Posts

সমস্যা

Image
টিন এজারদের অন্যতম প্রধান সমস্যা তাদের আবেগ। অভিজ্ঞতার অভাব তাদের ভারসাম্য বজায় রেখে কোন সিদ্ধান্ত নেবার পথে বাধা হিসেবে কাজ করে। আর আবেগের বশে নেয়া সিদ্ধান্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিপর্যয় ডেকে আনে। আইপিএল এ মুস্তাফিজুর রহমানের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত সেই অপরিপক্কতাকেই সামনে নিয়ে আসে।  সব কিছুর পরেও আইপিএল একটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট। অনেক দিন যাবৎ সেখানে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয় না। এতে কি আইসিসি কোন ভূমিকা রাখতে পেরেছে? তাহলে মুস্তাফিজের ব্যাপারে তারা কি করবে? এর আগে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে বিসিবি আইপিএল টুর্ণামেন্ট চলাকালীন মুস্তাফিজকে ডেকে পাঠিয়েছে। কেউ তো আইসিসির কাছে অভিযোগ করেনি।‌ এই যে অতিরিক্ত আবেগে ভেসে আমরা নিজেদের এমন ভাবে কোনঠাসা করে ফেললাম যে যেকোনো সিদ্ধান্তই আমাদের শাঁখের করাতের মত কাটবে। সবকিছুর পরে ভারতে গিয়ে খেলা আমাদের এগোতে লাগবে। না খেললে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। আমরা কোন দিকে যাব? এটা ভারতের জন্য হবে না, হবে সমস্ত ঘটনাটি হ্যান্ডেল করতে আ...

মৃত্যু

Image
জন্ম মৃত্যু পাশাপাশি চলে, এমনকি সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশেও মানুষ মরে। প্রশ্ন তাই মৃত্যুতে নয়, কীভাবে এই মৃত্যু আসে তাতে। বাংলাদেশে অস্বাভাবিক মৃত্যু কখনোই অভাবনীয় কিছু ছিল না তবে গত দেড় বছরে তার হার অস্বাভাবিক রকম বৃদ্ধি পেয়েছে, অর্থনীতির ভাষায় বললে অস্বাভাবিক মৃত্যুর বাজারে ঘটেছে অস্বাভাবিক মৃত্যস্ফীতি। এই পরিস্থিতিতেও যেটা খুব বেশি করে চোখে পড়ে তা হল সংখ্যালঘুদের অস্বাভাবিক মৃত্যু। বিগত কয়েক দিনে সেটা শুধু পরিমাণে নয়, হিংস্রতায়ও এক ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে। পিটিয়ে হত্যা করে গাছে লাশ ঝুলিয়ে পুড়ানোর ঘটনা ঘটেছে আবার অর্ধমৃত অবস্থায় শরীরে আগুন দেয়া হয়েছে। এসব থেকে প্রমাণিত হয় যে প্রতিটি হত্যা করা হয়েছে পরিকল্পিত ভাবে আর সেটাকে যতদূর সম্ভব বিভৎস রূপ দেয়া হয়েছে অন্যদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করার জন্য। সংবাদ মাধ্যমে এসব খবর যেভাবে প্রচার করা হয়েছে তাতে বিচারের দাবির চেয়ে ভীতির সঞ্চার প্রাধান্য পেয়েছে বলেই মনে হয়। বিশ্বের প্রতিটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মত বাংলাদেশকেও অমুসলিম নাগরিক মুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হয়। আর সেটা হচ্ছে কতৃপক্ষের...

