Posts

অনুভূতি

Image
আন্তোয়ান দে এক্সুপেরি তাঁর ছোট্ট রাজপুত্রকে দিয়েছিলেন - যাদের তুমি বশ করেছ তাদের কাছে তুমি দায়বদ্ধ। বাংলাদেশের হাজার হাজার তরুণ তরুণী মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের ডাকে রাজনীতিতে এসেছে। তিনি এতদিন সবাইকে কমিউনিজমের ওয়াজ শুনিয়েছেন। গতকাল তাঁকে দেখলাম প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে গিয়ে মৌলবাদী ও স্বাধীনতা বিরোধীদের ভীড়ে হারিয়ে যেতে। অথচ বন্দুক হাতে তরুণ মুক্তিযোদ্ধা - সেই ছবি শুধু তাঁকেই নয় মুক্তিযুদ্ধকেও ধারণ করেছে এতকাল। এই যাওয়া পার্টির অনুমোদনে হয়েছিল নাকি ব্যক্তিগত উদ্যোগে - সেটা ভিন্ন প্রশ্ন। তবে বিগত দিনগুলোয় সরকার ও তার চ্যালা চামুন্ডারা যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের সব অর্জনকে ধুলিস্যাত করেছে তাতে এই যাওয়াটা বিভিন্ন মহলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পার্টি ভাঙার পর পার্টি থেকে বেরিয়ে যাওয়া নেতাদের প্রতি আপনাদের একটাই বয়ান ছিল - সংশোধনবাদী। তবে এটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই যে তারা পার্টির নাম ভাঙ্গিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলেননি। যখন দেখেছেন আগের বিশ্বাস নিয়ে পার্টি করতে পারবেন না তখন হয় রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন অথবা ভিন্ন নামে রাজনীতি করেছেন। কাউকে ধোঁকা দেননি। এটাই ছিল পার্টির প্রতি তাদের সততার প্রকাশ...

বাইপাস

Image
দীর্ঘদিন বিদেশে থেকে একটি বিষয় খেয়াল করেছি - বাংলাদেশী যেখানেই থাকুক না কেন, সে আজীবন বাংলাদেশী থেকে যায়, বিশেষ করে বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যে। ব্যতিক্রম যে নেই তা কিন্তু নয়, তবে সেটা ধর্তব্যের মধ্যে নয়।  আমাদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়রা শুধু দেশের বাইরেই আন্তর্জাতিক‌। দেশের ভেতরে আবার যে লাউ সেই কঁদু। ক্ষমতালোভী, অর্থলোভী, ধান্দাবাজ। এটা আমাদের জাতিগত বৈশিষ্ট্য।  ডঃ ইউনুসকে নিয়ে অনেকেই স্বপ্ন দেখে, অনেকেই তাঁকে দেশের ত্রাণকর্তা মনে করে, একজন সহজ, সরল, কর্মঠ ও সৎ লোক মনে করেন যার নিজের কিছু নেবার নেই দেবার জন্য আছে সব - সর্বহারার ঠিক উল্টো রূপ। অবাক লাগে ভেবে যে তিনি জীবনে কখনোই নিজেকে ক্ষমতা বা অর্থের প্রতি নির্লোভ প্রমাণ করতে পারেননি। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধানের পদ আঁকড়ে রাখার, ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে মানুষের অবস্থা পরিবর্তনের কথা থাকলেও হাজার হাজার সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হওয়া, এমনকি ক্ষমতায় এসে তড়িঘড়ি করে নিজের প্রতিষ্ঠানের শত শত কোটি টাকা ঋণ মওকুফ, নিজের ব্যাংকের জন্য বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করা - এসব আর যাই করুক না করুক তাঁর সততা নিয়ে, তাঁর নির্লোভ চরিত্র নি...

