Posts

Showing posts from August, 2026

মানুষখেকো

Image
রাশিয়ায় ভালুকের উৎপাত সবসময়ই ছিল। ভালুক নিয়ে এদের রূপকথার অভাব নেই। তবে ইদানিং ভালুকের উৎপাত নতুন করে শুরু হয়েছে। এমনকি মস্কো বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় ভালুকের দর্শন মিলেছে। ওদের মূল খাবার পাইন বাদাম। ওটা খুব খাদ্যমান সম্পন্ন ও খুব দামী। আর যেখানেই আর্থিক লাভের সম্ভাবনা সেখানেই মানুষের সাথে জীবজন্তুর সংঘাত। বন্যা ও অগ্নি দাহের কারণে বনে খাদ্যের আকাল। ভালুকেরা তাই গ্রাম আর শহরে আসছে জীবিকার সন্ধানে। মানুষের মুরগিটা বা খরগোশটা নিয়ে চলে যাচ্ছে ট্যাক্স হিসেবে। এক কথায় জোর যার মুল্লুক তার।  এখন গ্রীষ্ম কাল। প্রচুর লোকজন হাইকিং এ যায় এসময়, বনের আশেপাশে তাবু খাটিয়ে রাত কাটায়। এটা সস্তা ও রোমান্টিক। কয়েক দিন আগে আলতাই এলাকায় এক ভালুক এরকম এক তাবু থেকে এক মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। তার বন্ধু ও সঙ্গীরা অনেক চেষ্টা করেও মেয়েটিকে রক্ষা করতে পারেনি। পরে তার উচ্ছিষ্ট পাওয়া গেছে বনের ভেতর। রাশিয়ায় বন্য জীবজন্তু শিকারের ব্যপারে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আছে। ফলে ভালুকের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। তবে এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ কিছু লাইসেন্স দিতে শুরু করেছে। আর যে ভালুকটি মানুষ হত্যা করেছে সেটা ধর...

রিপু

Image
  মানুষ প্রতিনিয়ত কাম-ক্রোধ-লোভ-মোহ-মদ-মাৎসর্য  দ্বারা আক্রান্ত। কোনটি সব চেয়ে বেশি ভয়ংকর? এরকম প্রশ্ন প্রায়ই শোনা যায়।  আমার মনে হয় প্রশ্নটি যথাযথ নয়।‌ কারণ যে দোষগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার কোনটাই  অপ্রয়োজনীয় নয়, সব দরকারি, তবে সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবহারে। কাম না থাকলে কি ভালোবাসা এই রকম থাকত? ধর্ষকের কাম আর প্রেমিক প্রেমিকার কাম এক নয়। ক্রোধ শুধু বিপদ ডেকে আনে না, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে সাহস যোগায়। লোভ তো শুধু অন্যায় ভাবে অন্যেরটা দখল করা নয়, কোন কিছু অর্জন করতে মানুষকে কর্মঠ করে তোলে। আসলে অসময়ে ব্যবহার বিপদ ডেকে আনে, সময়ে আনন্দ ও সাফল্য। এসবই মানব চরিত্রের সহজাত উপাদান। সঠিক ও সুচিন্তিত ব্যবহারে এসবই মানব সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার চালিকা শক্তি।  উল্টো উদাহরণ কম নেই। যেমন ক্ষমা মহৎ গুণ। কিন্তু যাকে শাস্তি দেওয়া ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য তাকে ক্ষমা করলে শুধু নিজেকে নয়, জাতিকে পস্তাতে হয়। এমন উদাহরণ ইতিহাসে ভুঁড়ি ভুঁড়ি। আসলে যা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি তা ভালো বা মন্দ হয় অপব্যবহারে।  দুবনা, ২২ আগস্ট ২০২৬