ফিজ চুক্তি

Image
ফিজের চুক্তি বাতিল নিয়ে জল ঘোলা করেই চলছে। আর সবচেয়ে বেশি করছে আসিফ নজরুল। অথচ এই লোক যদি তার নিজের চরকায় ঠিকঠাক তেল দিত, মানে যারা বিগত কয়েকদিনে বিনা উস্কানিতে কয়েকজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোককে হত্যা ও তাদের দেহে অগ্নিসংযোগ করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনত তাহলে জল এতদূর গড়াত না। ভারতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মূল কারণ সংখ্যালঘু হত্যা ও সরকারের নির্বিকার ভূমিকা। আর এই জনরোষ শেষ পর্যন্ত বাধ্য করেছে বিসিসিআই ও কেকেআর এর উপর চাপ সৃষ্টি করতে। এই চাপটা শুধু মৌলবাদীদের পক্ষ থেকেই ছিল না, বহু ভারতীয় ক্রিকেটার যারা সব সময় নিজেদের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠিয়ে রেখেছে, তারাও বাংলাদেশে এই হত্যার নিন্দা করেছে এবং চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে। আপনাদের ক্ষোভের কারণ যেমন ফিজের চুক্তি বাতিল, চুক্তি বাতিলের কারণ তেমনি এসব হত্যাকাণ্ড। আগে নিজের ঘর ঠিক করুন দেখবেন অন্যেরা তাহলে অবহেলা করবে না। শুরুটা নিজেকে দিয়েই হোক। মস্কো, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬

ফিজ

Image
কেকেআর মুস্তাফিজুর রহমানের সাথে চুক্তি বাতিল করল। করল বাধ্য হয়ে। এটা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। ফিজের জন্য, ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য, খেলার জন্য। তবে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য এই পদক্ষেপ সঠিক বলেই মনে হয়। সেটা কেকেআর ও বিসিসিআই দুই পক্ষ থেকেই। স্বীকার করি বা না করি বর্তমান কালের অনেক ঘটনা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক যারপরনাই খারাপ করেছে। সবচেয়ে যেটা উদ্বেগের বিষয় তা হল দুই দেশের মানুষের মধ্যে তিক্ততা বেড়েছে। শেষ কয়েকটি হত্যা ও লাশ পোড়ানোর ঘটনা বাংলার বাইরেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এতে যদিও ভারতীয় বাঙালিদের প্রতি হিন্দি ভাষাভাষীদের মনে সহানুভূতির সৃষ্টি হতে পারে তবে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আক্রোশ বাড়বে। এমতাবস্থায় যদি কেউ কোন ভাবে ফিজকে টার্গেট করে তার প্রতিক্রিয়া হবে সুদূরপ্রসারী। চাইলেই প্রতিটি দর্শকের সাথে একজন করে পুলিশ রাখা যাবে না আবার ফিজকেও পুলিশের বেষ্টনীতে রেখে খেলানো যাবে না। সারা বিশ্বের ধূলাবালি ঝেঁটিয়ে বিদায় করার চেয়ে পা কে জুতাবন্দি করা সহজ, সুলভ ও বুদ্ধিদীপ্ত। মাল্টিমিলিয়ন ডলারের ইভেন্টে আবেগ নয় হিসাব অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর। তাছাড়া এখন ভারতের মাটিতে ...

উল্টো রথ

Image
আমেরিকা ভেনেজুয়েলা আক্রমণ করেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন মাডুরা সস্ত্রীক বন্দী ও তাদের তত্ত্বাবধানে আছেন। ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন ও মাডুরা যে জীবিত সেটা প্রমাণ করার জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত এ ঘটনায় ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। রাশিয়া ও চীনের সাথে সুসম্পর্ক থাকার পরও আমেরিকা ভেনেজুয়েলা আক্রমণ করার সাহস পেয়েছে কারণ এদের কেউই সরাসরি যুদ্ধে জড়িত হবে না। যেকোনো পরাশক্তিই সবার আগে নিজের জান মাল বাঁচাতে চায় আর চেষ্টা করে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এড়িয়ে যেতে। ঠিক যেমনটি আমেরিকা ইউক্রেনের হয়ে লড়াইয়ে নামেনি যদিও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছে আর তার চেয়ে বেশি ব্যবসা করেছে। তার মানে এই নয় রাশিয়া বা চীন হাত গুটিয়ে বসে থাকবে। আমেরিকা যুদ্ধের চোরাবালিতে আটকে না গিয়ে খুব দ্রুত মাডুরাকে গ্রেফতার করেছে। এখন যদি তারা সেখানে থেকে যায় আর ভেনেজুয়েলার মানুষ ও সেনাবাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তোলে তাহলে রাশিয়া ও চীন নিশ্চিত ভাবেই তাদের সাহায্য করবে। সেক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলা আমেরিকার জন্য নতুন ভিয়েতনাম হলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না।  রাশিয়া ইতিমধ্...

