Posts

না

Image
দেড় বছর আগে কি দেশে সুশাসন ছিল? মোটেই না। আর তাই সারা দেশের সর্ব স্তরের মানুষ রাস্তায় নামে। লক্ষ্য একটাই - আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, হেলমেট বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি পাওয়া। এর পেছনে কোন মেটিকুলাস প্ল্যানের কথা মানুষ জানত না। তারা নিজেদের কষ্টের কথা জানত, শাসকগোষ্ঠীর দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কথা জানত। তারা এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ চেয়েছিল। গত দেড় বছরে মানুষের আশা পূর্ণ হয় নি। না এসেছে আইনের শাসন, না কমেছে দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি। মানুষের পিঠ আরও বেশি করে দেওয়ালের সাথে মিশে গেছে। সে আরও বেশি করে ভীতি গ্রস্থ। তাই এই সরকারের আয়োজিত গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেয়া হবে এই অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, এই দেশদ্রোহী শক্তির সমস্ত অপকর্মকে আইনি ভিত্তি দেয়া। যদি গত দেড় বছরের শাসনের সাথে একমত পোষণ না করেন আপনার নাগরিক দায়িত্ব হবে না ভোট দেয়া। অপশাসনকে না করুন। দুবনা, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দেশি হাসপাতাল

Image
সত্য না মিথ্যা সেটা জানি না, তবে বিভিন্ন সময়ে শুনেছি দেশের বিভিন্ন কমার্শিয়াল হাসপাতালে রুগি মারা যাবার পরেও তাকে আইসিইউতে রাখা হয় বেশি চার্জ করার জন্য। ইউরোপ এখন ঠিক দেশি হাসপাতালের মত কাজ করছে এবং কোন আশা নেই জেনেও ইউক্রেনকে যুদ্ধ তথা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এতে শুধু ইউক্রেন মানুষ হারাচ্ছে না, হারাচ্ছে ভূমি, অবকাঠামো আর প্রতিদিন বাড়ছে ঋণ। যদি কেউ ভাবে ইউরোপ বা আমেরিকা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইউক্রেনকে শত শত বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। যুদ্ধ যত দেরিতে শেষ হবে, ইউক্রেন যত দুর্বল হবে সেই ঋণ শোধ করা তত বেশি কঠিন হবে। আর ইউক্রেনকে তত শক্ত শর্তের নাগ পাশে বাঁধা যাবে। পুঁজিবাদ এমনি এমনি কিছু দেয় না। অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়া ভালো, বিশেষ করে অন্যদের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে। সেটা অনেক কম বেদনাদায়ক। আমাদের দেশের এক্সিকিউটিভ অফিসাররা সেটা বোঝে কি? নাকি তারা নিজ নিজ মালিকদের তাঁবেদার মাত্র? দুবনা, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সিংহ, হায়েনা ও মহিষের গল্প

Image
ট্রাম্প জেলেনস্কিকে রাশিয়ার সাথে শান্তি চুক্তি করতে চাপ দিচ্ছেন, অন্যদিকে ইউরোপ, বিশেষ করে পোল্যান্ড, জার্মানি, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স সর্বোতভাবে চেষ্টা করছে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর বিষয়ক আলোচনা বানচাল করতে। আবু ধাবিতে শান্তি আলোচনা চলার সময় রুশ জেনারেলের উপর সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ তার জ্বলন্ত স্বাক্ষ্য। আর এসব হচ্ছে ন্যাটোর মহাসচিব রুট্টে, পোলিশ মন্ত্রী সিকোরস্কি এদের কিয়েভ সফরের পরপর। এটা অনেকটা হায়েনাদের মহিষকে সিংহের মুখে ঠেলে দেবার মত। সিংহ লড়াই করে মহিষকে মারবে, কিছুটা খেয়ে চলে যাবে, পরে হায়েনারা দল বেঁধে মহিষের মাংস দিয়ে পিকনিক করবে। আসলে গণতন্ত্র ফনতন্ত্র কিচ্ছু না, রাশিয়া যুদ্ধ করে ইউক্রেনকে দুর্বল করে নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ার পরে পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া ইউক্রেনের অবশিষ্টাংশ নিজেদের করে নেবে। এভাবেই কৃত্রিম জাতিসত্তা সোভিয়েত জাতির মত ইউক্রেন জাতিসত্তা একদিন ইতিহাস হয়ে যাবে। যুগোস্লাভিয়া, সোভিয়েত ইউনিয়ন, লিবিয়া কত দেশই তো পৃথিবীর মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেল। ইউক্রেন হারিয়ে যাবে। কয়েক বছর পরে কেউ ইউক্রেনের কথা মনেও রাখবে না। দুবনা, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ...

ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা

Image
আজকাল এপস্টেইন ফাইল নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। এর কন্টেন্টের সত্যতা নিশ্চিত করবে আদালত। তবে একটি কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে যারা পৃথিবীর ভাগ্য বিধাতা তাদের মধ্যে নৈতিকতার বালাই বলে কিছু আর অবশিষ্ট নেই। সামন্ত সমাজে রাজা বাদশাহ যা বলত সেটাই হত আইন। এখনও আমরা সেই অবস্থা থেকে খুব একটা দূরে যেতে পারিনি যদিও প্রক্রিয়া এখন অনেক বেশি গণতান্ত্রিক। আর এর ফলে আমরা আম জনতাও এ সমস্ত কেলেঙ্কারির দায় ভাগী। ডঃ ইউনুস বলেন, আলী রিয়াজ বলেন এরা সবাই এই খোঁয়াড় থেকে বেরিয়ে আসা মাল। মোটা দাগে অশ্লীল স্লোগান দেয়া জেন-জি আর এসব রত্নদের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। জেন-জি, ওয়াজ করা হুজুর, বিএলএম এরা রুক্ষ কাঁচা মাল, ডঃ-রা আর এপস্টেইন ফাইলের নট নটীরা সংস্কৃতির মোড়কে উপস্থাপিত। একটা লিমিট অতিক্রম করার পর অর্থ অর্থহীন হয়ে পড়ে। তখন মনে হয় সারা বিশ্ব তার পায়ের তলায়। এই ঘটনা আমাদের কিছুই শেখাবে না, আমরা আগের মতই এদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকব আর তাদের হাতে নিজেদের ভাগ্য সঁপে দেব।‌ আর এসব অপদার্থদের গলা ধাক্কা দিয়ে বের না করে ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মত এসব মানুষের কেচ্ছা কাহিনী শুনে আনন্দে হাততালি দেব। দুবনা, ০...

যুদ্ধ

Image
আজ ২ ফেব্রুয়ারি। বছরের এই দিনটায় ভোলগাগ্রাদ তার স্তালিনগ্রাদ বা স্ট্যালিনগ্রাড নাম ফিরে পায়। ১৯৪৩ সালের এই দিনে রেড আর্মি নাৎসি বাহিনীকে পর্যদুস্ত করে। সমাপ্তি ঘটে দীর্ঘ ২০০ দিনের যুদ্ধ। নাৎসি জার্মানির শেষের শুরু হয় এখান থেকেই।  আজও এখানে নতুন একটি সমাধি খোঁড়া হল। বিজয়ের আশি বছর পরেও রাশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় মৃত সেনাদের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বেড়ায় স্বেচ্ছাসেবক দল। যখনই কারো পরিচয় নিশ্চিত হয় যথাযথ মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হয়।  আমাদের যুদ্ধ শেষ হয়েছে (?) ৫৫ বছর আগে। এখন তো দূরের কথা এমনকি সত্তরের দশকেও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করা হয়নি। বছর দশেক আগে যে তালিকা করা হয়েছিল তাতে ভুলের পরিমাণ ছিল কল্পনাতীত। আসলে রাষ্ট্র কখনোই তার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেয়নি, তাদের নিয়ে রাজনীতি করেছে।  আজ দাগিস্তানের এক যোদ্ধাকে সমাহিত করা হল নিজ গ্রামে। এর আগে আহত হয়ে যুদ্ধে না যাবার সমস্ত কারণ থাকা সত্ত্বেও সে ফিরে যায় সহযোদ্ধাদের কাছে। সেখানেই মৃত্যুবরণ করে। কেন যায়? মনে হয় এজন্য যে জানে দেশ, জাতি, রাষ্ট্র তাকে ভুলবে না। এখানে কাউকে ভুলে না, কিছুই ভুলে না। আর তাই...

