Posts

উদ্বৃত্ত মূল্য

Image
অনেক দিন পরে সেদিন এক গ্রুপে উদ্বৃত্ত মূল্যের কথা শুনলাম। আমাদের ছাত্র জীবনে এ কথাগুলো নিয়মিত শুনতাম বিশেষ করে পার্টির গ্রুপ মিটিং ও পাঠচক্রে। বাংলাদেশের বা তৃতীয় বিশ্বের বাস্তবতায় এটা এখনও ঠিক। তবে নতুন যুগে আমাদের পুরানো ধাঁচে চিন্তা করলে চলবে না। কারণ এখনকার টাইকুনদের একটি বিরাট অংশ খুব নাজুক অবস্থা থেকেই শুরু করেছিল। অন্তত সেই গল্পই আমরা শুনি বিল গেইটস, স্টীভ জব, মার্ক জুকেরবারগ সহ অন্যান্যদের সম্পর্কে, বিশেষ করে আইটি সেক্টর থেকে যারা বিশাল অর্থের মালিক হয়েছেন তারা শুরু করেছিলেন আমাদের মতই সাধারণ জীবন থেকে। তাই শুধু মাত্র উদ্বৃত্ত মুল্য, যার মুলে রয়েছে শ্রমিকের সেই শ্রম যার জন্য সে সঠিক বেতন পায়নি, আধুনিক বিশাল পুঁজির একমাত্র উৎস নয়। অন্য দিকে উৎপাদনই কিন্তু সাইকেলের শেষ কথা নয়, কারণ সময় মত সঠিক দামে বিক্রি করতে না পারলে সব শ্রমই পণ্ডশ্রম হবে। এই বিক্রির জন্যই এত এত বিজ্ঞাপন, হাজার কোটি টাকা খরচ, লবি - কত কিছু। তাই পুঁজিপতির কাজ শুধু টাকা বা পুঁজির মধ্যে শেষ হয়ে যায় না, পূর্ণ সাইকেল চালানোর জন্য হাজারটা কায়িক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ করতে হয়, এমনকি অনেক সময় আইনের চোখে ধূলা দিতে হয় যা ধ...

বাদের বিবাদ

Image
পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র, মোল্লাতন্ত্র, ব্রাহ্মণ্যবাদ এসব ব্যবস্থা পরস্পরের বৈরী, একে অন্যের সাথে সমঝোতা করে বেশি দিন এক সাথে ঘর করতে পারে না, তাই এদের মধ্যে জীবন মরণ যুদ্ধ অনিবার্য। যদিও পুঁজিবাদ, মোল্লাতন্ত্র, ব্রাহ্মণ্যবাদ - এদের অর্থনৈতিক ভিত্তি শোষণ তবে তাদের এলিট শ্রেণী ভিন্ন, ভিন্ন জীবন দর্শন। পুঁজিবাদে অর্থই ঈশ্বর, অর্থই শোষণের লক্ষ্যবস্তু। মোল্লাতন্ত্রে ও ব্রাহ্মণ্যবাদে ঈশ্বর অর্থের মত অর্থবহ নন, তিনি অদৃশ্য এবং ধর্ম ব্যবসায়ীদের কাছে শোষণের হাতিয়ার। এখানেও স্বর্গ বা বেহেশতের ফাইভস্টার হোটেলে সীট বুকিংয়ের আশ্বাস দিয়ে মোল্লা আর পুরুতরা জাগতিক সুখ পেতে ব্যস্ত। সমাজতন্ত্র ভিন্ন অর্থনৈতিক সম্পর্ক সৃষ্টি করা হলেও জন্ম নেয় নতুন এলিট, নতুন শোষক শ্রেণী। গণতন্ত্র সবাইকে একোমোডেট করতে পারে, তবে এদের পারস্পরিক এন্টাগোনাস্টিক চরিত্র সেটা করতে দেয় না। আর যেহেতু সব সমাজেই বিভিন্ন চিন্তার মানুষ বিদ্যমান তাই সংঘাত অনিবার্য। উপায়? সমঝোতা করা, পরস্পরকে ছাড় দেয়া। প্রাণী জগতে এটা দেখা যায় না। একদল অন্যদলকে ভিটেছাড়া করে। মানুষ তো সেই বন্যতাকেই ধারণ করে। আর দলের আকার ও শক্তি তার মধ্যে পাশবিক ...

