ইঁদুর

ছোটবেলায় সোভিয়েত শিশু সাহিত্যে শালগম (রেপা আসলে শালগম নয়, ঐ জাতীয় একটি সব্জি) তোলার গল্প পড়েছিলাম। পরে বড় হয়ে বাচ্চাদের অনেক বার শুনিয়েছি। 

গতকাল এক বন্ধু ফোন করল। বরাবরের মতই কথা হল বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে। ও বামদের অবস্থা সম্পর্কে আমার মতামত জানতে চাইল। তখন অন্যভাবে সেই উত্তর দিলাম। তবে আজ সকালে হঠাৎ শালগমের গল্প মনে পড়ে গেল। 

সেই গল্পটি এমন। জমিতে এক বিশাল শালগম হয়েছে। দাদু অনেক চেষ্টা করেও সেটা তুলতে পারলেন না। দাদী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও কোন লাভ হল না। এরপর একে একে নাতনি, কুকুর, বিড়াল এই টানাহেঁচড়ায় যোগ দিয়ে সবাই মিলে শালগম টানতে শুরু করল। কিন্তু শালগম তো নড়েও না, চড়েও না। শেষে এল ইঁদুরছানা। ইঁদুরের টানে শালগমের সিংহাসন কেঁপে উঠল। উঠে এল সে মাটি ভেদ করে। ইঁদুরের শক্তি নগন্য হলেও এখানে সেটাই ছিল নির্ণায়ক।

চব্বিশ ও এর পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দল ও অন্যদের ভূমিকা কম-বেশি এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। চব্বিশ পূর্ববর্তী পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী ছিল শালগম। দাদু আওয়ামী লীগ জল ঢেলে ও সার দিয়ে একে বড় করেছে। এতে সেনাবাহিনী যেমন উপকৃত হয়েছে, আওয়ামী লীগ তেমনি নিজের ক্ষমতায় অবস্থান দীর্ঘায়িত করেছে। জুলাইয়ে এসে তারা স্থান পরিবর্তন করেছে। আওয়ামী লীগ হয়েছে শালগম, সেনাবাহিনী দাদু। জামায়াত পালন করেছে দাদীর ভূমিকা। নাতনি ছিল বিএনপি। এনসিপি, এবি পার্টি এরা কুকুর বিড়াল, যারা ঘরের মানুষ, তবে অধিকার ঠিক মানুষের মত না। প্রয়োজনে ঘেউ ঘেউ করে মালিক ও চোর সবাইকে ভয় দেখাতে পারে। আর বামেরা ইঁদুর। আন্দোলনের এক পর্যায়ে নির্ণায়ক হলেও এদের কেউ ঘরে তোলে না। পারলে শুধু তাড়াই করে না, মেরে পর্যন্ত ফেলে।

দাদু, দাদী, নাতনি, কুকুর, বিড়াল মাঝেমধ্যে ঝগড়াঝাঁটি করলেও শেষ পর্যন্ত এক সাথেই থাকবে। ইঁদুর শালগম উৎপাটনে গর্বিত সৈনিক হিসেবে যতই বুক ফুলিয়ে, হাত দুলিয়ে ঘুরে বেড়াক না কেন, এমনকি শালগমের উচ্ছিষ্টও তার ভাগ্যে জুটার কোন সম্ভাবনা নেই। রূপকথার ইঁদুর সেটা বোঝেনি বলেই ইঁদুর পার্টি বলে কিছু গড়ে তোলেনি। আমাদের বামেরা সেদিক থেকে অনেক বেশি সচেতন। তবে সচেতনতা সাফল্যের গ্যারান্টি নয়। 

আর জনগণ? 
আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জনগণ অনেকটা স্ত্রীর আগের পক্ষের সন্তানের মত। তাকে দিয়ে ফরমাশ খাটানো যায়, তাকে শোষণ করা যায় কিন্তু সম্পত্তির ভাগ দিতে হয় না, দেয় না। জনগণকে রাস্তায় নামানো যায়, তার নাম ভাঙিয়ে ক্ষমতায় রদবদল করা যায়, যদিও তাদের ভাগ্য বদলায় না।

দুবনা, ২৫ জুন ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

রিংকু