Posts

দেয়াল

Image
যেকোনো ইমারতে বিভিন্ন দেয়াল থাকে। কতগুলো ভারবাহী দেয়াল যার উপর সমস্ত দালান দাঁড়িয়ে থাকে। এগুলোয় হাত দেয়া নিষেধ। ঘরের প্ল্যানিং এ কোন পরিবর্তন আনতে হলে এদের অস্তিত্ব অপরিবর্তিত রেখেই করতে হবে। দেশের ক্ষেত্রে এসব দেয়াল হল সংবিধানের মূলনীতি যা রাষ্ট্রের চরিত্র প্রকাশ করে, স্বাধীন বিচার বিভাগ যা সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থা যা জনগণের মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করে। রাজনৈতিক দলগুলো এক্ষেত্রে দরোজা, জানালা বা সেই সব দেয়াল যা প্রয়োজনে সরানো যায়। যে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এসব মেনে চলে, রাষ্ট্রের ভারবহনকারী দেয়ালগুলো অক্ষত রাখে সেখানে সাধারণত অসাংবিধানিক পথে সরকার পরিবর্তন হয় না। এমনকি সরকার অসময়ে আস্থা হারালে নির্বাচনের মাধ্যমেই নতুন সরকার আসে। জনগণ নিজেদের হাতে ক্ষমতা তুলে নেয় না। কিন্তু যখন রাজনৈতিক দলগুলো অসাংবিধানিক পথে সরকার পরিবর্তনের পথে যায় তখন তারা নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মারে। উপমহাদেশে এসব হরহামেশাই দেখা যায়। ব্যবহারের প্রকারভেদে দেয়াল শুধু শত্রুর হাত থেকে রক্ষাই করে না, দেয়াল মুক্তচিন্তার পথেও বাঁধা হয়ে দাঁড়া...

ডিলেমা

Image
বৃটেন ও জার্মানি ঘোষণা করল যে ২০৩৫ সালের মধ্যে তারা নিজস্ব ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে যা দিয়ে মস্কো তো বটেই এমনকি উড়াল এলাকার শহরগুলোতে লন্ডন ও বার্লিন থেকে সরাসরি আঘাত হানা যাবে। এই সংবাদের প্রেক্ষিতে রাশিয়ার উত্তর কী হতে পারে? তাদের নির্বিঘ্নে মিসাইল ডেভেলপ করতে দেয়া ও আঘাত না করা পর্যন্ত হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা? নাকি আমেরিকা ও ইসরাইলের মত প্রিভেন্টিভ আঘাত হানা বা সতর্ক করে দেয়া যে যেহেতু রাশিয়াকে আক্রমণ করার জন্যই মিসাইল তৈরি হচ্ছে তাই রাশিয়া প্রয়োজনে এসব দেশের উপর সমস্ত শক্তি ব্যবহার করে আঘাত হানতে দ্বিধা করবে না? এসব কথা বৃটেন ও জার্মানি বলছে রাশিয়াকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার পক্ষে জনমত তৈরি করার জন্য। রাশিয়ার হুঁশিয়ারি একদিকে যেমন সেই আগুনে ঘি ঢালতে পারে অন্যদিকে এসব দেশের জনগণের মধ্যে যুদ্ধ বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে। সেদিক থেকে এই ঘোষণা খুব বেশি ক্ষতিকর হবে বলে মনে হয় না। যতক্ষণ পর্যন্ত না মানুষের নিজের ঘরে যুদ্ধ ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে এসব খুব একটা গুরুত্ব দেয় না। দুবনা, ২১ জুলাই ২০২৬

