সাব নির্বাচন ২০২৬-২
সাব নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যে অনেকেই কথা বলতে শুরু করেছে। তবে আপাতত সাধারণ কথাবার্তা। প্রার্থীরা ভোট চাইছে, কিন্তু নির্বাচিত হলে কে কী করবে মানে নির্বাচনী ইস্তেহার বলতে গেলে অনুপস্থিত। কেউ কেউ আবার এই আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছে যে ইলেকশন নয়, সিলেকশনের মধ্য দিয়েই হয়তো নতুন কমিটি নির্বাচিত হবে।
ইলেকশন বা সিলেকশন এসব টেকনিক্যাল বিষয়, মূল কথা নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা। যদি সব প্রার্থীরা আগে থেকে বসে নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় আসতে পারে তো ক্ষতি কি? কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে যে এসব সমঝোতা অনেকেই মন থেকে মেনে নেয় না, অনুরোধের ঢেঁকি গিলে বড়দের কথায়। এসব ঘটনা তার ও তার ঘনিষ্ঠ জনের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে যা সংগঠনের জন্য মোটেই সুখকর নয়। তাছাড়া এসব ক্ষেত্রে সমঝোতা হয় প্রার্থীদের মধ্যে, অথচ এমন হতে পারে তার সমর্থকদের কেউ কেউ এই প্রার্থীকে সমর্থন করে না। তাই এমনকি যদি একজন মাত্র প্রার্থীও তালিকায় থাকে তাহলেও তাকে ভোটের মধ্য দিয়ে নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেই আসা উচিৎ। সেক্ষেত্রে তার পক্ষে ও বিপক্ষে অপশন (হ্যাঁ/না) থাকা দরকার এবং শুধুমাত্র পক্ষে বেশি ভোট পেলেই উক্ত প্রার্থী নির্বাচিত বলে ঘোষিত হবে। এতে করে প্রথমত কেউ আর নবনির্বাচিত কমিটিকে কিছু প্রভাবশালী লোকের ম্যানিপুলেশন বলে অভিযোগ করতে পারবে না। দ্বিতীয়ত নির্বাচন মানেই সক্রিয়তা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় কর্মীদের মধ্যে সেটা সংগঠনকে চাঙ্গা করে।
গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে একটি বিষয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। ভোট একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার, কাকে ভোট দেব বা দেব না সেটাও একান্তই ব্যক্তিগত চয়েজ। সেই অর্থে প্রতিটি পদের জন্য ভোট সম্পূর্ণ স্বাধীন। কিন্তু গতবার কোন অজ্ঞাত কারণে (মনে করি আইনের ভুল ইন্টারপ্রিটেশনে) অনেকের ভোট বাতিল হয়ে যায় যেহেতু তারা যোগ্য প্রার্থী না পেয়ে কোন কোন পোস্টে কাউকে ভোট দেয়নি। এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে কোন পোস্টে কেউ ভোট না দিলে সমস্ত ব্যালট পেপার বাতিল ঘোষণা করা না হয়।
আমাদের মনে রাখতে হবে যে কার্যকরী কমিটির লোকজন আমাদেরই একজন। তাদের একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সংগঠন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সংগঠনের আসল স্টেইকহোল্ডার আমরা সবাই। তাই কমিটি নির্বাচন করেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, বিভিন্ন ভাবে কমিটির কাজকর্মে সহযোগিতা করে সংগঠনকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমরা নিজেরা যদি সক্রিয় না হই, কমিটির লোকজন যত যোগ্যই হোক না কেন সংগঠন খুব বেশি দূর এগুতে পারবে না। অন্যদিকে কার্যকরী কমিটির দায়িত্ব হবে সদস্যদের কাজকর্মে উদ্বুদ্ধ করা। অর্থাৎ কমিটি ও সাধারণ সদস্যরা হবে একে অন্যের পরিপূরক। সেটা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব উভয় পক্ষের।
একটা সময় বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় ছাত্র তুলনামূলক ভাবে কম এলেও এখন ট্রেন্ড পাল্টিয়েছে। প্রতিবছর প্রচুর ছেলেমেয়ে এখানে পড়াশুনা করতে আসছে, প্রচুর ছেলেমেয়ে দেশে ফিরেও যাচ্ছে। তারাও সাবের আপনজন, সাবের পটেনশিয়াল সদস্য। দিন দিন সোভিয়েত ফেরত গ্র্যাজুয়েটদের সংখ্যা কমলেও রুশ রেফত গ্র্যাজুয়েটদের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। এরাই আমাদের সংগঠনের ভবিষ্যৎ। তাই যারাই নির্বাচিত হোক না কেন তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হবে নতুন যারা দেশে ফিরছে তাদের সাবের পতাকা তলে একত্রিত করা, তাদের বিভিন্ন প্রাথমিক সমস্যায় সাধ্যমত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া। সোভিয়েত আমলে আমরা এদেশে আসার পর বড়দের কাছ থেকে যে ধরণের সহযোগিতা পেয়েছি, এখনও সেটা বিদ্যমান। তাই রুশ ফেরত বিশেষজ্ঞরা দেশে ফিরেও এ ধরণের সহযোগিতা সাব থেকে পাবে সেটা আশা করতেই পারি। একমাত্র পরস্পরের পাশে দাঁড়িয়েই আমরা আমাদের প্রিয় সংগঠনকে একটি কল্যাণমূলক সংগঠনে পরিনত করতে পারব।
