজ যখন এরা বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী তখন রাশিয়ার আগে পশ্চিমা বিশ্ব নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।‌ এমতাবস্থায় রাশিয়াকে যুদ্ধের ভয় দেখানো বাতুলতা। তাই রাশিয়াকে বশ মানানোর রেসিপি না খুঁজে তার সাথে বন্ধুত্ব করার পথ খোঁজা ভালো। 

দুবনা, ২৬ মে ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

রিংকু