বারবিকিউ

Image
এবছর প্রথম বারের মত পিকনিকে গেলাম। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে যে সাংস্কৃতিক টিম গড়ে উঠেছিল ওদের নিয়ে বসার তাগিদ গ্রীষ্মের শুরু থেকেই ছিল। তবে ছাত্রদের পরীক্ষা জনিত ব্যস্ততায় এতদিন সম্ভব হয়নি। বলতে গেলে মাত্র তিন দিনের নোটিশে এই আয়োজন। তাই অনেকেই আসতে পারেনি। আসলে ছুটির সময়, যখন অনেকেই বাইরে থাকে বা নিজের নিজের কাজে ব্যস্ত থাকে তখন একই দিনে সবাইকে জড়ো করা প্রায় অসম্ভব। তাই আগস্টে আবার বসার আশা রেখে আজকের এই বসা।  বসেছিলাম বারিসভস্কি প্রুদে। মস্কোর ভেতরে হওয়ায় মেট্রো, বাস মানে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাওয়া যায়। এমনিতে ফ্রি, তবে বারবিকিউ করতে হলে বসার জায়গা, চুল্লি এসব ভাড়া করতে হয়। খুব সস্তায় বলা যায়।  আয়োজন ছিল চমৎকার। এজন্য উপস্থিত সবাইকে বিশেষ আয়োজক রাজীব, দীপ, রাজশ্রী, প্রান্ত সহ সবাইকে ধন্যবাদ। ওদের কাজের আগ্রহ, উদ্দীপনা দেখে মনে হয় মস্কোয় এখনও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা সম্ভব।  দুবনা ফিরতে হচ্ছে বলে শেষ পর্যন্ত থাকা হয়নি। তবে যেটুকু ছিলাম সেটুকু প্রচন্ড উপভোগ করেছি। দুবনার পথে, ১৯ জুলাই ২০২৬ ...

সাব

Image
সত্তরের দশকের শেষ ও আশির দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে লেখাপড়া শেষ করে দেশে ফেরার পর ভিপুস্কনিকরা চাকরি ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হয়।‌এসব সমস্যার অন্যতম প্রধান ছিল ডিগ্রির মান ও স্বীকৃতি। অন্যান্য অনেক কিছুর পাশাপাশি এই সমস্যা সমাধানের প্রয়াসে প্রায় ৪৫ বছর আগে সাব তার যাত্রা শুরু করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন আজ কেবলই স্মৃতি। তবে সোভিয়েত ও রুশ গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি মনোভাব এখনও প্রায় আগের মতই আছে। ফলে সাবের গুরুত্ব আগের চেয়ে বরং বেড়েছে। বলাই বাহুল্য বাংলাদেশ যে রাজনৈতিক পথে চলছে তাতে সোভিয়েত ও রুশ ভিপুস্কনিকদের সমস্যা বাড়বে বই কমবে না। এমতাবস্থায় নতুন কমিটি ডিগ্রির সমমান নিশ্চিত করতে, রাশিয়া ফেরৎ নবীন বিশেষজ্ঞদের দেশীয় পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে, ভিপুস্কনিকদের রুশ ভিসা পেতে সহযোগিতার করতে উদ্যোগী হবে সেটাই আশা করি। আর এসব করার জন্য সাবকে একটি আধুনিক, গতিশীল সংগঠনে পরিণত হতে হবে যা হবে ভিপুস্কনিকদের ট্রেড ইউনিয়ন। সাব যে শুধু পিকনিক বা পিঠে পার্টি নয়, বরং ভিপুস্কনিকদের অধিকার আদায়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে নতুন কমিটি কাজের মাধ্...

কেন ভোট দেবেন?

Image
প্রার্থীরা নিজেরা ও তাদের সমর্থকরা প্রার্থীদের এমন এক নিষ্কলুষ চরিত্র উপস্থাপন করছে যে সমস্ত দায়িত্ব ঠিকমত পালন করার পরেও তাদের কাজে খুঁত ধরতে সবাই মুখিয়ে থাকবে। আমরা বাঙালিরা সবসময়ই পরশ্রীকাতর আবার একই সাথে নিজ নিজ নেতাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। দেশে তো স্বৈরাচারী শাসক, স্বৈরাচারী নেতা গাছ থেকে পড়ে না, আমরাই রোপণ করি। তবে যদি ধরে নেই যে আমাদের প্রার্থীরা আদতেই ভুলত্রুটি মুক্ত, তাহলে এখনই সুবর্ণ সুযোগ এদের নিষ্কলুষ চরিত্রে কিছুটা হলেও ব্যর্থতার কালিমা লেপে দেবার। তাই সবার কাছে উদাত্ত আহ্বান আসুন ডঃ মোস্তফা আবিদ খান, স্থপতি তানিয়া আতিক, ডাঃ খায়রুন্নেসা আমিন লিপি, ডঃ গণেশ চন্দ্র রায়, ডাঃ হামিদা মাইদার, ডাঃ সাকী খন্দকার, ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রাজ্জাককে ভোট দিয়ে তাদের সাধারণ মানুষের কাতারে আসতে সাহায্য করি, মানে তাদের অতিমানবীয় চরিত্রে ভুলের ছোঁয়া দিয়ে মানবিক হতে অবদান রাখি।  এক নদীতে যেমন দুইবার নামা যায় না তেমনি ওয়াঞ্চ টেস্টেড কান্ট বি অলোয়েজ ট্রাস্টেড। তবে সেই শ্যাম্পেন খায় যে রিস্ক নেয়। তাই --- ভোট দিন। প্রার্থীদের সিভিকে মানবিক হতে সাহায্য করুন। দুবনা, ১৬ জুলাই ২০২৬ ...

