Posts

মিঃ এক্স

Image
জুনের প্রথম দিকে যখন লেখাটা শুরু করি নাম দিয়েছিলাম "এক রতনের কথা"। পরবর্তীতে রতন সম্পর্কে বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন মূল্যায়ন শুনে মনে হয়েছে মিঃ এক্স-ই হবে ফিটিং টাইটেল।   বরাবরের মতই গত রোববার মানে ৩০ মে মস্কো গেলাম। সোমবার ক্লাস। বাসায় পৌঁছতে প্রায় সাড়ে আটটা। বাসায় ঢুকতেই কতিয়া, রিস আর নাওমি মিউমিউ করে আমাকে স্বাগত জানাল। ঘর থেকে আইকার ঘেউ ঘেউ। জিজ্ঞেস করলাম বাসায় কে আছে। সেভা ওর ঘর থেকে বেরুতে বেরুতে বলল ও একা, মনিকা পেত্রজাভদস্ক গেছে, ক্রিস্টিনা কোন এক শহরে। মনিকা দুপুরেই গেছে। বাসা থেকে বেরুনোর আগে ফোন করেছিল। ক্রিস্টিনা গত রোববার গেছিল পিতেরে, চলে এসেছে। ভাবছি কোথায় গেল, তখন মনে পড়ল আজ রিবিনস্কে যাবার কথা গান গাইতে। সেভাকে নিয়ে দোকানে গেলাম। রাত এগারটার দিকে ক্রিস্টিনার কাছে জানতে চাইলাম ও কোথায় আছে। ওরা তখন রাস্তায় ছিল। প্রায় একটা পর্যন্ত বসে থেকে ঘুমুতে গেলাম। পরের দিন শুনলাম ওরা এসে পৌঁছেছে ১২.৫০ এ। কোন রকমে মেট্রো পেলেও পার্ক কুলতুরির পর আমাদের লাইনে ঢুকতে পারেনি, হেঁটে এসেছে। মিনিট কুড়ি/পঁচিশের রাস্তা। যদিও বলেছিলাম ট্যাক্সি নিতে - কে শোনে কার কথা। অবশ্য আমি নিজেও ওই ...

ভ্যাক্সিন

Image
  ১৯৮৩ সালে আমি যখন মস্কো আসি ওজন ছিল মাত্র ৪৩ কেজি। এ নিয়ে আমার একটু গর্বই ছিল। অনায়াসে বৃষ্টির ফোঁটার ফাঁক গলিয়ে হেঁটে যেতে পারতাম, কোন দিন আমার কারণে লিফটে ওভার ওয়েট হত না (তবে মাঝে মধ্যে কোন বেয়াড়া লিফট আমাকে একা লিফট দিতে চাইতো না)। এক কথায় ওজন কম থাকলে মনও হালকা থাকে। আজ গেলাম ভ্যাক্সিন নিতে। স্পুটনিক লাইট। একটাই ডোজ। তবে সুইটা দেখে ভড়কে গেলাম। ওর দৈর্ঘ্য আমার হাতের ব্যাসের চেয়ে বেশি। তাই সিস্টারকে বললাম - ওটা পাছায় দেওয়া যায় না? - তোমার পাছা দিয়ে আমি কী করব? সত্যিই তো, আমার পাছা দিয়ে সে কী করবে? এর পরে আর কোন কথা থাকে না। অগত্যা হাতেই নিতে হল। অযথাই ভয় পেয়েছিলাম। অনেক সময় মশার কামড় এর চেয়ে বেদনাদায়ক। আজ অবশ্য আমার সাথে গুলিয়ারও ভ্যাক্সিন নেবার কথা ছিল। গতকাল থেকেই টালবাহানা শুরু করেছে। সকালে রেডি হয়ে জিজ্ঞেস করলাম - যাবে ভ্যাক্সিন নিতে? - আমার যা মাথা ব্যথা করছে, ভ্যাক্সিন নিলে মরেই যাব। - ভ্যাক্সিন না নিয়ে মরার চেয়ে নিয়ে মরাই ভাল। - কেন? - শুনলাম স্বর্গ আর নরকের দ্বারে নোটিশ ঝুলিয়েছে "যারা মৃত্যুপুরীতে আসার আগে ভ্যাক্সিন নেয়নি তাদের প্রবেশ নিষেধ।" দেখ আবার ঝুলে যেও ন...

সোভিয়েত নারীর দেশ ও এক লিপির গল্প

Image
  কয়েকদিন আগে সুপ্রীতি ধর লিপির “সোভিয়েত নারীর দেশে” বইটা পড়া শেষ করলাম। বইয়ের নাম সম্পর্কে ও নিজেই লিখেছে। আমিও দু’ কলম লিখছি সেটার সমর্থনে। আমি যখন এ দেশে আসি, অবাক হয়ে দেখি চারিদিকে শুধু নারী আর নারী – হাসপাতালে, দোকানে, ক্যান্টিনে, ক্লাসে – কোথায় নেই তারা? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পুরুষদের এক বিরাট অংশ হারিয়ে গেছে যুদ্ধ ক্ষেত্রে। শুধু কি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেই? সেই বিপ্লবের পর থেকে একের পর এক নেমে এসেছে কঠিন সব পরীক্ষা আর এসব পরীক্ষার প্রথম শিকার হয়েছে এদেশের পুরুষ। ফলে বরাবরই দেশ গড়ার কঠিন দায়িত্ব পড়েছে মেয়েদের কাঁধে। যুদ্ধ – এটা তো শুধু ফ্রন্ট লাইনে যুদ্ধ নয়, যোদ্ধাদের সময় মত রসদ সরবরাহ করা, মানে সাপ্লাই মেশিন চালু রাখা, এটা কে করেছে? হ্যাঁ সোভিয়েত নারীরা। তাই বলা চলে বিপ্লবের পর থেকে এদেশের নারীরাই দেশ গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে আর তাইতো সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অবাধ বিচরণ। সেদিক থেকে সোভিয়েত নারীর দেশে নামটি নিঃসন্দেহে ফিটিং। এর আগেও অনেকেই তাদের সোভিয়েত জীবন নিয়ে লিখেছে ন – দ্বিজেন কাকু,   খুররম ভাই, শাহাব, ববি আরও অনেকে। লিখেছে শাহীন তার মূলত সোভিয়েত পরবর...