বাদের বিবাদ

পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র, মোল্লাতন্ত্র, ব্রাহ্মণ্যবাদ এসব ব্যবস্থা পরস্পরের বৈরী, একে অন্যের সাথে সমঝোতা করে বেশি দিন এক সাথে ঘর করতে পারে না, তাই এদের মধ্যে জীবন মরণ যুদ্ধ অনিবার্য। যদিও পুঁজিবাদ, মোল্লাতন্ত্র, ব্রাহ্মণ্যবাদ - এদের অর্থনৈতিক ভিত্তি শোষণ তবে তাদের এলিট শ্রেণী ভিন্ন, ভিন্ন জীবন দর্শন। পুঁজিবাদে অর্থই ঈশ্বর, অর্থই শোষণের লক্ষ্যবস্তু। মোল্লাতন্ত্রে ও ব্রাহ্মণ্যবাদে ঈশ্বর অর্থের মত অর্থবহ নন, তিনি অদৃশ্য এবং ধর্ম ব্যবসায়ীদের কাছে শোষণের হাতিয়ার। এখানেও স্বর্গ বা বেহেশতের ফাইভস্টার হোটেলে সীট বুকিংয়ের আশ্বাস দিয়ে মোল্লা আর পুরুতরা জাগতিক সুখ পেতে ব্যস্ত। সমাজতন্ত্র ভিন্ন অর্থনৈতিক সম্পর্ক সৃষ্টি করা হলেও জন্ম নেয় নতুন এলিট, নতুন শোষক শ্রেণী। গণতন্ত্র সবাইকে একোমোডেট করতে পারে, তবে এদের পারস্পরিক এন্টাগোনাস্টিক চরিত্র সেটা করতে দেয় না। আর যেহেতু সব সমাজেই বিভিন্ন চিন্তার মানুষ বিদ্যমান তাই সংঘাত অনিবার্য। উপায়? সমঝোতা করা, পরস্পরকে ছাড় দেয়া। প্রাণী জগতে এটা দেখা যায় না। একদল অন্যদলকে ভিটেছাড়া করে। মানুষ তো সেই বন্যতাকেই ধারণ করে। আর দলের আকার ও শক্তি তার মধ্যে পাশবিক মনোভাব জাগ্রত করে। যুদ্ধ তাই মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। শান্তি অস্বাভাবিক।

দুবনা, ০১ এপ্রিল ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

রিংকু