যুদ্ধ অবিরাম
পাকিস্তানে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ বিরতির আলোচনা কোন রকম সাফল্যের মুখ না দেখেই শেষ হয়েছে। ইসরাইল এখানে নেই বলে অনেকেই এটাকে ইসরাইলের পরাজয় বা কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলে প্রচার করার চেষ্টা করেছিল। আমার কখনোই তেমনটা মনে হয় নাই। উল্টো সব অবস্থাতেই ইসরাইলকে বিজয়ী বলে মনে হয়েছে। কেন?
১) যেহেতু ইসরাইল আলোচনায় অংশগ্রহণ করছে না তাই আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্ত মানার দায় তার নেই। আর এই সূত্র ধরেই তারা এখন লেবানন আক্রমণ করছে, পরে প্রয়োজনে ইরান আক্রমণ করবে।
২) ইসরাইল যদি আলোচনায় অংশ নিত তাহলে ইরানকে ইসরাইলের অস্তিত্ব স্বীকার করে নিতে হত। সেটাও হত ইসরাইলের কূটনৈতিক জয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এখানে একটা মাত্র পরাজিত দল আর সেটা আমেরিকা। আমেরিকার ঘাঁটি যে অভেদ্য ও অলঙ্ঘনীয় দুর্গ নয় এটা আজ প্রমাণিত। তারা শুধু নিজেদের ঘাঁটি রক্ষা করতে পারেনি তা নয়, তাদের ছত্রছায়ায় থাকা দেশগুলোকে রক্ষা করতে পারেনি এবং নিজেদের বিভিন্ন কোম্পানিকে রক্ষা করতে পারেনি ইরানের হাত থেকে। মশা, মাছি, মৌমাছি এসবের হাত থেকে যেমন মানুষ বা অন্যান্য প্রাণী সহজে রক্ষা পায় না তেমনি কম দামী ও ঘরোয়া পরিবেশে নির্মাণ যোগ্য ড্রোনের সামনে সামরিক ঘাঁটি, বিমানবাহী রণতরী, মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক অস্ত্র অসহায়। অন্ততঃ অর্থনৈতিক দিক থেকে।
ইউক্রেন যুদ্ধের একটি বিরাট অংশ জুড়ে আছে এই ড্রোন। আগে যারা সারাদিন কম্পিউটার গেম খেলত সেই সব তরুণ আর যুবকরাই ড্রোন চালনায় সবচেয়ে বেশি পারদর্শী। আর অনেকেই যুদ্ধ ক্ষেত্রের আশেপাশে মাটির নীচে সুরক্ষিত বাঙ্কারে বসে গরম গরম রুটি সাপ্লাই দেবার জন্য ড্রোন সাপ্লাই দিচ্ছে সেনাদের তাদের চাহিদা অনুযায়ী। ইরানেও মাটির নিচে অনবরত এসব ড্রোন তৈরি হচ্ছে। আগে পড়তাম বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে বিপ্লবীদের হাত বোমা বানানোর কাহিনী। কিছু দিন পরে হয়তো ইরানের শিশুরা সেভাবেই বসে বসে ড্রোন তৈরি করার গল্প পড়বে। পৃথিবী তখন হবে ওয়েস্টার্ণ ফিল্মের মত - শুধু রিভলবারের পরিবর্তে সবাই ড্রোন নিয়ে একে অন্যের মোকাবেলা করবে ঘুড়ি কাটার মত।
একসময় কম্পিউটার, স্মার্টফোন এসব ছিল বড়লোকদের খেলনা। সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এখন এসব ঘরে ঘরে। ড্রোনের আবির্ভাব ও ইরান কর্তৃক তার অত্যন্ত ফলপ্রসূ ব্যবহার এখন ছোট ছোট দেশকেও আমেরিকার মত শক্তিশালী দেশের চোখে চোখ রেখে কথা বলার পথ দেখিয়েছে।
মস্কোর পথে, ১২ এপ্রিল ২০২৬
Comments
Post a Comment