প্রশ্ন ও আশা

নির্বাচনে সিপিবির ফলাফল দেখে একটু হতাশ হলাম। না, তারা জিতবে সে আশা করিনি, তবে কিশোর রায় ও মিহির ঘোষ নিজ নিজ আসনে আরও ভালো করবে সেটা আশা করেছিলাম। সবচেয়ে হতাশ করেছে সিপিবির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এরা পার্টির মুখ। এদের ভোটের পরিমাণ যখন দিন শেষে ভিক্ষুকের থলিতে যে খয়রাত পড়ে তারচেয়ে কম হয় তখন নিজেকে লুকানোর জায়গা খুঁজে পাই না। সিপিবি একটি ঐতিহ্যবাহী দল। সাজ্জাদ জহির চন্দন ও আবদুল্লা আল ক্কাফি রতন দু'জনেই আশি ও নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা। তাই তাদের এই ফলাফল এক অর্থে বাম রাজনীতির প্রতি, সিপিবির প্রতি, সিপিবির নেতৃত্বের প্রতি জনগণের চপেটাঘাত। গত কংগ্রেসে পার্টির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সিপিবিতে অনেক নাটক হয়েছে। এবার কি আমরা জবাবদিহিতা দেখতে পাব? আমরা সবসময় অন্যদের কাছে জবাবদিহিতা আশা করি। কবে নিজেরা ব্যর্থতার জবাব দিতে শিখব? নির্বাচনে দেশের মানুষ মৌলবাদী ও একাত্তরের বিরোধী শক্তিকে না করেছে। বিগত দেড় বছরে বিএনপির এডভোকেট ফজলুর রহমান যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লড়াই করেছেন পার্টির কোন নেতা তার ধারেকাছেও ছিল না। এমনকি এই প্রশ্নে মির্জা ফখরুলের ধারেকাছেও ছিল না পার্টির কেউ। আলী রিয়াজদের সুপ্রসন্ন দৃষ্টিতে পড়ার জন্য বরং পার্টির নেতাদের কেউ কেউ বাহাত্তরের সংবিধানকে কম্প্রোমাইজ করার অপচেষ্টা করেছে। এডভোকেট ফজলুর রহমান একাই দেখিয়ে দিয়েছেন এত কিছুর পরেও বাংলার মাটিতে একাত্তর এখনও সবচেয়ে কাটতি চেতনা যা মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে আগলে রাখতে চায়। তাই স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে নির্বাচনে পার্টির এই ভরাডুবি বাহাত্তরের সংবিধান ও একাত্তর প্রশ্নে পার্টির দোদুল্যমান অবস্থানের ফল নয় তো? শেখ হাসিনা যেমন হাজারটা মসজিদ গড়ে বা কওমি জননী হয়েও মুসুল্লিদের আস্থা অর্জন করতে পারেননি, সিপিবিও তেমনি একাত্তর আর চব্বিশের এক অদ্ভুত মিক্সচার জনগণকে গেলাতে পারবে না। আশা করি নির্বাচনের গণ রায় থেকে শিক্ষা নিয়ে পার্টি তার রণনীতি, রণকৌশলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনবে ও নেতৃবৃন্দ নিজেদের ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ ঠিক করবে।

দুবনা, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

রিংকু