অসম্ভব?

সোভিয়েত ইউনিয়নে সবারই কোন না কোন ঠিকানা ছিল, কেউ রাস্তায় থাকতে পারত না, চাইলেও না। কেউ চাইলেই বেকার থাকতে পারত না, ভালো লাগুক বা নাই লাগুক প্রাপ্ত বয়স্ক সবাইকে আয় করতে হত, নিজের খাবার জোগাড় করতে হত। কারো স্বেচ্ছায় মৃত্যু বরণ করার অধিকার ছিল না যদিও বিনা অপরাধে অনেককেই মৃত্যুদন্ড দেয়া হত। চাইলেই কেউ সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে পারত না। অর্থাৎ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা এসব মৌলিক অধিকারের গ্যারান্টির পাশাপাশি বাকস্বাধীনতা, (প্রকাশ্যে) ভিন্ন মত পোষণ ইত্যাদির অধিকার ছিল না। অন্যদিকে আমেরিকা তথা পুঁজিবাদী বিশ্বে বাকস্বাধীনতা, ভিন্ন মত পোষণের অধিকার আছে কিন্তু খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এসব মৌলিক অধিকার গ্যারান্টেড নয়। সোভিয়েত ইউনিয়নে অনেকেই নিজেদের ইচ্ছামত কাজ করতে বা মত প্রকাশ করতে না পারায় নিজেদের স্বাভাবিক ভাবেই বঞ্চিত মনে করত। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যখন সেই সুযোগ এল আর আগের অনেক গ্যারান্টেড সুযোগ সুবিধা নাই হলে গেল তখন প্রশ্ন জাগল কোনটা ভালো - নিশ্চিত মৌলিক অধিকার নাকি কথা বলার অধিকার? সমস্যা হল খালি পেটে যতই মিটিং মিছিল করুক তাতে পেট ভরবে না। অন্যদিকে পেটে ভাত থাকলে মুখে কুলুপ এটে বসে থাকা মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে। 

একটা গল্প পড়েছিলাম অনেক আগে। এক ঘটক বিয়ের ঘটকালি করছে। মেয়ের বাড়ি গিয়ে বলেছে ছেলে বিয়ের জন্য এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে আর মেয়ে রাজি সেটা জানাতে ছেলের বাড়িতে এসে বলেছে মেয়ের মুখে রা নেই। শুধু বিয়ের আসরে জানা গেছে ছেলে খোঁড়া আর মেয়ে বোবা। তবে দুই জনের দুই ধরণের দুর্বলতা একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ পরিবারের জন্ম দিলে দিতেও পারে। মানুষ পারলে দুই ব্যবস্থার মিলনে একটি অপেক্ষাকৃত স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যবস্থাই বা কেন জন্ম নেবে না?

দুবনা, ১১ এপ্রিল ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

রিংকু