প্রশ্ন
পাকিস্তান আমলে এই অঞ্চলের প্রগতিশীল আন্দোলন বেঁচে ছিল মূলত সংখ্যালঘুদের হাতে। আত্মগোপনের তাগিদে নাম ও খাদ্যাভ্যাস বদলালেও তাদের চরিত্র বদলায় নাই, মনে প্রাণে তারা ছিল অবিভক্ত ভারতের নাগরিক, কয়েক হাজার বছরের স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। এখনও বাংলাদেশের বাম রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে আনুপাতিক হারে এই সংখ্যালঘুরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। অন্তত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শিল্পীদের নামের তালিকা দেখলে সেই ধারণাই হয়। তাই চব্বিশের পর এদের উপর আক্রমণ বাম নেতারা যখন আওয়ামী লীগের উপর আক্রোশ জনিত কারণে বলে রায় দেয় তখন মনে বিভিন্ন প্রশ্ন জাগে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জয় বাংলা শ্লোগান এসবের সাথে হিন্দুদেরও আওয়ামী লীগের জিম্মায় রেখে তারা বলতে চায় আওয়ামী লীগ এসব কুক্ষিগত করেছে তাই এদের উপর আক্রমণ, এদের অবমাননার সব দায় আওয়ামী লীগের। এই যে রংপুরে এত বড় হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটে গেল এ নিয়ে তাদের কোন বক্তব্য বিবৃতি চোখে পড়ল না। নাকি এই চারটি (আসলে এমন শত শত হাজার হাজার) প্রাণের দাম এক ফেলানীর চেয়ে কম। না, ফেলানী প্রতি আমারও সহানুভূতির কমতি নেই। সমস্যা হল ফেলানী নিজেও পরিস্থিতি ও রাজনীতির শিকার। ফেলানীকে নিয়ে পপুলিস্টিক রাজনীতি করা যায় কিন্তু এদেশের হিন্দুদের নিয়ে তা করা যায় না। ভোট বাড়ে না, বরং ভারতের দালাল ট্যাগ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটাই মনে হয় বামদের ডান দিকে হেলে পড়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
কারেলিয়া, সর্তাভালার পাহাড়ি পথে, ২৭ আগস্ট ২০২৬
Comments
Post a Comment