Posts

সার্বক্ষণিক

Image
যখন দেশে ছিলাম তখন অনেককেই দেখতাম সার্বক্ষণিক রাজনীতি করতে। এদের বেশিরভাগই বামপন্থী। অনেকেই আশু বিপ্লবের স্বপ্নে বিভোর হয়ে বাড়িঘর, পরিবার পরিজন, স্ত্রী সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বেমালুম ভুলে যেতেন। এ নিয়ে এসব সংসারে অশান্তি কম ছিল না। তবে সবার শান্তির জন্য অনেকেই ব্যক্তিজীবনে এই অশান্তিটুকু মেনে নিতেন। এখন একই ভাবে পশ্চিমা বিশ্বের নেতারা নিজ নিজ দেশের কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষের সুখ শান্তির কথা ভুলে ইউক্রেনে গণতন্ত্র রক্ষায় ব্যস্ত যদিও বর্তমান ইউক্রেনের গণতন্ত্র আইয়ুব খানের গণতন্ত্রের চেয়ে কোন মতেই সরস নয়। বরং এই গণতন্ত্র ফ্যাসিবাদী অলঙ্কারে সজ্জিত। এই দু ধরণের লোকদের মধ্যে মিলটা এখানে যে তারা কেউই তারা কেউই বর্তমান পরিস্থিত মেনে নিতে পারছে না। দেশের সার্বক্ষণিক কর্মীরা সেটা বদলাতে চাইত, পশ্চিমা নেতারা সেটা প্রাণপণে ধরে রাখতে চায় নিজেদের শাসন ও শোষণের ভিতটা আরও বেশিদিন টিকিয়ে রাখার জন্য। দুবনা, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

মিথ্যাচার

Image
দেশের কোন কোন দার্শনিকের মতে মাদ্রাসার শিক্ষকদের মান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপকদের থেকে অনেক ভালো। কোন সিদ্ধান্ত দেবার আগে সমস্যার সঠিক উপস্থাপন প্রয়োজন। সএজন্য এখানে কতগুলো বিষয় উল্লেখ করা দরকার  ১) বিষয়টা কি - ধর্ম না ইংরেজি?  ২) মাদ্রাসার শিক্ষকরা যত স্বাধীন ভাবে ধর্মের বয়ান আর ভিন্ন মতাবলম্বীদের মুনণ্ডুপাত করতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কি তেমনি নিঃশঙ্ক চিত্তে বিজ্ঞান বা আধুনিক সাহিত্য নিয়ে কথা বলতে পারে? ৩) এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই মাদ্রাসা পাশ করে আসে। এরপর তারা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক প্রাক্তন মাদ্রাসা ছাত্র কিনা? এসব ব্যাপারে কোন টু শব্দ না করে এধরণের সিদ্ধান্ত আসলে উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং মিথ্যাচার। দুবনা, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

যোগ্যতা

Image
পিছিয়ে পড়া বা জোর করে এতদিন পেছনে ফেলে রাখা জাতি বা গোষ্ঠীকে অবশ্যই উঠে আসার সুযোগ দিতে হবে কিন্তু একই সাথে যোগ্যতার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। কারণ তা না হলে একদিকে যেমন কোয়ালিটিকে কম্প্রোমাইজ করা হয় একই ভাবে অনেক যোগ্য প্রার্থীর প্রতি অবিচার করে তাদের কর্মবিমুখ করা হয়। এর উদাহরণ বিশ্বের দেশে দেশে ভুঁড়ি ভুঁড়ি। শুনলাম আমেরিকায় এখন নিকি, কমলা আর মিশেলকে নিয়ে ভাবা হচ্ছে। আর এই ভাবনার পেছনে বড় কারণ তারা নারী। নারী বলে যেমন কাউকে অবহেলা করা উচিৎ নয়, তেমনি উচিৎ নয় নারী বলে কাউকে কনশেসন দেয়া বিশেষ করে আমেরিকার মত দেশের প্রেসিডেন্ট পদে। কারণ এটা পারমাণবিক শক্তিধর দেশ যার প্রেসিডেন্টের হাতে মানব সভ্যতার অস্তিত্ব অনেকটাই নির্ভর করে। আজ যদি নারী বলে কাউকে সামনে আনা হয় কাল বিএলএম, এলজিবিটি এসব ক্রাইটেরিয়া সামনে চলে আসতে পারে। যেকোন পদের জন্য প্রথম ও একমাত্র ক্রাইটেরিয়া হওয়া উচিৎ সেই দায়িত্ব পালনে তার পেশাগত যোগ্যতা। অন্যান্য বিষয়গুলো অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, তবে সেগুলো যেন মূল না হয়। বলতে পারেন আমেরিকার প্রেসিডেন্টের ব্যাপারে আমার এত মাথা ব্যাথা কেন? হত না যদি না তার হাতে পার...

