প্রশ্ন

২০২২ সালে, ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর দিকে যখন জাপারোঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মিসাইল আক্রমণ হয় তখন এ নিয়ে সারা বিশ্বে হৈচৈ পড়ে যায়। দেশ ও কোলকাতা থেকে একাধিক মিডিয়া এ ব্যাপারে আমাকে ফোন করে। তবে যেহেতু আমি রাশিয়াকে ঢালাওভাবে দায়ী করিনি ও বলেছি ঐ পরিস্থিতিতে হামলার পেছনে ইউক্রেনের হাত থাকাই স্বাভাবিক, তাই দ্রুত ওদের আগ্রহ কমতে শুরু করে। 

এরপর বিভিন্ন সময়ে ইউক্রেন এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আক্রমণ করে। ইন্টারন্যাশনাল এটমিক এনার্জি এজেন্সি প্রধান রাফায়েল গ্রস্সি এর নিন্দা করেন পারত পক্ষে কারা হামলা করছে অর্থাৎ ইউক্রেনের নাম না করেই। 

গত কয়েকদিন ইউক্রেন জাপারোঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র লক্ষ্য করে ড্রোন আক্রমণ চালিয়েছে। এমনকি মূল কেন্দ্রের কয়েক মিটার দূরে বোমা পড়েছে। যদিও এসব কেন্দ্র ধ্বংস করা যথেষ্ট কঠিন তবে ঘটনাপ্রবাহ সেদিকে যেতে পারে। আর বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস হলে তার প্রভাব যে সমস্ত ইউরোপে পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এসবই হচ্ছে ইউরোপের সরাসরি অংশগ্রহণে। এটা অনেকটা জল্লাদের হাতে ছুরি তুলে দেওয়ার মত। 

বলার অপেক্ষা রাখে না যে ইউরোপ ইউক্রেনের হাত দিয়ে রাশিয়ার সাথে যুদ্ধরত। গণতন্ত্র, ইউক্রেনের জনগণের অধিকার এসব কথা বলে যুদ্ধ চালিয়ে গেলেও কতজন ইউক্রেনিয়ান এই যুদ্ধে মারা যাবে এ নিয়ে তাদের মাথা ব্যথা নেই। তাদের দরকার মাটি, মানুষ নয়। আমরা উপনিবেশ যুগের কথা কি বেমালুম ভুলে গেছি? সেখানেও তারা উপনিবেশের সম্পদ নিয়েই আগ্রহী ছিল। জেলেনস্কির নিজেরও হারানোর কিছু নেই। তার একমাত্র লক্ষ্য ইউরোপকে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো। এতে কতজন রুশ আর কতজন ইউরোপিয়ান মারা যাবে তা নিয়ে তার মাথা ব্যথা নেই। উল্লেখ্য যে তার আধ্যাত্মিক গুরু বান্দেরা ও অন্যরা একই রকম উৎসাহের সাথে রুশ, পোলিশ, ইহুদি ও অন্যদের গ্যাস চেম্বারে অথবা অন্যান্য ভাবে অত্যাচার করে হত্যা করত।

সমস্যা হল মানুষ অভ্যাসের দাস। এমনকি যুদ্ধেও সে দ্রুত অভ্যস্ত হয়ে যায়। সময় মত আসন্ন বিপদ মোকাবেলা করতে না পারলে ধ্বংস নেমে আসে। ইতিহাস বারবার তার সাক্ষী ছিল। ইউরোপ কি সময় থাকতে তার আত্মরক্ষার প্রবৃত্তি ফিরে পাবে?

দুবনা, ৩১ মে ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

রিংকু