অরুন্ধুতী রায়

ফেসবুকে অরুন্ধতী রায়ের ইরানের পাশে দাঁড়ানোর স্ট্যাটাস নিয়ে বাজার গরম। বরাবরের মতই এখানেও সবাই পুরো স্ট্যাটাস না দিয়ে আংশিক ভাবে তা প্রকাশ করছে ও সেটার উপর পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।

অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর অবস্থানের সাথে একমত না হলেও স্বীকার করতেই হবে যে তিনি বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থার একজন একনিষ্ঠ সমালোচক। এর মানে এই নয় যে তিনি ইসলামী শাসনের পক্ষে। আমরা যাদের কাছ থেকে কিছু আশা করি তাদের অপকর্মের সমালোচনা করি। এটাই নিয়ম। আমরা খারাপ লোকের কাছ থেকে ভালো ব্যবহার আশা করি না। কিন্তু ভালো লোক খারাপ ব্যবহার করলে ব্যথিত হই। রায় খোমেনির কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করেন না। কিন্তু ট্রাম্প, নিতানিয়াহু সহ অনেকেই যখন আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান সেটা তিনি মেনে নিতে পারেন না। অন্যেরা যেখানে হাওয়া দেখে পাল তোলে তিনি সেখানে হাওয়ার তোয়াক্কা না করে নিজের লক্ষ্যে চলেন। এটা পছন্দ না হলেও প্রশংসার যোগ্য।

অবাক লাগে যখন অনেকে এমনকি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অরুন্ধতী রায়ের জন্ম ১৯৬১ সালে। ১৯৭১ সালে তার বয়স ছিল মাত্র দশ। তখন তিনি কিছু বললেও সেটা কেউ মনে রাখত না বা গুরুত্ব দিত না। তিনি অনেক দিন পরে আজকের অরুন্ধুতী রায় হয়েছেন। এখন তাঁর কথার ওজন আছে বলেই এত আলোচনা সমালোচনা।

ডাকাতের বা দস্যুর সমালোচনা করা অর্থহীন। তাকে ধরে বিচারের কাঠগড়ায় তোলা রাষ্ট্রের কাজ। রাষ্ট্রের দায়িত্ব দস্যুদের হাত থেকে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা করা। রাষ্ট্রের অধিকার নেই সন্দেহের বশে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করার। সেটা করলে যেকোনো বিবেকবান মানুষ তার সমালোচনা করবে। বুদ্ধিজীবরা তো করবেই। এটাই প্রকৃত বুদ্ধিজীবীর দায়িত্ব। একটা অন্যায় দিয়ে আরেকটা অন্যায় রোধ করা যায় না, বরং নতুন অন্যায় করার অজুহাত তৈরি করে দেয়া হয়। রায়ের প্রতিবাদ ইরান সরকারের পক্ষে নয়, শক্তিশালীর অন্যায় দিয়ে দুর্বলের অন্যায় ঢেকে দেয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ যার শিকার হচ্ছে শত শত নিরীহ মানুষ।

দুবনা, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

রিংকু