প্রশ্ন

হাঙ্গেরির নির্বাচনে ভিক্টর অরবান পরাজিত হলেন। দীর্ঘ দিন কোন শাসক ক্ষমতায় থাকলে এক দিকে যেমন এক ধরণের অভ্যস্ততা তৈরি হয় অন্যদিকে পরিবর্তনের ইচ্ছেও জাগে। যদিও রুশ ইউক্রেন যুদ্ধে অরবানের বিভিন্ন কার্যক্রম আপাত দৃষ্টিতে রাশিয়ার পক্ষে গেছে এর অর্থ এই নয় যে তার প্রস্থান রাশিয়ার জন্য ক্ষতিকর হবে। অরবান রাশিয়ার পক্ষে নন, তিনি হাঙ্গেরির জাতীয় স্বার্থে কাজ করেছেন। সেটা কখনো কখনো রাশিয়ার পক্ষে গেছে। রাজনীতিতে এটা হয়। অরবানের প্রস্থান মানে ইউরোপ ইউক্রেনকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আরও মুক্ত হস্তে সাহায্য করতে পারবে। যুদ্ধের বেগ বাড়বে, যুদ্ধ তাড়াতাড়ি শেষ হবার সম্ভাবনা তৈরি হবে। অন্ততঃ রাশিয়ার মানুষ এটা চাইছে। হাঙ্গেরির প্রতি রাশিয়ার এখন আর আগের মত যত্নশীল থাকার প্রয়োজন না থাকায় সে তেল গ্যাস পুরোটাই অন্য দিকে ডাইভার্ট করতে পারবে। আর এই পরিবর্তনের ফলে ইউরোপের কোন দেশ যদি সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে রাশিয়ার হাত খুলে যাবে। তাই এটা বরং শাপে বর হতে পারে। 

অনেককেই দেখলাম অরবানের পরাজয়কে স্বাগত জানাচ্ছে। এর মূল কারণ তাঁর জাতীয়তাবাদী মনোভাব আর ইমিগ্রান্টদের প্রতি বিরূপ মনোভাব। ইউরোপে বর্তমানে ইমিগ্রান্টদের পক্ষে দাঁড়ানোর মানে প্যান ইসলামকে সমর্থন করা। মুখে যাই বলুক বাস্তবে এটাই ঘটছে। অন্যদিকে দেশে বাঙালি সংস্কৃতি প্রশ্নে এরাই জাতীয়তাবাদী অবস্থান নিয়ে প্যান ইসলামের বিরোধিতা করছে। প্রশ্ন জাগে, তাহলে কি আদর্শ এখন স্থান কালের উপর নির্ভরশীল? নিজের দেশে ধর্মনিরপেক্ষতা সমর্থন করব না কিন্তু অন্যের দেশে তা চাইব। আবারও বলছি অরবানের জয় পরাজয়ে আমার সমস্যা নেই। এটা হাঙ্গেরির জনগণের চয়েস। আমার অবাক লাগে যখন দেখি একই লোক বিভিন্ন পরিস্থিতিতে একই ধারণার পক্ষে বা বিপক্ষে যাচ্ছে। এটা কি সুবিধাবাদ নাকি আদর্শহীনতা?

মস্কো, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

রিংকু