Posts

দেবতার ঘর

Image
  বিগত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ভারতে কোভিড-১৯ একের পর এক রেকর্ড ভঙ্গ করে চলছে। প্রতিদিন তিন লাখের বেশি করে নতুন আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। একই সাথে গত দু তিন দিন আরোগ্য লাভের সংখ্যাও আড়াই লাখ ছাড়িয়ে গেছে। রাশিয়ায় যখন গত বছর কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব ঘটে ভবিষ্যতের কথা ভেবে অনেক নতুন হাসপাতাল গড়া হয়। এ ছাড়াও মস্কো সহ বিভিন্ন শহরে অনেক স্পোর্টস কমপ্লেক্স ও ব্যবসা কেন্দ্র সাময়িক ভাবে কোভিড-১৯ চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত করা হয়। যাতে ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়া রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া যায় সেজন্য প্রয়োজনের চেয়েও অতিরিক্ত বেডের ব্যবস্থা করা হয়। বিভিন্ন প্রোফাইলের ডাক্তারদের দ্রুত ট্রেনিং দিয়ে এসব জায়গায় নিয়োগ করা হয়। এমনকি মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটগুলোর শেষ বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের ভলেন্টিয়ার হিসাবে সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয়। যদিও অনেকদিন ধরেই এখানে প্রতিদিন ৮-৯ হাজার করে নতুন করোনা পজিটিভ ধরা পড়ছে আর প্রায় সমান সংখ্যক লোক সুস্থ্য হচ্ছে তারপরেও বিভিন্ন দেশের অতিমারীর অবস্থা মাথায় রেখে ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া সাময়িক চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো জরুরি ভিত্তিতে আবার নতুন করে প্রস্তুত করা হচ্ছে পরিস্থিতি মোকাবিলায়। ভারতে বর্তমানে...

থিয়েটার

Image
আমার থিয়েটার দেখা শুরু মস্কো এসে। ছোটবেলায় দেখতাম যাত্রা। গ্রামে দুটো যাত্রার দল ছিল - কার্ত্তিক সাহার অন্নপূর্ণা আর বড়দার (ভানু সাহা) অম্বিকা নাট্য প্রতিষ্ঠান। প্রথম কয়েক মাস রিহার্সাল  হত বাড়িতে। তারপর চলে যেত ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সেখান থেকেই শুরু হত পথ চলা। এরপর কোন এক সময়ে গ্রামে আসত। তখন কোন পালা মিস করতাম না। এছাড়া বড়দার দল এলাকায়, মানে মানিকগঞ্জ, জাগীর, কলতা, বালিট্টেক, জামসা - এসব এলাকায় এলে বড়দা আমাকে নিয়ে যেতেন কয়েকদিনের জন্য। তাছাড়া গ্রামে এর বাইরেও কোন না কোন দল আসত। তাই যাত্রা দেখা হত রেগুলার। সে সময়, বিশেষ করে যখন কলেজে পড়তাম, নৃপেন স্যারের নেতৃত্বে থিয়েটার হত কলেজে, তবে রাতে ফেরার সমস্যার কারণে দেখা হয়নি কখনই। একবার মির্জাপুর কুমুদিনি হোমসে গেছিলাম, তবে সেখানে খুব ছোট বলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ওখানে মা মূলত আমাদের বউদিকে দেখতে যান। বউদির রোল ছিল। এ ছিল ভিন্ন ধরণের মেয়ে দেখা। সেটা যুদ্ধের আগে। মস্কো আসার পর ক্লাসের পর লাইব্রেরিতে বাড়ির কাজ করে যেতাম বিভিন্ন জায়গায়, মূলত আড্ডা দিতে বাংলাদেশী বন্ধুদের সাথে। তাই ছাত্র জীবনে সিনেমা দেখা হলেও (কখনও কখনও গ্রুপ থেকে বন্ধুরা মিলে চলে ...

