Posts

প্রশ্ন

Image
ইদানীং কালে প্রায়ই এরকম খবর শোনা যায়  অমুক, যে জন্মগত ভাবে পুরুষ কিন্তু ইদানীং নিজেকে মহিলা বলে মনে করতে শুরু করেছে, মেয়েদের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। যদিও এদের অনেকেই এর আগে ছেলেদের প্রতিযোগিতায় প্রথম শতকেও স্থান পায়নি। এরকম ঘটনা ঘটেছে জেলের কয়েদীদের সাথেও। আর এর ফলে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে মহিলারা, বিশেষ করে মেরেদের স্পোর্টস। একদিকে আমরা নারী অধিকারের কথা বলব, অন্যদিকে মানুষের অনুভূতির স্বাধীনতা দিয়ে নারীদের পেছনে ঠেলে দেব - এটা কি করে হয়?  খবরে প্রকাশ বাইডেন প্রশাসনের একজন নিজেকে মেয়ে অনুভব করে অন্যের স্যুটকেস নিয়ে চলে গেছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিজেও কয়েকবার তার ছেলে ইরাকে যুদ্ধ ক্ষেত্রে নিহত হয়েছে বলে বলেছেন। এসব কি ভ্রম নাকি "নিজে যা ভাবি সেটাই সত্য" তার বহিঃপ্রকাশ?  ইদানীং রাশিয়ায়ও এই প্রবনতা দেখা দিচ্ছে। অনেকেই নিজেদের মেয়ে বলে ডাক্তারের সার্টিফিকেট নিচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সিয়াকাট্রিস্টের সাথে কনসাল্ট না করেই এটা করছে। ফলে এটাও এক ধরণের ব্যবসায়ে পরিণত হতে পারে বলে অনেকের ধারণা। তাই রুশ দুমায় কথা হচ্ছে এ বিষয়ে আইন পরিবর্তন করার জন্য।...

ক্ষমতার অক্ষমতা

Image
আইন দিয়ে মানুষ প্রথমে নিজেদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করে। এরপর কিছু লোক আইনকে কুক্ষিগত করে পুরা সমাজকে শৃঙ্খলিত করে। এটা হয় ক্ষমতার আস্ফালন থেকে। সমাজ হোক, রাজনীতি হোক, ধর্ম হোক যখনই একদল মানুষ এসবের ক্ষমতা নিজেদের স্বার্থ বা স্বপ্ন পূরণে নির্বিঘ্নে ব্যবহার করতে পারে তখন তারা আর পিছ পা হয় না। শক্তিকে অপশক্তি বানিয়ে তান্ডব চালায়। "আমি বা আমরা সব পারি" এই স্লোগান তাদের ঘাড়ে ভূতের মত চেপে বসে। এমনকি বিজ্ঞানও এই দোষ থেকে মুক্ত নয়। নতুন রহস্য উদঘাটনের নেশায় অনেক বিজ্ঞানীও প্রকৃতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এমন সব আবিষ্কারে মেতে ওঠে যা মানবসভ্যতার জন্য হুমকি স্বরূপ। এটাই মনে হয় প্রকৃতির নিয়ম শুরু - বিকাশ - শেষ বা জন্ম - পরিপূর্ণতা - মৃত্যু। প্রকৃতির সব সৃষ্টিতেই ধ্বংসের বীজ শুরুতেই বপন করা হয়। দুবনার পথে, ২৯ মে ২০২৩

