সাব নির্বাচন ২০২৬

১৯৮৩ সালে যখন সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়তে আসি তখন হোস্টেল থেকে শুরু করে প্রায় সব জায়গায় কতগুলো ছবি থাকত। মার্ক্স, এঙ্গেলস, লেনিন (আমি রুশ বন্ধুদের ঠাট্টা করে বলতাম ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর)। এর বাইরে থাকত সিপিএসইউ এর পলিট ব্যুরোর ছবি। ঐ ছবিতে প্রায় সবাই ছিলেন বয়সের ভারে নুয়ে পড়া। আমার মনে হত বয়সই তাদের প্রধান যোগ্যতা। পরে অবশ্য দেখেছি শুধু সোভিয়েত পলিট ব্যুরো নয় আমেরিকার সিনেট ও কংগ্রেসেও এরকম বয়স্ক লোকের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। বয়স শুধু বয়স নয়, এক ঝাঁপি অভিজ্ঞতা।

সোভিয়েত এলুমনি এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ বা সাবের নির্বাচন ঘোষিত হয়েছে। অনেকেই সংগঠনের কার্যকরী কমিটিতে কাজ করার জন্য তাদের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছে। এদের অনেকেই বিগত দিনগুলোয় বিভিন্ন কমিটিতে বিভিন্ন কাজে কর্মরত ছিল। এদের যোগ্যতার তালিকা দেখে আমার সেই পলিট ব্যুরোর ছবি মনে পড়ে গেল। 

যেকোনো সংগঠনকে চলমান রাখার জন্য অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলা দরকার। দলবদ্ধ খেলায় যেমন অভিজ্ঞদের সাথে নতুন খেলোয়াড় যোগ করে এখানেও মনে হয় একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক নতুন মুখ আনা দরকার। এরা কারা? যারা বিগত সময়ে কমিটিতে না থেকেও সংগঠনের কাজকর্মে সক্রিয় ছিল এবং যারা নিজেরা দায়িত্ব পালনে আগ্রহী। এর ফলে ভবিষ্যতে যারা কমিটিতে কাজ করতে চায় তারা আগ্রহী হবে কমিটির বাইরে থেকেই সাংগঠনিক কাজে সক্রিয় হতে। আর যেকোনো পদেই নির্বাচিত হবার ক্ষেত্রে কিছু বাধা নিষেধ (দুই টার্ম বা পরপর দুই টার্ম) আরোপের চিন্তা করা যেতে পারে। কারণ নতুন রক্ত ছাড়া সংগঠন সতেজ রাখা সম্ভব নয়, আর সেজন্য পুরানো কর্মীদের নিজেদের থেকেই নতুনদের জন্য স্থান করে দিতে হবে। 

এছাড়া সংগঠনের সভাপতি নির্বাচনে তার পদপদবির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি ভিপুস্কনিক বিশেষ করে যারা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কয়েক বছর সুনামের সাথে কাজ করে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে তাদের যে কারো হাতেই নির্দ্বিধায় সাবের দায়িত্ব অর্পণ করা যায়। এক্ষেত্রে শুধু একটা কথা মনে রাখতে হবে। যারা নিজেদের পদপদবি দিয়ে সংগঠনকে ধন্য করতে চায় তাদের নয়, যারা নিজেদের সময় ব্যয় করে সংগঠনকে গতিশীল ও উন্নত করে নিজেরা ধন্য হতে চায় তাদের যে কেউ হতে পারে সাবের সভাপতি। 

পিকনিক, পিঠা উৎসব এসব পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে অপরিহার্য, তবে এটা সাবের মত সংগঠনের উদ্দেশ্য হতে পারে না। বিভিন্ন জনকল্যাণ ও সমাজ কল্যাণ মূলক কাজের মধ্য দিয়ে মানুষের কাছে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার সঠিক চিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নত থেকে উন্নততর করাই সাবের অন্যতম মিশন হওয়া উচিত।

দুবনার পথে, ১৫ জুন ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

রিংকু