Posts

সাম্য

Image
ইদানিং চীনের সাথে বানিজ্য সুবিধা নিয়ে ফেসবুক সরগরম। বিভিন্ন হিসেবে প্রায় একত্রিশ গুন বানিজ্য ঘাটতির পরেও শুল্ক মুক্ত রপ্তানি সুযোগ পেয়ে আমাদের আনন্দের সীমা নেই। এখন আর অসাম্যের প্রশ্ন নেই। চীন তো ভারত নয়, তাই তার সাথে বানিজ্য ঘাটতি হলেও কোন সমস্যা নেই। তবে বাস্তবতা হল সমস্যা চীন বা ভারতে নয়, সমস্যা আমাদের সেই পণ্যের অভাবে যা আমরা এসব দেশে রপ্তানি করতে পারি। তাই ঘাটতি কমাতে এসব দেশে রপ্তানি যোগ্য পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে। নারী অধিকার, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এসব একান্তই ধারণা যার কোন বস্তুগত রূপ নেই। তাই নারী পুরুষে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বা গোষ্ঠীর মধ্যে সাম্য থাকুক আর নাই থাকুক এ নিয়ে স্পেকুলেশন করা যায়। পণ্য হল বস্তু, চোখে দেখা যায়। এখানে গলাবাজি করে সমতা আনা যায় না। তাহলে কিভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা? এ জন্যেই হয়তো হেন করেঙ্গা তেন করেঙ্গা নামক ক্যারিকেচারের উদ্ভাবন যাতে আর কিছু না হোক আস্ফালন করে মনের জ্বালা একটু কমানো যায়। ছোট্ট মোরগ ঘাড় উঁচু করে স্বপ্ন দেখে....... দুবনা, ০৩ এপ্রিল ২০২৫

শেখ হাসিনা

Image
যে যায় ক্ষমতায় সেই হয় শেখ হাসিনা। সহজে গদি ছাড়তে চায় না। এমনকি ডঃ ইউনুসও না। আচ্ছা যারা তাঁকে বিনা নির্বাচনে আরও ৪-৫ বছর ক্ষমতায় রাখতে চাইছে তাদের আন্দোলনটা কিসের জন্য ছিল - সুস্থ নিরপেক্ষ নির্বাচন নাকি ক্ষমতায় বসে নতুন শেখ হাসিনা সাজা। এ জন্যেই কি গণভবন লুট করে লোকজন শেখ হাসিনার জামা-কাপড় লুট করেছিল - যাতে দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় বসে থাকার কায়দাটা ভালো করে রপ্ত করতে পারে? এখনও মনে আছে যখন আওয়ামী লীগের পরিচিত লোকজন প্রসঙ্গে অপ্রসঙ্গে শেখ হাসিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠত, ওদের বলতাম তোমরাই শেখ হাসিনার পতনের পথ তৈরি করছ না কারণ তোমাদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। তাছাড়া মানুষ যদি সত্যি সত্যিই ডঃ ইউনুসকে চায়, তিনি তো ভোটে জিতেই ক্ষমতায় থেকে যেতে পারেন। তাহলে একদিকে যেমন তাঁর শত্রুদের মুখ বন্ধ হবে অন্যদিকে তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁকে ছাত্রদের বা জামাত শিবিরের মুখাপেক্ষী হতে হবে না। সমস্যাটা ডঃ ইউনুসের দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা নয়, সমস্যা সাংবিধানিক উপায়ে তাঁকে ক্ষমতায় রাখা। এমনকি কারচুপির নির্বাচনেও অন্য কারো জিতে যাবার ক্ষীণ সম্ভাবনা আছে, কি...

সম্ভাবনা

Image
মীর জাফর ভেবেছিল ইংরেজ বেনিয়াদের সহায়তায় ক্ষমতা দখল করে সেই হবে বাংলা বিহার উড়িষ্যার একচ্ছত্র অধিপতি। বাস্তবে সে হয়েছিল ইংরেজদের হাতের পুতুল। একজন কৃষকের যে স্বাধীনতা ছিল সেটাও তার ছিল না। একই কথা বলা যায় মোশতাক সম্পর্কে। অন্যের বলে বলীয়ান হয়ে ক্ষমতায় এসে রাজার অভিনয় করা যায়, রাজা হওয়া যায় না। কারণ সিংহাসন মানুষকে রাজা করে না, রাজা করে দেশের ভালো মন্দে স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা। মীর জাফর, মোশতাকরা যা পারেনি অন্যেরা যে সেটা পারবে না একথা যেমন নিশ্চিত করে বলা যায় না, তেমনি সেটার সম্ভাবনা যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এ নিয়ে সন্দেহ করারও তেমন অবকাশ থাকে না। মস্কো, ৩১ মার্চ ২০২৫