বিদ্যুৎ

Image
ফেসবুকে দেখলাম বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য বর্তমান সরকার স্বৈরাচারকে দায়ী করছে। শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশে দুর্নীতি, মৌলবাদ, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা এসব আগাছার বাম্পার ফলন যে হয়েছিল তাতে সন্দেহ নেই, তবে সেই সাথে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন কম হয়নি। সেই আমলের অনেকেই টাকা পয়সা বিদেশে পাচার করলেও বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অন্যান্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার তো দেশেই রয়ে গেছে। আর সেসব অকেজো হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। নিজেদের ব্যর্থতার দোষ অন্যের কাঁধে চাপিয়ে কিছু সময় পার করে দেয়া যায় কিন্তু তাতে সমস্যার সমাধান হয় না। আর সরকার যদি দীর্ঘদিন এসব সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয় তখন সেটা আর স্বৈরাচারের ঘাড়ে চাপানো যাবে না। প্রতিটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে আগের সরকারের ব্যর্থতার কাঁধে ভর করে সেই সব ব্যর্থতা দূর করে জনগণকে সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে রাখতে। কিন্তু জনজীবনের সাধারণ দাবি মেটাতে ব্যর্থ হয়ে সেই দোষ পূর্ববর্তী সরকারের কাঁধে চাপানোই যদি সরকারের একমাত্র যোগ্যতা হয় তাহলে সেই সরকার নিয়ে জনগণের কি লাভ হবে? ব্যর্থতা ঢাকতে স্বৈরাচারী কাঁধ না খুঁজে যোগ্য লোক খুঁজলে আর নিজের কাঁধে দায়িত্ব নেবার স...

চেতনা

Image
গতকাল মস্কো এসেছিলাম বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত শোক দিবসে অংশগ্রহণ করতে। গত বছরও এসেছিলাম। আগে আসা হত না, কারণ আওয়ামী লীগ, ছাত্র লীগ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের বন্ধুদের অনেকেই আমার বক্তব্য ঠিকঠাক হজম করতে পারত না। তবে চব্বিশের পর থেকে পরিস্থিতি বদলে গেছে। প্রতিক্রিয়া হলেও সেটা তাৎক্ষণিক নয়। তাই মন খুলে নিজের কথা বলা যায়।  আমার কথা বলার সুযোগ হয় আওয়ামী লীগের মস্কো শাখার সভাপতি ও আয়োজক বঙ্গবন্ধু পরিষদ রাশিয়া শাখার সভাপতির আগে, তাই ইতিমধ্যে অনেকের বক্তব্য শোনার সুযোগ হয়। ফলে আমার বক্তব্য সেসব কথার প্রেক্ষিতেই বলি।  খেয়াল করলাম আমরা সবাই একটা কাঁধ খুঁজি নিজের ব্যর্থতার বোঝা চাপিয়ে দেবার জন্য। ঈশ্বরের পর সেই গুরু দায়িত্ব পালন করে আমেরিকা। দেশের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী ভার্সনে তা বিএনপি, জামায়াত ও অন্যরা। আমরা ভুলে যাই যে কোন বিরোধী দলের কাজ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা। তারা সে কাজে সফল হয় সরকারের ব্যর্থতাকে ব্যবহার করেই। এই ব্যর্থতা শুধু চব্বিশের নয়, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিবেশ বিষাক্ত করে, মৌলবাদীদের তোষণ করে আওয়ামী লীগ নিজেই নিজেকে এই অবস্থায় নামিয়ে এনেছে। ...

মহীরুহ

Image
শুধু বাংলাদেশ বা উপমহাদেশই নয়, সমগ্র বিশ্বই বর্তমানে এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। এর নাম অতীত অস্বীকার করা, অতীত মুছে ফেলা। যদিও হাজারো চেষ্টা করেও অতীত মুছে ফেলা যায় না, আমাদের বর্তমানই অতীতের সাক্ষ্য হয়ে অতীতকে জীবন্ত করে তোলে, তারপরেও অতীতকে ভুলিয়ে দেয়ার বৃথা চেষ্টায় আমরা শুধু সময় নষ্টই করি না, এক ছিন্নমূল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলি। পরগাছা যেমন গাছ শুষে গাছের সাথে একদিন নিজেও শুকিয়ে যায়, ছিন্নমূল প্রজন্ম তেমনি দেশকে শোষণ করে একদিন দেশ হারিয়ে ফেলে। একজন মানুষ চাইলেই যেমন তার শৈশব, যৌবন, সাফল্য, ব্যর্থতা কোন কিছুই বাদ দিয়ে বর্তমানে পৌঁছুতে পারে না, একটি দেশ ও জাতিও ঠিক তাই।  পঁচাত্তরের পর শেখ মুজিবের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। পেরেছে কি? অথবা বিগত সরকারের আমলে জিয়ার নাম? এরকম হাজার হাজার মানুষের নাম, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে, পরবর্তী পর্যায়ে দেশ গড়তে বা ভাঙতে অবদান রেখেছে, তা সে শেখ মুজিবুর রহমান হোক, জিয়াউর রহমান হোক, খন্দকার মোস্তাক, ডঃ ইউনুস বা যেই হোক - কেউ চাক আর না চাক, এই ভূমির ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে থাকবে। মীর মদন, মীর মোহন বা মীর জাফর - এদের...

