ভোটের কানা গলি

রুশরা বলে аппетит приходит во время еды. খাওয়ার সাথে সাথে ক্ষুধা বাড়ে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি তত আকর্ষণীয় ও লোভনীয় হয়। এ যেন ভোট নয়, প্রতিশ্রুতি বিক্রির নিলাম। আবার কখনও মনে হয় সেই ছাত্রদের কথা যারা সারা বছর ঘুমিয়ে কাটায় আর পরীক্ষার আগের রাতে সারারাত জেগে পড়ে। এটা অবশ্য প্রার্থী ও ভোটার দুই দলের জন্যই সত্য। ফলে নির্বাচন সবসময়ই রথের মেলা - ক্রেতা আর বিক্রেতার আনন্দ মেলা। অনেক প্রার্থী মনে করে যেন নির্বাচিত না হলে কাজ দেখানোর উপায় নেই। রাশিয়ায় আজকাল অনেক কোম্পানি কাউকে চাকরিতে নেবার আগে সপ্তাহ দুয়েক বিনা বেতনে টেস্ট পেরিওড হিসেবে কাজ করায়। যারা টেকে তাদের চাকরি হয় নাহলে পত্রপাঠ বিদায়। নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এরকম কিছু করতে পারলে মন্দ হয় না। কেমন? যেমন লটারি করে প্রার্থীদের দুই সপ্তাহের জন্য অস্থায়ী সভাপতি করে দেখা নিজ নিজ নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে কে কতটুকু সফল হয়েছে। তাহলে ভোটাররা শুধু কথা শুনে নয়, কাজ দেখে প্রার্থীর যোগ্যতা বিচার করতে পারে। এক্সপেরিমেন্ট করতে সমস্যা কোথায়?

তাই বিয়ের পিঁড়িতে বসে যেমন মনে হাজারটা প্রশ্ন জাগে সুখের সংসার নিয়ে, ভোট দেবার আগেও এমন প্রশ্ন করুন। তাকে ভোট দিন যাকে অন্তত মনের সুখে গালি দিতে পারবেন হতাশ করলে। তবে ভোট দিন। ভোট দিলেই যে সাবের সব সমস্যার সমাধান হবে সেই গ্যারান্টি দিতে পারব না, তবে ভোট না দিলে যে কোন সমস্যার সমাধান হবে না সেটা প্রায় গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি।

দুবনা, ১৪ জুলাই ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

সিপিবি কংগ্রেস

প্রশ্ন

রিংকু