উল্টো রথ

আমেরিকা ভেনেজুয়েলা আক্রমণ করেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন মাডুরা সস্ত্রীক বন্দী ও তাদের তত্ত্বাবধানে আছেন। ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন ও মাডুরা যে জীবিত সেটা প্রমাণ করার জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত এ ঘটনায় ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। রাশিয়া ও চীনের সাথে সুসম্পর্ক থাকার পরও আমেরিকা ভেনেজুয়েলা আক্রমণ করার সাহস পেয়েছে কারণ এদের কেউই সরাসরি যুদ্ধে জড়িত হবে না। যেকোনো পরাশক্তিই সবার আগে নিজের জান মাল বাঁচাতে চায় আর চেষ্টা করে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এড়িয়ে যেতে। ঠিক যেমনটি আমেরিকা ইউক্রেনের হয়ে লড়াইয়ে নামেনি যদিও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছে আর তার চেয়ে বেশি ব্যবসা করেছে। তার মানে এই নয় রাশিয়া বা চীন হাত গুটিয়ে বসে থাকবে। আমেরিকা যুদ্ধের চোরাবালিতে আটকে না গিয়ে খুব দ্রুত মাডুরাকে গ্রেফতার করেছে। এখন যদি তারা সেখানে থেকে যায় আর ভেনেজুয়েলার মানুষ ও সেনাবাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তোলে তাহলে রাশিয়া ও চীন নিশ্চিত ভাবেই তাদের সাহায্য করবে। সেক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলা আমেরিকার জন্য নতুন ভিয়েতনাম হলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না। 

রাশিয়া ইতিমধ্যেই এই আক্রমণের নিন্দা করেছে ও ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভার আহ্বানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এই ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে নিঃসন্দেহে বিরাট প্রভাব ফেলবে এবং যেকোনো ছোট ও দুর্বল দেশ আগের চেয়ে বেশি অনিরাপদ অনুভব করবে। এই আক্রমণকে দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে অনেক দেশই সামরিক শক্তি ব্যবহার করে নিজেদের দ্বিপাক্ষিক সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হবে ঠিক যেমনটা হত জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার আগে। এক কথায় পিছিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী।

দুবনা, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

রিংকু