শুভ নববর্ষ

Image
এবছরের মত পরীক্ষা শেষ। ডিপার্টমেন্ট থেকে বেরুনোর সময় প্রফেসর সামসোনেনকোকে আসন্ন নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালাম। উনি জিজ্ঞেস করলেন  - পরীক্ষা নেয়া শেষ? লেজ নেই তো? লেজ মানে ফেল করা ছাত্র। ছাত্রদের ক্ষেত্রে এটা না দেয়া পরীক্ষা, মানে যদি কোন পরীক্ষায় ফেল করে। শিক্ষকদের জন্য যদি এরকম ছাত্র থাকে। এক্ষেত্রে দু'জনকেই পরীক্ষা দিতে ও নিতে বসতে হবে পরে কোন এক সময়।  - আমি ওল্ড পার্টিজান। আগে থেকেই লেজ কেটে ফেলি যাতে কেউ টের না পায়। এখনও মনে আছে দুবনা ইউনিভার্সিটিতে একবার পরীক্ষায় প্রায় সবাইকে ফেল করিয়ে চাকরি হারিয়েছিলাম। এরপর একসময় প্রফেসর ঝিদকভ বলেছিলেন  - বিজন, কখনোই ফেল করিও না। কড়া পরীক্ষা নিতে হয় ভালো ছাত্রদের যাতে তারা সত্যিকার অর্থেই সাবজেক্ট রপ্ত করে ভালো নম্বর পায়। যারা কোন মতে টেনেটুনে পাশ করে তাদের ফেল করিয়ে কোন লাভ নেই। তারা পড়াশুনা করতে চায় না বলেই খারাপ করে। ফেল করালেও তারা জানার চেষ্টা করবে না, শুধু তোমাকে বারবার ওদের পরীক্ষা নিতে হবে। হয়তো একসময় বিরক্ত হয়ে পাশ মার্ক দেবে, না হয় ওকে বহিষ্কার করবে।  - তাহলে? - যতদূর সম্ভব সোজা প্রশ্ন করে ওদের কাছ থ...

যুদ্ধ নেশা

Image
গতকাল সারা দিন কেটেছে প্রচন্ড ব্যস্ততায়। দুবনার পথে রওনা দেবার আগে খবরে লাভরভের কড়া বার্তা শুনে টের পেলাম রাতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের অনেকগুলো আবাসের একটিতে ইউক্রেন আক্রমণ করেছে। ৯১ টি আক্রমণকারী ড্রোনের সবগুলো ভূপাতিত করা হয়। রাত প্রায় একটায় দুবনা ফিরে বিস্তারিত জানলাম। এ ধরণের আক্রমণ সাধারণত এমআই-৬ এর কাজ যদিও ইউক্রেনের হাত দিয়ে। যদিও নিজের ক্রিস্টমাস বার্তায় জেলেনস্কি মাত্র একজন লোকের মৃত্যু কামনা করেছে, আক্রমণ ব্যর্থ হবার পর সে তার বা ইউক্রেনের যোগসাজশ অস্বীকার করছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের নেতারা এই আক্রমণের নিন্দা করেছেন। সেদিক থেকে ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় সঙ্গীরা আরও বেশি একঘরে হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই আক্রমণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, কারণ এটা কার্যত তাঁর শান্তি প্রচেষ্টা ভন্ডুল করছে। রাশিয়ার বিভিন্ন মহল থেকে যুদ্ধের বেগ বাড়ানোর দাবী উঠেছে, দাবী উঠেছে ইউক্রেনে পাল্টা আঘাত হানার। তবে অনেকের ধারণা ইউরোপ এটাই চায়। রাশিয়া বেসামরিক স্থাপনায় আক্রমণ করলে ইউরোপ সেখানে আরও বেশি অস্ত্র পাঠানোর অজুহাত খুঁজে পাবে। তবে এই আক্রমণ যে রাশিয়ার অবস্থান আরও কঠোর করবে সেটা বলাই বাহুল্য। ইউক্...