Posts

ভাবনা

Image
বাংলাদেশে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আড়মোড়া দিয়ে উঠছে। বাম দলগুলো শীত নিদ্রায় না গেলেও এখন আরও বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে নির্বাচনী শর্ত দিতে শুরু করেছে।  ইরানে তুদেহ পার্টি শাহের বিরুদ্ধে ইসলামী দলের সাথে আঁতাত করে অচিরেই সুদে আসলে সেই ঋণ শোধ করেছিল অস্তিত্ব হারিয়ে। বাংলাদেশে সরকারি আর প্রধান বিরোধী দল এখন বিভিন্ন মাত্রায় মৌলবাদ দ্বারা পুষ্ট। এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাম জোটের আওয়ামী বিরোধী বিভিন্ন দাবি তোলা ও জোট গঠনের আগে ইরানের ঘটনা বিবেচনায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুবনা, ১৬ অক্টোবর ২০২২

"কৃতজ্ঞঘ্ন"

Image
আমার অনেক বন্ধু, যারা সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়াশোনা করেছে, সুযোগ পেলেই বলে রাশিয়া সোভিয়েত ইউনিয়ন নয় তাই সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভিন্ন অবদানের জন্য রাশিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার কোন কারণ নেই। কথাটা মোটেই অযৌক্তিক নয়, অন্ততঃ ফর্মাল দিক থেকে। পুতিন বিরোধিতা করতে গিয়ে এরা প্রায়ই রুশ বিরোধিতা করে ঠিক যেমনটা রবীন্দ্র বিরোধিতা করতে গিয়ে অনেকেই বাংলা বিরোধিতা করে। একই সাথে নিজেরা যে কৃতঘ্ন নয় সেটা প্রকাশের জন্য এরা সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে ভুলে না। তবে ইউক্রেন বা বাল্টিকের দেশগুলোতে যখন তথাকথিত ডিসোভিয়েতিজেশন করতে গিয়ে নির্বিচারে অতীতের সব অস্বীকার করে তখন সেসব গণতন্ত্রের সস দিয়ে মাখিয়ে এরা দিব্যি গিলে ফেলে। রাজনীতি, অর্থনীতির খোলনলচে অনেক আগেই বদলে গেছে। তাই ডিসোভিয়েতিজেশনের নামে লেখক, কবি, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে প্রাণ দিয়েছে এদের স্ট্যাচু ভাঙা আসলে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা। এদের জাস্টিফাই করা পক্ষান্তরে হিটলারকে জাস্টিফাই করা। আমাদের দেশে রাম রাজত্ব, মদিনা সনদ অনেকটা এরকমই। আমার প্রায়ই জানতে ইচ্ছে করে যদি কেউ বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানের স্মৃতি মুছে ফেলত...

সন্ত্রাস

Image
সন্ত্রাস শব্দের মূল ত্রাস। যে কাজ ত্রাসের বা ভয়ের সৃষ্টি করে সেটাই সন্ত্রাস আর যে বা যারা এটা করে সে বা তারা সন্ত্রাসী। ধরুন একজন লোক কিরিচ বা বন্দুক বা ঐ জাতীয় কিছু নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমনকি সে যদি ঐ মূহুর্তে সরাসরি কাউকে আক্রমণ নাও করে ঐ বেশে উপস্থিতিই অন্যদের ভয়ের কারণ হতে পারে। তাই সে সন্ত্রাসী। একই ভাবে কোন লোক বা কোন দেশ যখন ভয় দেখিয়ে অন্যদের কাছ থেকে কিছু আদায় করতে চায় সেই লোক বা সেই দেশ সন্ত্রাসী। বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের পক্ষে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সমর্থন আদায়ের জন্য পশ্চিমা বিশ্ব অর্থনৈতিক স্যাঙ্কশন সহ বিভিন্ন বাধা নিষেধ আরোপের যে হুমকি দেয় সেটাও এক ধরণের সন্ত্রাস। আর সেই বিচারে এই মুহূর্তে পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্ত্রাসী দেশ নিঃসন্দেহে আমেরিকা। দুবনা, ১৪ অক্টোবর ২০২২

ভোট ডাকাতি

Image
আজ নাকি প্রথমবারের মত জাতিসংঘে বাংলাদেশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাই অনেকেই এতে অবাক হয়েছেন। কিন্তু যতদূর জানি গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে কাচকলা দেখিয়ে ভোট হয়েছে প্রকাশ্যে যদিও গণতন্ত্র গোপন ভোটের পক্ষেই বলে কারণ তাতে ভোট দানকারী নির্দ্বিধায় নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারে। যেহেতু বিশ্বের অনেক দেশই পশ্চিমা বিশ্বের কাছে কোন না কোন ভাবে দায়বদ্ধ এবং এখনও পশ্চিমা বিশ্ব স্যাঙ্কশন আরোপসহ বিভিন্ন ভাবে উন্নয়নশীল বিশ্বের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে তাই প্রকাশ্য ভোট এক্ষেত্রে অনেকটা বন্দুকের মুখে ভোট দানের মত। তাই এটাকে ভোট না বলে ফার্স বলাই শ্রেয়। অথবা আমাদের পরিচিত ভাষায় - জাতিসংঘে আজ ভোট ডাকাতি হয়েছে আর সেই ভোট ডাকাতিতে অন্য অনেক দেশের মত বাংলাদেশের ভোটও ডাকাতি হয়ে গেছে পশ্চিমা বিশ্বের পক্ষে। দুবনা, ১৩ অক্টোবর ২০২২