উত্তর

Image
ভজন সরকারের পাঠানো উত্তরের-দেশে বইটি পড়লাম। অনেক দিন পরে এত দ্রুত (এক সপ্তাহ) কোন বই পড়লাম। আমি গল্পের বই পড়ি সাধারণত শোবার আগে। তবে ইদানিং নিজের পড়ার বই (গণিত ও পদার্থবিদ্যা, আর একটু লেখালেখি করি বলে ইতিহাস) এত সময় নেয় যে এর বাইরে তেমন একটা পড়া হয় না, পড়লেও একেকটা বই পড়তে মাস কাবার। যেহেতু ভজন ক্যানাডা থাকে আর সেটা উত্তর গোলার্ধে তাই প্রথমে মনে হয়েছিল এটা ওর সেই জীবন নিয়ে লেখা। কিন্তু অনেকগুলো গল্পের সম্ভার এই বইয়ে বিভিন্ন এলাকাই স্থান করে নিয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই এসেছে ভারত ভাগের কথা ও দেশ থেকে হিন্দু জনগোষ্ঠীর ভারত যাবার গল্প। উল্টোটা যে হয়নি তা নয়, তবে সেই সময়ের বেশির ভাগ বই হিন্দু লেখকদের লেখা তাদের দেশত্যাগের দুঃখের কথা জানিয়ে। হাসান আজিজুল হকের আগুন পাখি সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম, যদিও আমার বিশ্বাস ওপার বাংলা থকে চলে আসা লোক বাংলাদেশে খুব কম নয়। রেডিয়েশন দুই ধরণের - স্বতঃস্ফূর্ত, যা কিনা স্বেচ্ছায় ঘটে ও জোরপূর্বক, যা ঘটে বাহ্যিক বল প্রয়োগের ফলে। ইমিগ্রেশনও তাই। দেশ ভাগের সময় পূর্ববাংলা থেকে হিন্দুদের চলে যাওয়া ছিল বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জোরপূর্বক, বাধ্য হয়ে। উল্টো দিকের দেশত্যাগ বেশির...

দর্শন

Image
একসময় বিশ্বের সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, টোল অর্থাৎ সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চার্চ, বৌদ্ধ বিহার বা অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিল। এটাকে পুঁজি করে কেউ কেউ বলতে চান যে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ এসব একদিন মাদ্রাসা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় যেমন ইউনিভার্সিটির বাংলা, মাদ্রাসা তেমনি বিদ্যালয়ের আরবি শব্দ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মাদ্রাসা শব্দ ব্যবহার তাই দোষের নয়। দোষের হচ্ছে বর্তমানে আমাদের দেশে মাদ্রাসা শব্দটি যে এক বিশেষ অর্থ বহন করে সেটা আমলে না নেয়া আর এভাবে আপাত সত্যের আড়ালে মিথ্যা প্রচার করা। যদি অক্সফোর্ড কেমব্রিজ এসব বিশ্ববিদ্যালয় "এদের ভাষায় মাদ্রাসা" থেকে শুরু করে সত্যিকারের জ্ঞানার্জনের পথে চলছে আমাদের মাদ্রাসাগুলো জ্ঞানের আলো যাতে ঢুকতে না পারে সেজন্য নিজেদের চারিদিক থেকে বন্ধ করে রেখেছে। শুধু তাই নয় এই সব দার্শনিকদের হাত ধরে প্রথাগত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মাদ্রাসায় পরিণত হবার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। দুবনা, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

