Posts

Showing posts from February, 2026

ভয়কে করব জয়

Image
রুশ গোয়েন্দা সংস্থা ঘোষণা করেছে যে ফ্রান্স ও ব্রিটেন ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্র হস্তান্তর করার পরিকল্পনা করছে। সেটা এমনভাবে করা হবে যেন মনে হয় ইউক্রেন নিজ শক্তিতেই এই বোমা তৈরি করেছে। ফ্রান্সের সাবমেরিনের ব্যালেস্টিক মিসাইল এম৫১.১ এর ওয়ারহেড টিএন৭৫ হাতে পেলে কিয়েভ শান্তি চুক্তিতে শক্ত অবস্থান নিতে পারবে। এই অস্ত্র হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত কয়েকটি বোমার সমান শক্তিশালী। রাশিয়া বলেছে এটা হবে পারমানবিক অস্ত্র সম্প্রসারণ না করার আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন। মস্কো এক্ষেত্রে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হবে।  যুদ্ধ মানেই কারোও জয় কারোও পরাজয়। এটা অনেকটা খেলার মত। যদি পরাজয় মেনে নেবার মানসিক শক্তি না থাকে তাহলে যুদ্ধ নামা উচিত নয়। কারণ সেক্ষেত্রে একটি মাত্র পথ খোলা থাকে। ধ্বংস হওয়া।  ইউরোপ সেই পথেই হাঁটছে। বিশ্ব রাজনীতিতে দেউলিয়া হয়ে এখন সে সর্বহারা - শিকল ছাড়া হারোনোর কিছু নেই, জয় করার জন্য আছে পারমাণবিক শীতের ভয়। দুবনা, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রতিভা

Image
মেধা, নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি এসব কারণে যদিও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জাগত তবুও যখন ডঃ ইউনুসকে প্রধান উপদেষ্টা করা হয় তখন আমার মনে হয়েছিল ডাঃ জাফর উল্লাহ সবচেয়ে যোগ্য মানুষ হতে পারতেন এই পদের জন্য। কারণ এসব পদের জন্য সবচেয়ে বড় ক্রাইটেরিয়া হল দেশপ্রেম। ডাঃ জাফর উল্লাহর দেশপ্রেম ছিল সন্দেহাতীত। ডঃ ইউনুস বিভিন্ন সময় সন্দেহ করার সুযোগ দিয়েছেন।  দীর্ঘ আঠারো মাসের শাসন শেষে ডঃ ইউনুস বিদায় নিয়েছেন। তাঁর শাসনামল নিয়ে অনেক লেখা হবে। নিজ নিজ উপলব্ধি থেকে বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে তাঁর সময়ের আর সেই সাথে তাঁর মূল্যায়ন করবে।  সাধারণ মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা ছিল দীর্ঘ সময় ভয়ের যে সংস্কৃতি বিরাজমান ছিল তিনি দেশকে তা থেকে মুক্ত করবেন। তা হয়নি। তিনি মবের মাধ্যমে ভয়ের সংস্কৃতি আরও গভীর করেছেন।  কথা ছিল স্বজনপ্রীতির অবসান ঘটবে। তিনি নিজেকে তো করমুক্ত করেছেনই নিজের আত্মীয়-স্বজনদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছেন।  মানুষ ভেবেছিল আওয়ামী লীগের হাত থেকে উদ্ধার করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি মুছে ফেলার জন্য সব রকমের চেষ্টা করে...

