চুক্তি
মার্কিন স্টেট সেক্রেটারি মোর্কো রুবিওর ২০১৫ সালে সিনেটে দেয়া বক্তব্য পড়লাম। উনি সেখানে প্রেসিডেন্ট ওবামাকে সতর্ক করেছেন ইরানের সাথে চুক্তির ব্যাপারে। বলেছেন চুক্তির মাধ্যমে ইরান যে অতিরিক্ত অর্থ পাবে তা দিয়ে নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করবে, এক সময় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে। যেহেতু ইরানে গনতন্ত্র নেই ও ধর্মীয় নেতা সমস্ত ক্ষমতার উৎস তাই যেকোনো সময় সেই অস্ত্র ব্যবহার করে বিশ্বকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। শুধু ইরান কেন নতুন করে কোন দেশের হাতে এই মারণাস্ত্র আসুক আমি তার বিপক্ষে। তবে রুবিওর বক্তব্য শুনে ও বর্তমান পরিস্থিতি দেখে কিছু প্রশ্ন মনে আসছে।
এখন এটা স্পষ্ট যে ইরান তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে। কিন্তু সেটা করেছে ট্রাম্প ওবামার চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পরে। তার মানে রুবিও যে কারণে চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছিলেন সেটা কাজে আসেনি। যদিও যদি কিন্তু দিয়ে ইতিহাস বিচার করা ঠিক নয় তারপরেও বলা যায় ইরানের সাথে সেই চুক্তি বাতিল না করলে ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিতে পারত। তারচেয়েও বড় কথা চুক্তি করে যদি চুক্তির শর্ত মানা না হয় ও চুক্তিকে আক্রমণের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় তাহলে প্রতিপক্ষ কেন বসে থাকবে? আমেরিকা তথা পশ্চিমা বিশ্ব সাদ্দাম, গাদ্দাফির সাথে চুক্তি করে তাদের হত্যা করেছে, মিনস্ক চুক্তি করে ইউক্রেন অধিকৃত দনবাসে দুর্গ গড়ে তুলে রাশিয়ার সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছে। তাই তাদের সাথে চুক্তি করা কতটুকু নিরাপদ সেটাও ভেবে দেখা দরকার। আর ইরানের নেতা ভালো মন্দ বিচার না করে নিজেদের দিকটাও দেখা দরকার। কারণ ইরানের নেতা সম্পর্কে সবাই জানে। কিন্তু কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না সেই গ্যারান্টি কোথায়?
এখন পর্যন্ত একমাত্র আমেরিকাই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি আবার তা ব্যবহারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সমস্যা হল অধিকাংশ মানুষ ধরেই নিয়েছে ভালোর মন্দ করার অধিকার আছে কিন্তু মন্দ যে ভালো করতে পারে সেটা তারা কল্পনাও করতে পারে না। যেহেতু কপালে এই ভালো-মন্দের সীল মেরে দেয় তথা কথিত সভ্য বিশ্ব মানে আমেরিকা তথা পশ্চিমা বিশ্ব, তাই তারা সভ্যতা প্রতিষ্ঠার নামে অটোম্যাটিক্যালি যেকোনো দেশ ধ্বংস করতে পারে, কিন্তু অন্যদের এমনকি আত্মরক্ষা করার অধিকার পর্যন্ত নেই। পশ্চিমা বিশ্বের কাছ থেকে শেখার অনেক কিছু আছে, কিন্তু ফ্যাসিবাদ, কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প, ডিভাইড অ্যান্ড রুল - এসব তত্ত্ব পশ্চিমা বিশ্বেই জন্ম নিয়েছে। তাই তাদের অন্ধ ভাবে বিশ্বাস করার কোন কারণ নেই। আসলে কাউকেই অন্ধভাবে বিশ্বাস করা ঠিক নয়। বিশ্বাস করব, কিন্তু সেটা করব যাচাই করে।
দুবনা, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
Comments
Post a Comment