২৫০০

Image
ঘন কালো আকাশ। শুধু দূরে, অনেক দূরে মিটি মিটি তারারা জ্বলছে। সেই গভীর রাতে পৃথিবীর বায়ুমন্ডল ভেদ করে এগিয়ে আসছে একটা মাহাকাশ যান। খুব সন্তর্পণে। পাছে কারও ঘুম ভেঙ্গে যায় তাই সামান্যতম শব্দ পর্যন্ত করছে না। পৃথিবী যখন দৃষ্টিসীমার মধ্যে আসবে, তারা ধীর গতিতে ঘুরতে শুরু করবে তার চারিদিকে, ঠিক যেন স্পুটনিক। নীচে কোথাও কোন আলো নেই। অন্ধকার আর অন্ধকার। ঘন কালো অন্ধকারে ডুবে গেছে সব। বিজলী বাতি যেন অদৃশ্য হয়ে গেছে পৃথিবী থেকে। মহাকাশ যানটি আলোর খোঁজে ঘুরতে শুরু করবে। একসময় এসে পৌঁছুবে সূর্যের আলোয় আলোকিত অংশে। কিন্তু সেখানেও সব স্তব্ধ। চারিদকে বন আর বন। মাঝেমধ্যে শহরের ধ্বংসাবশেষ। সেটাও বন প্রায় গ্রাস করে ফেলেছে।  পাপা, এ তুমি আমায় কোথায় নিয়ে এলে?  এ গ্রহের নাম পৃথিবী। অন্তত একসময় আমরা একে এ নামেই ডাকতাম। তারপর?  মানুষ প্রকৃতিকে জানল, প্রকৃতির রহস্য জানল আর সেই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তারা তৈরি করল বিভিন্ন রকমের যন্ত্রপাতি। তখন আর একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করতে ঘর থেকে বেরুতে পর্যন্ত হত না। পৃথিবীর এক প্রান্তে বসে অন্য প্রান্তের বন্ধুদের সাথে তারা কথা বলত, আড্ডা দিত। চারিদিকে বিজ্ঞানের ...

আশা নিরাশা

Image
  আমরা যারা সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়াশুনা করতাম তাদের একটা বিরাট অংশ সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করত, সেদেশের নিয়ম কানুন মেনে চলত। কথাটা এ জন্যেই বলছি যে যে কাজগুলো আমাদের দেশে অপরাধ বলে গণ্য হয়না, যেমন বেচাকেনা, তেমন অনেক কিছুই সোভিয়েত ইউনিয়নে অপরাধের পর্যায়ে পড়ত। সোভিয়েত ইউনিয়নে শৌখিন জিনিসের অভাবের সুযোগ নিয়ে তখন অনেকেই এক্সট্রা ইনকাম করলেও আমাদের অনেকেই সে পথে পা বাড়াত না। আমাদের অনেকেই ভাবত দেশে গিয়ে সরাসরি রাজনীতি না করলেও বিভিন্ন গণ সংগঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে ভূমিকা রাখবে, সোভিয়েত ইউনিয়নে পাওয়া শিক্ষা বিভিন্ন ভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে। উল্লেখ করা যেতে পারে দেশে ফিরে যাওয়া অনেকেই, বিশেষ করে ডাক্তাররা সাফল্যের সাথে তাদের সামাজিক দায়িত্ব পালন করে চলছেন। যারা সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙ্গার আগে পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন তাদের অনেকেই বিভিন্ন ভাবে বাম ঘরানার রাজনৈতিক স্রোতের সাথে নিজেদের জড়িত করেছিলেন। সমস্যা ঘটে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর। সে সময় পার্টিও দ্বিধাবিভক্ত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নে যারা পড়াশুনা করেছে তারা শুধু বই পড়েই বা পার্টি নেতা বা কর্মীদের মত সংক্ষিপ্ত সফরে এসে এ দে...

স্বাধীনতার ৫০ বছর

Image
আজ ২৬ মার্চ ২০২১। বাংলাদেশ পালন করছে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উৎসব। এখনই সময় ফিরে তাকানোর, সাফল্য ব্যর্থতার জমা খরচ মেলানোর। একজন ব্যক্তির জীবনে যেমন সাফল্য ব্যর্থতা আসে, তেমনি সাফল্য ব্যর্থতা আসে জাতির জীবনে, দেশের জীবনে। তবে সাফল্য যত বড়ই হোক, ব্যর্থতা যদি একটা সীমার নীচে নেমে যায় সাফল্য উবে যায় কর্পূরের মত। ধরুন একজন লোকের টাকা পয়সা, শিক্ষা দীক্ষা এসবের কোন অভাব নেই, কিন্তু তার স্বাস্থ্য যদি ভালো না থাকে এত টাকা পয়সা, শিক্ষা দীক্ষা তাকে সুখী করতে পারবে না। এ রকম প্রতিটি ক্ষেত্রেই। এ প্রসঙ্গে আমার মনে পড়ে এক প্রতিবেশীর কথা। ও আমার এক বছরের সিনিয়র। একবার এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে আমার সাথে পরীক্ষায় বসে। আমরা একই বাসায় লজিং থাকতাম পরীক্ষার সময়ে। ও সব পড়াশুনা বাদ দিয়ে সারাদিন শুধু বুক কিপিং পড়ত। কী ব্যাপার, তুমি সারা দিন বুক কিপিং পড়, তা অন্য পরীক্ষা নাই?   আছে, তবে এ বিষয়ে লেটার পেতে হবে। দেখ, বুক কিপিংয়ে লেটার পেলেও কোন সাব্জেক্টে যদি ফেল কর এই লেটার কোন কাজে লাগবে না। ও এ বিষয়ে লেটার পেল বটে, কিন্তু ইংরেজিতে ফেল করল। ও আর কখনও পরীক্ষায় বসেনি।  আমাদের দেশ বিভিন্ন সেক্টরে ...

