ক্রিকেটদ্রোহী

নগর যখন পুড়ে ছারখার তখন দেবালয় দিয়ে কী হবে? হ্যাঁ, ক্রিকেটের কথা বলছি। এই যে আমরা মানসম্মানের প্রশ্ন তুলে বিশ্ব কাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রায় অসম্ভব করে তুললাম – তারা কি কখনও যারা খেলে – সেই ক্রিকেটারদের কথা ভেবেছি। আমার আপনার জন্য এটা মানসম্মান, ওদের জন্য এটা রুটি রুজি। ফিজকে যখন কেকেআর বাদ দিল, তখন নিশ্চয়ই চুক্তি অনুযায়ী সেখানে কম্পেনসেসনের ব্যবস্থা ছিল। ফিজ চাইলে কেকেআরএর বিরুদ্ধে লড়তে পারত আর বিসিবি তাকে নৈতিক ও আইনি সাহায্য দিতে পারত। কিন্তু তারা কি করল? ভারতে বিশ্ব কাপ খেলব না বলে হুঙ্কার ছাড়ল।

কয়েক দিন আগে বিগ বাশ লীগে স্মিথ বাবরকে একটি সিঙ্গেল দিতে অস্বীকার করে। এটা কম লজ্জার বিষয় ছিল না বাবরের জন্য। অনেক জল ঘোলা হয়েছে। কিন্তু পিসিবি কি কোন কথা বলেছে? বিসিবি বা বাংলাদেশ সরকার যদি ক্রিকেটারদের স্বার্থ নিয়ে ভাবত তাহলে আজ বিশ্ব কাপে অংশগ্রহণ প্রশ্নের মুখোমুখি করত না।

ক্রিকেট এখন শুধু আবেগ নয়, এটা হাজার হাজার তরুণ তরুণীর জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার একমাত্র উপায়। জাতীয় দলে অনেক খেলোয়াড় আছে যাদের আর কোন ভাবেই লাইম লাইটে আসার সুযোগ ছিল না। আমাদের উপমহাদেশে হাজার হাজার, যদি লাখ লাখ না হয়, তরুণ তরুণী আজ ক্রিকেটের মধ্যে জীবনের অর্থ খুঁজে পায়, প্রচণ্ড দরিদ্র্য ও পশ্চাদপদ ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে উঠে আসে বলতে গেলে বাইরের কোন সাহায্য ছাড়াই। আগে ক্রিকেট ছিল বড়লোকের খেলা, এখন ক্রিকেট সাধারণ মানুষের জীবনে করে খাওয়ার একটি উপায়। কিন্তু এই সরকার কলকারখানা বন্ধ করে হাজার হাজার মানুষকে বেকার করে এখন ক্রিকেটের পেছনে লেগেছে আরও হাজার হাজার মানুষের রুটি রুজি কেড়ে নিতে। সরকার যেমন দেশ ধ্বংস করতে আদাজল খেয়ে নেমেছে, বিসিবি ঠিক একই ভাবে নেমেছে ক্রিকেটের বিরুদ্ধে। যে ডালে বসে আছে সে ডালই কাটছে। এদের রুখতে হবে।

দুবনা, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

প্রশ্ন

সিপিবি কংগ্রেস

রিংকু