হাইজ্যাকার

Image
কী আওয়ামী লীগ সরকার কী বর্তমান সরকার - দুই দলই হাইজ্যাকার। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ হাইজ্যাক করেছিল সেটা বিক্রি করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য, বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধকে হাইজ্যাক করেছে তাকে প্রাণে মারার জন্য।‌ নিজের অস্তিত্বের জন্য আওয়ামী লীগের একাত্তরের চেতনা জিইয়ে রাখা যতটা অত্যাবশ্যক ঠিক তেমনি ভাবে বর্তমান সরকার ও তাদের মদত দানকারী শক্তির অস্তিত্বের জন্য দরকার একাত্তরের চেতনা বাংলাদেশের বুক থেকে চিরতরে মুছে ফেলা। এখানে আপোষের সুযোগ তেমন নেই।  দুবনা, ২৭ মার্চ ২০২৫

রাজনীতির কানা গলি

Image
অভিযোগ উঠেছে যে সেনাবাহিনী বা সেনাপ্রধান শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে ষড়যন্ত্ররত। কথাটা সত্য না মিথ্যা সে ব্যাপারে কিছুই বলার নেই। তবে একটি কথা সত্য - শেখ হাসিনার ফিরে আসার পথে যারা লাল গালিচা বিছিয়ে দিচ্ছে তারা আর কেউ নয়, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, সমন্বয়করা আর নব্য রাজনৈতিক দল। সব ক্ষেত্রেই এদের অদক্ষতা ও বাড়াবাড়ি শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনকে ছাড়িয়ে গেছে। আর এ কারণেই যে মানুষ গত জুলাই আগস্টে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল আজ তারাই শেখ হাসিনার সময়ে ভালো ছিল বলে অভিমত প্রকাশ করছে। সেনাবাহিনীও দেশ চালনায় বর্তমান সরকারের অযোগ্যতা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। তাই সেনাবাহিনী, ভারত, আমেরিকা, বিএনপি - এদের ঘাড়ে দোষ চাপানোর আগে নিজেদের অর্থ ও ক্ষমতার লোভ সংবরণ করে আইন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া আর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দেশকে সত্যিকার অর্থে স্বৈরাচার মুক্ত করার কোন বিকল্প পথ নেই। দুবনা, ২২ মার্চ ২০২৫

বোনাস

Image
সার্ত্রে বলেছেন আমরা বাবা মা বাছাই করে নিতে পারি না। একই কথা বলা যায় ভাইবোনদের ক্ষেত্রেও। কিন্তু বন্ধু আমরা বেছে নিতে পারি, যেমন বেছে নিতে পারি রাজনৈতিক দল বা আদর্শ। অন্যান্য দলের মত কমিউনিস্ট পার্টি বা তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতা কর্মীরা দীর্ঘ দিন পরস্পরের পাশে থেকে লড়াই সংগ্রাম করে আসছে। এদের অধিকাংশের বন্ধুত্ব সময়ের পরীক্ষায় যথাযথ ভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। তাই আজ যখন হাসিনার স্বৈরাচার, চব্বিশের গণ আন্দোলন নিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি, উদীচী, ছাত্র ইউনিয়ন - এসব সংগঠনের মধ্যে বিভেদ দেখি তখন ভাবি এদের কাঁধে চড়ে জামায়াত শিবির শুধু ক্ষমতাই দখল করেনি, বোনাস হিসেবে তাদের চির শত্রু বামদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতেও সক্ষম হয়েছে। এসব ভাঙ্গন বাম রাজনীতির বা দেশের মানুষের জন্য কতটুকু মঙ্গল বয়ে আনবে সেটা জানি না, তবে এসব যে দক্ষিণ পন্থী সাম্প্রদায়িক শক্তির হাত শক্তিশালী করবে সে ব্যাপারে কোন রকম সন্দেহের অবকাশ নেই। মস্কো, ১৮ মার্চ ২০২৫

শুভ জন্মদিন

Image
আজ ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। তাঁর সব কাজ যে সবার পছন্দ হতেই হবে সেটা যেমন ঠিক নয় তেমনি এটাও ঠিক নয় যে বাংলাদেশের সবার কাছে তিনি সমান ভাবে গৃহীত হবেন। সেটা হলে পৃথিবীতে এত ধর্ম, এত মতবাদের দরকার হত না। তবে পছন্দ হোক আর নাই হোক একটা কথা সত্য - বাংলাদেশের রূপকার তিনিই। অনেকেই হয়তো একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন - কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে তাঁর হাত ধরে, তাঁর ডাকে, তাঁকে ঘিরে। শুধু মাত্র এ কারণেই বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। সেই দেশ কোন পথে চলবে, সে দেশের মানুষ কেমন থাকবে সেটা পুরোপুরি নির্ভর করবে এ দেশের মানুষের উপরে। তবে এ দেশের মানুষকে এমন একটি সুযোগ তৈরি করে দেবার জন্য তিনি নিঃসন্দেহে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। শুভ জন্মদিন বঙ্গবন্ধু! মস্কো, ১৭ মার্চ ২০২৫