Posts

গাছ কাটা

Image
১৯৮৬ সালের গ্রীষ্মে সাইবেরিয়া যাই ছাত্র নির্মাণ দলে। ছিলাম বনের ভেতর এক ক্যাম্পে। আসলে এটা ছিল গুলাগ। মানে এক সময় সেখানে ভিন্ন মতাবলম্বীদের রাখা হত। প্রথম দিনই আমাদের টয়লেটে, বাথরুম এসব তৈরি করতে গাছ কাটতে হল। এখনও মনে পড়ে করাত দিয়ে গাছ কাটার সময় দড়ি দিয়ে টানছিলাম যাতে গাছটা খুশি মত না পরে যায়। দলের প্রধান বলেছিল গাছ শুধু কাটলেই হবে না, সেটা পরার সময় যাতে ক্ষতি না করে আর আমাদের কাজে আসে সেটাও দেখতে হবে। এখন দেশে সরকার ফেলানোর তোড়জোড় দেখে আমার সেই গাছ কাটার কথা মনে পড়ে গেল। বিরোধী দল সরকার ফেলতে চাইবে এটা স্বাভাবিক। তবে তার আগে ভাবতে হবে এই পরিবর্তন নির্দিষ্ট দলের জন্য কতটুকু সুফল বয়ে আনবে আর তাদের সাহায্যে সরকার ফেলে আরও বেশি প্রতিক্রিয়াশীল কেউ ক্ষমতায় আসবে না তো? অন্যের ঘরে ফসল তোলা কি আমাদের জন্য এতটাই জরুরি? দুবনা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

গল্প

Image
সামাজিক মাধ্যমের যুগে, যখন খুব সহজেই নিজেকে অন্যদের সামনে তুলে ধরা যায়, অধিকাংশ মানুষ চায় অপেক্ষাকৃত পরিচিত মানুষের সাথে ছবি তুলে সেসব পোস্ট করে সেই লোকের পরিচয়ে নিজেও একটু পরিচিত হতে। এরা প্রায়ই বোঝে না যে, নিজে পরিচিত হতে গিয়ে তারা আসলে সেই লোকটার পরিচিতি বা জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিচ্ছে। অধিকাংশ মানুষ এসব ছবিতে শুধু সেলিব্রিটির দিকেই তাকায়, তার আশেপাশের চ্যালা চামুন্ডার দিকে ভ্রূক্ষেপ পর্যন্ত করে না। ফলে এসব করে তেল মাথায় আরও তেল মাখা হয়, নিজের মাথায় ছিটেফোঁটাও পরে না। ছোটবেলায় ছেলেমেয়েরা বৃদ্ধদের মুখে বিভিন্ন গল্প শুনতে ভালবাসে। সবাই তাঁকে ঘিরে বসে থাকে, হা করে গল্প শুনে। শুধু কিছু কিছু দুষ্ট ছেলেমেয়ে, যারা সেই গল্পের মাঝে হইচই করতে পারে, তারা কিছুটা হলেও ফ্লোর পায়, বাকীরা সবার অগোচরেই থেকে যায়। পশ্চিমা বিশ্বের নেতারা যখন এরকম আড্ডায় বসেন আর বাইডেন দাদু যখন তাদের পুতিন অসুরের গল্প শোনান, তখন তারাও মন্ত্রমুগ্ধের মত সেসব গল্প শোনে আর মাঝে মধে দুষ্ট ছেলে জেলেনস্কি অভিনয় গুণে অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। তবে এখনও পর্যন্ত জেলেনস্কিকে ভিক্ষুর ভূমিকায় অভিনয় করতেই দেখা যায়, নায়ক নয়। ...

ভাবনা

Image
শুনেছি, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের কেউ কেউ ক্যানাডায় বাস করে। এখন আসুন এরকম একটি দৃশ্য কল্পনা করি যা মোটেই অসম্ভব নয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম জিয়া গেছেন ক্যানাডায় রাষ্ট্রীয় সফরে। মিঃ ট্রুডো ক্যানাডার পার্লামেন্টে তাঁর সম্মানে বিশেষ আয়োজন করেছেন এবং কোন কারণ বশতঃ বর্তমানে ক্যানাডার সম্মানিত নাগরিক বঙ্গবন্ধুর সেই খুনীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, সেই লোক এক দলীয় শাসন থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করেছে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছে ইত্যাদি বলে তার প্রতি সম্মান জানিয়েছে। পরে স্থানীয় বাংলাদেশী অভিবাসীরা এর প্রতিবাদ করলে মিঃ ট্রুডো তাদের অজ্ঞতার কারণে এরকম এক অস্বস্তিকর পরিবেশে ফেলার জন্য বেগম জিয়ার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও অভিবাসী বাংলাদেশীরা এ নিয়ে রাজনীতি করছে বলেও এক হাত নিয়েছেন। ক্যানাডার পার্লামেন্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির আগমন উপলক্ষ্যে ঠিক এমনটাই ঘটেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হিটলার, মুসোলিনির অনুরাগী আর সেই সূত্র ধরেই যুদ্ধ শেষ অনেক নাৎসি, বিশেষ করে ইউক্রেনের বান্দেরাপন্থীরা সেদেশে আশ্রয় প...