দুবনা, ১৬ জুন ২০২৬
ইলেকশন বা সিলেকশন এসব টেকনিক্যাল বিষয়, মূল কথা নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা। যদি সব প্রার্থীরা আগে থেকে বসে নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় আসতে পারে তো ক্ষতি কি? কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে যে এসব সমঝোতা অনেকেই মন থেকে মেনে নেয় না, অনুরোধের ঢেঁকি গিলে বড়দের কথায়। এসব ঘটনা তার ও তার ঘনিষ্ঠ জনের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে যা সংগঠনের জন্য মোটেই সুখকর নয়। তাছাড়া এসব ক্ষেত্রে সমঝোতা হয় প্রার্থীদের মধ্যে, অথচ এমন হতে পারে তার সমর্থকদের কেউ কেউ এই প্রার্থীকে সমর্থন করে না। তাই এমনকি যদি একজন মাত্র প্রার্থীও তালিকায় থাকে তাহলেও তাকে ভোটের মধ্য দিয়ে নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেই আসা উচিৎ। সেক্ষেত্রে তার পক্ষে ও বিপক্ষে অপশন (হ্যাঁ/না) থাকা দরকার এবং শুধুমাত্র পক্ষে বেশি ভোট পেলেই উক্ত প্রার্থী নির্বাচিত বলে ঘোষিত হবে। এতে করে প্রথমত কেউ আর নবনির্বাচিত কমিটিকে কিছু প্রভাবশালী লোকের ম্যানিপুলেশন বলে অভিযোগ করতে পারবে না। দ্বিতীয়ত নির্বাচন মানেই সক্রিয়তা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় কর্মীদের মধ্যে সেটা সংগঠনকে চাঙ্গা করে।
গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে একটি বিষয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। ভোট একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার, কাকে ভোট দেব বা দেব না সেটাও একান্তই ব্যক্তিগত চয়েজ। সেই অর্থে প্রতিটি পদের জন্য ভোট সম্পূর্ণ স্বাধীন। কিন্তু গতবার কোন অজ্ঞাত কারণে (মনে করি আইনের ভুল ইন্টারপ্রিটেশনে) অনেকের ভোট বাতিল হয়ে যায় যেহেতু তারা যোগ্য প্রার্থী না পেয়ে কোন কোন পোস্টে কাউকে ভোট দেয়নি। এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে কোন পোস্টে কেউ ভোট না দিলে সমস্ত ব্যালট পেপার বাতিল ঘোষণা করা না হয়।
আমাদের মনে রাখতে হবে যে কার্যকরী কমিটির লোকজন আমাদেরই একজন। তাদের একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সংগঠন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সংগঠনের আসল স্টেইকহোল্ডার আমরা সবাই। তাই কমিটি নির্বাচন করেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, বিভিন্ন ভাবে কমিটির কাজকর্মে সহযোগিতা করে সংগঠনকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমরা নিজেরা যদি সক্রিয় না হই, কমিটির লোকজন যত যোগ্যই হোক না কেন সংগঠন খুব বেশি দূর এগুতে পারবে না। অন্যদিকে কার্যকরী কমিটির দায়িত্ব হবে সদস্যদের কাজকর্মে উদ্বুদ্ধ করা। অর্থাৎ কমিটি ও সাধারণ সদস্যরা হবে একে অন্যের পরিপূরক। সেটা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব উভয় পক্ষের।
একটা সময় বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় ছাত্র তুলনামূলক ভাবে কম এলেও এখন ট্রেন্ড পাল্টিয়েছে। প্রতিবছর প্রচুর ছেলেমেয়ে এখানে পড়াশুনা করতে আসছে, প্রচুর ছেলেমেয়ে দেশে ফিরেও যাচ্ছে। তারাও সাবের আপনজন, সাবের পটেনশিয়াল সদস্য। দিন দিন সোভিয়েত ফেরত গ্র্যাজুয়েটদের সংখ্যা কমলেও রুশ রেফত গ্র্যাজুয়েটদের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। এরাই আমাদের সংগঠনের ভবিষ্যৎ। তাই যারাই নির্বাচিত হোক না কেন তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হবে নতুন যারা দেশে ফিরছে তাদের সাবের পতাকা তলে একত্রিত করা, তাদের বিভিন্ন প্রাথমিক সমস্যায় সাধ্যমত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া। সোভিয়েত আমলে আমরা এদেশে আসার পর বড়দের কাছ থেকে যে ধরণের সহযোগিতা পেয়েছি, এখনও সেটা বিদ্যমান। তাই রুশ ফেরত বিশেষজ্ঞরা দেশে ফিরেও এ ধরণের সহযোগিতা সাব থেকে পাবে সেটা আশা করতেই পারি। একমাত্র পরস্পরের পাশে দাঁড়িয়েই আমরা আমাদের প্রিয় সংগঠনকে একটি কল্যাণমূলক সংগঠনে পরিনত করতে পারব।
দুবনা, ১৬ জুন ২০২৬
Comments
Post a Comment