রাজনীতির ভবিষ্যৎ

ভারতীয় উপমহাদেশে রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। যদিও প্রথম দিকে এটা ছিল মূলতঃ বিলাতে শিক্ষিতদের ক্লাব পরবর্তীতে মহাত্মা গান্ধীর চেষ্টায় তা গণসংগঠনের রূপ পায়। এরপর মুসলিম লীগ থেকে শুরু করে একে একে অনেক দল জন্ম নেয়। বাংলাদেশে মনে হয় দলের সংখ্যা শতাধিক। আমার ধারণা সাধারণ মানুষ তো বটেই সক্রিয় ভাবে রাজনীতির সাথে জড়িত কোন লোকও সব দলের নাম বলতে পারবে না। 

বুদ্ধি হবার পর থেকে যে দলগুলোর নামের সাথে পরিচিত ছিলাম তা হল আওয়ামী লীগ, মুসলিম লীগ, ন্যাপ। স্বাধীনতার পরে তো বটেই, এমনকি পাকিস্তান আমলেই মুসলিম লীগ তার জনসমর্থন হারিয়েছিল। স্বাধীনতার পরে জাসদ, সিপিবি, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি এসব নাম কমবেশি মুখে মুখে উচ্চারিত হত। কিন্তু যখনই জনসমর্থনের প্রশ্ন আসে তখন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে কোন নাম শোনা যায় না। এমনকি জাতীয় পার্টিরও খুব একটা না। ফলে সংসদে যেতে হলে সবাইকে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সাথে আঁতাত করেই যেতে হয়। ইতিপূর্বে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে প্রতিপক্ষের নাম রাজনৈতিক ক্যানভাস থেকে মুছে ফেলতে। সফল হয়নি। এখনও হবে বলে মনে হয় না। আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার যে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হল সেটা রাজনীতিকে আরও বেশি অস্থিতিশীলতার পথে ঠেলে দেবে। আর যেহেতু বর্তমানে বিএনপি প্রায় একমাত্র রাজনৈতিক দল এতে করে তার ক্ষতি হবে সবচেয়ে বেশি। 

অবশ্য এতে অবাক হবার কিছু নেই। জিয়াউর রহমান রাজনীতি কঠিন করার শপথ নিয়েছিলেন। পরে এরশাদ, খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা - সবাই সেই আদেশ মেনে চলেছেন। যদিও এতে করে প্রতিপক্ষের পাশাপাশি নিজেরাও রাজনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারপরও কোন দলই এই পথ থেকে সরে আসেনি, ভবিষ্যতে আসবে বলে মনেও হয় না। 

বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠ কর্দমাক্ত, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন - ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। অনিশ্চিয়তাই একমাত্র নিশ্চিত ভবিষ্যৎ।

দুবনা, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

রিংকু