নস্টালজিয়া

Image
সেদিন এক লোকের সাথে আলাপ হল। আমাদের পরিচয় স্মিতার মাধ্যমে। স্মিতা পশ্চিম বঙ্গ থেকে। সে কারণেই কিনা বা আমার নামের কারণেই কিনা, উনি জিজ্ঞেস করলেন আমি ইন্ডিয়া থেকে কিনা। - না, আমি বাংলাদেশ থেকে।  - বাংলাদেশের কোন জেলায়? - মানিকগঞ্জ। - আমার জন্ম ঢাকায়। তবে আমাদের পূর্বপুরুষেরা বশিরহাট আর বারাসাত থেকে। যদিও জন্ম বাংলাদেশে, আমি নিজেকে ভারতীয় বলেই মনে করি। দুটো জায়গাই আমার চেনা। বশিরহাট থেকে আমাদের পার্থ ভাদুরী। সে কারণেই ওদিকটায় গেছিলাম। আর বারাসাত তো মসি বা দিদিদের ওখানে যেতে হলে রাস্তায় পড়ত। পশ্চিম বঙ্গে বেড়াতে গেলে যখন শোনে আমি বাংলাদেশ থেকে, অনেক অপরিচিত মানুষ এসেও দেশের কথা জিজ্ঞেস করে। ওদের পূর্বপুরুষেরা বাড়িঘর ছেড়ে ওদিকটায় চলে গেছে। আমার বন্ধুদের অনেকের বাবা মা বা তাদের পূর্বপুরুষেরা পূর্ব বঙ্গের মানুষ। ওরাও বড় হয়েছে তাঁদের মুখে বাংলার মাঠ ঘাট নদী নালার গল্প শুনে। এটা আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানা। তাছাড়া অনেক বইপত্রেও পূর্ব বাংলা থেকে চলে যাওয়া মানুষের কান্নার শব্দ আমরা পাই। মাত্র ক দিন আগেই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের "অর্ধেক জীবন"এ পড়লাম তাঁর বাবার গ্রামে ফেরার জন্য সে কী আকুতি!...

করা না করা

Image
বেশ কয়েকদিন থেকেই একটা জিনিস নিয়ে ভাবছিলাম। সেটা সংগঠন করা। আমাদের দেশের অনেকেই কী করেন জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেয় "আওয়ামী লীগ করি।" "বিএনপি করি।" "সিপিবি করি।" "জামাত করি।" "হেফাজত করি।" "নারী নির্যাতন করি।" (এটা আসলে নারী নির্যাতন বিরোধী আন্দোলন করি) ইত্যাদি। ভাবখানা এই, তাদের জীবনের এসেন্স বিভিন্ন সংগঠন। অথচ এদের অনেকেই লেখক, কবি, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদি। অন্য দেশের কথা জানি না, তবে না সোভিয়েত ইউনিয়ন, না রাশিয়া - এখানে কাউকে বলতে শুনিনি, আমি সিপিএসইউ করি বা অন্য কোন দল করি। তারা তাদের প্রফেশন কী সেটাই উত্তরে বলেন। তাহলে কী আমাদের দেশে এত মানুষ নিজেদের বিভিন্ন সংগঠনের হোল টাইমার মনে করে নাকি কোন দলের সংশ্লিষ্টতা তাদের পেশাকেও ছাড়িয়ে যায়? গতকাল এক বন্ধু জিজ্ঞেস করলেন "এই যে "করে ", এর কোন প্রতিশব্দ নাই?" আমি তো অবাক। কেননা আমার যে পোস্টের নীচে তিনি এটা লিখেছেন সেখানে করার মত কিছু ছিল না। জিজ্ঞেস করলে লিখলেন "আমার এক পরিচিত কে জিজ্ঞেস করলাম -ভাই তুমি কি কর এখন? উত্তর : আমি এখন আওয়ামী লীগ করি। এই যে ...