Posts

যুদ্ধ অবিরাম

Image
পাকিস্তানে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ বিরতির আলোচনা কোন রকম সাফল্যের মুখ না দেখেই শেষ হয়েছে। ইসরাইল এখানে নেই বলে অনেকেই এটাকে ইসরাইলের পরাজয় বা কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলে প্রচার করার চেষ্টা করেছিল। আমার কখনোই তেমনটা মনে হয় নাই। উল্টো সব অবস্থাতেই ইসরাইলকে বিজয়ী বলে মনে হয়েছে। কেন? ১) যেহেতু ইসরাইল আলোচনায় অংশগ্রহণ করছে না তাই আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্ত মানার দায় তার নেই। আর এই সূত্র ধরেই তারা এখন লেবানন আক্রমণ করছে, পরে প্রয়োজনে ইরান আক্রমণ করবে।  ২) ইসরাইল যদি আলোচনায় অংশ নিত তাহলে ইরানকে ইসরাইলের অস্তিত্ব স্বীকার করে নিতে হত। সেটাও হত ইসরাইলের কূটনৈতিক জয়।  বর্তমান পরিস্থিতিতে এখানে একটা মাত্র পরাজিত দল আর সেটা আমেরিকা। আমেরিকার ঘাঁটি যে অভেদ্য ও অলঙ্ঘনীয় দুর্গ নয় এটা আজ প্রমাণিত। তারা শুধু নিজেদের ঘাঁটি রক্ষা করতে পারেনি তা নয়, তাদের ছত্রছায়ায় থাকা দেশগুলোকে রক্ষা করতে পারেনি এবং নিজেদের বিভিন্ন কোম্পানিকে রক্ষা করতে পারেনি ইরানের হাত থেকে। মশা, মাছি, মৌমাছি এসবের হাত থেকে যেমন মানুষ বা অন্যান্য প্রাণী সহজে রক্ষা পায় না তেমনি কম দামী ও ঘরোয়া পরিবেশে নির্মাণ যোগ্...

অসম্ভব?

Image
সোভিয়েত ইউনিয়নে সবারই কোন না কোন ঠিকানা ছিল, কেউ রাস্তায় থাকতে পারত না, চাইলেও না। কেউ চাইলেই বেকার থাকতে পারত না, ভালো লাগুক বা নাই লাগুক প্রাপ্ত বয়স্ক সবাইকে আয় করতে হত, নিজের খাবার জোগাড় করতে হত। কারো স্বেচ্ছায় মৃত্যু বরণ করার অধিকার ছিল না যদিও বিনা অপরাধে অনেককেই মৃত্যুদন্ড দেয়া হত। চাইলেই কেউ সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে পারত না। অর্থাৎ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা এসব মৌলিক অধিকারের গ্যারান্টির পাশাপাশি বাকস্বাধীনতা, (প্রকাশ্যে) ভিন্ন মত পোষণ ইত্যাদির অধিকার ছিল না। অন্যদিকে আমেরিকা তথা পুঁজিবাদী বিশ্বে বাকস্বাধীনতা, ভিন্ন মত পোষণের অধিকার আছে কিন্তু খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এসব মৌলিক অধিকার গ্যারান্টেড নয়। সোভিয়েত ইউনিয়নে অনেকেই নিজেদের ইচ্ছামত কাজ করতে বা মত প্রকাশ করতে না পারায় নিজেদের স্বাভাবিক ভাবেই বঞ্চিত মনে করত। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যখন সেই সুযোগ এল আর আগের অনেক গ্যারান্টেড সুযোগ সুবিধা নাই হলে গেল তখন প্রশ্ন জাগল কোনটা ভালো - নিশ্চিত মৌলিক অধিকার নাকি কথা বলার অধিকার? সমস্যা হল খালি পেটে যতই মিটিং মিছিল করুক তাতে পেট ভরবে...