সোনায় সোহাগা

Image
ফেসবুকে এক বিজ্ঞানীর সাক্ষাৎকার শুনলাম। মাদ্রাসা ছাত্র এই বিজ্ঞানী বলতে গেলে প্রায় বিনা খরচে বিদ্যুৎ খনি আবিষ্কার করছে যার উৎস মাধ্যাকর্ষণ শক্তি। যদিও তার অনেক ভাবনা প্রথাগত পদার্থবিজ্ঞানের সাথে যায় না, তার পরেও এতে কিছু পজিটিভ দিক আছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী সে কোরআন থেকে এই তত্ত্ব আবিষ্কার করেছে। শুধু তাই নয় পদার্থবিজ্ঞানের এরকম শত শত তত্ত্ব সেখানে আছে। যদি তাই হয় তাহলে বলতেই হবে ধর্ম প্রচারক ও ধর্ম ব্যবসায়ীরা যারা কথায় কথায় কোরআনের উদ্ধৃতি দেয় তারা সঠিক মনোযোগ দিয়ে তা পড়ে না। আর যেহেতু বিজ্ঞান মানেই প্রশ্ন করা তাহলে কোরআন নিয়ে নতুন করে গবেষণার সুযোগ আছে। এটা নিঃসন্দেহে পজিটিভ দিক। দ্বিতীয় যে বিষয়টি আমার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে তা হল ২০১১ সালের একটি ঘটনা। সেবার আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান ও গণিত গবেষণা কেন্দ্রে প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলামের আমন্ত্রণে কসমোলজির উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করি। পরে আমরা যখন লাঞ্চ করছিলাম স্যারের এক ছাত্রী বেশ জোরের সাথেই বলল, "স্যার, ডঃ সাহা যা বললেন সবই তো কোরআনে লেখা আছে।" বাংলাদেশের একটি নামকরা ইনস্টিটিউটে একজন বিশ্বখ্যাত গবেষ...

নদী

Image
হেরাক্লিটাস খ্রিষ্টপূর্ব ৬-৫ শতাব্দীতে বলেছেন এক নদীতে দুইবার প্রবেশ করা সম্ভব নয়। এখন অবশ্য বিজ্ঞান প্রযুক্তির যুগ। ইউরোপের রাজনীতিবিদরা হেরাক্লিটাসকে মিথ্যা প্রমাণ করতে বদ্ধপরিকর। ইউরোপ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। পোল্যান্ড, জার্মানি - উভয়েই ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তোলার।  মনে পড়ল সোভিয়েত ইউনিয়নের কথা। আমেরিকা যুদ্ধ করেনি সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে, অন্ততঃ সম্মুখ সমরে নামেনি। কিন্তু অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নামিয়ে সোভিয়েত অর্থনীতির লাল বাতি জ্বালিয়ে দিয়েছিল। কোন গুলি খরচ না করেই আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্ব সেই ঠান্ডা লড়াইয়ে জিতে গেছিল বা সোভিয়েত ইউনিয়নকে বাধ্য করেছিল যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করতে। আজ ইউরোপ নিজেদের উদ্যোগেই অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে। অর্থনীতি যখন নড়বড়ে তখন সামরিক খাতে এই ব্যাপক ব্যয় শেষ পর্যন্ত ইউরোপকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পরিণতি গ্রহণে বাধ্য না করে। ইউরোপ অনেক দিন ধরেই বিভিন্ন প্রশ্নে সোভিয়েত ইউনিয়নকে অনুসরণ করছিল। জনগণের মঙ্গলের চেয়েও অন্ধ ভাবে আদর্শ অনুসরণ করা, বিরোধী মতকে দাবিয়ে রাখা ( ভুল শোনেননি, রোমানিয়া, মালদোভা ও অন্য...