আত্মত্যাগ

Image
আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে এই দিনে নর্থ স্ট্রীম ধ্বংস করা হয়েছিল। প্রথমে সমস্ত কমন সেন্সের বিরুদ্ধে গিয়ে আমেরিকা সহ পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার উপর এর দায় চাপায়। পরবর্তীতে পুলিৎসার পুরস্কার প্রাপ্ত আমেরিকান সাংবাদিক সেইমুর হের্শ প্রমাণ করেন যে এর পেছনে আমেরিকার হাত আছে। তবে আমেরিকা তার প্রথম ভার্সন থেকে সরে এসে এই ঘটনার পেছনে ইউক্রেন দায়ী বলে প্রচার চালায়। এরপরেও যে দেশ এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সেই জার্মানিও আমেরিকান ভার্সনে বিশ্বাস করে বা করতে বাধ্য হয়। বার বার আহ্বান করা সত্ত্বেও তারা রাশিয়ার সাথে যৌথ ভাবে তদন্ত চালাতে রাজী হয়নি। ফেসবুকে এরকম একটা পোস্ট প্রায়ই চোখে পড়ে “আগে মানুষ মিথ্যা বলতে ভয় পেত পাপ হবে বলে, এখন সত্য বলতে ভয় পায় বিপদে পড়বে বলে।” জার্মানি মনে হয় সেই বিপদে পড়ার আশঙ্কায় সত্য বলছে না যদিও তার শিল্পের ও অর্থনীতির যে অবস্থা তাতে আর কত বিপদ হতে পারে সেটা ভাবনার বিষয়। এই বিস্ফোরণের ফলে শুধু রাশিয়া ও জার্মানির অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়নি, পরিবেশও প্রচন্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে পরিবেশবাদীদের উচ্চবাচ্য নেই। কারণ কথায় আছে “যে পয়সা দেয় সেই নাচায়।” এরকম এক...

ভিসা

Image
আমেরিকা ভিসা দেবে না বলে চারিদিকে কান্নার রোল। আমাদের জীবনে মার্কিন ভিসা কি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ? আমার তো মনে হয় বরং আমরা নিজেরাই আমেরিকার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সস্তা শ্রমিক, বিনে খরচে বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী হাজার হাজার বিশেষজ্ঞ। যদি আমেরিকায় অভিবাসী তৃতীয় বিশ্বের লোকজন কয়েক দিনের জন্য ধর্মঘটে যায় কল্পনা করতে পারেন দেশটার কি হাল হবে? কান্নাকাটি বাদ দিয়ে বয়কটের হুমকি দিন দেখবেন ওরা নিজেরাই ডেকে নেবে। নিজের দেশকে নিয়ে গর্ব করতে শিখুন। মেরুদণ্ড খুঁজে বের করার এই তো সময়। দুবনার পথে, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

নাক

Image
অনেকেই এরকম অভিযোগ করে যে কাছের মানুষই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। আসলে কাছের মানুষ কষ্ট দিলে ব্যথাটা আমাদের বেশি লাগে। তাই দেয় না পাই এ বিষয়ে ঐক্যমতে না এলে এই সমস্যা অমীমাংসিত থেকে যাবে। তাছাড়া অপরিচিত কেউ যদি গুন্ডা পান্ডা বা পাগল বা অভদ্র না হয় তাহলে পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া লাগাবেই বা কেন? কাছের মানুষের সাথে ইচ্ছা অনিচ্ছায় ওঠা বসা করতে হয়, অনেক কিছুই ভাগাভাগি করে নিতে হয় বিধায় মনোমালিন্য তথা মনোকষ্ট পাবার সম্ভাবনা থেকেই যায়। একই কথা প্রতিবেশী দেশের ক্ষেত্রে। এখানে ও ঐ একই রসায়ন কাজ করে। আমেরিকার কথা ভিন্ন। ও গুন্ডাদের মত সবার ব্যাপারেই নাক গলায়। মস্কোর পথে, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

উন্নয়ন

Image
ছাত্রজীবনে যেসব বন্ধু আমেরিকায় বেড়াতে গেছে বা যাদের আত্মীয় স্বজন সেদেশে থাকত, ওদের মুখে শুনেছি সেখানে ক্রেডিট কার্ডের স্বাস্থ্য দিয়ে বিবেচনা করা হয় কে সফল আর কে ব্যর্থ এই জীবনে। এখন সেখানে কীভবে সাফল্য আর ব্যর্থতা মাপা হয় সেটা জানি না। তবে দেশে এখন যে অর্থই একমাত্র অর্থময় সেটা বুঝতে পারি। উন্নয়নের মূল কথাই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। কারা সেই রিজার্ভকে খাইয়ে পরিয়ে মোটা তাজা করে? অল্প শিক্ষিত বা লেখাপড়া না জানা সেই সব মানুষ যারা আরব দেশগুলোতে কাজ করে আর একই ধরণের নারীরা যারা গার্মেন্টস সেক্টরে কাজ করে। অর্থাৎ দেশে যে উন্নয়নের মহোৎসব চলছে তার জ্বালানি থেকে শুরু করে চাল ডাল সব কিছু যোগান দিচ্ছে এই অল্প শিক্ষিত মানুষেরা। পক্ষান্তরে বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করা মেধাবী তরুণ তরুণীরা হয় বিদেশে গিয়ে ক্যারিয়ার গড়ছে নয়তো দেশে চাকরি করে টাকা পয়সা, ছেলেমেয়ে সব বিদেশে পাচার করছে। এটা বাংলাদেশের ওভার অল চিত্র। তাই ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষায়তন না করে টাঁকশাল করতে চাইবেন তাতে অবাক হবার কী আছে? দল মত নির্বিশেষে আজ দেশের রাজনীতির ভেক্টরের দিক পুরোটাই অর্থ দিয়ে নির্ধারিত। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা রাজনৈতিক ভাবে এ ...