গ্রহণ বর্জন

Image
আন্তন চেখভের একটা বিখ্যাত উক্তি – “দেয়ালে যদি রিভলবার ঝোলানো থাকে তাহলে আজ হোক কাল হোক একদিন না একদিন সেটা থেকে গুলী বেরুবেই।” ইউরোপে আজ অস্ত্রের ঝনঝনানি। জার্মানি থেকে শুরু করে সবাই তাদের মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিকে চাঙ্গা করতে চাইছে। এ জন্য দরকার শত্রু। বাস্তব হোক আর কাল্পনিক হোক – শত্রু দরকার। রাশিয়া উত্তম ভাবে সে ভূমিকা পালন করতে পারে। এটা অনেকটা পাশের বাড়ির নাদুসনুদুস ষাঁড়ের মত। সে এমনকি যারপরনাই শান্ত ও বন্ধুবৎসল হলেও মানুষ তাকে ভয় পাবেই। যুক্তি একটাই। ষাঁড়। বলা তো যায় না কী আছে ওর মনে। হঠাৎ যদি গুঁতা দিয়েই বসে। ফলে আশেপাশে কোন বড় দেশ থাকলেই ছোট ছোট দেশগুলো ভয়ে থাকে আর ভয় থেকে যুদ্ধংদেহী মনোভাব আর সেই সাথে অস্ত্র ভাণ্ডার বোঝাই করা। এতে অন্যান্য খাত শুকিয়ে যায়। সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ে। আর সবচেয়ে বড় কথা অস্ত্র ব্যাপারটা যাকে বলে গরীবের ঘোড়া রোগ। কারণ অস্ত্র ফেলে রাখলে চলে না, এর যত্ন নিতে হয়। অস্ত্রের নির্দিষ্ট আয়ু আছে। সময় মত ব্যবহার না করলে বিদ্রোহ করতে পারে, মানে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। অন্য দিকে পুরানো অস্ত্র শান্তিপূর্ণ উপায়ে ধ্বংস খুবই ব্যয় সাপেক্ষ। এটা অনেকটা কারখা...

খেলা

Image
ছোটবেলায় আমরা প্রায়ই শম্ভু নামে এক পাগলাটে ছেলেকে ক্ষ্যাপাতাম এই বলে যে ও এটা করতে পারবে না। আর নিজেকে প্রমাণ করতে ও সেটা করার চেষ্টা করে সবার হাসির খোড়াক হত। এমনকি ও জিতে গেলেও কেউ তার গুরুত্ব দিত না। ওকে নিয়ে মজা করাই ছিল আসল উদ্দেশ্য।  আজকাল বিভিন্ন অনলাইন গ্রূপে এ ধরণের ঘটনা ঘটে। মূলত টিন এজারদের বিভিন্ন রকম প্রায় অসম্ভব কাজ করতে বলে। যেমন ট্রেনের ছাদে চড়ে ভ্রমণ, প্রচুর পরিমাণে খাবার খাওয়া আর এসবের ভিডিও করে প্রচার করা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর ফলাফল হয় ফাটাল।  ইউরোপ আবার জেলেনস্কিকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করছে। না, জিততে পারবে না। তাদের জন্য জয় মানে রাশিয়ার অস্ত্র ভান্ডার কমানো। তাদের যুক্তি ইউক্রেনের পরে রাশিয়া তাদের উপর আক্রমণ করবে। তারা কি এটা বিশ্বাস করে? না। বলে কেন? জনগণকে ধোঁকা দিতে। কারণ তারা যদি বিশ্বাস করত রাশিয়া তাদের আক্রমণ করবে তাহলে এটাও বিশ্বাস করত যে রাশিয়া সেক্ষেত্রে পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না। আর তাহলে নিজেরাই উদ্যোগী হতে যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ শেষ করতে। ওরা রাশিয়ার ভয় দেখালেও রাশিয়াকে ভয় পায় না, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে নামত...

দেশপ্রেম

Image
গণতন্ত্রে ক্ষমতার রদবদল অনেকটা রিলে রেসের মত। দেশ যদি টিম হয় আর এই টিমের সদস্য হিসেবে যদি দশকে বিজয়ী করতে চাই তাহলে দেশটাকে যতদূর সম্ভব সুন্দর ভাবে পরবর্তী রানার বা শাসকের হাতে তুলে দিতে হয়। সেটা না করলে দলের বা দেশের প্রতি আস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ২০১৬ সনে ট্রাম্প নির্বাচনে বিজয়ী হলে বিদায়ের আগে ওবামা রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক এমন পর্যায়ে নিয়ে যান যে সেই আঘাত আজও কাটিয়ে উঠতে পারে নাই মার্কিন - রুশ সম্পর্ক। এটা ওবামার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ দেয়। কারণ এই দুই দেশের সম্পর্ক বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিরাট ফ্যাক্টর। নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ডঃ ইউনুস আমেরিকার সাথে এক চুক্তি স্বাক্ষর করেন যা রাজনৈতিক, বানিজ্যিক ও সামরিক ভাবে পরবর্তী শাসক তথা বাংলাদেশকে নানামুখী বিপদের সম্মুখীন করতে পারে। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ডঃ ইউনুসের দেশপ্রেম কখনোই প্রশ্নাতীত ছিল না, এই চুক্তি নতুন করে আরও অনেক প্রশ্নের জন্ম দেবে তার দেশপ্রেম নিয়ে। দুবনা, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রশ্ন ও আশা

