চেতনা

গতকাল মস্কো এসেছিলাম বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত শোক দিবসে অংশগ্রহণ করতে। গত বছরও এসেছিলাম। আগে আসা হত না, কারণ আওয়ামী লীগ, ছাত্র লীগ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের বন্ধুদের অনেকেই আমার বক্তব্য ঠিকঠাক হজম করতে পারত না। তবে চব্বিশের পর থেকে পরিস্থিতি বদলে গেছে। প্রতিক্রিয়া হলেও সেটা তাৎক্ষণিক নয়। তাই মন খুলে নিজের কথা বলা যায়। 

আমার কথা বলার সুযোগ হয় আওয়ামী লীগের মস্কো শাখার সভাপতি ও আয়োজক বঙ্গবন্ধু পরিষদ রাশিয়া শাখার সভাপতির আগে, তাই ইতিমধ্যে অনেকের বক্তব্য শোনার সুযোগ হয়। ফলে আমার বক্তব্য সেসব কথার প্রেক্ষিতেই বলি। 

খেয়াল করলাম আমরা সবাই একটা কাঁধ খুঁজি নিজের ব্যর্থতার বোঝা চাপিয়ে দেবার জন্য। ঈশ্বরের পর সেই গুরু দায়িত্ব পালন করে আমেরিকা। দেশের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী ভার্সনে তা বিএনপি, জামায়াত ও অন্যরা। আমরা ভুলে যাই যে কোন বিরোধী দলের কাজ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা। তারা সে কাজে সফল হয় সরকারের ব্যর্থতাকে ব্যবহার করেই। এই ব্যর্থতা শুধু চব্বিশের নয়, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিবেশ বিষাক্ত করে, মৌলবাদীদের তোষণ করে আওয়ামী লীগ নিজেই নিজেকে এই অবস্থায় নামিয়ে এনেছে। যতক্ষণ না এই ভুল স্বীকার না করা হয় ততক্ষণ সেটা শোধরানো যাবে না। 

অনেকেই বর্তমানে বিএনপি, জামায়াত কর্তৃক আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের হয়রানির কথা বলে প্রতিশোধ নেবার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। আসলে আমাদের রাজনীতি মূলতঃ এই প্রতিশোধ আর প্রতিহিংসার রাজনীতি। যতদিন ক্ষমতাসীন দল বিরোধী দলের প্রতি ক্ষমাশীল না হবে এই চক্র ভাঙবে না। তার মানে কিন্তু সাধারণ ক্ষমা নয়। ক্ষমতায় থাকাকালীন যদি কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইন বহির্ভূত কাজ করে, তাহলে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে তাদের বিচার অবশ্যই করতে হবে। কিন্তু তাই বলে সমস্ত দলের উপর, দলের কর্মী, সমর্থকদের উপর নির্বিচারে স্টীম রোলার চালালে সেই ক্ষমতার অপব্যবহারই করা হয়। আমার শরীরের তাপমাত্রা বেশ কম ৩৪-৩৫ ডিগ্রি, রক্ত তাই ঠান্ডা। সবার এমন হবে তার কোন মানে নেই।

শুধু মিটিং মিছিল করে, স্লোগান দিয়ে শেখ মুজিবের সেনা হওয়া যায় না, তাঁকে ধারণ করা যায় না। সে জন্য ব্যক্তি, পারিবারিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক জীবনেও গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা করতে হয়, এসব ধারণ করতে হয়। মানুষ মরণশীল কিন্তু তার কর্ম, তার আদর্শ অমর হতে পারে শুধু অনুসারীদের এই আদর্শ ধারণ করার মধ্য দিয়ে।

দুবনার পথে, ১৬ আগস্ট ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

সিপিবি কংগ্রেস

প্রশ্ন

রিংকু