জনগণ

Image
ইউরোপের প্রায় প্রতিটি দেশে অর্থনৈতিক মন্দা। তার অন্যতম প্রধান কারণ হল বিগত প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে ইউরোপের অর্থনীতির লোকোমোটিভ ছিল জার্মানি যার উন্নয়নের মূলে ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ার সস্তা তেল, গ্যাস। ইউরো প্রবর্তনের পর তা যখন ডলারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় আমেরিকা চেষ্টা করেছে জার্মানিকে রাশিয়ার পাইপ লাইন থেকে সরিয়ে নিতে। সেটাই ইউক্রেন যুদ্ধের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ। এরপর থেকে শুরু হয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা। এমনকি ফিনল্যান্ড ন্যাটোয় যোগ দিয়ে রাশিয়া সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। এখন বাল্টিকের দেশগুলো, ফিনল্যান্ড, জার্মানি সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাড়ছে বেকারত্ব, বাড়ছে রুশ বিরোধী মনোভাব। পাকিস্তান, বাংলাদেশ যেমন ভারত বিরোধী রাজনীতি দিয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে, ইউরোপ আজ সে পথেই হাঁটছে। আগে আমরা আমাদের দেশের সরকারের জনবিরোধী নীতির জন্য ইউরোপের কাছে অভিযোগ করতাম, আজ ইউরোপ যখন আমাদের অনুসরণ করছে তখন কপালের দোষ দেয়া ছাড়া আর কিইবা করতে পারে জনগণ। এই যে হামে শত শত শিশু মারা যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে তারপরেও সরকারের নীর...

ন্যায়ের জন্য লড়াই

Image
ছাত্রলীগ সন্দেহে ১৫ বছরের এক ছেলেকে শহীদ মিনারে ফাঁসিতে ঝোলানোর ছবি ও খবর দেখলাম। জানি না ছেলেটি ছাত্রলীগ করত কি না আর করলেই বা কি? কারোও আদর্শগত অবস্থান তাকে হত্যার কারণ হতে পারে না। মনে পড়ল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের কথা। সেখানে সব শহীদ ছাত্র ছিল না। কিন্তু সেই প্রশ্ন কেউ তোলেনি। সারা দেশ সেই হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে।  অথবা চব্বিশের জুলাই আগস্টে কেউ বিক্ষোভ মিছিলে মৃতদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করেনি। সেই মৃত্যুর প্রতিবাদ করেছে। যার ফল সরকারের পতন।  আশ্চর্যের বিষয় হল শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে যখন মৃত্যুর মিছিল শুরু হল, বিভিন্ন অজুহাতে যখন ভিন্ন মতাবলম্বী মানুষকে হত্যা করা শুরু হল মৃত্যুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এই জনগণই সব হজম করতে শুরু করল।  অনেক দিন পরে এই সেদিন বিউটি পালের ঘটনায় বাংলাদেশের মানুষ এক হয়েছিল। এটা প্রমাণ করে যে এক হলে যেকোনো বাঁধা আমরা অতিক্রম করতে পারি। ইতিহাস বারবার সেই স্বাক্ষ্য দিয়েছে। তবে সেটা হতে হবে প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত। বেছে বেছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায় না, সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় প্রতিবাদ কর...

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

Image
খেলাধুলা বিশেষ করে ম্যারাথন রেসে প্রায়ই দেখা যায় প্রতিযোগী ফিনিশ লাইন ক্রস করে মুখ থুবড়ে পড়ে যায়। লক্ষ্য অর্জন হয় কিন্তু তার মূল্য চুকাতে হয় প্রাণ বা স্বাস্থ্যের বিনিময়ে।  ভাষা আন্দোলন বা একাত্তর পূর্ববর্তী সমস্ত আন্দোলন বাদ দিলে আমাদের সমস্ত আন্দোলন ও গণ অভ্যুত্থানের পরিণতি অনেকটাই এরকম। স্বাধীনতা অর্জিত হলেও আমরা মানুষের আকাঙ্ক্ষার দেশ গড়তে পারিনি নেতৃত্বের কারণেই। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বিজয়ী হলেও গণতন্ত্র আসেনি রাজনৈতিক দলগুলোর নেত্রীদের কারণে। গণতন্ত্রের চেয়ে ক্ষমতাই বেশি লোভনীয় ও কাম্য হয়ে ওঠায় মানুষ আবারো গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত হয়। শাহবাগ আন্দোলনে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি হলেও ভোটের হিসাব নিকাশে স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে আঁতাত করে তৎকালীন সরকার। আপাত সফল শাহবাগ আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, এর এক্টিভিস্টদের জীবন হয় ঝুঁকিপূর্ণ। চব্বিশের আন্দোলনে এক স্বৈরাচারের পতন আরেক স্বৈরাচারের জন্ম দেয়। জনগণ শুধু স্বাধীনতার ইতিহাসকেই হারায় না, হারায় স্বাধীনতা।  বাংলাদেশ উত্তাল সাগরে কান্ডারি হীন বিশাল নৌকা যার জনগণ বৈঠা হাতে অনবরত লড়াই করে যাচ্ছে তাণ্ডবের বিরুদ্ধে কিন্...