Image
নির্বাচনে সিপিবির ফলাফল দেখে একটু হতাশ হলাম। না, তারা জিতবে সে আশা করিনি, তবে কিশোর রায় ও মিহির ঘোষ নিজ নিজ আসনে আরও ভালো করবে সেটা আশা করেছিলাম। সবচেয়ে হতাশ করেছে সিপিবির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এরা পার্টির মুখ। এদের ভোটের পরিমাণ যখন দিন শেষে ভিক্ষুকের থলিতে যে খয়রাত পড়ে তারচেয়ে কম হয় তখন নিজেকে লুকানোর জায়গা খুঁজে পাই না। সিপিবি একটি ঐতিহ্যবাহী দল। সাজ্জাদ জহির চন্দন ও আবদুল্লা আল ক্কাফি রতন দু'জনেই আশি ও নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা। তাই তাদের এই ফলাফল এক অর্থে বাম রাজনীতির প্রতি, সিপিবির প্রতি, সিপিবির নেতৃত্বের প্রতি জনগণের চপেটাঘাত। গত কংগ্রেসে পার্টির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সিপিবিতে অনেক নাটক হয়েছে। এবার কি আমরা জবাবদিহিতা দেখতে পাব? আমরা সবসময় অন্যদের কাছে জবাবদিহিতা আশা করি। কবে নিজেরা ব্যর্থতার জবাব দিতে শিখব? নির্বাচনে দেশের মানুষ মৌলবাদী ও একাত্তরের বিরোধী শক্তিকে না করেছে। বিগত দেড় বছরে বিএনপির এডভোকেট ফজলুর রহমান যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লড়াই করেছেন পার্টির কোন নেতা তার ধারেকাছেও ছিল না। এমনকি এই প্রশ্নে মির্জা ফখরুলের ধারেকাছেও ছিল না পার্টির কেউ। ...

নির্বাচন

Image
বাংলাদেশের নির্বাচন শেষ হল। হাজারটা সংশয়ের পরেও নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে সেটা সুসংবাদ। আরও বড় সুখবর হল এবারে নির্বাচনে লোকক্ষয় অনেক কম। এর অন্যতম প্রধান কারণ উগ্র নির্বাচন বিরোধী শক্তির অনুপস্থিতি। তার মানে সমস্ত দল যদি সত্যিকার অর্থেই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় সেটা সম্ভব।  বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হয়েছে বলেই মনে হয়। তারেক জিয়ার মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, অবিশ্বাসী ও সংশয়বাদীদের বিষয়ে বক্তব্য আশাব্যঞ্জক। আশা করি তিনি মনে রাখবেন বিএনপির এই বিজয়ের পেছনে শুধু তার দলের সমর্থক নয়, যারা ধর্মভিত্তিক ও মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে তাদেরও অনেক অবদান আছে। এটা মূলতঃ ছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় এবং মানুষ নির্বাচনে অন্য কোন বিকল্প না থাকায় একাত্তরের চেতনা রক্ষা ও বিকাশের দায়িত্ব বিএনপির উপর ন্যস্ত করেছে। তারা জামায়াত শিবির প্রত্যাখ্যান করেছে। তারেক জিয়া যদি মানুষের এই রায়ের কথা মাথায় রাখেন তাহলে সেটা ভবিষ্যতে বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিশালী এক রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। আর যদি তাই হয় তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানুষ আর বাংলাদেশ না পাকিস্তান -...