সবার জন্য ভোট

Image
সাবের নির্বাচন হচ্ছে। সাব যে আমাদের পেশাগত জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা নয়। তবে সাব সোভিয়েত ও রুশ (সিআইএস বলছি না, কারণ সোভিয়েত ইউনিয়নে আমাদের শিক্ষার ভাষা ছিল রুশ, এখন অন্যান্য দেশ নিজ নিজ ভাষায় লেখাপড়া শেখায়। তাই ইউক্রেন বাদ দিলেও, এমনকি কাজাখস্তান বা আজারবাইজানের ভিপুস্কনিকদের সাথে আজকের রাশিয়ার ভিপুস্কনিকদের কমন ল্যাঙ্গুয়েজ বের করা অসম্ভব না হলেও খুব কঠিন। তাই সাব একসময় রুশ ভিপুস্কনিক সর্বস্ব হবে এটাই স্বাভাবিক) গ্র্যাজুয়েটদের একত্রীকরণের একমাত্র না হলেও অন্যতম প্রধান সংগঠন যা সঠিক নীতি ও কৌশল অবলম্বন করলে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভোটে যেই জিতুক না কেন তারা আমাদের প্রতিনিধিত্ব করবে। তাই তাদের সাফল্য বা ব্যর্থতার দায় আমাদের সবার। আর সেজন্যই আমি চেষ্টা করি এসব নির্বাচনে নিজের মতামত প্রকাশ করতে, ভোট দিতে। আর তাই দাবি করি অনলাইন ভোটের ব্যবস্থার, লোকজনকে বলি ভোট দিতে। এবারও কয়েক জনকে ফোন করলাম। ঢাকার বাইরে অনেকেই যাচ্ছে না। সময়ের অভাব আর ব্যয়বহুল। তাই মনে হয় বেশিসংখ্যক মানুষকে ভোট প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে অনলাইন ভোটের বিকল্প নেই তা সে দেশেই বা...

ভোটের কানা গলি

Image
রুশরা বলে аппетит приходит во время еды. খাওয়ার সাথে সাথে ক্ষুধা বাড়ে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি তত আকর্ষণীয় ও লোভনীয় হয়। এ যেন ভোট নয়, প্রতিশ্রুতি বিক্রির নিলাম। আবার কখনও মনে হয় সেই ছাত্রদের কথা যারা সারা বছর ঘুমিয়ে কাটায় আর পরীক্ষার আগের রাতে সারারাত জেগে পড়ে। এটা অবশ্য প্রার্থী ও ভোটার দুই দলের জন্যই সত্য। ফলে নির্বাচন সবসময়ই রথের মেলা - ক্রেতা আর বিক্রেতার আনন্দ মেলা। অনেক প্রার্থী মনে করে যেন নির্বাচিত না হলে কাজ দেখানোর উপায় নেই। রাশিয়ায় আজকাল অনেক কোম্পানি কাউকে চাকরিতে নেবার আগে সপ্তাহ দুয়েক বিনা বেতনে টেস্ট পেরিওড হিসেবে কাজ করায়। যারা টেকে তাদের চাকরি হয় নাহলে পত্রপাঠ বিদায়। নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এরকম কিছু করতে পারলে মন্দ হয় না। কেমন? যেমন লটারি করে প্রার্থীদের দুই সপ্তাহের জন্য অস্থায়ী সভাপতি করে দেখা নিজ নিজ নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে কে কতটুকু সফল হয়েছে। তাহলে ভোটাররা শুধু কথা শুনে নয়, কাজ দেখে প্রার্থীর যোগ্যতা বিচার করতে পারে। এক্সপেরিমেন্ট করতে সমস্যা কোথায়? তাই বিয়ের পিঁড়িতে বসে যেমন মনে হাজারটা প্রশ্ন জাগে সুখের সংসার নিয়ে,...