ইতিহাস

Image
সেদিন রুশ টিভিতে অস্ট্রিয়ার স্কুল সম্পর্কে বেশ দীর্ঘ এক রিপোর্ট দেখাল। স্কুলের শতকরা প্রায় নব্বই ভাগ ছেলেমেয়ে অভিবাসী। এমনকি অনেকেই এদেশেই জন্ম নিয়েছে। কিন্তু এদের বেশিরভাগই জার্মান বা ফ্রেঞ্চ ভাষায় কথা বলতে পারে না। কথা বলে মূলতঃ আরবি ভাষায়। আমার মনে পড়ল আশির দশকে মস্কো থেকে ঢাকা ফেরার দৃশ্য। লন্ডন থেকে বিমান ভরে বাংলাদেশের লোকজন দেশে ফিরত। সোভিয়েত ইউনিয়নের জাতীয় বিমান সংস্থা এরোফ্লত ছিল সস্তা ও জনপ্রিয়। সারা পথ তরুণ তরুণীরা ব্যাকরণের তোয়াক্কা না করে ইংরেজি বলে যেত। কিন্তু ঢাকায় ল্যান্ড করার আগ মুহূর্তে অনুরোধ করত ইমিগ্রেশন ফর্ম পূরণ করতে। ওরা লিখতে পড়তে জানত না। আজ ইংল্যান্ডে যে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান সেটা এই শিক্ষার অভাব থেকেই। একদিন অস্ট্রিয়ায় অশিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়বে। আর যাদের শিক্ষা যত দুর্বল মৌলবাদের হাতিয়ার হিসেবে তারা তত সবল। দুবনা, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

সমস্যা

Image
বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রধান সমস্যা হল সত্যিকার অর্থে দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতি। বলব না যে দেশপ্রেমিক দল নেই বা রাজনৈতিক দলগুলো দেশকে ভালোবাসে না। কিন্তু সমস্যা হল সবাই দেশকে ভালোবাসে নিজের শর্তে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অনেকটা বিয়ে করার মত। সব অধিকার পুরুষের। কোন কারণে পুরুষ নারীকে ছাড়তে বাধ্য হলে সে তাকে বের করে দেয় এক কাপড়ে। একই অবস্থা দেশের ক্ষেত্রেও। কিছু কিছু লোক আছে যারা জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে আর সেটা এমনভাবে করে যেন যদি জমি কোন কারণে হাতছাড়া হয়ে যায় তাতে যেন এমনকি ঘাস পর্যন্ত না গজায়। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো ঠিক একই ভাবে কাজ করে, তা সে বড় দল হোক আর ছোট দল হোক, বুড়ো দল হোক আর শিশু দল হোক। আমরা কথায় কথায় গণতন্ত্র, সুশাসন, সমান অধিকার এসব বুলি আওড়াব আর ক্ষমতা পেলেই আগের চেয়েও নৃশংস ভাবে অন্যদের অধিকার খর্ব করব – এটাই সবার চলার একমাত্র রোড ম্যাপ। এটা অনেকটা ঐশী বাণী। কেউ এ থেকে এক চুল নড়তে রাজি নয়। ফলাফল – অসন্তোষ, বিদ্রোহ, অস্থিতিশীলতা। আসলে মানুষের যখন নিজের অধিকার আদায়ের, নিজের কথা বলার আইনি সুযোগ থাকে না, তখনই সে বেআইনি উপায় বেছে নেয়। মুগুরে ভরসা করে কিছু দিন চলা যায়...