স্কুটার

Image
বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন অনেক এগিয়ে গেছে সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। বিভিন্ন দেশের সরকার ও বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল। তবে সাধারণ মানুষ সেটা কতটুকু জানে সে ব্যাপারে সন্দেহ আছে। বিভিন্ন দেশের সাধারণ মানুষ হয়তোবা সেসব দেশে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের অবস্থা দেখে আমাদের দেশ সম্পর্কে ধারণা গড়ে তোলে অথবা পূর্ব ইতিহাস থেকে বাংলাদেশ গরীব দেশ বলে ধারণা পোষণ করে।  কয়েকদিন আগে এক পরিচিত লোক কথা প্রসঙ্গে জানতে চাইল তোমাদের দেশে তো পদে পদে বিপদ। এই ঝড়, এই বন্যা, এই ভূমিকম্প। তার উপর বিশাল জনগোষ্ঠী। এসবের মধ্যে তোমরা থাক কি করে? দেখ আমাদের দেশে যে পদে পদে বিপদ আর সেটা শুধু প্রাকৃতিক নয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, শিক্ষাগত ইত্যাদি বিভিন্ন রকমের সে সম্পর্কে জনগণ ওয়াকিবহাল। জানই তো কারো তার পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকলে সে ভালোভাবে সমস্যা মোকাবেলা করতে পারে। আর তাই আমাদের জনগণ সুখের ইনডেক্সে অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে।  বল কি?  এটা আমি নই জরিপ বলে। তাছাড়া আমাদের জনগণের ধারনা এসব বিপদ আপদ হয় বাই সাইকেল না হয় বৈদ্যুতিক স্কুটারে চড়ে ঘুরে বেড়ায়।  সে আবার কি কথা? জানই তো এসব বা...

আশঙ্কা

Image
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে টিটু রায়ের দশ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। আবার এর চেয়েও গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত একজন খালাস পেয়ে গেছে। দ্বিতীয় ব্যক্তির অপরাধ সে সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের একজন। আমার কেন যেন মনে হয় এসব ক্ষেত্রে আদালত ব্যক্তি মানুষের বিচার না করে গড় মানুষের বিচার করে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের যেকোন মানুষের অপরাধ নগন্য হয়ে যায়। টিটু রায়ের উকিলের বক্তব্য অনুযায়ী টিটু রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে অসত্য সেই প্রমাণ হাজির করা সত্ত্বেও আদালত তাতে আমল দেয়নি। এর অর্থ দাঁড়ায় আদালত নিজেই আইন অমান্য করেছে। টিটু রায়দের মত নিরীহ লোকদের শাস্তি দিয়ে বিচার বিভাগ দেখাতে চায় দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সে অতন্দ্র প্রহরী। সমস্যা হল বিচার বিভাগ প্রায় সব সময়ই অসময়ে ঘুমায় আর অসময়ে জাগে। দুষ্ট লোকেরা বলে এটা ঘুম বা জাগরণের প্রশ্ন নয় - এটা শুধুই ভান করে থাকা। ফর্মালি এটাকে বিচার বললেও এই বিচার আসলে অবিচারের তালিকাকেই দীর্ঘায়িত করল। আমরা সবসময় সব ব্যাপারে ইউরোপ আমেরিকার পদাঙ্ক অনুসরণ করি। আমেরিকায় এখন সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়াই কয়েক যুগ আগে ঘটে যাওয়া অপরাধের অভিযোগে অপছন্দের লোকজনদের শাস্তি দেয়া ...

পাগল পৃথিবী

Image
সাফল্য বা ব্যর্থতা দু'টোই মানুষকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে যখন মনে হয় তাকে যেন ভূতে পেয়েছে। সে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে আরও আরও চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। বিশেষ করে সে যদি বার বার ব্যর্থ হয়। এটা অনেকটা ক্যাসিনোর মত - যখন প্রতিবার হেরে খেলুড়ে মনে করে পরের দানেই সে হারানো সব কিছু ফিরে পাবে। এমন কি যুধিষ্ঠিরের মত মানুষও এ থেকে মুক্ত নন। বর্তমান পশ্চিমা বিশ্বের নেতৃত্বের দিকে তাকালে সেটাই মনে হয়। একদিকে তারা স্বীকার করছে যে এই যুদ্ধে ইউক্রেনের পক্ষে রাশিয়ার বিরুদ্ধে জেতা সম্ভব নয় কারণ সেরকম পরিস্থিতি তৈরি হলে মানব সভ্যতার অস্তিত্ব বিপন্ন হবার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। কিন্তু প্রতিনিয়ত যুদ্ধের আগুনে খড়কুটা দিয়েই চলছে। এবং এটাও বিশ্বাস করছে যে রাশিয়া এক্ষুনি কেঁপে উঠবে। এটা শুধু সময়ের ব্যাপার। শুনেছি ওশো তার হাজার হাজার অনুসারীদের পাগল বানিয়ে ফেলতে পারত। পুতিন কি ওশোর মতই পশ্চিমা বিশ্বের সব নেতাদের পাগল বানিয়ে ফেললেন নাকি? দুবনা, ২৭ মে ২০২৩

