আবারও শুভ নববর্ষ
জীবন সংক্ষিপ্ত। জীবনে সব কিছু যে আমার মনমতো হবে এমন কোন কথা নেই। তাই চেষ্টা করি ভালো মন্দ যা কিছু আসে চলার পথে সেটাকে যতদূর সম্ভব উপভোগ করার বিশেষ করে সেটা বদলানোর সামর্থ্য যদি না থাকে।
সন্দেহ নেই যে বাংলাদেশে এরশাদের আমলে যে বাংলা পঞ্জিকা চালু করা হয়েছে সেটা বাঙালি ও বাংলার সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ করে না। বরং ভারত ও বাংলাদেশের বাঙালিদের মধ্যে তো বটেই এমনকি বাংলাদেশের হিন্দু ও ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যেও দূরত্ব সৃষ্টি করে। সত্যি বলতে কি পয়লা বৈশাখ, পঁচিশে বৈশাখ, এগারোই জৈষ্ঠ্য, বাইশে শ্রাবণের বাইরে জাতির জীবনে এই পঞ্জিকার কোন ব্যবহারিক গুরুত্ব নেই। তবে পূজা পার্বণ, বিয়ে ইত্যাদি সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য হিন্দু সম্প্রদায় বাংলা পঞ্জিকা অনুসরণ করে। তবে সেটা বাংলাদেশের পঞ্জিকা নয়, অনেক আগে থেকে চলে আসা পশ্চিমবঙ্গের পঞ্জিকা। এর মানে নতুন পঞ্জিকা ঐক্যের জন্য নয়, বিভেদের জন্য। এটা অনেকটা বৃটিশ রাজের শাসন থেকে মুক্তি লাভের পর আমেরিকার ইংরেজি ভাষায় পরিবর্তন আনার মত। তবে আমেরিকার ক্ষেত্রে সেটা প্র্যাগমাটিক হলেও আমাদের ক্ষেত্রে হয়নি।
অনেক বন্ধুদের দেখি আজ মস্কোর ঈদ করে রাতের ফ্লাইটে দেশ যায় আগামীকাল সেখানে ঈদ করবে বলে। তাই আগে এই নতুন বাংলা পঞ্জিকা নিয়ে এক ধরণের অস্বস্তি বোধ করলেও ইদানিং বরং ভালোই লাগে। দুই দিন উৎসব করা যায়। গতকাল দেশের বন্ধুদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম, আজ শুভ নববর্ষ বলছি ভারতীয় বন্ধুদের। আমার রুশ বন্ধুরা তো ঈর্ষা করে এক উৎসব উপলক্ষ্যে পর পর দুই দুই পান করার সুবর্ণ সুযোগ আমাদের আছে বলে। রুশ দেশে পুরানো নতুন বছর বলে একটা ধারণা আছে। এটা জুলিয়ান পঞ্জিকা অনুসারে। বর্তমানে তা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার থেকে ১৩ দিন পিছিয়ে আছে। আমরাও দুই দিনের নববর্ষকে এভাবেই নিতে পারি। বিভেদকামী রাজনৈতিক শক্তি মানুষকে কষ্ট দেবার জন্য এই পঞ্জিকা চালু করেছিল। আমরা যদি এটাকে উল্টো আরও একটা আনন্দ উৎসবে পরিণত করি তাহলেই তাদের বিভেদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে।
শুভ নববর্ষ ১৪৩৩!
দুবনা, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
সন্দেহ নেই যে বাংলাদেশে এরশাদের আমলে যে বাংলা পঞ্জিকা চালু করা হয়েছে সেটা বাঙালি ও বাংলার সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ করে না। বরং ভারত ও বাংলাদেশের বাঙালিদের মধ্যে তো বটেই এমনকি বাংলাদেশের হিন্দু ও ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যেও দূরত্ব সৃষ্টি করে। সত্যি বলতে কি পয়লা বৈশাখ, পঁচিশে বৈশাখ, এগারোই জৈষ্ঠ্য, বাইশে শ্রাবণের বাইরে জাতির জীবনে এই পঞ্জিকার কোন ব্যবহারিক গুরুত্ব নেই। তবে পূজা পার্বণ, বিয়ে ইত্যাদি সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য হিন্দু সম্প্রদায় বাংলা পঞ্জিকা অনুসরণ করে। তবে সেটা বাংলাদেশের পঞ্জিকা নয়, অনেক আগে থেকে চলে আসা পশ্চিমবঙ্গের পঞ্জিকা। এর মানে নতুন পঞ্জিকা ঐক্যের জন্য নয়, বিভেদের জন্য। এটা অনেকটা বৃটিশ রাজের শাসন থেকে মুক্তি লাভের পর আমেরিকার ইংরেজি ভাষায় পরিবর্তন আনার মত। তবে আমেরিকার ক্ষেত্রে সেটা প্র্যাগমাটিক হলেও আমাদের ক্ষেত্রে হয়নি।
অনেক বন্ধুদের দেখি আজ মস্কোর ঈদ করে রাতের ফ্লাইটে দেশ যায় আগামীকাল সেখানে ঈদ করবে বলে। তাই আগে এই নতুন বাংলা পঞ্জিকা নিয়ে এক ধরণের অস্বস্তি বোধ করলেও ইদানিং বরং ভালোই লাগে। দুই দিন উৎসব করা যায়। গতকাল দেশের বন্ধুদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম, আজ শুভ নববর্ষ বলছি ভারতীয় বন্ধুদের। আমার রুশ বন্ধুরা তো ঈর্ষা করে এক উৎসব উপলক্ষ্যে পর পর দুই দুই পান করার সুবর্ণ সুযোগ আমাদের আছে বলে। রুশ দেশে পুরানো নতুন বছর বলে একটা ধারণা আছে। এটা জুলিয়ান পঞ্জিকা অনুসারে। বর্তমানে তা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার থেকে ১৩ দিন পিছিয়ে আছে। আমরাও দুই দিনের নববর্ষকে এভাবেই নিতে পারি। বিভেদকামী রাজনৈতিক শক্তি মানুষকে কষ্ট দেবার জন্য এই পঞ্জিকা চালু করেছিল। আমরা যদি এটাকে উল্টো আরও একটা আনন্দ উৎসবে পরিণত করি তাহলেই তাদের বিভেদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে।
শুভ নববর্ষ ১৪৩৩!
দুবনা, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

Comments
Post a Comment