কাউয়া

Image
কারো কোন কাজ যদি তার সংগঠনের আদর্শিক শত্রুর হাত শক্তিশালী করে বা শত্রুর স্বার্থ হাসিল করে তাহলে বুঝতে হবে যে হয় সে গন্ডমূর্খ না হয় অতি চালাক যে ছদ্মবেশে শত্রু শিবিরে অবস্থান করে আসল মিত্রদের সাহায্য করছে। ওকার ভাষায় অনেক কাউয়া ঢুকেছে। বাংলাদেশের বাম রাজনীতিতে এরকম অনেকেরই দেখা মেলে যাদের কোন মতেই মূর্খ বলা যায় না। তাহলে কি তারা সার্জিসদের মত গুপ্ত শিবির যারা প্রগতির বোরকা পরে প্রতিক্রিয়ার চাষ করে যাচ্ছে? যদি তাই হয় তবে সার্জিসদের মত সাহস করে আত্মপ্রকাশ করছে না কেন? নাকি এখনো নিজেদের চুড়ান্ত বিজয় সম্পর্কে নিশ্চিত নয়, তাই ঘাপটি মেরে বসে আছে ভবিষ্যতে বিনাশিতামূলক ঘটনা ঘটাতে ও ভেতর থেকে বাম আন্দোলনের বারোটা বাজাতে? ভুলে গেলে চলবে না যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এসব ছদ্মবেশী প্রগতিশীলদের রাজনৈতিক শত্রু আর আসল বামেরা এদের আদর্শিক শত্রু। বামদের ধ্বংস করা তাদের কাছে ছোয়াব। গাছ ধ্বংস করার আগেই পরগাছা উপড়ে ফেলতে হয়। সময় এসেছে এদের হাত থেকে বাম রাজনীতিকে মুক্ত করার। ভাঙনের ভয়ে কোন রকমে জোড়াতালি দিয়ে চললে ভবিষ্যতে ভাঙন আরো মারাত্মক রূপ নেবে। আর এখন নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে ব্যবস্থা নিলে ব...

প্রশ্ন

Image
ফেসবুকে কাফরানি নামে এক আমেরিকান সার্জনের স্ট্যাটাস দেখলাম। লেবানন বংশোদ্ভুত এই সার্জন অভিযোগ করেছেন যে বৈরুতে ইসরাইল আমেরিকার সহায়তায় ধ্বংস যজ্ঞ চালিয়ে তার নিজের বাড়িও মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। পারতপক্ষে তিনি ট্যাক্সের টাকা দিয়ে নিজের বাড়ি নিজে ধ্বংস করেছেন।  এই স্ট্যাটাস দেখে আমার মনে হল উন্নত বিশ্বে বিশেষ করে আমেরিকায় বসবাসকারী তৃতীয় বিশ্বের লাখ লাখ মানুষের কথা যারা এই সব দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার জন্য অমানুষিক পরিশ্রম করছে। অন্যদিকে এসব দেশ গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে রঙিন বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের জন্মভূমিকে ধ্বংস করে প্রতিদান দিচ্ছে। এ এক অদ্ভুত চক্র। মানুষ উন্নত জীবনের জন্য বিদেশে যায়, সেসব দেশের অর্থনীতি সচল রাখে, কষ্টোপার্জিত টাকা দিয়ে দেশে আত্মীয় স্বজনদের সাহায্য করে অথচ নতুন দেশের সরকার ফেলে যাওয়া দেশ ধ্বংস করে বিভিন্ন অজুহাতে। তাদের এই বাস্তবতার সাথে সন্ধি করেই টিকে থাকতে হয়। দিনের শেষে সবাই সবকিছু মেনে নেয় আর কি মানছে সেটার উপর ভিত্তি করে কেউ গণতন্ত্রী, কেউ সমাজতন্ত্রী, কেউ মৌলবাদী, কেউ প্রগতিশীল ...... অদ্ভুত!!! দুবনা, ২৮ মার্চ ২০২৬

