মানুষখেকো
রাশিয়ায় ভালুকের উৎপাত সবসময়ই ছিল। ভালুক নিয়ে এদের রূপকথার অভাব নেই। তবে ইদানিং ভালুকের উৎপাত নতুন করে শুরু হয়েছে। এমনকি মস্কো বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় ভালুকের দর্শন মিলেছে। ওদের মূল খাবার পাইন বাদাম। ওটা খুব খাদ্যমান সম্পন্ন ও খুব দামী। আর যেখানেই আর্থিক লাভের সম্ভাবনা সেখানেই মানুষের সাথে জীবজন্তুর সংঘাত।
বন্যা ও অগ্নি দাহের কারণে বনে খাদ্যের আকাল। ভালুকেরা তাই গ্রাম আর শহরে আসছে জীবিকার সন্ধানে। মানুষের মুরগিটা বা খরগোশটা নিয়ে চলে যাচ্ছে ট্যাক্স হিসেবে। এক কথায় জোর যার মুল্লুক তার।
এখন গ্রীষ্ম কাল। প্রচুর লোকজন হাইকিং এ যায় এসময়, বনের আশেপাশে তাবু খাটিয়ে রাত কাটায়। এটা সস্তা ও রোমান্টিক। কয়েক দিন আগে আলতাই এলাকায় এক ভালুক এরকম এক তাবু থেকে এক মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। তার বন্ধু ও সঙ্গীরা অনেক চেষ্টা করেও মেয়েটিকে রক্ষা করতে পারেনি। পরে তার উচ্ছিষ্ট পাওয়া গেছে বনের ভেতর।
রাশিয়ায় বন্য জীবজন্তু শিকারের ব্যপারে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আছে। ফলে ভালুকের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। তবে এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ কিছু লাইসেন্স দিতে শুরু করেছে। আর যে ভালুকটি মানুষ হত্যা করেছে সেটা ধরা বা মারার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জিম করবেটের গল্পে পড়েছি কোন বাঘ মানুষখেকো হলে তাকে হত্যা করা হয়, কারণ একবার মানুষের মাংসের স্বাদ পেলে সেই বাঘ আর বশে আনা যায় না। তাদের একমাত্র দাওয়াই - প্রাণদণ্ড।
বাংলাদেশে নরহত্যা সামাজিক নিয়মে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে যারা রাষ্ট্র দ্বারা উপেক্ষিত, অরক্ষিত। সমস্যা হল দুর্বলের উপর হাত পাকিয়ে তারা যে একদিন সবলের ঘাড় মটকাবে না সেই গ্যারান্টি কে দেবে? পাকিস্তানেও এরা এভাবেই শুরু করে এখন দেশটাকে জাহান্নামের আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সময় থাকতে এসব মানুষখেকো মানুষদের আইনের আওতায় না আনলে একদিন নিজের ঘাড় নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে।
দুবনা, ২৩ আগস্ট ২০২৬
Comments
Post a Comment