Posts

ভোট

Image
সোভিয়েত ইউনিয়নে আর্মেনিয়ান রেডিও বলে এক হিউমারিস্টিক প্রোগ্রাম ছিল। সেখানে শ্রোতারা বিভিন্ন প্রশ্ন করত আর রেডিও থেকে তার উত্তর দেয়া হত। এক শ্রোতার প্রশ্ন ছিল  - যদি কেউ ধর্ষণ করতে চায় তাহলে কি করা উচিৎ। উত্তর  - যদি এড়ানো সম্ভব না হয় তবে উপভোগ করা। আপাত দৃষ্টিতে এটাকে একটি স্থূল চুটকি মনে হতে পারে। তবে সোভিয়েত ইউনিয়নে বাকস্বাধীনতা ছিল সীমিত তাই এরকম সাংকেতিক ভাষায় মানুষ বিভিন্ন কথা বলত। এই চুটকির একটা অর্থ হল - যদি সরকারি আদেশ অমান্য করা না যায় তবে সেটাকে যতদূর সম্ভব নিজের কাজে লাগানো উচিত।‌ দেশের নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে বলতে হয় যদি গণভোট বাতিল করতে না পারা যায় তাহলে তাতে অংশগ্রহণ করে নিজের পছন্দের ভোট দেয়াটাই শ্রেয়। দুবনা, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

শাঁখের করাত

Image
সব সমস্যারই সমাধান আছে। কোন কোন সমস্যার একাধিক সমাধান থাকে। সেক্ষেত্রে চেষ্টা করতে হয় সেই সমাধানটি বেছে নিতে যেটা তুলনামূলক কম ক্ষতিকর। কিন্তু অবস্থা দেখে মনে হয় বর্তমান সরকার সবসময় দেশের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর সমাধান বেছে নেয়। এটা এখন প্যাথোলজিক্যাল ব্যাপারে পরিণত হয়েছে।  যদি রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা বলি ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে দেশকে গণতান্ত্রিক পথে ফিরিয়ে আনার একটি সুবর্ণ সুযোগ ছিল। দেশের মানুষ ফ্রি ও ফেয়ার ইলেকশনের জন্য উদগ্রীব ছিল। কিন্তু প্রতিহিংসা যখন রোড ম্যাপ হয়, তখন সঠিক পথ প্রায়ি নাগালের বাইরে চলে যায়। ফলাফল - আজ সর্বত্র অরাজকতা, মবের মুল্লুক আজ বাংলাদেশ। ক্রিকেট নিয়ে আজ যে অবস্থা তার জন্য সরকারের এই নীতিই দায়ী। অন্য দেশের একটি আভ্যন্তরীণ টুর্নামেন্টকে ঘিরে যে নাটক করা হল সেটা কার স্বার্থে? দেশ কি কখনও দেশের ক্রিকেটারদের পেছনে দাঁড়িয়েছে? এমন কি দুদিন আগেও ক্রিকেটারদের অপমান করা হয়েছে। সেটাই যদি হয় তাহলে ফিজকে ঘিরে কেন এই রাজনীতি? মনে হয় দেশের ক্রিকেটকে ধ্বংস করার জন্যই শুরু থেকেই সব দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। কারণ আমরা যে অবস্থার মুখোমুখি এখন দাঁড়িয়েছি তাতে যেকোনো সিদ্...