জন্মদিনে শুভেচ্ছা

Image
সেন্ট এক্সুপেরি তার ছোট রাজপুত্রের মুখ দিয়ে বলিয়েছিলেন "যাদের তুমি বশ মানিয়েছে, তাদের কাছে তুমি দায়বদ্ধ।" অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ে ও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোকের ইন্টারভিউ শুনে বুঝেছি বঙ্গবন্ধু তাঁর ঘনিষ্ঠ শত্রুদের বিষয়ে খুব ভালোভাবেই অবগত ছিলেন এবং তারপরেও এক অন্ধবিশ্বাস পোষন করতেন যে আর যাই করুক এরা তাকে হত্যা করবে না। এক দূরদর্শী নেতার এমন অদূরদর্শিতা সত্যি অবাক করার মত। সুসময়ে জন্মদিন উপলক্ষে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেবার মানুষের অভাব হয় না কিন্তু দুঃসময়ে মনে রাখার, চেতনা সমুন্নত রাখার মানুষের বড়ই অভাব। যুদ্ধক্ষেত্রে যে সৈনিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার আগ পর্যন্ত পতাকা সমুন্নত রাখে সেই আসল বীর, সত্যিকারের দেশপ্রেমিক।  ১৯৬৯ ও ১৯৭১ সালে কারারূদ্ধ বঙ্গবন্ধু জাতিকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন স্বাধীনতার লড়াইয়ে। আজকের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও তিনি সেই বন্ধন হতে পারেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশ পন্থী মানুষের কাছে।  শুভ জন্মদিন! আপনি ভালো নেই। এখন আমাদের দায়িত্ব আপনাকে ভালো রাখার। দুবনা, ১৭ মার্চ ২০২৬

যুদ্ধ কি শেষ হবে?

Image
আমি সাধারণত যুদ্ধ পছন্দ করি না। তবে উপসাগরীয় যুদ্ধ পছন্দনীয় হতে শুরু করেছে। কেন? আধুনিক যুদ্ধ আর কামান, ট্যাঙ্ক, যুদ্ধ বিমান, এমনকি রকেট দিয়ে হচ্ছে না, হচ্ছে সস্তা ড্রোন দিয়ে। একেই বলে পঁচা শামুকে পা কাটা।  এখন গরীব দেশও যুদ্ধে ধনী দেশকে টেক্কা দিচ্ছে। ইয়েমেন সৌদি আরবের সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলছে। প্রায় ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন সামরিক বাজেট হাজার ডলারের ড্রোনের সামনে অসহায়। বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ড্রোনের দাপটে পালিয়ে যাচ্ছে। যখন নিখুঁত অস্ত্র তৈরি করতে উন্নত বিশ্ব বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ও বছরের পর বছর ব্যয় করছে সেখানে ঘরোয়া পরিবেশে স্বল্প খরচে প্রতিদিন শতশত ড্রোন তৈরি হচ্ছে। এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ ইঞ্জিনিয়াররা ভূগর্ভস্থ ব্যাঙ্কারে ড্রোন তৈরি করছে, সেনাদের চাহিদা অনুযায়ী তা পরিবর্তন করছে। এমতাবস্থায় যুদ্ধটা এই প্রথমবারের মত অলাভজনক ব্যবসায় পরিনত হতে চলছে। এতদিন যুদ্ধের চালিকাশক্তি ছিল বিশাল অংকের লাভ আর শাসকদের ব্যর্থতা লুকানো। শাসকরা এর পরেও ব্যর্থ হবে। তবে লাভজনক না হলে যুদ্ধের স্পন্সর খুব বেশি দিন পাওয়া যাবে না। আর এটাই হতে পারে উপসাগরীয় যুদ্ধের মূল লাভ। মস্কোর পথে,...

হতাশা?

Image
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেককেই নতুন করে হতাশ করছে, বিশেষ করে যারা বিএনপির কাছে আওয়ামী লীগ বা তারচেয়েও বেশি মুক্তিযুদ্ধ পন্থী ভূমিকা আশা করেছিল। নির্বাচনে জামায়াত ও বিএনপির মধ্য থেকে যখন বেছে নেবার প্রশ্ন এসেছিল তখন বিএনপি ছিল বেশি গ্রহণযোগ্য। কিন্তু এর মানে এই নয় যে বিএনপি রাতারাতি বদলে যাবে বা আদৌ বদলে যাবে। এখন দেশের স্বার্থে ও নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশ পন্থী সবার উচিত হবে আওয়ামী লীগ সহ অন্যান্য দলকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা। অন্যথায় পরবর্তীতে বেছে নেবার জন্য এমনকি বিএনপিও থাকবে না। নেটে সংসদে রাজাকারদের উপর শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু এটা কি হঠাৎ করেই ঘটেছে? এর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে স্বাধীনতার পর থেকেই। পরে বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নাম ও বেশ ধারী রাজাকারদের সমাজে ও রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পেতে সাহায্য করেছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি কেউ বাদ যায়নি। এমনকি ২০২৪ সালে আন্দোলনের সময় ও পরবর্তী কালে সিপিবির মত দলগুলো (একাংশ তো বটেই) এই কাজ করে গেছে। তাই এখন কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন দিয়ে কী হবে? বর্তমানে আমাদের সামর্থ্য সীমিত, সুযোগ আরও কম...