এপ্রিল থিসিস

অনেক আগে, যখন ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম এবং সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে সমাজ বদলের একমাত্র উপায় হিসেবে মনে করতাম তখন এপ্রিল থিসিস নিয়ে নিজেদের মধ্যে অনেক কথাবার্তা হত। সেখানে মূল বাণী ছিল সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া। "আজ খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কাল অনেক দেরী হয়ে যাবে" লেনিনের সেই অমর বাণী ছিল এপ্রিল থিসিসের মূল উপাত্ত। 

চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যখন ডঃ ইউনুসের মবের রাজত্বে একাত্তরের অর্জনগুলো একে একে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল তখন আমার মত অনেকেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বাম জোটের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিল। কিন্তু দেশের সেই দুর্যোগেও আওয়ামী স্বৈরাচারের সাথে হাত মিলিয়ে লড়াই করার কথা বামপন্থীরা আমলে নেয়নি বরং যারা এটা বলেছে তাদের স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে ট্যাগ করেছে। এখন ফেসবুকে বামপন্থী নেতাদের স্বাধীনতার পক্ষের সমস্ত শক্তির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান দেখে এপ্রিল থিসিসের কথা মনে পড়ে গেল। রুশরা বলে দুর্যোগ একা আসে না। মনে হয় ভুলও একা আসে না। ভুল আসে দল বেঁধে। তাই মানুষ একের পর এক ভুল করে যায়। 

প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদরা দীর্ঘ মেয়াদি চিন্তা করে। আশু লাভের লোভে তারা ভবিষ্যৎ হাতছাড়া করে না। সব দেখে মনে হয় আমরা শুধু রুচির দৈন্য নয়, রাজনৈতিক সুবুদ্ধির দীনতায়ও ভুগছি।

দুবনা, ২৯ জুলাই ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

সিপিবি কংগ্রেস

প্রশ্ন

রিংকু