ন্যায় নাকি ভোটের হিসাব?

কয়েক বছর আগে ফ্লয়েড লয়েডের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আমেরিকা কেঁপে উঠেছিল। এর পেছনে রাজনীতি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব অন্যতম প্রধান হলেও মূল কারণ ছিল দীর্ঘ দিনের জমে থাকা ক্ষোভ আর এই ক্ষোভের পেছনে ছিল যুগ যুগ ধরে আফ্রো আমেরিকানদের প্রতি শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবিচার। অন্যদিকে বর্তমানে ইউরোপে দানা বাঁধছে বিপরীত মুখী আন্দোলন যখন স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ মানুষ প্রতিবাদ করছে মূলতঃ রঙিন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে।

সমাজের কোন সম্প্রদায় কখন বঞ্চিত ও নির্যাতিত হবে সেটা যতটা না সংখ্যার উপরে নির্ভর করে তারচেয়ে বেশি নির্ভর করে শাসক শ্রেণী বা শক্তিশালী রাজনৈতিক দল ও মিডিয়া কোন পক্ষ অবলম্বন করছে তার উপর। আগে শাসকশ্রেণী শুধু নিজের গোষ্ঠীর পক্ষ অবলম্বন করত যার উদাহরণ আমরা দেখেছি ভারত সহ বিভিন্ন উপনিবেশে, আমেরিকায়। বর্তমানে মানবিক কারণের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের জন্যও শাসক শ্রেণী বা শক্তিশালী রাজনৈতিক দল বা অনুগত মিডিয়া অনেক সময় সংখ্যালঘু ও অভিবাসীদের পক্ষ নেয়। 

যতক্ষণ পর্যন্ত এই পক্ষ নেয়ার পেছনে ন্যায় প্রতিষ্ঠার চেয়ে দলীয় স্বার্থ, ভোটের হিসাব নিকাশ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে ততক্ষণ সমাধানের চেয়ে তা সমস্যার বিস্তারেই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ন্যায় অন্যায় এসব আসলে খেলার নিয়মের মত। মাঠে নামার আগে সবাইকে এসব নিয়মের কথা জানানো এবং সব পক্ষ চায় সেই নিয়মের মানে সংবিধানের নিরপেক্ষ প্রয়োগ। এমনকি নিয়ম যদি নিখুঁত না ও হয় তার আবেগহীন, নির্লিপ্ত প্রয়োগ অনেক সমস্যা থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে। কারণ ন্যায় বিচার বা নিরপেক্ষ বিচার শক্তিশালীকেও অন্যায় করার আগে দুই বার ভাবতে বাধ্য করে। মূল কথাটা হল কে অপরাধী তার সামাজিক অবস্থানের দিকে না তাকিয়ে অপরাধের শাস্তি দেয়া। একমাত্র তাহলেই রাষ্ট্রের প্রতি জনগণ আস্থা ফিরে পায় যার ফলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়।

মস্কোর পথে, ১৪ জুন ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

রিংকু