প্রশ্ন

Image
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কালা কায়াসের মতে গ্রীন ল্যান্ডকে ঘিরে ইউরোপ আর আমেরিকার বিতর্কে সবচেয়ে খুশি ও লাভবান হচ্ছে রাশিয়া আর চীন। এটা শুনে আমার দেশের কথা মনে হল। দেশের যেকোন সমস্যায় সরকার ও বাম দলগুলো ভারত আর আওয়ামী লীগের দিকে আঙুল তুলে। কিন্তু রাশিয়া বা চীনের কথাই হোক আর ভারত বা আওয়ামী লীগের কথাই হোক - এদের যদি লাভ হয়েও থাকে তা হচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকা বা আমাদের সরকার আর বামদের ব্যর্থতায়। নিজেরা ভুল না করলেই তো হয়। এই প্রসঙ্গে আরও একটা মিল দেখা যায় ইউরোপ আর বাংলাদেশের মধ্যে। রাশিয়া কখনও ইউরোপ আক্রমণ করার কথা বলে না, অথচ ইউরোপ কাল্পনিক রুশ আক্রমণ ঠেকাতে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিচ্ছে আর সেজন্য মহিলাদের প্রশিক্ষণে ডাকছে যাদের অনেকেই টিজিং এর শিকার হচ্ছে। একই ভাবে ভারতীয় আগ্রাসনের কথা বলে বাংলাদেশে অনেকেই যুদ্ধের প্রস্তুতি নেবার কথা বলছে। টিভিতে যুদ্ধ দেখা আর বাস্তবে যুদ্ধ করা দুটো ভিন্ন ব্যাপার। আর হার জিত যাই হোক যুদ্ধ সমাজে যে বিরাট ক্ষত রেখে যায় তা থেকে সহজে মুক্তি মেলে না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ক্ষত পাকিস্তান তো বটেই, বাংলাদেশ আজও কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই মনে হয়। ক...

দা, নিয়েৎ - দানিয়েৎ

Image
বাংলাদেশের রেফারেন্ডাম নিয়ে অনেকেই বলছে সরকারকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। আমার ধারণা এটা অন্যায় আবদার। কারণ গণভোট হয় বিরোধীদের না হয় সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত হয়। তাই সরকারকে এর পক্ষে বা বিপক্ষে বলতেই হবে। সরকার নিরপেক্ষ বিচারক নয়, একটা পক্ষ। মনে পড়ে ২৯৯৩ সালে সংবিধান ও পার্লামেন্টের ভূমিকার প্রশ্নে রাশিয়ার গণভোটের কথা। প্রেসিডেন্ট ইয়েলৎসিন একদিকে অন্যদিকে রুশ পার্লামেন্ট গস দুমা। চারটি প্রশ্নে জনগণ ভোট দেয়। ইয়েলৎসিনের শ্লোগান ছিল দা, দা, নিয়ে, দা মানে হ্যাঁ, হ্যাঁ, না, হ্যাঁ। রুৎস্কোই ও হাজবুল্লাতভের নেতৃত্বে বিরোধীদের শ্লোগান ছিল তার উল্টোটা নিয়েৎ, নিয়েৎ, দা, নিয়ে বা না, না, হ্যাঁ, না। তাই সরকার যদি দেশে ঢালাও ভাবে হ্যাঁ এর পক্ষে বলে বিরোধীদের একযোগে না এর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার করতে হবে। যতদূর মনে পড়ে, সব দল বলেছিল সংবিধানের সংশোধনের বিষয় নবনির্বাচিত পার্লামেন্টের উপর ছেড়ে দিতে। সরকারি চাপে ঐকমত্য কমিশনে অংশগ্রহণ করলেও মতৈক্যে পৌঁছুতে পারেনি। এখন তারা না ভোট দিয়ে উড়ে এসে জুড়ে বসা সরকারের সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নাকচ করে দিতে পারে আর নবনির্বাচিত সংসদ পরবর্তীতে সেই উদ্যো...

বিরোধিতা

Image
রুশরা বলে শয়তান তত ভয়ঙ্কর নয় যতটা বড় করে তাকে দেখানো হয়। আমেরিকা তথা পশ্চিমা বিশ্বে সবসময়ই রাশিয়ার এমন এক চিত্র আঁকা হয় যেন নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে সে অনবরত এসব দেশের মানুষের ক্ষতি করার জন্য অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছে। ২০১৬ সনে ট্রাম্পের বিজয়ের পেছনে রুশ ভালুকের দীর্ঘ লোমশ হাত আবিষ্কারে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আর প্রচুর সময় ব্যয় করেও কিছুই পাওয়া যায়নি, না হাত, না রাশিয়া - কিছুই।‌ তবে মিথ্যা কে সত্য বানানোর জন্য যেসব কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে তা সমাজে দীর্ঘদিনের জন্য দাগ রেখে গেছে।‌ নির্বাচন, বিচার ব্যবস্থা এসব ইনস্টিটিউটের মর্যাদার কম হানি হয়নি।‌ সার্বিক বিচারে বলা যায় রাশিয়া নিজে আমেরিকা বা পশ্চিমা বিশ্বের যত না ক্ষতি করে তারচেয়ে বেশি ক্ষতি করে রুশ ভীতি। এই সূত্র ধরেই বলা যায় ভারত নিজে যতটা বাংলাদেশের ক্ষতি করে তারচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ভারত বিরোধিতা। এই ভারত বিরোধিতাকে পুঁজি করেই একাত্তরের বিরোধিতা করা যায়, ভারতীয় আগ্রাসনের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট ধ্বংস করা যায়, এক কথায় ভারতীয় ভূতের ভয় দেখিয়ে জনগণের হাত জনগণের মাথায় বুলিয়ে সেখানে কাঁঠাল ভেঙে খাওয়া যায়।‌ সবচে...