বন্দী জীবন

Image
মৌলবাদীরা সারা বিশ্বে তাদের রাজ্য বা খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে আমরা যেভাবে তার বিরোধিতা করি ঠিক একই ভাবে পশ্চিমা বিশ্ব যখন সারা বিশ্বে তাদের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় তার বিরোধিতা করতাম পৃথিবী আজ অন্যরকম হত। যদি আমরা পশ্চিমা বিশ্বের অনুকরণে নিজেদের দেশ গড়তে চাই তাহলে কি উপনিবেশ শাসন থেকে বেরুনোর জন্য এত ত্যাগের দরকার ছিল? কোন জাতি স্বাধীনতা চায় অন্যের দেওয়া অনুশাসনে নয়, হাজার বছর ধরে ঐতিহাসিক ভাবে ও ভৌগলিক কারণে সেই এলাকায় যে সংস্কৃতি, যে সামাজিক বন্ধন গড়ে উঠেছে সেটাকে নিজের মত করে বিকাশ করতে, সেই পরিমন্ডলে বাস করতে। বিভিন্ন দেশে ভাষা আন্দোলন, সাংস্কৃতিক আন্দোলন এসবের পেছনে এই আকাঙ্খাই কাজ করে। সেদিক থেকে দেখলে রঙ বেরঙের বাসন্তী আন্দোলন আমাদের স্বাধীন করার জন্য নয়, সেটা আমাদের নব্য ঔপনিবেশিক শৃঙ্খলে বন্দী করার জন্য নতুন ফাঁদ । খাঁচা সোনার হলেও সেটা খাঁচাই আর সে জীবন বন্দী জীবন।   দুবনা , ১১ অক্টোবর ২০২২  

প্রগতিশীলতা

Image
গতকাল ফরহাদ ভাইকে নিয়ে আমার দু বছর আগের এক লেখায় একজন লিখেছেন সেই সময়ের রাজনীতিকে এখন বলা হয় দক্ষিণপন্থী। নিজের শক্তির সঠিক মূল্যায়ন করে সেটার সদ্ব্যাবহার করার নামই আমার মনে হয় প্রগতিশীলতা। প্রগতির সাথে গতি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। যদি চরম লক্ষ্যে পৌঁছানোর শক্তি না থাকে তাহলে অন্য পথে না গিয়ে এক জায়গায় বসে চৌকাঠে মাথা ঠুকে আন্দোলনে গতি আনা যায় না। এতে শক্তি ক্ষয় হয়, জনগন বিভ্রান্ত হয়, আন্দোলন সমর্থন হারায়। বড় জয়ের জন্য অপেক্ষা না করে ছোট ছোট জয়ের মধ্য দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া তাই খুব গুরুত্বপূর্ণ। জনগন সমর্থন লাভে এসব জয়ের মূল্য অপরিসীম। কিন্তু আমরা বিভিন্ন নাম দিয়ে এসব কৌশলগত আন্দোলন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছি বিধায় নিজেরাই হারিয়ে ও হেরে যাচ্ছি। এটাও মনে হয় বর্তমানে বাম আন্দোলনের চোরাবালিতে আটকে থাকার একটা কারণ। মস্কো, ১০ অক্টোবর ২০২২

প্রশ্ন

Image
জোয়ান রোউলিং কে নিয়ে বৃটেনে আবার বিতর্ক। না, তাঁর সাহিত্য নিয়ে নয়, সামাজিক বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। তাঁর অপরাধ তিনি অপ্রাপ্ত বয়স্কদের অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন। যারা শিশুদের যৌনতা বিষয়ে স্বাধীনতা দিতে চায় তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। একটা সময় ছিল যখন সমাজ তাঁর যৌক্তিক প্রশ্নের পাশে দাঁড়াত এখন সেই সমাজ তাঁর বিরুদ্ধে। সময় বদলে গেছে। এ প্রসঙ্গে আমার কিছু প্রশ্ন জাগছে মনে। শিশুরা যদি তারা ছেলে না মেয়ে এই ব্যাপারে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারে তবে তারা ভোট দিতে পারে না কেন? হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন ভোট হল নাগরিক অধিকার, মানুষের তৈরি নিয়ম বা আইন যাতে সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয় তার জন্য ম্যান্ডেট দেয়া। অন্যদিকে কেউ ছেলে না মেয়ে এটা বায়োলজিক্যাল বা প্রাকৃতিক ব্যাপার। তাই যদি হয় তাহলে এখানে মানুষ হাত দেবে কেন? মানুষ প্রকৃতির অংশ। প্রকৃতি রক্ষা পরিবেশ আন্দোলনকারীদের প্রধান লক্ষ্য। সেই যুক্তিতে শিশুদের উপর এই এক্সপেরিমেন্ট কি পরিবেশ বিরোধী নয়? পরিবেশ বিপ্লবীরা কি বলেন? দুবনা, ০৯ অক্টোবর ২০২২