ন্যায়ের জন্য লড়াই
ছাত্রলীগ সন্দেহে ১৫ বছরের এক ছেলেকে শহীদ মিনারে ফাঁসিতে ঝোলানোর ছবি ও খবর দেখলাম। জানি না ছেলেটি ছাত্রলীগ করত কি না আর করলেই বা কি? কারোও আদর্শগত অবস্থান তাকে হত্যার কারণ হতে পারে না।
মনে পড়ল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের কথা। সেখানে সব শহীদ ছাত্র ছিল না। কিন্তু সেই প্রশ্ন কেউ তোলেনি। সারা দেশ সেই হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে।
অথবা চব্বিশের জুলাই আগস্টে কেউ বিক্ষোভ মিছিলে মৃতদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করেনি। সেই মৃত্যুর প্রতিবাদ করেছে। যার ফল সরকারের পতন।
আশ্চর্যের বিষয় হল শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে যখন মৃত্যুর মিছিল শুরু হল, বিভিন্ন অজুহাতে যখন ভিন্ন মতাবলম্বী মানুষকে হত্যা করা শুরু হল মৃত্যুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এই জনগণই সব হজম করতে শুরু করল।
অনেক দিন পরে এই সেদিন বিউটি পালের ঘটনায় বাংলাদেশের মানুষ এক হয়েছিল। এটা প্রমাণ করে যে এক হলে যেকোনো বাঁধা আমরা অতিক্রম করতে পারি। ইতিহাস বারবার সেই স্বাক্ষ্য দিয়েছে। তবে সেটা হতে হবে প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত। বেছে বেছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায় না, সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় প্রতিবাদ করতে হয়। একমাত্র তখনই আইনের শাসন নিশ্চিত করা যায়।
দুবনা, ১০ আগস্ট ২০২৬
Comments
Post a Comment