হাঁটু

Image
হাঁটুতে প্রচন্ড ব্যথা নিয়ে হাঁটু জল ভেঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে হাটে গিয়ে তিনি দেখলেন ইতিমধ্যেই কে যেন হাটে তার হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছে মানে তার হাঁটুর ব্যথার খবর গ্রামময় রাষ্ট্র করে দিয়েছে। যার সাথেই দেখা হয় সেই জিজ্ঞেস করে হাঁটুর খবর কী? হাঁটুতে নাকি ভীষণ ব্যথা? এমনকি হাঁটুর বয়সী ছেলেরা পর্যন্ত যেচে উপদেশ দেয় এই হাঁটু নিয়ে এত হাঁটাহাঁটি করতে নেই। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে হাঁটাহাঁটি বাদ দিয়ে এই বুঝি হাতাহাতি করতে হবে। শেষ পর্যন্ত আবার হাঁটু জল ভেঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে হাট থেকে তিনি বাড়ি ফিরলেন। এখন শুধু হাঁটু নয় তার মনও ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলো। দুবনা, ২৬ মে ২০২৩

কথা বলুন

Image
গভীর রাত। নির্জন বাসস্ট্যান্ড। সেখানে অপেক্ষা করছে দু'জন মানুষ। দেখেই বোঝা যাচ্ছে তারা অপরিচিত। নিয়তি তাদের এই অন্ধকার দুর্যোগপূর্ণ রাতে এক জায়গায় মিলিত করেছে। খুব সম্ভব একই বাসে তারা যাবে। সে অর্থে কিছুটা হলেও একই পথের পথিক তারা। আবহাওয়ার মত সময়ও এখন খারাপ। চারিদিকে সন্দেহ। কি বলতে কি বলবে, কার অনুভূতিতে আঘাত করবে, কোন আইনের প্যাচে আটকে যাবে? তাই সবাই আজকাল মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকে। চোখকান খোলা রেখে চললেও ভান করে যেন সেসব বন্ধ ছিল। সে কিছু দেখেনি, কিছু শোনেনি। লোকটা নিশ্চয়ই স্থানীয়। খারাপ হত না জেনে নিলে এখানকার অবস্থা কী রকম। কোথায় কোথায় যাওয়া যায়, কোথায় ভালো খাওয়া যায়। - ভাবছে একজন। দেখে তো আগন্তুক মনে হচ্ছে। এত রাতে কোথায় যাবে? কোথায় থাকবে? এসেছেই বা কেন? - ভাবছে আরেকজন। এখন সময়ই এ রকম, সবাইকে সন্দেহ করা, সবার কাছ থেকে খারাপ কিছু আশা করা। দু' জনেই দু' জনের কথা ভাবছে কিন্তু সাহস করে আগ বাড়িয়ে কথা যে বলবে সেটা পারছে না। ইস, যদি সিগারেট খেতাম - সিগারেট চাইবার উছিলায় কথা বলা যেত। শুভেচ্ছা বিনিময় করা যেত। ভাববে একজন। হুম, মাঝে মঝে সিগারেট খাওয়া খারাপ নয়। নিজে ধরি...