মৃত্যু
জন্ম মৃত্যু পাশাপাশি চলে, এমনকি সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশেও মানুষ মরে। প্রশ্ন তাই মৃত্যুতে নয়, কীভাবে এই মৃত্যু আসে তাতে। বাংলাদেশে অস্বাভাবিক মৃত্যু কখনোই অভাবনীয় কিছু ছিল না তবে গত দেড় বছরে তার হার অস্বাভাবিক রকম বৃদ্ধি পেয়েছে, অর্থনীতির ভাষায় বললে অস্বাভাবিক মৃত্যুর বাজারে ঘটেছে অস্বাভাবিক মৃত্যস্ফীতি। এই পরিস্থিতিতেও যেটা খুব বেশি করে চোখে পড়ে তা হল সংখ্যালঘুদের অস্বাভাবিক মৃত্যু। বিগত কয়েক দিনে সেটা শুধু পরিমাণে নয়, হিংস্রতায়ও এক ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে। পিটিয়ে হত্যা করে গাছে লাশ ঝুলিয়ে পুড়ানোর ঘটনা ঘটেছে আবার অর্ধমৃত অবস্থায় শরীরে আগুন দেয়া হয়েছে। এসব থেকে প্রমাণিত হয় যে প্রতিটি হত্যা করা হয়েছে পরিকল্পিত ভাবে আর সেটাকে যতদূর সম্ভব বিভৎস রূপ দেয়া হয়েছে অন্যদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করার জন্য। সংবাদ মাধ্যমে এসব খবর যেভাবে প্রচার করা হয়েছে তাতে বিচারের দাবির চেয়ে ভীতির সঞ্চার প্রাধান্য পেয়েছে বলেই মনে হয়। বিশ্বের প্রতিটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মত বাংলাদেশকেও অমুসলিম নাগরিক মুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হয়। আর সেটা হচ্ছে কতৃপক্ষের মৌণ সম্মতিতে। হয়তোবা তাদের মেটিকুলাস পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। কেউ কেউ দেশের প্রায় প্রতিটি মুসলিম ও অমুসলিম জনসাধারণ যে অতীতে আত্মীয়তার সূত্রে আবদ্ধ ছিল সেটা স্মরণ করে এমপ্যাথির উপর জোর দিতে বলেছে। তবে সেটা তেমন কার্যকর হবে বলে মনে হয় না। এমপ্যাথির অভাব বলব না। তাহলে নয় মাসে ত্রিশ লক্ষ মানুষ হত্যা ও তিন লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করার পরেও দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে পাকিস্তান কেমন জামাই আদরে ফিরে এসেছে, আসছে। এটা হয়েছে ধর্মকে পুঁজি করে। সাম্প্রদায়িক সমস্যা আগে যে ছিল না তা নয়, তবে সেটা মহামারীর আকার ধারণ করেছে রাজনীতির উর্বর ভূমি পেয়ে। তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক ভাবেই এই সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে। এরজন্য দরকার রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি ও সেটা বাস্তবায়নে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা। আর তার জন্য দরকার দেশে রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।
দুবনা, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
Comments
Post a Comment