সবার জন্য ভোট

সাবের নির্বাচন হচ্ছে। সাব যে আমাদের পেশাগত জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা নয়। তবে সাব সোভিয়েত ও রুশ (সিআইএস বলছি না, কারণ সোভিয়েত ইউনিয়নে আমাদের শিক্ষার ভাষা ছিল রুশ, এখন অন্যান্য দেশ নিজ নিজ ভাষায় লেখাপড়া শেখায়। তাই ইউক্রেন বাদ দিলেও, এমনকি কাজাখস্তান বা আজারবাইজানের ভিপুস্কনিকদের সাথে আজকের রাশিয়ার ভিপুস্কনিকদের কমন ল্যাঙ্গুয়েজ বের করা অসম্ভব না হলেও খুব কঠিন। তাই সাব একসময় রুশ ভিপুস্কনিক সর্বস্ব হবে এটাই স্বাভাবিক) গ্র্যাজুয়েটদের একত্রীকরণের একমাত্র না হলেও অন্যতম প্রধান সংগঠন যা সঠিক নীতি ও কৌশল অবলম্বন করলে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভোটে যেই জিতুক না কেন তারা আমাদের প্রতিনিধিত্ব করবে। তাই তাদের সাফল্য বা ব্যর্থতার দায় আমাদের সবার। আর সেজন্যই আমি চেষ্টা করি এসব নির্বাচনে নিজের মতামত প্রকাশ করতে, ভোট দিতে। আর তাই দাবি করি অনলাইন ভোটের ব্যবস্থার, লোকজনকে বলি ভোট দিতে। এবারও কয়েক জনকে ফোন করলাম। ঢাকার বাইরে অনেকেই যাচ্ছে না। সময়ের অভাব আর ব্যয়বহুল। তাই মনে হয় বেশিসংখ্যক মানুষকে ভোট প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে অনলাইন ভোটের বিকল্প নেই তা সে দেশেই বাস করুক বা আমাদের মত প্রবাসীরা হোক। একই সাথে সাবের কাজকর্মে বেশি বেশি ভিপুস্কনিকদের সম্পৃক্ত করার জন্য দেশের বিভিন্ন শহরে ও বিভিন্ন দেশে যেখানে যথেষ্ট পরিমাণ সোভিয়েত ও রুশ ভিপুস্কনিক আছে সেখানে সাবের কমিটি বা প্রতিনিধি রাখার বিকল্প নেই।

যদিও সোভিয়েত ইউনিয়নে ভোট ছিল নিতান্তই ফর্মাল তবুও উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করে সেখানে মানুষকে ভোট কেন্দ্রে আনা হত। আধুনিক রাশিয়ায় এমনকি হরিণ পালকরা যাতে ভোট দিতে পারে সেজন্য হেলিকপ্টারে করে ব্যালট পেপার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের লোকজন যায়। ইদানিং লোকজন যাতে সময়ের দোহাই না দেয় (ভোট হয় মে ও সেপ্টেম্বরে, তাই অনেকেই গ্রামের বাড়ি চলে যায়) তাই ভোট গ্রহণ করা হয় শুক্র, শনি ও রবিবার মোট তিনদিন। ভোট যেমন নিজের কেন্দ্রে দেয়া যায়, তেমনি দেয়া যায় অন্য কেন্দ্রে বা অনলাইনে। অন্য কেন্দ্রে দিতে হলে আগে থেকেই পারমিশন নিতে হয় কেন্দ্রের নাম ঠিকানা জানিয়ে। ব্যালট পেপার সেখানে চলে যায়। একই ভাবে আগে থেকে অনলাইনে ভোট দেবার পারমিশন নিতে হয়। ঐ পারমিশন থাকলে ভোটের সময় ইউনিক একাউন্টে ঢুকলে একটা কোড পাওয়া যায় কয়েক স্তর ভেরিফিকেশনের পর। এরপর একঘন্টা সময় থাকে ভোট দিতে। এই সময়ে ভোটার সমস্ত প্রার্থীর সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে পারে নির্বাচন কমিশনের সাইটে। 

সোভিয়েত ইউনিয়নে অনেক ভুলভ্রান্তি ছিল, তবে সব শিশুর কমবেশি সুযোগ ছিল নিজের প্রতিভা বিকাশের। সেটা এ দেশে প্রচুর বিশেষজ্ঞ দিলেও সবার সমস্যা সমাধান করতে পারেনি। সাব কেন পারবে না তার হাজার খানেক সদস্যের ভোটদানের অধিকার নিশ্চিত করতে? আশা করি নতুন কার্যকরী পরিষদ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে।

দুবনা, ১৪ জুলাই ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

সিপিবি কংগ্রেস

প্রশ্ন

রিংকু