বৈষম্য

Image
বাংলাদেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের কথা, বাকস্বাধীনতার কথা বলে কিন্তু যখনই কারোও বাকস্বাধীনতা তাদের স্বার্থে আঘাত করে তখন তারা স্বৈরাচারী হতেও এতটুকু পিছপা হয় না। এ যেন জঙ্গলের শাসন। আইনের অপব্যবহার করে হোক আর গায়ের জোরে হোক নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। তাদের গণতন্ত্র দলদাস, যা তাদের ও দলের জন্য লাভজনক সেটাই গণতন্ত্র। বাংলাদেশে মিথ্যা মামলায় অনেকেই আটক আছে, আরও বেশি মানুষ তাদের পদ পদবী হারিয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি আজ প্রশ্নবিদ্ধ। এমতাবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ও স্বনামধন্য লেখক কাবেরী গায়েন সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হাস্যকর অভিযোগ তুলে তাদের ভবিষ্যৎ যেভাবে অনিশ্চিত করে তোলা হচ্ছে, তা শুধু কয়েক জন সচেতন নাগরিকের নয়, দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিয়তার পথে ঠেলে দেবে। আমরা কবে প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের মত আচরণ করব? দুবনা, ০৪ আগস্ট ২০২৬

ঠিক বেঠিক

Image
পরস্পর নির্ভরশীল এই বিশ্বে কারো ভালো বা মন্দ না করে কিছুই করা যায় না। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশ্বায়নের পর প্রতিটি মানুষের প্রতিটি কাজ কারো না কারো জন্য লাভজনক বা ক্ষতিকর হয়। আর যদি এসব লোক সামাজিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে তো কথাই নেই। এটা মেনেই আমাদের চলতে হবে, এটা মেনেই নিজের কাজ করতে হবে, নিজের কথা বলতে হবে। বড়লোক মালিক আরও বড়লোক হবে এই যুক্তিতে শ্রমিক যদি মালিকের জন্য কাজ করতে না চায় মালিকের আগে সেই মারা যাবে।  তসলিমা নাসরিন কোলকাতায় এসেছেন। বিজেপি সরকার এখন ক্ষমতায় বিধায় অনেকেই বলছে তিনি মৌলবাদ এন্ডোর্স করছেন। হয়তো বিজেপি এ ঘটনাকে তার নিজের রাজনৈতিক কাজে লাগাবে। কিন্তু এত বছর নির্বাসনে থেকে দেশে না হলেও নিজস্ব ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে আসতে পারা - একজন মানুষের জীবনে এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে তিনি যদি নির্বাসিত হন। তাছাড়া নিজের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন কৃতজ্ঞতা স্বীকার বা আমন্ত্রণ গ্রহণ মানে আনুগত্য নয়। আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রথিতযশা লোকজন কোন সরকারের আমলেই তাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে গিয়ে দ্বিমত প্রকাশ করার সাহস বা সুযোগ কোনটা...

শিক্ষা

Image
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হল অন্যের সুখে, অন্যের আনন্দে জ্বলে পুড়ে ছারখার হওয়া মানে পরশ্রীকাতরতা, অনেক ক্ষেত্রে তা পরস্ত্রীকাতরতার রূপ নেয়। এটা আজ সংক্রামক ব্যাধি। নিজের বা নিজেদের বাইরে কেউ সফল হোক, সুখে থাকুক এটা আমরা সহ্য করতে পারি না। এই যে আমরা অন্যের ভালো দেখতে পারি না তাতে কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা হবে? ক্ষমতা থাকলে আমরা যে কোন দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নতি রহিত করতাম। আর তা যদি হত তাহলে কোথায় থাকত আজকের সমস্ত সুযোগ সুবিধা? এই সুযোগ কিন্তু সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে তারাই যারা অনবরত উন্নয়নের বিরুদ্ধে কথা বলে। এই যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন এর পেছনে কি রয়েছে? না, শুধু পুঁজিপতিদের অর্থ নয়, এর পেছনে প্রধানত আছে বিজ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা, রয়েছে মুক্তচিন্তা, রয়েছে প্রচলিত বিশ্বাসে অবিশ্বাস। তা যদি না থাকত এখনও আমরা মধ্য যুগেই বা প্রস্তর যুগেই পড়ে থাকতাম। আধুনিক শিক্ষার মূল কথা চিন্তার স্বাধীনতা। এখানেই আমাদের আপত্তি। শুনেছি বেশি করে বিল ওঠানোর জন্য অনেক সময় রোগিদের অকারণে, এমনকি মৃত্যুর পথেও আইসিইউতে রাখা হয়। মনে হয় দেশেও মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে অশিক্ষা ...