সুখ

আজকাল আমার আনন্দের সীমা নাই। থাকিবেই বা কেন? আনন্দ বিঘ্নিত হয় তখনই যখন মানুষকে চিন্তা ভাবনা করিতে হয়। আমার এখন কোন চিন্তা নাই, কোন ভাবনা নাই। নিজের আর চিন্তা ভাবনা করিবার প্রয়োজন নাই। মাঝে মাঝে মনে হয় অযথাই মাথাটাকে কাঁধের উপরে বসাইয়া রাখিয়াছি আর সে ঠ্যাং দুলাইয়া দুলাইয়া চুরুট ফুঁকিয়া বায়ুদূষণ করিতেছে। জীবন এত সহজ হইয়া গিয়াছে যে চিন্তা ভাবনা এখন শৌখিন বিষয়ে পর্যবসিত হইয়াছে। বিশ্বাস হইতেছে না? তাহা হইলে খুলিয়া বলা যাক। ধরেন, বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়াইয়া আছি, বাস নিজে আমার হাত ধরিয়া তুলিয়া লইয়া যায়, সীট ফাঁকা থাকিলে বসাইয়া পর্যন্ত দেয়। দোকানে গেলে আলুটা পটলটা, এমনকি মাছ মাংস পর্যন্ত লাফাইয়া লাফাইয়া আমার ব্যাগে ঢুকিয়া পড়ে। ব্যাংকের ম্যানেজাররা টাকার বস্তা লইয়া পিছনে পিছনে ঘুর ঘুর করে। আমিও ভাবি বাঁচিয়া থাকিব তো আর কয়েকটা দিন। তাহা হইলে কি হইবে কৃচ্ছতা সাধন করিয়া। আজকাল মাঝে মাঝে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াইতে যাইতে ইচ্ছা করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলিয়াছেন বোয়িং বিমান কিনিবার জন্য। ওনার গ্যারেজে নাকি এইসব বিমানের শেষ নাই। বলিয়াছেন টাকা পয়সার চিন্তা করিতে হইবে না। ওনার গুদামে কাগজ আর ছাপাখানায় কালির অভাব নাই। যত চাইব ততই ছাপাইয়া দিবেন। চাইলে মরিয়া ভূত হইয়া যাওয়া প্রেসিডেন্টদের পরিবর্তে নিজের মাথা সেই নতুন নোটে আঁকিয়া দিবেন। বাংলাদেশের মন্ত্রীরাও নাকি বোয়িং কিনিবেন। ভাবিতেছি আমিও এই সুযোগে একখানা বোয়িং কিনিয়া দুবনা মস্কো উড়াউড়ি করিব। কি আছে জীবনে?

দুবনা, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

প্রশ্ন