রবীন্দ্রনাথ

এক মেয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিকে কালিমালিপ্ত করায় সেটা নিয়ে অনেক লেখালেখি হচ্ছে। বিভিন্ন ভাবে মেয়েটির নিন্দা করা হচ্ছে। যে উদ্দেশ্যে বা যে প্রেক্ষাপটেই করুক না কেন কাজটি নিন্দনীয়। অনেকে আবার ঐতিহাসিক দলিল হাজির করে যুক্তি দিয়ে মেয়েটিকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে সে ঠিক নয়। কিন্তু সমস্যা হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি তার ক্ষোভের কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে চলমান মিথ্যা প্রচার নয়। এর কারণ ঐ মেয়ে মানসিক ভাবে অসুস্থ। এই রোগের নাম সাম্প্রদায়িকতা, এক্ষেত্রে হিন্দু বিদ্বেষ। তবে বর্তমান বাংলাদেশে এই রোগ, বিশেষ করে রবি ঠাকুর বিদ্বেষ যেসব ল্যাবরেটরিতে উৎপাদিত হয় তাদের নাম বাংলাদেশী মুসলমান বুদ্ধিজীবী। তাই কথা বলতে হবে এইসব বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে, রুখতে হবে তাদের। 

বুদ্ধিজীবীদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল তারা সত্যনিষ্ঠ বক্তব্য রাখে। যদি সে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে ও কেউ ইতিহাস ও যুক্তিতর্ক দিয়ে সেটা খন্ডন করে তাহলে মানসম্মান বোধ সম্পন্ন যেকোনো বুদ্ধিজীবী নিজের ভুল স্বীকার করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অনেকের মিথ্যাচার বারবার খন্ডিত হবার পরেও এসব স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবী মিথ্যা প্রচার থেকে বিরত হয়নি। সরকারও এ ব্যাপারে কোন আইনি ব্যবস্থা নেয়নি। রবীন্দ্রনাথ, জাতীয় সঙ্গীত এসব নিয়ে জল ঘোলা করার চেষ্টা দীর্ঘ দিনের। এক্ষেত্রে সরকার মিথ্যাচারের জন্য এসব বুদ্ধিজীবীদের আইনের আওতায় আনতেই পারত। এছাড়া রবীন্দ্র প্রেমী, ইতিহাসবিদ এরাও আইনের শরণাপন্ন হতে পারত। হয়েছে কি? জানা নেই। তথাকথিত বাম, যারা নিজেদের একাত্তরের পক্ষের শক্তি বলে দাবি করে, মুক্তিযুদ্ধ ও রবীন্দ্রনাথ পরস্পর থেকে অবিচ্ছেদ্য হবার পরেও সলিমুল্লাহ খানকে, যে রবীন্দ্রনাথকে বিতর্কিত করে তোলার অন্যতম প্রধান কারিগর, বর্জন করে না কেন সেটাই ভাবার বিষয়। কিছু দিন আগে দেখলাম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সলিমুল্লাহ খান, ক্বাফি রতন সহ অনেকেই একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করছে। সলিমুল্লাহ খানের মত বিতর্কিত, মিথ্যাবাদী, দায়িত্ব জ্ঞানহীন কাউকে সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতারা রাজনৈতিক সিঁড়ি এগিয়ে দিচ্ছে দেখলে এদের অসাম্প্রদায়িকতা ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন জাগে।

মস্কো, ১১ অক্টোবর ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

প্রশ্ন