সামঞ্জস্য

Image
কোন আইন কখনোই পারফেক্ট বা নিখুঁত নয়, কেননা সময়ের সাথে নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হয় মানুষ আর সেই সমস্যা থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য নতুন সমাধান খোঁজে। এটা যেমন সমাজে, তেমনি বিজ্ঞানে, চিকিৎসায়, চলনে বলনে জীবনের সর্বক্ষেত্রে সত্য। জীবনকে পারিপার্শ্বিকতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হলে এদের অবিরাম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কোনটা আগে বা কোনটা পরে প্রশ্ন সেখানে নয়, আসল কথা নিজেদের এই পরিবর্তনের জন্য খোলা রাখা এবং সেটা গ্রহণ করা। কোন ভালো আইনও কোন কাজে আসে না যদি সেই আইনের পক্ষপাতদুষ্ট ব্যবহার হয় আর কোন আইন ভালো হতে পারে না যদি না তা সবার জন্য সমান হয়। আজ সংস্কার আগে না নির্বাচন আগে এ নিয়ে অনেক বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। সংস্কার প্রয়োজন এটা যেমন সত্য তেমনি সত্য যে এমনকি বর্তমান ব্যবস্থার নিরপেক্ষ প্রয়োগ দেশকে একটি গ্রহণযোগ্য সংসদ উপহার দিতে পারে। আর জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার যদি জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংস্কার প্রণয়ন করে তাহলে আর ডিম আগে না মুরগি আগে এই নিয়ে বিতর্ক করে চায়ের টেবিলে ঝড় ওঠাতে হবে না। মস্কোর পথে, ২৫ মে ২০২৫

শেকড়

Image
বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে নিয়ে গুজবের অন্ত নেই। বিভিন্ন দেশে সাংবিধানিক সরকারের পাশাপাশি ছায়া সরকার বা শ্যাডো গভর্ণমেন্ট, ডীপ স্টেট ইত্যাদির নাম শোনা যায়। বাংলাদেশে এদের উপস্থিতি নিয়ে তেমন কিছু শোনা যায় না। তবে অন্যান্য যেকোন সরকারের চেয়ে বর্তমান সরকারের একটি পার্থক্য স্পষ্ট  - সামরিক হোক আর বেসামরিক হোক আগের সরকারগুলো জনগণকে আস্থায় আনার চেষ্টা করত, বর্তমান সরকার বিদেশী শেয়ার হোল্ডারদের বিশ্বাসের উপর বেশি গুরুত্ব দেয়। আগের সরকারগুলোর প্রায় সবটাই জনসম্মুখে ছিল, তারা জনগণের কাছে নিজেদের পাতে তোলার মত একটি ভাবমূর্তি তৈরি করতে সচেতন ছিল। এই সরকার বা সরকারের সাথে জড়িত অনেকেই কীভাবে তারা জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে, কীভাবে তথ্য ম্যানিপুলেট করেছে, পুলিশ হত্যার মত ফৌজদারী অপরাধ করেছে সেটা বুক ফুলিয়ে জোর গলায় বলে। বর্তমান সরকার আইসবার্গের চূড়া, এর নীচে কী আছে এবং কোথায় আছে সেটা সাধারণ মানুষ তো বটেই এমনকি সরকারের সাথে জড়িত অনেকের দৃষ্টির আড়ালে। যতদিন পর্যন্ত এই শেকড়ের সন্ধান না পাওয়া যায় ততদিন পর্যন্ত জাতি পুরোপুরি মুক্তি পাবে বলে মনে না। দুবনা, ২৪ মে ২০২৫

সংস্কার?

Image
বাংলাদেশে গত প্রায় এক বছর যাবৎ সংস্কার চলছে। এটা মনে হয় ভবিষ্যতে প্রেজেন্ট পারফেক্ট কন্টিনিউয়াস টেন্সের উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করবে শিক্ষার্থীরা অবশ্য যদি ততদিনে শিক্ষার্থী নামক প্রজাতি টিকে থাকে। সারভাইব্যাল অফ দি ফিটেস্ট তত্ত্ব অনুযায়ী ছাত্র প্রজাতি এই মূহুর্তে সবচেয়ে শক্তিশালী হলেও তারা দিন দিন শিক্ষা থেকে দূরে চলে যাচ্ছে। জ্ঞান নয় ক্ষমতা অর্জন হয়ে উঠেছে তাদের জীবনের লক্ষ্য। তাই এদের শিক্ষার্থী না বলে ক্ষমতার কাঙ্গাল বলাই ভালো। তবে এতে ছেলে বুড়ো সবাই এককাট্টা। বাংলাদেশের মানুষ বরাবরই সংস্কারের চেয়ে কুসংস্কারে বেশি বিশ্বাসী। এবারেও ব্যতিক্রম ঘটবে বলে মনে হয় না। যেসব কালা কানুন সবার আগে বাতিল করার কথা ছিল সেগুলোই আজ বেশি বেশি করে প্রয়োগ করা হচ্ছে। সংবিধান থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে যেসব সংস্কার প্রস্তাব করা হচ্ছে তা দেশকে সামগ্রিক ভাবে যতটা না এগিয়ে নিয়ে যাবে পিছিয়ে নেবে তার থেকে শতগুণ বেশি। সংস্কার হচ্ছে সংস্কারের জন্য। দেশের ও জনগণের স্বার্থে নয়, ব্যক্তি বা দলীয় পছন্দ অনুযায়ী বদলে যাচ্ছে ভালো মন্দের সংজ্ঞা। তাই চলমান পরিবর্তনকে সংস্কার না বলে কুসংস্কার বলাই শ্রেয়। ...

