বিরোধিতা

রুশরা বলে শয়তান তত ভয়ঙ্কর নয় যতটা বড় করে তাকে দেখানো হয়।

আমেরিকা তথা পশ্চিমা বিশ্বে সবসময়ই রাশিয়ার এমন এক চিত্র আঁকা হয় যেন নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে সে অনবরত এসব দেশের মানুষের ক্ষতি করার জন্য অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছে। ২০১৬ সনে ট্রাম্পের বিজয়ের পেছনে রুশ ভালুকের দীর্ঘ লোমশ হাত আবিষ্কারে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আর প্রচুর সময় ব্যয় করেও কিছুই পাওয়া যায়নি, না হাত, না রাশিয়া - কিছুই।‌ তবে মিথ্যা কে সত্য বানানোর জন্য যেসব কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে তা সমাজে দীর্ঘদিনের জন্য দাগ রেখে গেছে।‌ নির্বাচন, বিচার ব্যবস্থা এসব ইনস্টিটিউটের মর্যাদার কম হানি হয়নি।‌ সার্বিক বিচারে বলা যায় রাশিয়া নিজে আমেরিকা বা পশ্চিমা বিশ্বের যত না ক্ষতি করে তারচেয়ে বেশি ক্ষতি করে রুশ ভীতি।

এই সূত্র ধরেই বলা যায় ভারত নিজে যতটা বাংলাদেশের ক্ষতি করে তারচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ভারত বিরোধিতা। এই ভারত বিরোধিতাকে পুঁজি করেই একাত্তরের বিরোধিতা করা যায়, ভারতীয় আগ্রাসনের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট ধ্বংস করা যায়, এক কথায় ভারতীয় ভূতের ভয় দেখিয়ে জনগণের হাত জনগণের মাথায় বুলিয়ে সেখানে কাঁঠাল ভেঙে খাওয়া যায়।‌ সবচেয়ে যেটা দুঃখজনক তা হল বাংলাদেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রতি ভারত সবসময়ই বন্ধু ভাবাপন্ন ছিল। আজ এদের ভারত বিদ্বেষী মনোভাব সবার আগে এদেরকেই দুর্বল করছে। 

ধর্মনিরপেক্ষতা যেমন ধর্মের বিরোধিতা নয়, ভারতের বিরোধিতা না করা তেমনি ভারতের পক্ষে থাকা নয়। মূল কথা বাংলাদেশ। বাংলাদেশের স্বার্থে যেখানে ভারত বা অন্য কোন দেশের সাথে বন্ধুত্ব দরকার তখন বন্ধুত্ব করা, যখন তাদের বিরোধিতা করা দরকার তখন বিরোধিতা করার নাম স্বাধীনতা। অন্ধ আনুগত্য বা অন্ধ বিরোধিতা নয় - দেশের দীর্ঘ মেয়াদি স্বার্থে ভারসাম্য রক্ষা করে চলার নামই আধুনিক রাজনীতি।

দুবনা, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

রিংকু