সমস্যা

Image
টিন এজারদের অন্যতম প্রধান সমস্যা তাদের আবেগ। অভিজ্ঞতার অভাব তাদের ভারসাম্য বজায় রেখে কোন সিদ্ধান্ত নেবার পথে বাধা হিসেবে কাজ করে। আর আবেগের বশে নেয়া সিদ্ধান্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিপর্যয় ডেকে আনে। আইপিএল এ মুস্তাফিজুর রহমানের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত সেই অপরিপক্কতাকেই সামনে নিয়ে আসে।  সব কিছুর পরেও আইপিএল একটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট। অনেক দিন যাবৎ সেখানে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয় না। এতে কি আইসিসি কোন ভূমিকা রাখতে পেরেছে? তাহলে মুস্তাফিজের ব্যাপারে তারা কি করবে? এর আগে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে বিসিবি আইপিএল টুর্ণামেন্ট চলাকালীন মুস্তাফিজকে ডেকে পাঠিয়েছে। কেউ তো আইসিসির কাছে অভিযোগ করেনি।‌ এই যে অতিরিক্ত আবেগে ভেসে আমরা নিজেদের এমন ভাবে কোনঠাসা করে ফেললাম যে যেকোনো সিদ্ধান্তই আমাদের শাঁখের করাতের মত কাটবে। সবকিছুর পরে ভারতে গিয়ে খেলা আমাদের এগোতে লাগবে। না খেললে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। আমরা কোন দিকে যাব? এটা ভারতের জন্য হবে না, হবে সমস্ত ঘটনাটি হ্যান্ডেল করতে আ...

মৃত্যু

Image
জন্ম মৃত্যু পাশাপাশি চলে, এমনকি সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশেও মানুষ মরে। প্রশ্ন তাই মৃত্যুতে নয়, কীভাবে এই মৃত্যু আসে তাতে। বাংলাদেশে অস্বাভাবিক মৃত্যু কখনোই অভাবনীয় কিছু ছিল না তবে গত দেড় বছরে তার হার অস্বাভাবিক রকম বৃদ্ধি পেয়েছে, অর্থনীতির ভাষায় বললে অস্বাভাবিক মৃত্যুর বাজারে ঘটেছে অস্বাভাবিক মৃত্যস্ফীতি। এই পরিস্থিতিতেও যেটা খুব বেশি করে চোখে পড়ে তা হল সংখ্যালঘুদের অস্বাভাবিক মৃত্যু। বিগত কয়েক দিনে সেটা শুধু পরিমাণে নয়, হিংস্রতায়ও এক ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে। পিটিয়ে হত্যা করে গাছে লাশ ঝুলিয়ে পুড়ানোর ঘটনা ঘটেছে আবার অর্ধমৃত অবস্থায় শরীরে আগুন দেয়া হয়েছে। এসব থেকে প্রমাণিত হয় যে প্রতিটি হত্যা করা হয়েছে পরিকল্পিত ভাবে আর সেটাকে যতদূর সম্ভব বিভৎস রূপ দেয়া হয়েছে অন্যদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করার জন্য। সংবাদ মাধ্যমে এসব খবর যেভাবে প্রচার করা হয়েছে তাতে বিচারের দাবির চেয়ে ভীতির সঞ্চার প্রাধান্য পেয়েছে বলেই মনে হয়। বিশ্বের প্রতিটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মত বাংলাদেশকেও অমুসলিম নাগরিক মুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হয়। আর সেটা হচ্ছে কতৃপক্ষের...