মহীরুহ
শুধু বাংলাদেশ বা উপমহাদেশই নয়, সমগ্র বিশ্বই বর্তমানে এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। এর নাম অতীত অস্বীকার করা, অতীত মুছে ফেলা। যদিও হাজারো চেষ্টা করেও অতীত মুছে ফেলা যায় না, আমাদের বর্তমানই অতীতের সাক্ষ্য হয়ে অতীতকে জীবন্ত করে তোলে, তারপরেও অতীতকে ভুলিয়ে দেয়ার বৃথা চেষ্টায় আমরা শুধু সময় নষ্টই করি না, এক ছিন্নমূল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলি। পরগাছা যেমন গাছ শুষে গাছের সাথে একদিন নিজেও শুকিয়ে যায়, ছিন্নমূল প্রজন্ম তেমনি দেশকে শোষণ করে একদিন দেশ হারিয়ে ফেলে। একজন মানুষ চাইলেই যেমন তার শৈশব, যৌবন, সাফল্য, ব্যর্থতা কোন কিছুই বাদ দিয়ে বর্তমানে পৌঁছুতে পারে না, একটি দেশ ও জাতিও ঠিক তাই।
পঁচাত্তরের পর শেখ মুজিবের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। পেরেছে কি? অথবা বিগত সরকারের আমলে জিয়ার নাম? এরকম হাজার হাজার মানুষের নাম, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে, পরবর্তী পর্যায়ে দেশ গড়তে বা ভাঙতে অবদান রেখেছে, তা সে শেখ মুজিবুর রহমান হোক, জিয়াউর রহমান হোক, খন্দকার মোস্তাক, ডঃ ইউনুস বা যেই হোক - কেউ চাক আর না চাক, এই ভূমির ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে থাকবে। মীর মদন, মীর মোহন বা মীর জাফর - এদের নাম কেউ যেমন জোর করে লেখার চেষ্টা করেনি, কেউ তেমনি মুছে ফেলার চেষ্টাও করেনি। কিন্তু প্রায় ২৭০ বছর পরেও মানুষ তাদের স্মরণ করে। কাউকে ভালোবেসে, কাউকে ঘৃণা ভরে। তাই ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী পালনে বাধা শুধু সময়ের অপচয়, অনেকের চোখে নিজেদের ঘৃণার পাত্র করা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যেমন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অবিস্মরণীয় সাফল্য, যুদ্ধ পরবর্তী দেশ গঠনে তাঁর ব্যর্থতাও কম ছিল না। তাই বঙ্গবন্ধুর অনুসারী ও বিরোধী সবাই তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারে, শিক্ষা নিয়ে দেশ গড়তে পারে। যারা ক্ষমতায় আছে তারা আসলে শেখ মুজিব নামক এক মহীরুহের ডালপালার উপর বসে আছে। সেই গাছ কাটার চেষ্টা করলে বা গাছের গোড়ায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার বা জল ঢাললে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।
মানুষ মরণশীল কিন্তু তার কাজ অমর। যতদিন উপমহাদেশে মানুষ থাকবে, মানুষের স্মৃতিতে বঙ্গবন্ধু ততদিনই বেঁচে থাকবেন।
মস্কোর পথে, ১৫ আগস্ট ২০২৬
Comments
Post a Comment