রাজনীতির ভবিষ্যৎ

Image
ভারতীয় উপমহাদেশে রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। যদিও প্রথম দিকে এটা ছিল মূলতঃ বিলাতে শিক্ষিতদের ক্লাব পরবর্তীতে মহাত্মা গান্ধীর চেষ্টায় তা গণসংগঠনের রূপ পায়। এরপর মুসলিম লীগ থেকে শুরু করে একে একে অনেক দল জন্ম নেয়। বাংলাদেশে মনে হয় দলের সংখ্যা শতাধিক। আমার ধারণা সাধারণ মানুষ তো বটেই সক্রিয় ভাবে রাজনীতির সাথে জড়িত কোন লোকও সব দলের নাম বলতে পারবে না।  বুদ্ধি হবার পর থেকে যে দলগুলোর নামের সাথে পরিচিত ছিলাম তা হল আওয়ামী লীগ, মুসলিম লীগ, ন্যাপ। স্বাধীনতার পরে তো বটেই, এমনকি পাকিস্তান আমলেই মুসলিম লীগ তার জনসমর্থন হারিয়েছিল। স্বাধীনতার পরে জাসদ, সিপিবি, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি এসব নাম কমবেশি মুখে মুখে উচ্চারিত হত। কিন্তু যখনই জনসমর্থনের প্রশ্ন আসে তখন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে কোন নাম শোনা যায় না। এমনকি জাতীয় পার্টিরও খুব একটা না। ফলে সংসদে যেতে হলে সবাইকে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সাথে আঁতাত করেই যেতে হয়। ইতিপূর্বে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে প্রতিপক্ষের নাম রাজনৈতিক ক্যানভাস থেকে মুছে ফেলতে। সফল হয়নি। এখনও হ...

ভুল

Image
গতকাল একজন প্রশ্ন করল আমার স্ত্রী তাতার কিনা। কারণ ওর নাম তাতারদের নামের মত। আমার মনে প্রশ্ন জাগল - আচ্ছা, আমাদের দেশের ৯০% মানুষের নাম আরবিতে। তারা তো কেউ আরব নয়। যদিও স্বীকার করতেই হয় এদের একটি বড় অংশ আরব হলে অনেক বেশি খুশি হত।  মঙ্গল শোভাযাত্রা নাকি নাম পরিবর্তন করছে। কেউ বলছে আনন্দ শোভাযাত্রা, কেউ বৈশাখী শোভাযাত্রা। যদি আবার সেই বাংলা নামই রাখা হয় তবে মঙ্গল কী দোষ করেছিল? আসলে দেশে হর হামেশাই এমন সব ঘটনা (অঘটন) ঘটে যা স্বাভাবিক যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব। যদি ৫৫ বছর পরে এসে পাকিস্তানি আমলে ফিরে যাবার জন্য এত ব্যাকুলতা - তাহলে ত্রিশ লক্ষ প্রাণ আর তিন লাখ মা বোনের ইজ্জত হারানোর কি প্রয়োজন ছিল? আর এখন ফিরে গেলে বাঙালি যে পাকিস্তানিদের চোখে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে পরিগণিত হবে সেটা কি ভেবে দেখেছে কেউ? আজ যদি বাংলা ভাষায় উৎসবের নাম রাখলে আত্মসম্মানে লাগে তাহলে ভাষা আন্দোলনের কি দরকার ছিল? যেভাবে অনেকেই মুসলিম ভারতের কথা বলে তাতে মনে প্রশ্ন জাগে সেই ভারতেই যদি ফিরে যেতে হয় তাহলে দেশ ভাগের কি দরকার ছিল?  যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই  যাহা পাই তাহা চাই না। দুবনা, ০৭ এপ্রি...

অরুন্ধুতী রায়

Image
ফেসবুকে অরুন্ধতী রায়ের ইরানের পাশে দাঁড়ানোর স্ট্যাটাস নিয়ে বাজার গরম। বরাবরের মতই এখানেও সবাই পুরো স্ট্যাটাস না দিয়ে আংশিক ভাবে তা প্রকাশ করছে ও সেটার উপর পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর অবস্থানের সাথে একমত না হলেও স্বীকার করতেই হবে যে তিনি বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থার একজন একনিষ্ঠ সমালোচক। এর মানে এই নয় যে তিনি ইসলামী শাসনের পক্ষে। আমরা যাদের কাছ থেকে কিছু আশা করি তাদের অপকর্মের সমালোচনা করি। এটাই নিয়ম। আমরা খারাপ লোকের কাছ থেকে ভালো ব্যবহার আশা করি না। কিন্তু ভালো লোক খারাপ ব্যবহার করলে ব্যথিত হই। রায় খোমেনির কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করেন না। কিন্তু ট্রাম্প, নিতানিয়াহু সহ অনেকেই যখন আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান সেটা তিনি মেনে নিতে পারেন না। অন্যেরা যেখানে হাওয়া দেখে পাল তোলে তিনি সেখানে হাওয়ার তোয়াক্কা না করে নিজের লক্ষ্যে চলেন। এটা পছন্দ না হলেও প্রশংসার যোগ্য। অবাক লাগে যখন অনেকে এমনকি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অরুন্ধতী রায়ের জন্ম ১৯৬১ সালে। ১৯৭১ সালে তার বয়স ছিল মাত্র দশ। তখন তিনি কিছু বললেও সেটা কেউ মনে রাখত না বা গুরুত্ব দিত ন...

