প্রশ্ন

ডঃ এ বি এম আবদুল্লাহর নিয়োগ বাতিল নিয়ে ফেসবুক গরম। ফেসবুকের বিভিন্ন জনের স্ট্যাটাস থেকে জানলাম উনি একজন সত্যিকারের ডাক্তার যার কাছে রুগিকে সেবা দেয়া জীবনের লক্ষ্য। ঠিক সেই লক্ষ্য যেটা দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের এক বিরাট অংশ ঘোষণা করে জীবনের লক্ষ্য রচনা লিখতে গিয়ে। 

মানুষ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়, তবে যতক্ষণ পর্যন্ত সে বেঁচে থাকে কম হোক আর বেশি হোক তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি থাকে। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের ইমিউনিটি মনে হয় সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তির চেয়েও কম, প্রায় শূন্যের কোঠায়। কেননা সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রায় সমস্ত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। অথচ আইন-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা ব্যবস্থা ও অন্যান্য আমলাতান্ত্রিক বিষয় রাষ্ট্রের ইমিউন সিস্টেম। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে এসব ব্যবস্থা বদলে যাওয়া, আগের সরকারের আমলের নিয়োগ (বেআইনি প্রক্রিয়ায় নয়) বাতিল আসলে এসব প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করে। 

যতদূর বুঝি ডঃ আবদুল্লাহ অধ্যাপক হিসেবে শুধু বেতন তুলেন নাই, তিনি এর বিনিময়ে নিজের সময় ও শ্রম দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠান যদি তাঁর কাছে বেতন ফেরত চায় তাহলে কি সে তাঁকে তাঁর সময় ও শ্রম ফেরৎ দিতে প্রস্তুত? প্রস্তুত হলে কীভাবে দেবে? আজ যদি ডাক্তারদের পেশাজীবী সমিতি এ ধরণের ঘটনার প্রতিবাদ করতে আদালতের আশ্রয় না নেয় আগামীকাল যে কেউ এই ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে। কারণ আইন কোন ঘটনাকে রেফারেন্স হিসেবে নেয়। যদিও দেশের আইন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করা যায়, তবুও এ ধরণের পদক্ষেপ শুধু আইনকে পুনর্বাসিত হবার সুযোগই করে দেবে না, ভবিষ্যতে যারা ইচ্ছামত নিয়োগ বাতিল করতে চায় তাদের সতর্ক করে দেবে। তাই এ বিষয়ে শুধু ডাক্তার নয় সব শ্রেণীর সচেতন মানুষের এগিয়ে আসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

দুবনা, ২৬ জুন ২০২৬

Comments