চুটকি নয়

Image
বরিস ইয়েলৎসিনের প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর চেরনোমীরদিন তাঁর ছোট ছোট বাক্যের জন্য জনপ্রিয় ছিলেন। এসব বাক্যের একাধিক অর্থ সেই দুঃসময়েও মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। এর দুটো ছিল  চেয়েছিলাম ভালো কিছু করতে কিন্তু ফল পেলাম বরাবরের মতই। জুলাই অভ্যুত্থানের একটা মূল লক্ষ্য ছিল অর্থ পাচার বন্ধ করা। কিন্তু বিগত নয় মাসে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের সংবাদ শুনে মনে হয় আমাদের চাওয়াটা যাই হোক না কেন পাওয়াটা ঠিক বরাবরের মতই। তাঁর আরেক বিখ্যাত উক্তি ছিল  বাঁচব খুব কষ্টে তবে অল্প কয়েক দিন।  যদিও তিনি কষ্ট দ্রুত কাটবে সেটা বোঝাতে চেয়েছিলেন তবে অল্প দিন বাঁচবে এই অর্থে নিয়ে মানুষ আবার মস্করা শুরু করে। দেশে যেভাবে গণপিটুনি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভাবে লোক মারা যাবার খবর দেখা ও শোনা যায় তাতে মনে হয় চেরনোমীরদিনের বাণী রাশিয়ায় সত্য হলেও দেশে সত্য হচ্ছে জনগণের আশঙ্কা বা সেসব বাণী নিয়ে জনতার মস্করা। দুবনা, ১৮ মে ২০২৫

সাবধানতা

Image
কেউ যখন ভালো কথা বলে সেই কথাকে প্রচার করে আমরা শুধু সেই ধারণা নয় যে বলে তার পক্ষেও প্রচার করি। দেশের এক নামকরা লেখক ও সাংবাদিককে সেটাই করতে দেখলাম। এমনকি জীবনে যে কখনোই সত্য কথা বলেনি সেও আদালতে দাঁড়িয়ে বলে "যাহা বলিব সত্য বলিব"। যদিও সে নিজেও জানে তার এই প্রতিজ্ঞা ডাহা মিথ্যা তারপরও আদালত এটাকে সত্য বলেই গণ্য করে। এভাবেই ন্যায় ও অন্যায়ের প্রতিনিধিত্বকারী দুই জন নিজ নিজ অবস্থানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে।  "ভুল হলে শিক্ষা নিয়ে এগুতে চাই" - এটা নিঃসন্দেহে মুক্ত মনের বাণী। তবে এই কথা যারা উচ্চারণ করে তারা সবাই যে মুক্তমনা এটা ভাবা ভুল। এক্ষেত্রে কথা নয়, কাজকে প্রাধান্য দেয়াই শ্রেয়। জুলাই অভ্যুত্থানের নায়কদের কথা ও কাজের অসামঞ্জস্য বৈষম্য বিরোধিতা, সাম্য, ন্যায় বিচার ইত্যাদি ধারণার বিষয়ে তাদের আসল মনোভাব সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাই শুধু মাত্র কথার উপর নির্ভর করে তাদের নতুন করে বিশ্বাস করলে সেটা জনমনে নতুন হতাশার জন্ম দিতে পারে। দুবনা, ১৭ মে ২০২৫