স্বাধীনতা

Image
গুগল বা এই জাতীয় ট্র্যান্সন্যাশনাল কোম্পানির টপ ম্যানেজারের সাথে গ্রামের ছোট্ট মুদি দোকানের মালিকের তুলনা করা অবান্তর। টপ ম্যানেজার কী অর্থে বিত্তে, কী নামে যশে, কী সামাজিক মর্যাদায় মুদি দোকানের মালিকের চেয়ে হাজার যোজন এগিয়ে। তবে এত কিছুর পরেও টপ ম্যানেজার একজন কর্মচারী যার ভাগ্যের সুতা কোম্পানির মালিকের হাতে। সেক্ষেত্রে দোকানের মালিক স্বাধীন যদিও সেই স্বাধীনতা নির্ভর করে ক্রেতা আর বিশেষ করে স্থানীয় গুন্ডাদের উপর। আমেরিকার নেপথ্য রাজা উজিররা চায় বিশ্বের দেশে দেশে নিজেদের টপ ম্যানেজারদের প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্বে দেখতে। নাম, যশ, সভ্য বিশ্বের নেতাদের সান্নিধ্য পাবার লোভে অনেকেই সে পথে পা বাড়ায়। তবে যারাই মুদি দোকানের মালিকের মত একটু হলেও স্বাধীনতা উপভোগ করতে চায় সাথে সাথে পাড়ার গুন্ডাদের মত পশ্চিমা বিশ্ব গণতন্ত্র গেল গণতন্ত্র গেল বলে ধেয়ে আসে। মস্কোর পথে, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

খেলা খেলা সারা বেলা

Image
যুদ্ধ তো নয় যেন কাজিনো বা পাশা খেলা চলছে। যুধিষ্ঠির যেমন দুর্যোধনের কাছে রাজ্য থেকে শুরু করে একে একে ভাইদের, এমনকি স্ত্রী দ্রৌপদীকে পর্যন্ত হারিয়েছিলেন ইউক্রেন সহ ইউরোপের অবস্থাও তাই। ন্যাটোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের মিটিংএ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যেমন করেই হোক রাশিয়ার বিজয় রোধ করতে হবে। মূল যুক্তি - মরবে ইউক্রেনের মানুষ, ইউরোপ বা আমেরিকার নয়। এর চেয়ে আর কত স্পষ্ট করে বলতে হবে যে ওদের কাছে ইউক্রেনের মানুষ ইউরোপিয়ান নয়। ধীরে ধীরে ইউরোপ আমেরিকার সরকার হারাচ্ছে জন সমর্থন। আচ্ছা যে যুদ্ধের পেছনে জনগণের সমর্থন নেই, যে যুদ্ধের ফলে সেসব দেশে জনজীবন অতিষ্ঠ, তারপরেও এরা কীভাবে গনতাত্রিক, জন দরদী সরকার হয় আর জনগণের সমর্থন যাদের পেছনে আছে সেই সব সরকার হয় কর্তৃত্ববাদী, একনায়ক - তা সে পুতিন হোক, সি হোক, মোদী হোক আর হাসিনা হোক। আজ যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য ইউরোপের আর আমেরিকার জনগণকে জুজুর ভয় দেখানো হচ্ছে। ফিনল্যান্ড সহ অনেক দেশে বাঙ্কার তৈরির হিজিগ পড়ে গেছে শুনলাম। জনগণকে ভয়ের মধ্যে রেখে, ভয় দেখিয়ে কীভাবে গণতান্ত্রিক সরকার হওয়া যায় সেটাই আমার মাথায় ঢুকে না। নাকি বিশ্বের দেশে দেশে নতুন করে পাঠ্য পুস্তক লেখ...