উদ্বৃত্ত মূল্য

Image
অনেক দিন পরে সেদিন এক গ্রুপে উদ্বৃত্ত মূল্যের কথা শুনলাম। আমাদের ছাত্র জীবনে এ কথাগুলো নিয়মিত শুনতাম বিশেষ করে পার্টির গ্রুপ মিটিং ও পাঠচক্রে। বাংলাদেশের বা তৃতীয় বিশ্বের বাস্তবতায় এটা এখনও ঠিক। তবে নতুন যুগে আমাদের পুরানো ধাঁচে চিন্তা করলে চলবে না। কারণ এখনকার টাইকুনদের একটি বিরাট অংশ খুব নাজুক অবস্থা থেকেই শুরু করেছিল। অন্তত সেই গল্পই আমরা শুনি বিল গেইটস, স্টীভ জব, মার্ক জুকেরবারগ সহ অন্যান্যদের সম্পর্কে, বিশেষ করে আইটি সেক্টর থেকে যারা বিশাল অর্থের মালিক হয়েছেন তারা শুরু করেছিলেন আমাদের মতই সাধারণ জীবন থেকে। তাই শুধু মাত্র উদ্বৃত্ত মুল্য, যার মুলে রয়েছে শ্রমিকের সেই শ্রম যার জন্য সে সঠিক বেতন পায়নি, আধুনিক বিশাল পুঁজির একমাত্র উৎস নয়। অন্য দিকে উৎপাদনই কিন্তু সাইকেলের শেষ কথা নয়, কারণ সময় মত সঠিক দামে বিক্রি করতে না পারলে সব শ্রমই পণ্ডশ্রম হবে। এই বিক্রির জন্যই এত এত বিজ্ঞাপন, হাজার কোটি টাকা খরচ, লবি - কত কিছু। তাই পুঁজিপতির কাজ শুধু টাকা বা পুঁজির মধ্যে শেষ হয়ে যায় না, পূর্ণ সাইকেল চালানোর জন্য হাজারটা কায়িক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ করতে হয়, এমনকি অনেক সময় আইনের চোখে ধূলা দিতে হয় যা ধ...

বাদের বিবাদ

Image
পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র, মোল্লাতন্ত্র, ব্রাহ্মণ্যবাদ এসব ব্যবস্থা পরস্পরের বৈরী, একে অন্যের সাথে সমঝোতা করে বেশি দিন এক সাথে ঘর করতে পারে না, তাই এদের মধ্যে জীবন মরণ যুদ্ধ অনিবার্য। যদিও পুঁজিবাদ, মোল্লাতন্ত্র, ব্রাহ্মণ্যবাদ - এদের অর্থনৈতিক ভিত্তি শোষণ তবে তাদের এলিট শ্রেণী ভিন্ন, ভিন্ন জীবন দর্শন। পুঁজিবাদে অর্থই ঈশ্বর, অর্থই শোষণের লক্ষ্যবস্তু। মোল্লাতন্ত্রে ও ব্রাহ্মণ্যবাদে ঈশ্বর অর্থের মত অর্থবহ নন, তিনি অদৃশ্য এবং ধর্ম ব্যবসায়ীদের কাছে শোষণের হাতিয়ার। এখানেও স্বর্গ বা বেহেশতের ফাইভস্টার হোটেলে সীট বুকিংয়ের আশ্বাস দিয়ে মোল্লা আর পুরুতরা জাগতিক সুখ পেতে ব্যস্ত। সমাজতন্ত্র ভিন্ন অর্থনৈতিক সম্পর্ক সৃষ্টি করা হলেও জন্ম নেয় নতুন এলিট, নতুন শোষক শ্রেণী। গণতন্ত্র সবাইকে একোমোডেট করতে পারে, তবে এদের পারস্পরিক এন্টাগোনাস্টিক চরিত্র সেটা করতে দেয় না। আর যেহেতু সব সমাজেই বিভিন্ন চিন্তার মানুষ বিদ্যমান তাই সংঘাত অনিবার্য। উপায়? সমঝোতা করা, পরস্পরকে ছাড় দেয়া। প্রাণী জগতে এটা দেখা যায় না। একদল অন্যদলকে ভিটেছাড়া করে। মানুষ তো সেই বন্যতাকেই ধারণ করে। আর দলের আকার ও শক্তি তার মধ্যে পাশবিক ...