প্যারাডক্স
শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বেই বামেরা দলত্যাগী সহযোদ্ধাদের গণশত্রু হিসেবে গণ্য করে। আমাদের দেশের প্যারাডক্স হল এমনকি মির্জা ফখরুল বা
এরকম অনেকেই যারা একসময় ছাত্র ইউনিয়ন করতেন তাদের নিয়ে অনেক বামেরা গর্ব করলেও নূহ-উল আলম লেনিন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, এমনকি মতিয়া চৌধুরীকে এদের অনেকেই ঘৃণার চোখে দেখে। বাংলাদেশের সিপিবি, ছাত্র ইউনিয়ন, কৃষক সমিতি ও অন্যান্য গণসংগঠন জনপ্রিয় করার পেছনে এদের যথেষ্ট অবদান থাকার পরেও বামদের কাছে এরা ব্রাত্য।
এর কারণ হয়তো যারা সরাসরি দক্ষিণপন্থী রাজনীতিতে যোগ দেয় তাদের এরা প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে না, কিন্তু কেউ বাম বা মধ্যপন্থী রাজনীতিতে যোগ দিল তাদের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে। আমরা অতি সহজে পুরানো সহযোদ্ধাদের ভুলে যাই বলেই সহজেই নিজেদের অতীত ভুলে যাই। একসাথে না চললেই কেউ অপাঙ্ক্তেয় হয় না, তাদের অতীত অবদান নাই হয়ে যায় না। যারা বিভিন্ন কারণে দল ত্যাগ করেছেন তারা আর যাই হোক দলের সাথে প্রতারণা করে নাই। সহজ ভাষায় বললে একসাথে চলতে না পেরে বিবাহ বিচ্ছেদের পথ বেছে নিয়েছে। বরং যারা পার্টির ভেতরে থেকে আদর্শের সাথে প্রতারণা করেন তারা পার্টির জন্য, আদর্শের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর, এরা একদিকে সংসার করে অন্যদিকে পরকীয়া করে। যদি সংশোধনবাদী কেউ হয় তবে তারা দলত্যাগী নেতা কর্মীরা নয়, সংশোধনবাদী তারাই যারা পার্টির মুখোস পরে পার্টির ভেতরে থেকে পার্টির আদর্শ বিরোধী কাজ করে।
দুবনা, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
Comments
Post a Comment