শুভ নববর্ষ

এবছরের মত পরীক্ষা শেষ। ডিপার্টমেন্ট থেকে বেরুনোর সময় প্রফেসর সামসোনেনকোকে আসন্ন নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালাম। উনি জিজ্ঞেস করলেন 
- পরীক্ষা নেয়া শেষ? লেজ নেই তো?
লেজ মানে ফেল করা ছাত্র। ছাত্রদের ক্ষেত্রে এটা না দেয়া পরীক্ষা, মানে যদি কোন পরীক্ষায় ফেল করে। শিক্ষকদের জন্য যদি এরকম ছাত্র থাকে। এক্ষেত্রে দু'জনকেই পরীক্ষা দিতে ও নিতে বসতে হবে পরে কোন এক সময়। 
- আমি ওল্ড পার্টিজান। আগে থেকেই লেজ কেটে ফেলি যাতে কেউ টের না পায়।

এখনও মনে আছে দুবনা ইউনিভার্সিটিতে একবার পরীক্ষায় প্রায় সবাইকে ফেল করিয়ে চাকরি হারিয়েছিলাম। এরপর একসময় প্রফেসর ঝিদকভ বলেছিলেন 
- বিজন, কখনোই ফেল করিও না। কড়া পরীক্ষা নিতে হয় ভালো ছাত্রদের যাতে তারা সত্যিকার অর্থেই সাবজেক্ট রপ্ত করে ভালো নম্বর পায়। যারা কোন মতে টেনেটুনে পাশ করে তাদের ফেল করিয়ে কোন লাভ নেই। তারা পড়াশুনা করতে চায় না বলেই খারাপ করে। ফেল করালেও তারা জানার চেষ্টা করবে না, শুধু তোমাকে বারবার ওদের পরীক্ষা নিতে হবে। হয়তো একসময় বিরক্ত হয়ে পাশ মার্ক দেবে, না হয় ওকে বহিষ্কার করবে। 
- তাহলে?
- যতদূর সম্ভব সোজা প্রশ্ন করে ওদের কাছ থেকে কিছু উত্তর বের করে আনবে। এমনকি যে না জানে সেও কিছু না কিছু জানে। ভালো শিক্ষক তার সেই জানাটাকে প্রকাশ্যে আনতে পারেন ভালো তদন্তকারীর মত। তাহলে পাশ মার্ক দিতে তোমার মন খুঁতখুঁত করবে না।
- যদি সেটাও না পারে?
- এটা তোমার ব্যর্থতা যে ওদের কিছুই শেখাতে পারনি। 

হ্যাঁ, ছাত্রদের ব্যর্থতার দায় সবার আগে শিক্ষকের।

পরীক্ষার আরেকটা সমস্যা হল ছাত্ররা সাথে সাথে নম্বর জানতে চায়। আমি বলি 
- নম্বর দিয়ে কি হবে? তোমরা নম্বর খাবে না মাথায় দেবে? 
- না , মানে জানার আগ্রহ থেকে। 
- সাবজেক্ট ঠিকমত জানলেই তো হল। যাকগে, এখন তো তোমাদের ক্লাসের পারফর্মেন্সের ব্যাপারটাও হিসেবে নিতে হবে। আমি কাল এসব করে তোমাদের পাঠাব। যদি মনে কর কম হয়েছে, তাহলে আবার পরীক্ষায় বসতে পার। তবে তাড়াতাড়ি করতে হবে, আমি কাগজপত্র ডীন অফিসে জমা দেবার আগেই। 

আমার সমস্যা হল আমি কোন ছাত্রের নাম বা চেহারা মনে রাখতে পারি না। করিডোরে কেউ সম্ভাষণ জানালে অনেক সময় লাগে বুঝতে সে কে। তাই যখন আগের বিভিন্ন টেস্টের নম্বরগুলো নিয়ে ফাইনাল চার্ট করি, কিছুতেই মনে করতে পারি না ক্লাসে কে কেমন পারফর্ম করেছে। আমি এটাকে বলি অবজেক্টিভ মূল্যায়ন, নাম বা চেহারা মনে না থাকায় কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব হয় না। 

গতকাল নম্বর দিয়ে ওদের সেটা পাঠালাম। বললাম, যদি কেউ ইমপ্রুভ করতে চায় তাহলে জানায় যেন। আমি চেষ্টা করি সবসময় একটু বেশি নম্বর দিতে। মনে হয় নম্বর ছাড়া জীবনে আর কিছু দিতে পারি না বলে। সমস্যা হয় তাদের নিয়ে যারা গ্রেসের পরেও দুই তিন নম্বরের জন্য পরবর্তী গ্রেড পায় না। তাদেরই দুজন মেসেজ পাঠাল। অনেকটা এরকম 
- তিন নম্বরের জন্য পাঁচ পাইনি। (৫১ - ৬০ - ৩ ই, ৬১ - ৬৮ - ৩ ডি, ৬৯ - ৮৫ - ৪, ৮৬ - ৯৫ - ৫ বি, ৯৬ - ১০০ - ৫ এ)। কি করলে পাঁচ পাওয়া যাবে? 
- শুধু ঠিকঠাক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। যদি প্রস্তুত থাক, আমাকে ফোন কর, আমি প্রশ্ন করব, ঠিকঠাক উত্তর দিলে নম্বর বাড়াবো, তবে ভুল হলে কিন্তু ফেলও করতে পার। কারণ আমি এখনকার নম্বর বাতিল করে দেব। 
- আমি এখন ট্রেনে, বাড়ি যাচ্ছি। ঠিক আছে, আমার চারেই চলবে। 
লোকজন সুযোগের সদ্ব্যবহার না করলে আমি কি করব?

এরপর আর কেউ যোগাযোগ করেনি। ভাবছি আজ ডীন অফিসে নম্বর জমা দেব।

শুভ নববর্ষ!
দুবনা, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫


Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

রিংকু