না

Image
দেড় বছর আগে কি দেশে সুশাসন ছিল? মোটেই না। আর তাই সারা দেশের সর্ব স্তরের মানুষ রাস্তায় নামে। লক্ষ্য একটাই - আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, হেলমেট বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি পাওয়া। এর পেছনে কোন মেটিকুলাস প্ল্যানের কথা মানুষ জানত না। তারা নিজেদের কষ্টের কথা জানত, শাসকগোষ্ঠীর দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কথা জানত। তারা এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ চেয়েছিল। গত দেড় বছরে মানুষের আশা পূর্ণ হয় নি। না এসেছে আইনের শাসন, না কমেছে দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি। মানুষের পিঠ আরও বেশি করে দেওয়ালের সাথে মিশে গেছে। সে আরও বেশি করে ভীতি গ্রস্থ। তাই এই সরকারের আয়োজিত গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেয়া হবে এই অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, এই দেশদ্রোহী শক্তির সমস্ত অপকর্মকে আইনি ভিত্তি দেয়া। যদি গত দেড় বছরের শাসনের সাথে একমত পোষণ না করেন আপনার নাগরিক দায়িত্ব হবে না ভোট দেয়া। অপশাসনকে না করুন। দুবনা, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দেশি হাসপাতাল

Image
সত্য না মিথ্যা সেটা জানি না, তবে বিভিন্ন সময়ে শুনেছি দেশের বিভিন্ন কমার্শিয়াল হাসপাতালে রুগি মারা যাবার পরেও তাকে আইসিইউতে রাখা হয় বেশি চার্জ করার জন্য। ইউরোপ এখন ঠিক দেশি হাসপাতালের মত কাজ করছে এবং কোন আশা নেই জেনেও ইউক্রেনকে যুদ্ধ তথা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এতে শুধু ইউক্রেন মানুষ হারাচ্ছে না, হারাচ্ছে ভূমি, অবকাঠামো আর প্রতিদিন বাড়ছে ঋণ। যদি কেউ ভাবে ইউরোপ বা আমেরিকা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইউক্রেনকে শত শত বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। যুদ্ধ যত দেরিতে শেষ হবে, ইউক্রেন যত দুর্বল হবে সেই ঋণ শোধ করা তত বেশি কঠিন হবে। আর ইউক্রেনকে তত শক্ত শর্তের নাগ পাশে বাঁধা যাবে। পুঁজিবাদ এমনি এমনি কিছু দেয় না। অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়া ভালো, বিশেষ করে অন্যদের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে। সেটা অনেক কম বেদনাদায়ক। আমাদের দেশের এক্সিকিউটিভ অফিসাররা সেটা বোঝে কি? নাকি তারা নিজ নিজ মালিকদের তাঁবেদার মাত্র? দুবনা, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সিংহ, হায়েনা ও মহিষের গল্প

Image
ট্রাম্প জেলেনস্কিকে রাশিয়ার সাথে শান্তি চুক্তি করতে চাপ দিচ্ছেন, অন্যদিকে ইউরোপ, বিশেষ করে পোল্যান্ড, জার্মানি, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স সর্বোতভাবে চেষ্টা করছে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর বিষয়ক আলোচনা বানচাল করতে। আবু ধাবিতে শান্তি আলোচনা চলার সময় রুশ জেনারেলের উপর সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ তার জ্বলন্ত স্বাক্ষ্য। আর এসব হচ্ছে ন্যাটোর মহাসচিব রুট্টে, পোলিশ মন্ত্রী সিকোরস্কি এদের কিয়েভ সফরের পরপর। এটা অনেকটা হায়েনাদের মহিষকে সিংহের মুখে ঠেলে দেবার মত। সিংহ লড়াই করে মহিষকে মারবে, কিছুটা খেয়ে চলে যাবে, পরে হায়েনারা দল বেঁধে মহিষের মাংস দিয়ে পিকনিক করবে। আসলে গণতন্ত্র ফনতন্ত্র কিচ্ছু না, রাশিয়া যুদ্ধ করে ইউক্রেনকে দুর্বল করে নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ার পরে পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া ইউক্রেনের অবশিষ্টাংশ নিজেদের করে নেবে। এভাবেই কৃত্রিম জাতিসত্তা সোভিয়েত জাতির মত ইউক্রেন জাতিসত্তা একদিন ইতিহাস হয়ে যাবে। যুগোস্লাভিয়া, সোভিয়েত ইউনিয়ন, লিবিয়া কত দেশই তো পৃথিবীর মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেল। ইউক্রেন হারিয়ে যাবে। কয়েক বছর পরে কেউ ইউক্রেনের কথা মনেও রাখবে না। দুবনা, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ...

ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা

Image
আজকাল এপস্টেইন ফাইল নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। এর কন্টেন্টের সত্যতা নিশ্চিত করবে আদালত। তবে একটি কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে যারা পৃথিবীর ভাগ্য বিধাতা তাদের মধ্যে নৈতিকতার বালাই বলে কিছু আর অবশিষ্ট নেই। সামন্ত সমাজে রাজা বাদশাহ যা বলত সেটাই হত আইন। এখনও আমরা সেই অবস্থা থেকে খুব একটা দূরে যেতে পারিনি যদিও প্রক্রিয়া এখন অনেক বেশি গণতান্ত্রিক। আর এর ফলে আমরা আম জনতাও এ সমস্ত কেলেঙ্কারির দায় ভাগী। ডঃ ইউনুস বলেন, আলী রিয়াজ বলেন এরা সবাই এই খোঁয়াড় থেকে বেরিয়ে আসা মাল। মোটা দাগে অশ্লীল স্লোগান দেয়া জেন-জি আর এসব রত্নদের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। জেন-জি, ওয়াজ করা হুজুর, বিএলএম এরা রুক্ষ কাঁচা মাল, ডঃ-রা আর এপস্টেইন ফাইলের নট নটীরা সংস্কৃতির মোড়কে উপস্থাপিত। একটা লিমিট অতিক্রম করার পর অর্থ অর্থহীন হয়ে পড়ে। তখন মনে হয় সারা বিশ্ব তার পায়ের তলায়। এই ঘটনা আমাদের কিছুই শেখাবে না, আমরা আগের মতই এদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকব আর তাদের হাতে নিজেদের ভাগ্য সঁপে দেব।‌ আর এসব অপদার্থদের গলা ধাক্কা দিয়ে বের না করে ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মত এসব মানুষের কেচ্ছা কাহিনী শুনে আনন্দে হাততালি দেব। দুবনা, ০...

যুদ্ধ

Image
আজ ২ ফেব্রুয়ারি। বছরের এই দিনটায় ভোলগাগ্রাদ তার স্তালিনগ্রাদ বা স্ট্যালিনগ্রাড নাম ফিরে পায়। ১৯৪৩ সালের এই দিনে রেড আর্মি নাৎসি বাহিনীকে পর্যদুস্ত করে। সমাপ্তি ঘটে দীর্ঘ ২০০ দিনের যুদ্ধ। নাৎসি জার্মানির শেষের শুরু হয় এখান থেকেই।  আজও এখানে নতুন একটি সমাধি খোঁড়া হল। বিজয়ের আশি বছর পরেও রাশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় মৃত সেনাদের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বেড়ায় স্বেচ্ছাসেবক দল। যখনই কারো পরিচয় নিশ্চিত হয় যথাযথ মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হয়।  আমাদের যুদ্ধ শেষ হয়েছে (?) ৫৫ বছর আগে। এখন তো দূরের কথা এমনকি সত্তরের দশকেও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করা হয়নি। বছর দশেক আগে যে তালিকা করা হয়েছিল তাতে ভুলের পরিমাণ ছিল কল্পনাতীত। আসলে রাষ্ট্র কখনোই তার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেয়নি, তাদের নিয়ে রাজনীতি করেছে।  আজ দাগিস্তানের এক যোদ্ধাকে সমাহিত করা হল নিজ গ্রামে। এর আগে আহত হয়ে যুদ্ধে না যাবার সমস্ত কারণ থাকা সত্ত্বেও সে ফিরে যায় সহযোদ্ধাদের কাছে। সেখানেই মৃত্যুবরণ করে। কেন যায়? মনে হয় এজন্য যে জানে দেশ, জাতি, রাষ্ট্র তাকে ভুলবে না। এখানে কাউকে ভুলে না, কিছুই ভুলে না। আর তাই...